০৩:১০ এম
আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এ দিবসটি। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে গণ্য করা হয়।
এদিন দেশের সিপাহি-জনতা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। এর মাধ্যমে তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংকট এবং রাষ্ট্রীয় অনিশ্চয়তার মধ্যে সিপাহি-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থান দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
সিপাহি-জনতার বিপ্লবে এদিন বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান ও স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। জাতির এই সংকটময় সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল ত্রাতার। পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যাত্রা, জাতীয় ঐক্য সুসংহত এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ওয়াকফের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে ঐতিহাসিক এই দিনটি ছিল অবহেলিত।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের উত্থান ঘটে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন, গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টিতে উদ্যোগী হন।
এছাড়া দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, স্বনির্ভরতা এবং জাতীয় ঐক্যের ধারণা রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক দর্শনে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি করে দলটি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও উন্নয়নের রাজনীতিকে সামনে নিয়ে আসে।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস ও আদর্শিক অবস্থানে ৭ নভেম্বর তাই শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের স্মারক নয়; বরং এটি জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করা এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রেরণার দিন হিসেবে বিবেচিত।
সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সাল ছিল চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার বছর। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক সংকট সৃষ্টি হয়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে দেশের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু হয়। পরে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেও শুরু হয় নানা টানাপোড়েন।
এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটে। ওই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে একের পর এক ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়।
এ পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর ভোরে সেনানিবাসে সৈনিকদের মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়। সৈনিকদের একটি অংশ বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। পরে সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে আসে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সৈনিক ও জনতার মধ্যে সংহতির দৃশ্য দেখা যায়। ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ এবং ‘মেজর জিয়া জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকা।
ওই দিন বেতারে আবারও শোনা যায় জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ—‘আমি জিয়া বলছি’। সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের পথ তৈরি হয়। তবে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহেরের ভূমিকা এবং সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান নিয়ে ইতিহাসে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ওই ঘটনায় খালেদ মোশাররফ ও তার কয়েকজন সহযোগী নিহত হন।
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী
এদিকে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিল দেশকে অরাজকতা, ষড়যন্ত্র ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত করে জাতীয় ঐক্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনা। জিয়াউর রহমানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও সমর্থন ওই দিন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ কারণেই দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পুনর্গঠন
৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ সময় বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করাই ছিল তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনীতির দুয়ার উন্মুক্ত করা হয়। কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
আরও পড়ুন: রীতা রানীকে মারধরের অভিযোগ, ফেসবুকে ছড়ানো তথ্য নিয়ে ডিএমপির মন্তব্য
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। খাল খনন কর্মসূচি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন জিয়াউর রহমান। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজস্ব পরিচয়ে রাজনীতি করার সুযোগ ফিরে পায়। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও রাজনীতিতে ফিরে আসে। বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও দলীয় কার্যক্রমের পরিসর সম্প্রসারিত হয়।
বিএনপির মতে, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম অর্জন ছিল জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করা এবং অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
আরও পড়ুন: গভর্নরের নির্দেশে উদ্যোক্তাদের সুবিধা দ্রুত পৌঁছানোর নির্দেশ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ এবং বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার ঐতিহাসিক মাইলফলক। মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ ও ২০২৪-এর গণআন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতান্ত্রিক, স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন। জাতীয় সংসদকেন্দ্রিক আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে চতুর্থবার বিএনপি সরকার গঠনের পর এবারই প্রথম ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি এবার পালিত হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটি। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশের বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম এবং পাঁচ টাকা মূল্যমানের ডেটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন। দিবসটি উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।
এর অংশ হিসেবে আজ বেলা ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির আলোচনা সভাসহ আলোকচিত্র প্রদর্শনী, এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বিএনপির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলো।
কেন্দ্রীয়ভাবে আজ রাজধানী ছাড়াও সারা দেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর দেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন হয় এবং জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্রচর্চার ব্যবস্থা করেন।
বিএনপি ছাড়াও সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আলাদা আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া লেবার পার্টিও তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন