ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হুথিদের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ সৌদির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ


হুথিদের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ সৌদির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ

সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও সুসজ্জিত। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এত বিশাল সামরিক বিনিয়োগের পরও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না রিয়াদ। সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

সপ্তাহান্তে ইরান-সমর্থিত হুথিদের একাধিক লক্ষ্যভিত্তিক হামলার খবর সৌদি আরবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবারের হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক মিশন তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দরটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। বছরের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত কিছু এলাকা হুথিদের দখলে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে রিয়াদ। জবাবে হুথিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও পর্যটন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

আরও পড়ুন: ডেটা সেন্টার কেন সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে

বারবার এসব হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, ব্যবসা ও পর্যটনের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও চলছে।

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে সৌদি আরব

সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিচারে সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ। সম্প্রতি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিও করেছে রিয়াদ।

তবে দেশটির নিজস্ব সামরিক অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে আধুনিক অস্ত্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয় সৌদি আরবকে। তাদের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ইউরোফাইটার টাইফুন, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন: ম্যাক্রোঁকে আরাঘচির খোঁচা, ‘ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা শুনুন’

সাম্প্রতিক সময়ে এসব আধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। উদ্দেশ্য, সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গোষ্ঠীটির অগ্রযাত্রা থামানো।

অন্যদিকে, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে নিজেদের অস্ত্রভান্ডার ও হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে হুথিরা। তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইয়েমেন থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের ইসরাইল পর্যন্ত পৌঁছেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাকে নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতাও দেখিয়েছে তারা।

হুথিরা বিভিন্ন গতি ও ধরনের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে। তাদের উন্নত অস্ত্রের মধ্যে প্যালেস্টাইন-২ নামের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেটিতে হাইপারসনিক সক্ষমতা আছে বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া তুফান ক্ষেপণাস্ত্রকে ইরানের ঘদর ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তিত সংস্করণ বলে মনে করা হয়। বুরকান ও বদর সিরিজের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও তাদের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে।

কেন সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পারছে হুথিরা

আরও পড়ুন: কাতার ঘোষণা করতে যাচ্ছে নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব

প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সৌদি আরবের পক্ষে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সব সময় সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির বিশাল আয়তন এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।

অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক থমাস জুনো বলেন, "সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হুথিদের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে দেশটির আয়তন এত বড় যে প্রতিটি এলাকায় সব সময় কার্যকর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব।"

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দরগুলোর একটি। শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিমানবন্দরটির আয়তন প্রায় ২২৫ বর্গকিলোমিটার।

লন্ডনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মেনা অ্যানালিটিকার আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান এবং বিভিন্ন সেন্সর একত্রে ব্যবহার করলেও সৌদি আরবের মতো প্রায় ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: জলদস্যু দমনের অভিযানে বিপাকে সোমালিয়ার জেলেরা

তার মতে, রাজধানী রিয়াদ, বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, পবিত্র নগরী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে একই সঙ্গে সুরক্ষা দিতে হয় সৌদি বাহিনীকে। এত বিস্তৃত এলাকায় প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন।

এ ছাড়া ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের মজুতও কমে আসতে পারে। বিশ্বজুড়েই এসব প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ সীমিত থাকার খবর রয়েছে।

সৌদি বাহিনী অনেক হামলা প্রতিহত করতে পারলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে তেল স্থাপনা ও রিয়াদের বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কেন হামলা বাড়াচ্ছে হুথিরা

আরও পড়ুন: গাজায় খাদ্যসংকটে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি, সহায়তা কমছে: ডব্লিউএফপি

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের প্রতিটি হামলা সফল হওয়া জরুরি নয়। মাঝেমধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারলেও তা বড় ধরনের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্দ্রেয়াস ক্রিগের ভাষ্য, "রিয়াদের বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে বারবার হামলার দাবি থেকে বোঝা যায়, দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে হুথিরা। সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অনেক হামলা ঠেকাতে পারলেও গোষ্ঠীটি আবারও হামলা চালানোর সামর্থ্য রাখে।"

থমাস জুনোর মতে, হুথিরা সংঘাতের প্রচলিত হিসাব বদলে দিতে চাইছে। সৌদি যুদ্ধবিমান যখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সানা বিমানবন্দরে হামলা চালাচ্ছে, তখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে একই ধরনের চাপ তৈরি করতে চাইছে গোষ্ঠীটি।

‘আনসারুল্লাহ’ নামেও পরিচিত হুথি আন্দোলনের রয়েছে কয়েক হাজার নয়, বরং কয়েক দশ হাজার যোদ্ধা। ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের লড়াই তাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও সহনশীলতা বাড়িয়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বহু বছর ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বিনা খরচে ট্যাক্স ফাইলিং, বাংলায় সহায়তা পাবেন যেভাবে

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার মাধ্যমে হুথিরা সংঘাতের মূল্য বাড়িয়ে দিতে চাইছে বলেও মনে করেন জুনো। তার মতে, এতে ইয়েমেন যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের আশা আরো কঠিন হয়ে উঠছে। কয়েক বছর ধরে এই যুদ্ধ থেকে নিজেদের সম্পৃক্ততা কমানোর চেষ্টা করছে সৌদি আরব; নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সেই প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রিয়াদ বিমানবন্দর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো রিয়াদকে পর্যটন, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বড় বৈশ্বিক আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, বিমানবন্দরে হামলার তাৎপর্য শুধু সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বারবার হামলার কারণে বিনিয়োগকারী, পর্যটক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। অর্থনৈতিক ও মানসিক প্রভাব তাই সরাসরি অবকাঠামোগত ক্ষতির চেয়েও বড় হয়ে উঠতে পারে।

শনিবারের বিমানবন্দর হামলাটি ২০১৫ সালের একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার পর সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা ছিল। ঘটনাটি এমন সময় ঘটে, যখন রিয়াদে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনুষ্ঠান ও বিনোদন আয়োজনের মৌসুম শুরু হচ্ছে। রোববার শহরটিতে ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের জ্বালানি সম্মেলনও শুরু হওয়ার কথা ছিল।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানোর প্রচলন সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবারের হামলার আগে কয়েকটি দূতাবাসও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য না পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানায় এবং নিজেদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।

সৌদি আরবের বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় ও আধুনিক অস্ত্রভান্ডার হুথিদের হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। দেশটির বিশাল ভূখণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিস্তৃতি, প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ এবং হুথিদের সমন্বিত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কৌশল পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনাও চাপের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: এএফপি ও এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে নাহিদ ইসলামের নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে নাহিদ ইসলামের নিন্দা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন যে, এটি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির একটি প্রকাশ।

নাহিদ ইসলাম মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) একটি বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সহিংস ও অমানবিক চরিত্রের উন্মোচন করেছে। তিনি এ ধরনের অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য দলটির মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

নাহিদ ইসলাম দেশে-বিদেশে সক্রিয় কথিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তিনি জুলাই গণহত্যা ও ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিচার সম্পন্ন করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। এ ছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার অবিলম্বে শুরু করার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।

বিবৃতিতে, নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সরকারের সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে তাঁরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি তেলের মজুত কমছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছে: আইএমএফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


জ্বালানি তেলের মজুত কমছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছে: আইএমএফ

জরুরি জ্বালানি তেলের মজুত কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতির বৃদ্ধি নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলায় বিশ্ব ক্রমশ কম প্রস্তুত হয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির আশঙ্কা, ভবিষ্যতে নতুন কোনো ধাক্কা এলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও বড় চাপের মুখে পড়তে পারে।

আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব আশঙ্কার তুলনায় ভালোভাবে সামাল দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। তবে সংকট মোকাবিলায় জরুরি মজুত ও সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ ক্রমশ কমে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল পরিবহন এবং কৌশলগত মজুত থেকে তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত মার্চে ইতিহাসের বৃহত্তম জরুরি তেল মজুত ছাড়ার ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকের পর সেই উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত সম্প্রতি ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার ডিজেল আমদানিতে মার্কিন বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে যুক্তরাষ্ট্রে পাম্পে জ্বালানির দামে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না।

মঙ্গলবার ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক চলাকালে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছর ২ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। ২০২৭ সালের জন্যও একই হারে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা আগের ২ দশমিক ২ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।

যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা জুলাইয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে ০ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। তবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে।

আইএমএফের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সিলভানা তেনরেইরো মন্তব্য করেছেন, বিশ্ব অর্থনীতির সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও সরকারগুলোকে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নিতে আর দেরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকারি ঋণ বাড়তে থাকলে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আবার বেড়ে গেলে ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে অনেক সরকারের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নাও থাকতে পারে।

জ্বালানি তেলের মজুত কমে আসা, সরকারি ঋণের চাপ এবং বাজেট ঘাটতির প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোয়াইনঘাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মহড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


গোয়াইনঘাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মহড়া

সিলেটের গোয়াইনঘাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কেয়ার বাংলাদেশ সহযোগিতা করে এবং বাস্তবায়নে ছিল ইএসডিও।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাঁধন কান্তির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী।

আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নুরুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. সারওয়ার আহমদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সাদিকুর রহমান, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ফরিদ উদ্দিন, পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাসুক আহমদ এবং লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাহেদ আহমদ।

এ সময় ইএসডিওর প্রকল্প বাস্তবায়নে লেঙ্গুড়া ও রুস্তমপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটরসহ ইএসডিওর পক্ষে প্রীতি রানী সরকার এবং মাসুদ রানা কেয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও করণীয় তুলে ধরে একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম প্রস্তুতি এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফকিরহাটে দুর্যোগ প্রশমন দিবসে ফায়ার ফাইটারদের অগ্নিকাণ্ডের মহড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


ফকিরহাটে দুর্যোগ প্রশমন দিবসে ফায়ার ফাইটারদের অগ্নিকাণ্ডের মহড়া

"ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসটি বাগেরহাটের ফকিরহাটে উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে একটি র‌্যালি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া প্রদর্শন করেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফকিরহাট উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে র‌্যালিটি উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারতি কমপ্লেক্স ভবন চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আট্টাকা কেরামত আলী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ফকিরহাট ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো: শাহাজাহান মিয়া এবং আরও অনেকে।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: গোলাম মোস্তফা, সমাজসেবা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাহিরা খাতুন, সমবায় কর্মকর্তা মিলন কুমার দাশ, সহকারী প্রোগ্রামার মো: আলমগীর হোসেন, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আনন্দ কুমার কুন্ডু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী আবুল আলা মাসুমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যগণ, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, রেড ক্রিসেন্টের সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা এ সময় উল্লেখ করেন, দুর্যোগ প্রশমন করার জন্য প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি উভয়ই অপরিহার্য। সকলের সহযোগিতা থাকলে যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%