সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৯ পি.এম
ভারতের তামিলনাড়ু সরকার সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলে নবজাতককে এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার একটি প্রকল্প চালু করেছে। এই উদ্যোগের নাম ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টাম’ বা ‘মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প’। প্রকল্পের আওতায় ২২ ক্যারেটের সোনার আংটি নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নবজাতকেরা পাবেন।
মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে, যার প্রথম ধাপে ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি প্রস্তুত করা হয়েছে। রাজ্য সরকার এ জন্য বছরে ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দের কথা জানিয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় তামিলনাড়ুর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকেরা সুবিধা পাবেন। তবে এই সুবিধা পেতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, শিশুর মাকে তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁকে ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড ইনফ্যান্ট কোহর্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’ (PICME) ব্যবস্থায় নিবন্ধিত থাকতে হবে। এছাড়া মায়ের ‘রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ’ (RCH) আইডি থাকা বাধ্যতামূলক।
২০২৬ সালের ২২ জুন বা এর পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই সুবিধার আওতায় পড়বে। প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের জন্য বিশেষ বিতরণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি সোনার আংটিতে আলাদা সিরিয়াল নম্বর থাকবে এবং আংটিগুলো বিশেষ প্যাকেটে সরবরাহ করা হবে, যাতে প্যাকেট খোলা হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা যায়।
প্রকল্প উদ্বোধনের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের আংটি বিতরণে তামিলনাড়ুর ১০৭টি হাব বা বিতরণকেন্দ্র ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ শিশুকে আংটি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রকল্প চালুর পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় আংটি দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
তামিলনাড়ু সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নবজাতককে সোনার আংটি উপহার দেওয়া নয়। বরং মাতৃত্বকে সম্মান জানানো, গর্ভবতী নারী ও মায়েদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করা। তামিল সংস্কৃতিতে শিশুর জন্মের পর মায়ের ভাই, অর্থাৎ মামার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সেই পারিবারিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই প্রকল্পটির নাম ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম’ রাখা হয়েছে।
রাজ্যের মন্ত্রী অরুণ রাজ বলেন, সন্তান জন্মের পর একজন মামা তাঁর বোন ও নবজাতকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার সেই সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানাচ্ছে।
তবে বিরোধী শিবির প্রকল্পটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে। ডিএমকের নেতা টিকে এস এলাঙ্গোভান বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন বাড়ছে, তখন বিনা মূল্যে সোনার আংটি দেওয়া তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করবে না। তিনি কৃষকদের দুর্ভোগ ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাছাড়া সোনার আংটি কেনার কাজে তামিলনাড়ু মেডিকেল সার্ভিসেস করপোরেশনকে ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংস্থাটি সাধারণত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার দায়িত্ব পালন করে। ফলে নবজাতকদের জন্য সোনার আংটি কেনার ক্ষেত্রে এই সংস্থাকে ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটিকে মাতৃত্বের সম্মান ও জনস্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হলেও এর ব্যয়, বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি এলাকায় একটি চান্দের গাড়ির দুর্ঘটনায় ঢাকার ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবিব নিহত হয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায়, ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ও সন্তানসহ আরও ১৩ জন পর্যটক গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসা ১৪ জনের একটি পর্যটক দল বিকেল ৪টার দিকে চান্দের গাড়িতে করে কক্সবাজার থেকে ইনানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যখন তারা হিমছড়ি এলাকায় পৌঁছায়, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা দেয়, ফলে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই হাবিবুর রহমানের মৃত্যু ঘটে।
নিহত হাবিব ঢাকার মহাখালী রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ঠিকাদারি ব্যবসায়ী ছিলেন। দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী শারমিন এবং ছেলে সাফওয়ান মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাদের সাথে থাকা অন্য ১৩ জন পর্যটকও আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে দুর্ঘটনাকবলিত চান্দের গাড়িটি একটি কাভার্ড ভ্যানে করে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহত হাবিবের মরদেহ এবং আহত পর্যটকদের নিয়ে ১টি লাশবাহী গাড়ি ও ৫টি অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। নিহতকে উদ্ধার করে পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কক্সবাজার সদর থানার পুলিশের সাথে সমন্বয় করা হয় এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মৌরিতানিয়ার কোস্টগার্ড রোববার দেশটির আটলান্টিক উপকূল থেকে দুটি নৌযানে থাকা ২৬০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৭ জন শিশু রয়েছে।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন প্রত্যাশীরা গাম্বিয়ার বানজুল থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন দুটি নৌযানে। খাবার শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও নৌযান চালনায় সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
নুয়াকশট থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
কোস্টগার্ড জানায়, প্রায় সাত দিন সাগরে থাকার পর তাদের নুয়াকশটের উপকূলে উদ্ধার করা হয়।
একটি বিবৃতিতে কোস্টগার্ড উল্লেখ করে, উদ্ধার হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে ১৩২ জন সেনেগালের নাগরিক, ১২০ জন গাম্বিয়ার নাগরিক, চারজন গিনির নাগরিক এবং পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নাগরিকও রয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নৌযান দুটিতে ১৭ শিশুর পাশাপাশি ৬১ জন নারীও ছিলেন।
প্রতি বছর ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য হাজার হাজার তরুণ অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও প্রায় জরাজীর্ণ নৌযানে করে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের বিপজ্জনক পথে যাত্রা করেন।
অনেকেই দারিদ্র্য থেকে পালাতে এই পথে পা বাড়ান। ইউরোপের দেশগুলো ভিসা দেওয়া কঠোরভাবে সীমিত করায় এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় তারা গোপনে এই বিপজ্জনক যাত্রার পথ বেছে নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বাইশারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের শৌচাগার থেকে আবুল কালাম আবু (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মসজিদের শৌচাগারের টিনের চালের আড়ের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবুল কালাম আবু রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বিল এলাকার মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে। তিনি বাইশারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে একটি মুদির দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা সকালে মসজিদের শৌচাগারের টিনের চালের আড়ের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় আবুল কালামের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
বাইশারী বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবদুল করিম বান্টু বলেন, "আবু অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। এ ঘটনায় আমরা ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কিত। এটি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা এখনই বলা কঠিন।"
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মনজুরুল আহসান বলেন, "খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক আর্থিক সমস্যা কিংবা পারিবারিক কোনো সমস্যার কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, "প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।"
এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাইশারীর ছাদুঅং পাড়ার একটি বৌদ্ধ বিহারের মাঠ থেকে কাঠ ব্যবসায়ী জাফর আলম বাবুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় দুই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আবুল কালামের মৃত্যু ও জাফর আলম বাবুলের মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের লোচনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চরম অবকাঠামোগত সংকটে রয়েছে। পুরোনো স্কুলঘরটি নিলামে বিক্রি করার পর নতুন পাকা ভবনের আশায় দিন কাটাচ্ছে বিদ্যালয়টি। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এলেও নানা জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ফলে, শিক্ষকরা পাশের কবরস্থান থেকে টিন এনে একটি ছাওনি তৈরি করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরোনো ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়। নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রায় সম্পূর্ণ অবকাঠামোহীন অবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সালে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র আহ্বান করা হলে আব্দুস সোবহান ডাবলু নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ার পরও নির্মাণকাজ শুরু করেনি। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় মালামাল পরিবহনে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কায় ঠিকাদার গড়িমসি করায় কর্তৃপক্ষ কার্যাদেশটি বাতিল করে দেয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে কবরস্থানের টিনের ছাওনি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ পরিবেশে গাদাগাদি করে পাঠদান করতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও মানসিক স্বস্তি কমছে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিভাবকরা দ্রুত বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও উপযোগী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিশুদের শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে নূন্যতম নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পুরোনো ভবন সরিয়ে নেওয়ার পর নতুন ভবন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রাহাত ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিদ্যালয়ের জায়গার স্বল্পতা, পাশে বড় খাল এবং যমুনা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিসহ কয়েকটি সমস্যা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না এমন পরিস্থিতিতে দরপত্র আহ্বানের প্রায় ছয় মাস পর নির্মাণকাজের টেন্ডারটি বাতিল করা হয়। বরাদ্দের অর্থও ফেরত চলে যায়।
তিনি আরও জানান, যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিদ্যালয়টি হওয়ায় বহুতল পাকা ভবন নির্মাণের সুযোগ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। নতুন করে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে ‘পাইলট ডিজাইন’ অর্থাৎ স্টিলের ফ্রেমের ওপর সেমিপাকা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন ছুটিতে থাকায় মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণের জন্য আগে একটি টেন্ডার হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল পরিবহনসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেটি বাতিল হয়েছে। বর্তমানে একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। নতুন করে ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, যমুনার ভাঙন ও যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়টির জন্য উপযোগী ও টেকসই অবকাঠামোর ব্যবস্থা দ্রুত করা হোক। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের উদ্বেগও কমবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ