ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এ দিবসটি। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে গণ্য করা হয়।

এদিন দেশের সিপাহি-জনতা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। এর মাধ্যমে তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংকট এবং রাষ্ট্রীয় অনিশ্চয়তার মধ্যে সিপাহি-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থান দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

সিপাহি-জনতার বিপ্লবে এদিন বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান ও স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। জাতির এই সংকটময় সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল ত্রাতার। পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যাত্রা, জাতীয় ঐক্য সুসংহত এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ওয়াকফের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে ঐতিহাসিক এই দিনটি ছিল অবহেলিত।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের উত্থান ঘটে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন, গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টিতে উদ্যোগী হন।

এছাড়া দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, স্বনির্ভরতা এবং জাতীয় ঐক্যের ধারণা রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক দর্শনে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি করে দলটি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও উন্নয়নের রাজনীতিকে সামনে নিয়ে আসে।

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস ও আদর্শিক অবস্থানে ৭ নভেম্বর তাই শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের স্মারক নয়; বরং এটি জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করা এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রেরণার দিন হিসেবে বিবেচিত।

সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সাল ছিল চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার বছর। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক সংকট সৃষ্টি হয়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে দেশের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু হয়। পরে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা

এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেও শুরু হয় নানা টানাপোড়েন।

এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটে। ওই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে একের পর এক ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়।

এ পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর ভোরে সেনানিবাসে সৈনিকদের মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়। সৈনিকদের একটি অংশ বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। পরে সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে আসে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সৈনিক ও জনতার মধ্যে সংহতির দৃশ্য দেখা যায়। ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ এবং ‘মেজর জিয়া জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকা।

ওই দিন বেতারে আবারও শোনা যায় জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ—‘আমি জিয়া বলছি’। সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের পথ তৈরি হয়। তবে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহেরের ভূমিকা এবং সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান নিয়ে ইতিহাসে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ওই ঘটনায় খালেদ মোশাররফ ও তার কয়েকজন সহযোগী নিহত হন।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

এদিকে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিল দেশকে অরাজকতা, ষড়যন্ত্র ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত করে জাতীয় ঐক্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনা। জিয়াউর রহমানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও সমর্থন ওই দিন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ কারণেই দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পুনর্গঠন

৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ সময় বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করাই ছিল তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনীতির দুয়ার উন্মুক্ত করা হয়। কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন: রীতা রানীকে মারধরের অভিযোগ, ফেসবুকে ছড়ানো তথ্য নিয়ে ডিএমপির মন্তব্য

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। খাল খনন কর্মসূচি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন জিয়াউর রহমান। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজস্ব পরিচয়ে রাজনীতি করার সুযোগ ফিরে পায়। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও রাজনীতিতে ফিরে আসে। বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও দলীয় কার্যক্রমের পরিসর সম্প্রসারিত হয়।

বিএনপির মতে, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম অর্জন ছিল জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করা এবং অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আরও পড়ুন: গভর্নরের নির্দেশে উদ্যোক্তাদের সুবিধা দ্রুত পৌঁছানোর নির্দেশ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ এবং বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার ঐতিহাসিক মাইলফলক। মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ ও ২০২৪-এর গণআন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতান্ত্রিক, স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন। জাতীয় সংসদকেন্দ্রিক আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে চতুর্থবার বিএনপি সরকার গঠনের পর এবারই প্রথম ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি এবার পালিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটি। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশের বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম এবং পাঁচ টাকা মূল্যমানের ডেটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন। দিবসটি উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

এর অংশ হিসেবে আজ বেলা ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির আলোচনা সভাসহ আলোকচিত্র প্রদর্শনী, এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বিএনপির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলো।

কেন্দ্রীয়ভাবে আজ রাজধানী ছাড়াও সারা দেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর দেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন হয় এবং জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্রচর্চার ব্যবস্থা করেন।

বিএনপি ছাড়াও সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আলাদা আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া লেবার পার্টিও তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইংলিশ ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন পন্টিংকে মাঠে আঙুল ফুটিয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ এম


ইংলিশ ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন পন্টিংকে মাঠে আঙুল ফুটিয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ

ক্রিকেটের মাঠে প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে আউট করার জন্য ব্যাটে বল লাগার শব্দ নকল করার অভিযোগে কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছেন ইংল্যান্ডের অপেশাদার ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন পন্টিং। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে তার ক্লাব সল্টবার্নও শাস্তির আওতায় এসেছে।

এটি ঘটে গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে। সল্টবার্নের দ্বিতীয় একাদশের হয়ে স্লিপে ফিল্ডিং করছিলেন পন্টিং। এ সময় নর্টনের ব্যাটার নোমান শাবিরের ব্যাটের পাশ দিয়ে বল যাওয়ার সময় পন্টিং আঙুল ফুটিয়ে ব্যাটে বল লাগার মতো শব্দ তৈরি করেন।

শব্দটি শুনে উইকেটকিপার বলটি ধরেন। এরপর সল্টবার্নের খেলোয়াড়রা আউটের আবেদন করলে আম্পায়ার নোমান শাবিরকে আউট ঘোষণা করেন। পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর লিগ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তের ফলস্বরূপ পন্টিং এবং তার ক্লাবের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) অধীনে ২০২৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পন্টিং ক্রিকেটের সব ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞার সময় তিনি খেলোয়াড়, কোচ, আম্পায়ার কিংবা জুনিয়র দলের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।

এ ঘটনায় সল্টবার্ন ক্লাবকেও বড় ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের দ্বিতীয় বিভাগ থেকে অবনমন ঘটিয়ে ২০২৭ মৌসুমে তৃতীয় বিভাগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষ। নতুন মৌসুমে তাদের ৬০ পয়েন্ট হারিয়ে শুরু করতে হবে। এছাড়া ক্লাবটিকে ৩০০ পাউন্ড জরিমানাও করা হয়েছে।

লিগ কর্তৃপক্ষের মতে, তদন্তের সময় সল্টবার্নের একাধিক ম্যাচে পন্টিংসহ দলের অন্য সদস্যদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও নিষেধাজ্ঞা কেবল পন্টিংকে দেওয়া হয়েছে, তবে বিতর্কিত ঘটনায় দলের অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

একটি ম্যাচে প্রতারণার মাধ্যমে আউটের ঘটনা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পুরো ক্লাবের অবনমনের কারণ হয়ে দাঁড়াল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ এম


পিরোজপুরে ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু

পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে এক রোগীর মৃত্যু ঘটে।

এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে। মৃত রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন যে, ভুল চিকিৎসার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

মৃত রোগী লাকি (৩০) পিরোজপুর সদর উপজেলার নরখালী গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী। তার চার মাস বয়সী একটি শিশুসহ মোট তিনটি সন্তান রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাকিকে বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

লাকির ননদ সোনিয়া জানান, তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানিয়েছেন যে, লাকি পাঁচ থেকে ছয়বার পায়খানা করেছেন। তবে চিকিৎসক জানান, লাকির ডায়রিয়া হয়নি এবং তাকে মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করার জন্য পাঠানো হয়।

সোনিয়া আরও জানান, একটি ইনজেকশন দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই লাকি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। নার্সদের কাছে বিষয়টি জানালেও তারা জানান যে, লাকি ঘুমাচ্ছেন। সোনিয়া বারবার নার্সদের অনুরোধ করেন লাকিকে পরীক্ষা করে দেখার জন্য, কিন্তু তারা কোনো গুরুত্ব দেননি। পরে রাত ৮টার পর শিফট পরিবর্তনের সময় দায়িত্ব নিতে আসা নার্সরা লাকিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। সোনিয়ার অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণেই লাকির মৃত্যু ঘটেছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নিজাম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর জানা যাবে ভুল চিকিৎসা বা অবহেলা ছিল কি না।

লাকির চিকিৎসা দেওয়া জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. স্বাগত হালদার জানান, লাকিকে তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং তখন তার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। তিনি বলেন, ইসিজিসহ কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ব্যথা কমানোর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যথানাশক ইনজেকশনসহ কয়েকটি ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। রোগীর ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করাই তখন জরুরি ছিল।

তিনি জানান, মেডিকেল টেস্টের কোনো রিপোর্ট না পাওয়ায় লাকির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত করে রোগনির্ণয় করা সম্ভব হয়নি, তবে দাবি করেন যে, রোগীকে প্রাথমিকভাবে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে লাকির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে তার স্বজনেরা ছুটে আসেন। তবে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে পাচারের সময় মিরসরাইয়ে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ এম


মিয়ানমারে পাচারের সময় মিরসরাইয়ে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ একটি ট্রাক পুলিশ কর্তৃক জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রাকচালক মেহেদী হাসান রোমন (২৫) আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কচ্ছপিয়া মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে এসব সার জব্দ করা হয়। জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে সারগুলো উদ্ধার করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ ট্রাকটি নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে এসেছে। তল্লাশির সময় ৩০০ বস্তায় ১৫ টন ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ টাকা। এসব সার বঙ্গোপসাগর হয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। এর আগে একই স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সারসহ দুইটি ট্রাকও জব্দ করেছিল জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, সম্প্রতি মিরসরাইয়ের বঙ্গোপসাগরকে সার পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে একটি চক্র। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার ও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট, সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন শামি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ এম


৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট, সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন শামি

ভারতের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানান। তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হলো ভারতের হয়ে ৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট নিয়ে।

২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ছিল ভারতের হয়ে তাঁর শেষ টেস্ট ম্যাচ।

মোহাম্মদ শামি রঞ্জি ট্রফিতে বারবার নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। লাল বলের ক্রিকেটে ফেরার জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে গেলেও জাতীয় দলের দরজা আর তাঁর সামনে খোলেনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দল থেকে বাদ পড়া তাই অভিজ্ঞ পেসারের কাছে একটি বড় ধাক্কা ছিল। হয়তো সেই আঘাতের কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।

ইনস্টাগ্রামে অবসরের কথা জানিয়ে শামি লেখেন, ‘সাদা জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু এই জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে কখনও বিদায় জানাতে পারব না। প্রথম বার যখন ভারতের টেস্ট জার্সি গায়ে তুলেছিলাম, তখন আমার একটাই স্বপ্ন ছিল—দেশের জন্য কিছু করা। তার পর থেকে প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি লড়াই, প্রতিটি চোট এবং প্রতিবার ফিরে আসা আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে।’

শামি স্পষ্ট করেছেন যে টেস্ট ক্রিকেট তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি খেলার ফরম্যাট ছিল না। তাঁর দাবি, ‘টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি ফরম্যাট ছিল না। এটা আমার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। আজ অনেক সুন্দর স্মৃতি আর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করছি। এই দীর্ঘ যাত্রায় আমার প্রত্যেক সতীর্থ, কোচ, পরিবারের সদস্য এবং কোটি কোটি ভারতীয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভালো ও খারাপ, সব সময়েই যাঁরা আমার পাশে থেকেছেন এবং আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল পেসার হিসেবেই টেস্ট কেরিয়ার শেষ করলেন শামি। প্রায় এক দশক ধরে ভারতের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। নিখুঁত সিম পজিশন এবং যেকোনো পিচ থেকে বল সুইং করানোর ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

অবসর ঘোষণার বার্তায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলকেও (সিএবি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন শামি। তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রতিভার উপর বিশ্বাস রাখার জন্য, নিজেকে আরও ভালো করে তোলার সুযোগ দেওয়ার জন্য এবং আমার ক্রিকেটজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার জন্য বিসিসিআই ও সিএবি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থন ও বিশ্বাস আমার কাছে সব সময় বিশেষ জায়গা করে থাকবে।’

শামি আরো লিখেছেন, ‘মাঠে আমার শেষ টেস্ট বলটি হয়তো করা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দেশের হয়ে খেলার গর্ব আমার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। ধন্যবাদ, টেস্ট ক্রিকেট।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%