ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি করেছেন বিশ্বকাপের ভবিষ্যদ্বাণী


নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি করেছেন বিশ্বকাপের ভবিষ্যদ্বাণী

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যখন ফুটবল বিশ্লেষকরা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা স্পেন নিয়ে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি প্রচলিত সমীকরণে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মরক্কো ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে শিরোপা জিতবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর আয়োজিত বিশেষ বিশ্বকাপ প্রেডিকশন গেমে অংশগ্রহণ করে মামদানি নিজের টুর্নামেন্ট ব্র্যাকেট প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে মরক্কো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরছে।

নিজের এই সাহসী পূর্বাভাসের ব্যাখ্যায় নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, 'আমি বিশ্লেষণ করে নয়, হৃদয়ের টান থেকেই মরক্কোকে বেছে নিয়েছি।' তিনি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল যাত্রাকেও নিজের বিশ্বাসের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

তবে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর চমক শুধু মরক্কোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মামদানির হিসাব অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বেই জাপান ব্রাজিলকে হারিয়ে দেবে। একইসাথে রোনালদোর পর্তুগাল খুব বেশি দূর যেতে পারবে না; শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নেবে ইউরোপের এই দল।

উগান্ডায় জন্ম নেওয়া এই মার্কিন রাজনৈতিক নেতা ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ২০১০ বিশ্বকাপে লুইস সুয়ারেজের বিতর্কিত হ্যান্ডবলের কারণে ঘানার বিদায় দেখে স্টেডিয়ামেই কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি।

এবারও ঘানাকে নিয়ে আশাবাদী হলেও তাদের খুব বেশি দূর এগিয়ে রাখেননি মামদানি। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আফ্রিকার দলটি গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে উঠবে, তবে শেষ ৩২-এ কলম্বিয়ার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শোকজের জবাব দিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চাইল আদ-দ্বীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


শোকজের জবাব দিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চাইল আদ-দ্বীন

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও জবাব দেয়নি। তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ সীমার মধ্যে জবাব না দিয়ে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তারিখে স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃপক্ষ আদ-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ করে। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘনের কারণে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাইছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য জবাব দেয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ৭২ ঘণ্টা, অর্থাৎ রোববার (৭ জুন) বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু বিকেল ৫টার মধ্যে তাদের জবাব দেয়ার কথা থাকলেও আদ-দ্বীন হাসপাতাল এখনও জবাব দেয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এই সময় বাড়ানোর আবেদনের চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কোনো জবাব না পাওয়া যায়, তবে আজকেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুজনিত ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আদ-দ্বীন হাসপাতালের আইনি উপদেষ্টা শিশির মনির হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতালের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কক্ষে দীর্ঘ সময়ের জন্য এসি বন্ধ থাকার কারণে এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা গেছে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ নিয়মিতের চেয়ে বেড়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি, ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে অনুমানিক ৫০ জনেরও অধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল, যা ছিল ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।

এই তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে হাসপাতালের কোনও সক্রিয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বরত সেবিকাদের মধ্যে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল। এই সব গাফিলতি ও হাসপাতাল পরিচালনার শর্ত ভঙ্গের জন্যই স্বাস্থ্য অধিদফতর লাইসেন্স বাতিলের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ

গুম-খুন ও গণহত্যার পক্ষ নেওয়া সাংবাদিকদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


গুম-খুন ও গণহত্যার পক্ষ নেওয়া সাংবাদিকদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে

বিগত ১৭ বছরে গুম-খুন, ভোট চুরি ও গণহত্যার বৈধতা দেওয়া সাংবাদিক নামধারীদের বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুনর্বাসিত করার বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ এসব নামধারী সাংবাদিক এবং মিডিয়া হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা জানতে চান।

জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করতে সহায়তা করবে, সন্ত্রাসের মাধ্যমে যারা কাজ করবে—সে যিনিই হোন, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটা সাংবাদিক হোক কিংবা আমাদের রাজনীতিবিদ, বিজনেসম্যান বা চাকুরিজীবী হোক—আইনের ঊর্ধ্বে তো কেউ নয়। কাজেই যদি কেউ আইন লঙ্ঘন করে, তার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রচলিত আইনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

এর আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে মন্তব্য করেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা দেখেছি সাংবাদিকতা করা খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু সেই সময়েও অনেক পেশাদার সাংবাদিক, পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সময়ে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে যারা গণহত্যা, ভোট চুরি, গুম-খুন, ব্যাংক ডাকাতির বৈধতা উৎপাদন করেছে মিডিয়াগুলোতে এবং যারা আজকে সরকারি দলে রয়েছেন—বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, এমনকি তাদেরকেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকারী, দেশদ্রোহী হিসেবে আমরা দেখেছি বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া বিভিন্ন সময়ে নিউজ করেছে। আমাদের এই সংসদে বর্তমান বিএনপি ও জামায়াতের কিছু সদস্য রয়েছে—বিভিন্ন সময়ে তাদের হত্যা করার অনুমতি উৎপাদন করেছে কিছু মিডিয়া ও নামধারি সাংবাদিক। বর্তমানে এসব সাংবাদিকদের বিভিন্ন হাউসে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এই জুলাইয়ের পরে টিভি থেকে জুলাইয়ের পক্ষে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সময় টিভিকে দখল করা হয়েছে।”

ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া, অর্থাৎ বসুন্ধরা গ্রুপের যেসব মিডিয়া হাউস রয়েছে, তারা সকলেই প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে যাচ্ছে বলে এনসিপির এই এমপি দাবি করেন। তিনি বলেন, গতকাল (শনিবার) নোয়াখালীতে ছাত্রলীগ মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলকে পিটিয়েছে এবং সেটাকে উদযাপন করতে দেখা গেছে বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়াকে এবং কিছু টকশো হোস্টদের। তার প্রশ্ন ছিল—এসব গুম-খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, ভোট চুরির বৈধতা উৎপাদন করেছে, গণতন্ত্রের পক্ষে যারা ছিলেন তাদেরকে হত্যার জন্য উপযুক্ত করে চালিত করেছে, এসব নামধারী সাংবাদিক ও মিডিয়াগুলোর বিষয়ে আইনগত কী ধরনের পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না? কেন তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে? এর আইনগত ভিত্তি কী? তা সংসদে উপস্থাপন করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

এদিকে, হাসনাতের প্রশ্নের একাংশের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে সম্পূরক প্রশ্নে নোয়াখালী-২ আসনের সরকারি দলীয় এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত জটিল, অতীতের কথা বাদ দিলাম। আমাদের নতুন সংসদ সদস্য (হাসনাত আবদুল্লাহ) যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে আমি সব ক্ষেত্রে একমত পোষণ করতে পারি না। একটি বিষয় মাননীয় মন্ত্রীর কাছে জানতে চাই—গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করে। সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন লেভেল পর্যন্ত এখন সাংবাদিকের কার্ড পাওয়া যায়। তবে সে ডিগ্রীধারী নয়, মেট্রিক পাসও নয়। ইউটিউবের মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই লিখে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে কি না? এদের লেখাপড়া কেমন? এদের কার্ড কে দেয়? এই বিষয়গুলো কি তদন্ত করে দেখা হবে? না হলে উন্নয়নের এবং গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে সবকিছুরই সমাপ্তি ঘটবে।”

এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, “আমরা মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন নিয়ে কাজ করছি। যারা সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নয়, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন রকম মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন উপস্থাপন করে। সেজন্য আমরা একটি টিম প্রস্তুত করেছি। তারা মনিটরিং করে তাদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করছে। অতি শিগগিরই ওই টিমের কার্যক্রম এবং পরিধি ঘোষণা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেলমেট পরা ছাত্রলীগের পোস্টারিং নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


হেলমেট পরা ছাত্রলীগের পোস্টারিং নিষিদ্ধ

মৌলভীবাজারে ছয় দফা দিবস উপলক্ষে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ হেলমেট পরে পোস্টার লাগানোর খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ জুন) শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছিল।

জানা গেছে, শহরের আদালত সড়ক, চৌমুহনা, কুসুমবাগ, পৌরসভা, রাজনগর উপজেলা পরিষদ এবং শাহ মোস্তফা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ছয় দফা দিবসকে কেন্দ্র করে পোস্টারগুলো দেখা গেছে। পোস্টারগুলোতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্লোগান এবং ছয় দফা আন্দোলনের বিষয়বস্তু পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এবং সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান খানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মী ও সমর্থকদের সহযোগিতায় এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক ছয় দফা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম ভিত্তি। এটি ১৯৬৬ সালের ৭ জুন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ব্যাপক রূপ গ্রহণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যখন কোনো শিশু জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তা সমগ্র সমাজকে আহত করে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


যখন কোনো শিশু জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তা সমগ্র সমাজকে আহত করে

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর হত্যার মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধুমাত্র একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে। পাশাপাশি, এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন নৃশংস এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন। দণ্ড ঘোষণার পূর্বে বিচারক ঘটনাটি বিষয়ে ওই পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেছেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে তুলে ধরে জানিয়েছেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলা কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; বরং এটি আমাদের সমাজের বিবেক এবং আইনের শাসনের প্রতি গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। যখন কোনো শিশু এমন জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তা সমগ্র সমাজকে আহত করে এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

পর্যবেক্ষণে আদালত আরো উল্লেখ করেছেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা এই মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা ‘বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ’ রয়েছে। মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এখানে তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে যে, তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। একইভাবে, প্রসিকিউশন মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে অতি অল্প সময়ে আদালতের সামনে উপস্থাপন করে বিচার কার্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

২০১৯ সালের ১৯ মে ঢাকার পল্লবী থানায় মামলার এজাহারকারী আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং পারভিন আক্তারের শিশুকন্যা রামিসা আক্তার (৮) ভয়াবহ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তারা পল্লবী থানাধীন ১১ নং সেকশনে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন ও সময়ে পারভিন আক্তার তার শিশুকন্যা রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে পাশের ফ্ল্যাটে সতর্ক হয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে তার একটি পায়ের জুতা দেখতে পান। পরবর্তীতে রামিসার মায়ের চিৎকারে আশপাশের সবাই আসলে আব্দুল হান্নান মোল্লা দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে দেখতে পান, শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার পর দেহ খণ্ডিত অবস্থায় খাটের নিচে রাখা হয়েছে এবং আসামি মো. সোহেল রানা ভুক্তভোগীর হাত কেটে আলাদা করেছিল এবং যৌনাঙ্গ চাকু দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছিল। পরে, মৃতদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয় এবং মাথা বালতিতে লুকিয়ে রাখে।

আসামি স্বপ্না খাতুনের পরামর্শে জানালার গ্রিল কেটে তার স্বামী সোহেল রানা পালিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না খাতুনকে আটক করে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ২০ মে আব্দুল হান্নান মোল্লা মামলা করেন এবং এসআই অহিদুজ্জামান তদন্তভার প্রাপ্ত হন। আসামি সোহেল রানা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের কাছে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের সময় সব সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রতিবেদন পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় অভিযুক্ত মো. সোহেল রানা ও মোছা. স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানার অভিযোগপত্র ২৩ মে আদালতে দাখিল করেন। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি প্রাপ্তির পর আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ বিচারের জন্য আমলে গ্রহণ করেন। আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী না থাকায় আদালতের নির্দেশে মুসা কলিমুল্যাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অত্র ট্রাইব্যুনাল অবকাশ বহির্ভূত রেখে কার্যক্রম চলমান রাখার আদেশ দেন।

গত ১ জুন অভিযুক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ধষর্ণ পরবর্তী অন্যান্য কার্যকলাপের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অপর আসামি মোছা. স্বপ্না খাতুন ওই অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত হয়, আলামত বিনষ্ট করায় বাধা না দেওয়া এবং স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করায় তার বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিচার পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর ২ জুন সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করা হয়। ৩ জুন অভিযুক্ত মো. সোহেল রানা ও মোসা. স্বপ্না খাতুনকে ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আজ ৭ জুন রায় প্রচারের জন্য ধার্য হয়।

আদালতে রামিসার বাবা, মা, বড় বোন রাইসা আক্তারসহ সব সাক্ষী ঘটনার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী লিপিবদ্ধকারী ম্যাজিস্ট্রেটও আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে যে, তারা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, আসামি পক্ষ দাবি করে আসামিরা সম্পূর্ণ নির্দোষ।

আদালত সাক্ষীদের বক্তব্য, জব্দতালিকা, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করেন। প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করেছে, ঘটনার তারিখ, সময় ও ঘটনাস্থল সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযুক্ত স্বপ্না খাতুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি সোহেল রানাকে লাশ গুম করতে ও পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন।

আদালত রায় প্রদানকালে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও সাক্ষ্য আইন ১০৬ ধারার বিধান পর্যালোচনা করেছেন। পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য বিশ্লেষণে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে প্রমাণ হয়েছে। আদালত ধর্ষণের ক্ষেত্রে একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে শাস্তি প্রদানের উচ্চ আদালতের নজিরও উল্লেখ করেছেন।

সার্বিক বিবেচনায় আদালত অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯(২) মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন এবং তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। একইভাবে অভিযুক্ত মোছা. স্বপ্না খাতুনকেও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর আরোপিত অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগী মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত এ কথা বলেন। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনাল ১ হাজার ৮০০-এর বেশি বিচারাধীন মামলার দায়িত্ব পালন করছে।

রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ এর তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা এবং প্রসিকিউশন অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের দায়িত্ব পালন করায় আদালত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আদালত প্রত্যাশা করছে, এই মামলার ন্যায় দ্রুত ও মানসম্মত বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হবে।

একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা অর্জিত হয়।

আদালতের দায়িত্ব আবেগ দ্বারা নয়, বরং আইন ও প্রমাণের আলোকে সত্য উদঘাটন করা। এই আদালত অত্যন্ত সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রায় দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%