মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ পি.এম
রাজন কি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন? তিনি কোথায় আছেন? কেমন আছেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষের মনে একই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
রাজনের ফেসবুক পেজে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং সুস্থভাবে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা দেখা যাচ্ছে। যিনি প্রতিদিন যুদ্ধের ময়দান থেকে অন্যদের খবর জানাতেন, আজ তার খবরই অজানা। একটি ভিডিও, একটি বার্তার অপেক্ষায় অসংখ্য মানুষ।
মো. রাজন হোসাইন তার পুরো নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘রাজন অন দ্য গো’ নামে পরিচিত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ, প্রাণহানি এবং যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতা নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি।
এছাড়া, অন্য বাংলাদেশিরা যেন অর্থের প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে যোগ না দেন, সেই সতর্কবার্তাও তিনি বহুবার দিয়েছেন।
জানা গেছে, রাজন রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছিলেন। ১৯ অক্টোবর ফ্রন্টলাইনে যাওয়ার আগে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, সুস্থ থাকলে এক-দুই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। একই দিনে যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্বশান্তির আহ্বান জানিয়ে একটি বার্তাও দেন।
কিন্তু ওই দিন সকাল ১১টায় দেওয়া ভিডিওবার্তার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রায় আট দিন পেরিয়ে গেছে। নতুন কোনো পোস্ট, ভিডিও, বা সুস্থ থাকার খবর নেই।
যিনি অন্যদের বিপদের খবর জানাতেন, আজ তার নিজের পরিণতি নিয়েই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। ফ্রন্টলাইনে গিয়ে কি কোনো বিপদে পড়েছেন তিনি, নাকি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় খবর দিতে পারছেন না? এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো মেলেনি। তার মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত নয়।
রাজনের এই নীরবতা অনেক মানুষের মনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ তার পুরোনো ভিডিও শেয়ার করছেন, কেউ সুস্থতার প্রার্থনা করছেন। সবাই অপেক্ষা করছেন, কবে আবার তার পরিচিত কণ্ঠে জানাবেন তিনি ভালো আছেন।
সবার চাওয়া একটাই—যুদ্ধের ময়দান থেকে আর কোনো মৃত্যুর খবর নয়, রাজনের কাছ থেকে আসুক বেঁচে থাকার বার্তা। নিরাপদে, সুস্থ শরীরে ফিরে আসুন নিজের দেশে, নিজের মানুষের কাছে। রাজন, তুমি যেখানেই থাকো, ভালো থেকো। তোমার অপেক্ষায় আছে অনেক মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করার কারণে স্বৈরাচারী কায়দায় লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পরিস্থিতির ফলে মানুষের কথা বলার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
গাজীপুরে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গ্যাস ও জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী রমজানে সাধারণ মানুষের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বলা যাচ্ছে না।’
তিনি সরকারের সমালোচনার কারণে ২২ জনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘এতে মানুষের কথা বলার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে এবং দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’
গাজীপুরের সিফাতসহ সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সকলের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু পোশাক শ্রমিকসহ বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হয়নি।’ এ সময় তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব পেশাজীবীর বেতনের বিষয়টি সমন্বয় করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গায় রাশিয়ার অর্থায়নে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি দিয়েছেন।
আজ সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ প্রস্তাবটি তুলে ধরেন।
আফরোজা খানম জানান, প্রস্তাবিত সাইলোর ধারণক্ষমতা ২ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন হতে পারে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির প্রস্তাব দেন। তিনি কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।
আফরোজা খানম জবাবে জানান, রাশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার এলাকায় জমির অপ্রতুলতার কারণে এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গা বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দরে প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকায় সেখানে বৃহৎ ধারণক্ষমতার গমের সাইলো নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে তা ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা যেতে পারে। এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত গম দেশে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশের বেসরকারি গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্থানীয় বাজারে গম বিক্রির পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনেও সংরক্ষিত গম কেনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের গম সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি উভয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দরে সাইলো নির্মাণ করা হলে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ গম পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে গমের সহজ ও কার্যকর পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য খাদ্যমন্ত্রী রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে পায়রা সমুদ্রবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করলে সাইলো নির্মাণের উপযুক্ত স্থান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত খাদ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি অ্যানেসতেশিয়া নিমোভা, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় লেগে কম্পাউন্ড মহিলা একক ইভেন্টের ফাইনালে বাংলাদেশের আরচ্যার বন্যা আক্তার জায়গা করে নিয়েছেন। ইরাকের সুলায়মানিয়াহতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ফাইনালে উঠে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন এই প্রতিভাবান আরচ্যার।
কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে বন্যা আক্তার নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। তিনি ৬৯৬ স্কোর করে কম্পাউন্ড বিভাগে মহিলা সেকশনে ১ম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তী ইলিমিনেশন রাউন্ডগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফাইনালে পৌঁছে দেশের জন্য স্বর্ণপদক জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন তিনি।
প্রতিযোগিতার স্কোরকার্ড অনুযায়ী, সেমিফাইনালে বন্যা আক্তার ১৪২–১৪১ পয়েন্টে জয়লাভ করেন। অপরদিকে, কম্পাউন্ড মহিলা এককের অন্য সেমিফাইনালে কাজাখস্তানের আরচ্যার ১৪৪–১৩৮ পয়েন্টে জয়লাভ করে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেন।
আগামী ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে বন্যা আক্তারের প্রতিপক্ষ হবেন কাজাখস্তানের আরচ্যার। এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে সেরা পারফরম্যান্সের মাধ্যমে স্বর্ণপদক অর্জন করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
বাংলাদেশের আরচ্যারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে বন্যা আক্তারের এই সাফল্য বাংলাদেশের আরচ্যারীর অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেছে।
এ সময় নেতারা দলীয়করণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
এনসিপি নেতা আখতার হোসেন সাফ জানিয়ে দেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তিনি জাপান সফরে চুক্তির নামে ভারতকে সুবিধা দেয়ার পদক্ষেপ নেয়ার আগে সতর্ক হওয়ার বিষয়েও হুঁশিয়ারি দেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেন।
এনসিপির চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, "জনগণ বিনা পয়সায় ভোট দেবে, এনসিপি বিনা পয়সায় সেবা দেবে।"
এ সময় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মোহাম্মদপুরকে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করার অঙ্গীকার করেন। নাগরিক সমস্যা সমাধানে তাকে ঢাকা সিটির মেয়র করার আহ্বানও জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ