০৫:২৮ পি.এম
লেবাননে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সহায়তা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইউএনআরডব্লিউএর তথ্য অনুযায়ী, দুই জুন পর্যন্ত লেবাননের সাইদন এলাকার সিবলিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং নাহর আল-বারেদের বাত্তির স্কুলে থাকা দুটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৬৬১টি পরিবারের ২১৪৮ জন নিবন্ধিত রয়েছে। এর আগের প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ছিল ১২৬৪ জন। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সংস্থাটি বলছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দেওয়া এলাকা ছাড়ার নির্দেশ এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে হামলা বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুতি দ্রুত বাড়ছে।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের রবেন আইল্যান্ড পরিদর্শন, নেলসন ম্যান্ডেলাকে বন্দি রাখা ছিল সেখানে
এদিকে ২৫ মে দক্ষিণ টাইরের রাশিদিয়েহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের কাছে একটি বিমান হামলায় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো পুরো মেরামতের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
এই হামলার পর রাশিদিয়েহ এবং পাশের আল-বুস শিবির থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই শিবিরের প্রায় ২৮ হাজার বাসিন্দার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ইউএনআরডব্লিউএর ২৬টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বর্তমানে পুরো লেবাননে মাত্র ১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে, যা বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর চিকিৎসা চাহিদা পূরণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
শিক্ষা কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ইউএনআরডব্লিউএর ৬০টি স্কুলের মধ্যে এখন মাত্র ৩৪টিতে সরাসরি ক্লাস চলছে। বাকি স্কুলগুলোতে দূরশিক্ষণ বা মিশ্র পদ্ধতিতে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: আরব উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিক নিহত
সংস্থাটি জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ৬ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে মানসিক ও সামাজিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন