০৭:৩৮ এম
ভারতের কেরালায় স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত এক নারী আদালতে ওষুধের দাম কমানোর জন্য একটি আবেদন করেছেন। তার চিকিতসার জন্য মাসে দেড় লাখ রুপির সংস্থান করার সামর্থ্য তার ছিল না।
কিন্তু আদালতের রায় পাওয়ার আগেই ওই নারী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আবেদনকারী নারীর মৃত্যুর চার বছর পরও মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি।
মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে একটি নতুন আবেদনের পর ভারতে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার এই মর্মান্তিক উদাহরণটি আবার আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
কেরালার ওই নারী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।
তার চিকিতসার জন্য প্রয়োজনীয় দুটি ওষুধই ছিল ব্যয়বহুল। রাইবোসিক্লিব নামে একটি ওষুধের জন্য মাসে খরচ পরতো ৭৮ হাজার ৪৬৮ রুপি এবং অ্যাবেমাসিক্লিব নামে অপর ওষুধটির মাসিক ব্যয় ছিল ৪৭ হাজার ৭৫২ রুপি থেকে ৯৫ হাজার ৫০৪ রুপি পর্যন্ত। দুটি ঔষধ মিলে তার মাসিক খরচ দেড় লাখ রুপিরও বেশি হতো। ২০২২ সালের জুন মাসে ভুক্তভোগী নারী কেরালা হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন, যাতে ঔষধ দুটি ভারতেই উৎপাদন করা হয় এবং রোগীরা কম দামে কিনতে পারেন।
কিন্তু রিট আবেদনের তিন মাসের মাথায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবেদনকারী নারী মারা যান। তবে তার মৃত্যুর পরও জনস্বার্থে মামলাটি সচল থাকে। এই দীর্ঘ সময়ে মামলাটির ৫৭টি শুনানি হয়েছে। রায়ের জন্য প্রস্তুত হলেও রায় এখনও আসেনি। বারবার রায়ের জন্য তারিখ দেয়া হলেও বারবারই তা পিছিয়ে যায়।
ভারতে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত ’ওয়ার্কিং গ্রুপ অন অ্যাক্সেস টু মেডিসিনস অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক জ্যোৎস্না সিং এবং কে এম গোপাকুমার গত শুক্রবার মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কেরালা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেনের কাছে একটি আবেদন পাঠান। একই আবেদন তারা ভারতের রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মু এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছেও পাঠিয়েছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, ‘যিনি এই লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি আর নেই। এই সত্যটি প্রমাণ করে যে বিলম্ব কতটা ব্যয়বহুল হতে পারে, বিশেষ করে যখন বিষয়টি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের হয়।’
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
ভুক্তভোগীর রিট আবেদনের পর আদালত একজন শেষ আইনজীবী নিয়োগ করেছিল। সরকারের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ জবাব চাওয়া হয়েছিল। তলব করা হয়েছিল ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকেও। এমনকি আলোচিত এ মামলাটির শুনানীর জন্য বিশেষ একটি দিনও (শনিবার) ঠিক করা হয়েছিল। আদালতে সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এ রোগের চিকিৎসার জন্য পুরোনো একটি ঔষধই যথেষ্ট হবে, কিন্তু তখন আইনজীবী প্রমাণ করেন যে সেই পুরোনো ঔষধটি এই রোগের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়।
৫৭টি শুনানির পর ২০২৫ সালে মামলাটি ‘রায়ের জন্য প্রস্তুত’ তালিকায় ওঠে। সর্বশেষ নির্ধারিত তারিখ ছিল ২ জুলাই। কিন্তু বারবারই নির্ধারিত তারিখে রায় পিছিয়ে যায়। আগামী ১৫ জুলাই রায়ের পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।
দুই অধিকার কর্মীর চিঠিতে বলা হয়, ‘এই মামলায় একটি দ্রুত সিদ্ধান্তই হবে ওই নারীর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাঞ্জলি। আর সেই হাজার হাজার নারীর জন্য আশার আলো, যারা এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন কিন্তু আদালতে পৌঁছানোর পথ জানেন না।’
ভারতে স্তন ক্যান্সার একটি ভয়াবহ প্রাণঘাতী রোগ। ২০২২ সালে ভারতে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার নারীর স্তন ক্যান্সার সনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ৯৮ হাজার ৩৩৭ জন নারী মারা গেছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকার নিজেই সংসদে জানিয়েছে যে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা ২ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন