মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৩২ পি.এম
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধের ফলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর যাত্রী সংখ্যা ২২,২৪১ জন।
মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৬৯টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৭টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১১টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, বাতিল হওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কহার ১ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। তবে, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্য নীতির ধারাবাহিকতা, স্পষ্ট বিধিবিধান এবং বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশনের (অস্ট্রেড) এক কর্মকর্তা।
অস্ট্রেডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশনার মারে স্পেন্স বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের দাম কমলে প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়ও কমে যাবে। এর ফলে প্রকল্পের আর্থিক সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে আগ্রহী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।
স্পেন্স জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পসেবায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর। এই লক্ষ্যে, দেশটির পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিষয়ক আটটি কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের সুযোগ খতিয়ে দেখছে।
তবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য শুল্কনীতির স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্পেন্স। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা জানতে চান, বর্তমান শুল্কসুবিধা তাঁদের বিনিয়োগ ও সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনার পুরো সময়জুড়ে কার্যকর থাকবে কি না। এই বিষয়ে নিশ্চয়তা থাকলে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে, স্থানীয় উদ্যোক্তারাও সরঞ্জাম আমদানি, সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবেন।
স্পেন্স আরও বলেন, শুধুমাত্র আমদানি শুল্ক কমালেই দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রকল্পের অনুমোদন, বিদেশি মালিকানা, করব্যবস্থা, চুক্তির শর্ত এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার নিয়মও স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ এবং স্বচ্ছ হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে।
বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সহজে সম্পন্ন করতে সমন্বিত ‘ওয়ান-স্টপ’ বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত হলে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অংশীদারদের সঙ্গে নিজস্ব প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা ভাগ করে নিতে আরও আগ্রহী হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) শর্ত স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। স্পেন্সের মতে, বিদ্যুতের দাম, চুক্তির মেয়াদ, অর্থ পরিশোধের শর্ত এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি স্পষ্ট থাকলে বিনিয়োগকারীরা সম্ভাব্য আয় হিসাব করে প্রকল্পের আর্থিক লাভজনকতা নির্ধারণ করতে পারবেন।
জাতীয় গ্রিডে সংযোগ এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির নিয়ম স্পষ্ট ও ধারাবাহিক হলে কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে চাহিদা বাড়ার সময় তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তবে, এর জন্য উপযুক্ত কারিগরি ব্যবস্থা ও কার্যকর বাণিজ্যিক শর্ত নিশ্চিত করতে হবে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও সম্প্রসারিত হতে পারে।
বাংলাদেশে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ শুধুমাত্র সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইসেন্স, উৎপাদন এবং কারিগরি সেবার ক্ষেত্রেও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা সমন্বয়ের দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতাকে কাজে লাগানো সম্ভব। পাশাপাশি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামে ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে, এই সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে শুল্কনীতির ধারাবাহিকতা, সহজ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির স্বচ্ছ বাণিজ্যিক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট করার পাশাপাশি শিল্পের জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযুক্তি রপ্তানি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজন কি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন? তিনি কোথায় আছেন? কেমন আছেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষের মনে একই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
রাজনের ফেসবুক পেজে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং সুস্থভাবে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা দেখা যাচ্ছে। যিনি প্রতিদিন যুদ্ধের ময়দান থেকে অন্যদের খবর জানাতেন, আজ তার খবরই অজানা। একটি ভিডিও, একটি বার্তার অপেক্ষায় অসংখ্য মানুষ।
মো. রাজন হোসাইন তার পুরো নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘রাজন অন দ্য গো’ নামে পরিচিত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ, প্রাণহানি এবং যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতা নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি।
এছাড়া, অন্য বাংলাদেশিরা যেন অর্থের প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে যোগ না দেন, সেই সতর্কবার্তাও তিনি বহুবার দিয়েছেন।
জানা গেছে, রাজন রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছিলেন। ১৯ অক্টোবর ফ্রন্টলাইনে যাওয়ার আগে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, সুস্থ থাকলে এক-দুই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। একই দিনে যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্বশান্তির আহ্বান জানিয়ে একটি বার্তাও দেন।
কিন্তু ওই দিন সকাল ১১টায় দেওয়া ভিডিওবার্তার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রায় আট দিন পেরিয়ে গেছে। নতুন কোনো পোস্ট, ভিডিও, বা সুস্থ থাকার খবর নেই।
যিনি অন্যদের বিপদের খবর জানাতেন, আজ তার নিজের পরিণতি নিয়েই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। ফ্রন্টলাইনে গিয়ে কি কোনো বিপদে পড়েছেন তিনি, নাকি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় খবর দিতে পারছেন না? এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো মেলেনি। তার মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত নয়।
রাজনের এই নীরবতা অনেক মানুষের মনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ তার পুরোনো ভিডিও শেয়ার করছেন, কেউ সুস্থতার প্রার্থনা করছেন। সবাই অপেক্ষা করছেন, কবে আবার তার পরিচিত কণ্ঠে জানাবেন তিনি ভালো আছেন।
সবার চাওয়া একটাই—যুদ্ধের ময়দান থেকে আর কোনো মৃত্যুর খবর নয়, রাজনের কাছ থেকে আসুক বেঁচে থাকার বার্তা। নিরাপদে, সুস্থ শরীরে ফিরে আসুন নিজের দেশে, নিজের মানুষের কাছে। রাজন, তুমি যেখানেই থাকো, ভালো থেকো। তোমার অপেক্ষায় আছে অনেক মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করার কারণে স্বৈরাচারী কায়দায় লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পরিস্থিতির ফলে মানুষের কথা বলার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
গাজীপুরে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গ্যাস ও জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী রমজানে সাধারণ মানুষের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বলা যাচ্ছে না।’
তিনি সরকারের সমালোচনার কারণে ২২ জনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘এতে মানুষের কথা বলার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে এবং দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’
গাজীপুরের সিফাতসহ সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সকলের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু পোশাক শ্রমিকসহ বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হয়নি।’ এ সময় তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব পেশাজীবীর বেতনের বিষয়টি সমন্বয় করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গায় রাশিয়ার অর্থায়নে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি দিয়েছেন।
আজ সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ প্রস্তাবটি তুলে ধরেন।
আফরোজা খানম জানান, প্রস্তাবিত সাইলোর ধারণক্ষমতা ২ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন হতে পারে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির প্রস্তাব দেন। তিনি কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।
আফরোজা খানম জবাবে জানান, রাশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার এলাকায় জমির অপ্রতুলতার কারণে এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গা বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দরে প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকায় সেখানে বৃহৎ ধারণক্ষমতার গমের সাইলো নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে তা ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা যেতে পারে। এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত গম দেশে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশের বেসরকারি গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্থানীয় বাজারে গম বিক্রির পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনেও সংরক্ষিত গম কেনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের গম সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি উভয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দরে সাইলো নির্মাণ করা হলে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ গম পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে গমের সহজ ও কার্যকর পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য খাদ্যমন্ত্রী রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে পায়রা সমুদ্রবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করলে সাইলো নির্মাণের উপযুক্ত স্থান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত খাদ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি অ্যানেসতেশিয়া নিমোভা, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ