রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪২ পি.এম
কুড়িগ্রামে আজও সার না পেয়ে গুদামে হট্টগোল, ভাঙচুর, ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারে সার ডিলার কাশেম ট্রেডার্স পয়েন্টে সকাল ৮টা থেকে মানুষজন সারের জন্য জড়ো হয়।
এ সময় ডিলার পয়েন্টের লোকজন না আসায় ৯টার দিকে উপস্থিত জনতা সার না পেয়ে হট্টগোল শুরু করে। এ সময় দোকানটির টিনের বেড়া ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করে।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, গুদামে সার থাকার পরও ডিলারের লোকজন আসেননি। দেড় থেকে দুইশ লোক উপস্থিত ছিল। তারা হইচই করে ও ধাক্কাধাক্কি করে। কেউ কেউ দোকান ঘরের বেড়ার টিন ভাঙচুর করে। তবে কেউ সার নিয়ে যায়নি।
কচাকাটা থানার ওসি অর্পণ কুমার জানান, দোকান ঘরে ভাঙচুর হয়নি। তবে দেড়-দুইশ মানুষ ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কি করে। এতে বেড়ার টিন ভেঙে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, লোকজন অস্থির হয়ে গেছে। সবাই একসঙ্গে সার চায়। এটা তো সম্ভব নয়। পরে ওসির উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের মিলনিবাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে লোকজন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, ওখানে চারশ বস্তা সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মানুষ উপস্থিত ছিল অনেক। তাতে ডিলার ভয় পেয়ে যায়। পরে আমি ও কচাকাটা থানার ওসিসহ উপস্থিত থেকে সার বিতরণ করা হয়। চাহিদা অনুযায়ী আরও ২০ টন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কাল পরশু বিতরণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি উল্লেখ করেন, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রণীত জাতীয় নগর নীতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ রাজধানীতে ‘জাতীয় নগর ফোরাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা প্রদান করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেন, “জাতীয় নগর নীতির টেকসই কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিটি শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য—নগরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক যেন তার প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নগরবাসীর জীবনে যেন কোনো দুর্ভোগ নেমে না আসে, সে বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রাখছে।
প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা আমাদের প্রিয় শহরগুলোকে শুধু বর্তমান সময়ের জন্যই বাসযোগ্য করতে চাই না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই; যাতে তারা দূষণমুক্ত বাতাসে মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারে।”
আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স বলেন, “এই ফোরামের আয়োজনই শেষ কথা নয়; বরং নগর নীতি নিয়ে আজ আমরা যা আলোচনা করেছি, তা বাস্তবায়ন করার জন্য এটি একটি যৌথ দায়বদ্ধতার শুভসূচনা।”
ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক জেমস গোল্ডম্যান আশা প্রকাশ করে বলেন, এই ফোরামটি বাংলাদেশে টেকসই নগর উন্নয়নে সহায়তাকারী উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর আকিরা মাতসুনগা বলেন, “বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন খাতে এডিবি দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। শহরগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাসযোগ্য ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যে সহায়তা জোরদার করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।”
অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় ঢাকা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক করিডোরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীভূত বিনিয়োগের সুবিধার পাশাপাশি যানজট, জলাবদ্ধতা, অপ্রতুল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমিত সক্ষমতার মতো বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলায় পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালিয়েছে জেলা পরিষদ। আজ রোববার পৌর এলাকার জগৎ বাজারে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিফলেট বিতরণকালে ব্যবসায়ীদের পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান জেলা পরিষদ প্রশাসক। একই সঙ্গে পলিথিন কেনা, বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, পলিথিনের নির্বিচার ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করলে এবং ব্যবসায়ীরা পলিথিন কেনা, বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ করলে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট, কাপড় ও কাগজের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদে আজ আরও ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে এবং একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম কমিটি গঠনের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠ ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
স্থায়ী কমিটিগুলো হল - মুন্সি রফিকুল আলমকে (ফেনী-১) সভাপতি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, একেএম সেলিম রেজাকে (পাবনা-২) সভাপতি করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে (পাবনা-৫) সভাপতি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, মো. বরকত উল্লাহ বুলুকে (নোয়াখালী-৩) সভাপতি করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, মো. আবদুস সালাম পিন্টুকে (টাঙ্গাইল-২) সভাপতি করে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, মাহমুদা হাবীবাকে (মহিলা আসন-১৩) সভাপতি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইঞাকে (খাগড়াছড়ি) সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, খায়রুল কবির খোকনকে (নরসিংদী-১) সভাপতি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া কে (লক্ষ্মীপুর-২) সভাপতি করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং জয়নুল আবদিন ফারুককে (নোয়াখালী-২) সভাপতি করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়।
এছাড়া মো. শাহাদাত হোসেনকে (লক্ষ্মীপুর-১) সভাপতি করে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো.মোসলিম (১২) নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তীতে মামলা করতে পারবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ