বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:৪১ এম
সংবিধানে বৈষম্য না থাকার পরেও জাত প্রথা ভারতীয় সমাজে ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। যুগের পর যুগ ধরে, শুধুমাত্র নিচু জাতের জন্মের কারণে মানুষকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। সরকার বিভিন্ন আইনি সুরক্ষা এবং কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিচু জাতের মানুষের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করলেও, গ্রামীণ ভারতে জাত প্রথা এখনও শক্তিশালীভাবে বিদ্যমান। অনেক এলাকায় নিচু জাতের মানুষদের অস্পৃশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বেশ কিছু গ্রামে নিম্নবর্ণের মানুষদের উচ্চবর্ণের পাড়ায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। সাধারণ কুয়া বা নলকূপ থেকে পানি নিতে বাধা দেওয়া, একই মন্দিরে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে আলাদা বসতে দেওয়ার মতো বৈষম্য ঘটছে নিয়মিত। জাতের বাইরে বিয়ে করা সামাজিকভাবে খুব সহজ নয়। জাতের মর্যাদা রক্ষার নামে তথাকথিত ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনাও ঘটে। এমনকি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিচু জাতের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাসরুম বা আলাদা বেঞ্চের ব্যবস্থা রয়েছে।
এ জাত প্রথার মানসিকতা থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য ভারতের হিমাচল প্রদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের স্কুলের ভর্তি ফর্মে ‘জাত’ কলামটি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
হিমাচল প্রদেশ তফশিলি জাতি কল্যাণ বোর্ডের বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে জাতভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে এবং ভ্রাতৃত্ব ও সমতার মনোভাব বৃদ্ধি করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, স্কুলের ভর্তি ফর্ম থেকে জাতের কলামটি বাদ দেওয়া এ লক্ষ্য অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে এবং এর ফলে শিশুরা যেন জাতের ভিত্তিতে কোনো ধরনের হীনম্মন্যতায় না ভোগে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে, তফশিলি জাতির সদস্যরা যখন সরকারি কোনো স্কিম বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন, তখন তারা তাদের জাতের বিবরণ বা তথ্য প্রদান করা অব্যাহত রাখবেন। যাতে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই তারা সরাসরি সুবিধাগুলো পেতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তফশিলি জাতির মানুষেরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সরকার সেগুলোর সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের কল্যাণের জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্কিম বা প্রকল্প চালু করা হয়েছে, এবং সমস্ত যোগ্য সুবিধাভোগীদের এই উদ্যোগগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত যাতে তারা তাদের প্রাপ্য সুবিধাগুলো পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য না হন, সেজন্য উচ্চশিক্ষার জন্য মাত্র এক শতাংশ সুদের হারে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, সরকার অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের জন্য ‘আপনা পরিবার সুখী পরিবার যোজনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এ স্কিমের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে এবং এ পরিবারগুলোর নারীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার রুপি করে পেনশন পাবেন।
এর আগে ভারতের তামিলনাড়ু, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে জাত প্রথার কারণে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ১৫৭-এ পৌঁছেছে। এছাড়া অন্তত ৪০৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। চীন-নেপাল সীমান্তের একটি নদীর দুই কূল উপচে গিয়ে তীব্র স্রোতে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এর ফলে বহু ভবন কাদামাটি ও পানির নিচে চাপা পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা সেখানে আটকে পড়াদের সন্ধানে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি। নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণ কী। কেন এই দুর্যোগে এত প্রাণহানি ঘটলো?
বন্যা ও ভূমিধসের কারণ কী
এবারের বন্যা ও ভূমিধসকে ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। হঠাৎ এমন বন্যা ও ভূমিধসের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পরই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে বলেন, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ঘটে। এর ৩ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘তবে এটি আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রায়ই প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রকোপ এবং ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে।
দ্রুত আরেকটি বন্যা আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (ইসিমোড) জলবায়ু ও পরিবেশ ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং। তিনি এএফপিকে বলেন, নেপাল-চীন সীমান্ত নদীর উজানে এখনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।
এত প্রাণহানি কেন
নেপালে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ঘটে। এর ৩ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। চীন-নেপাল সীমান্তের একটি নদীর দুই কূল উপচে গিয়ে তীব্র স্রোতে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এর ফলে বহু ভবন কাদামাটি ও পানির নিচে চাপা পড়ে। সেখানে আটকে পড়ার কারণে প্রাণহানি বেশি হয়েছে।
দেশটির পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নদীর তীব্র পানির তোড়ে বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে দেখা যায়, কাদামাটির নিচ থেকে একটি বাড়ির শুধু ওপরের অংশটি দৃশ্যমান।
নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে তাদের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই দুর্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে তারা সতর্ক করেছেন। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উপদ্রুত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করেছে।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আকস্মিক এই বন্যায় তিব্বতের গিরংয়ে তিনজন মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৬৫ জন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তের তিব্বত বাণিজ্যকেন্দ্রে ভূমিধসে ‘ব্যাপক হতাহতের’ ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয়দের বর্ণনা
আকস্মিক বন্যায় স্বজন হারানো এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কল্পনা মাল্লা জানিয়েছেন, তার বাবা, মা, বোন এবং বোনের সন্তানরা চোখের সামনে বন্যার পানিতে ভেসে যান।
তিনি বলেন, তারা বন্যা থেকে বের হতে পারেননি। কোনো সুযোগই ছিল না। বন্যা সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তবে আমি ও আমার ছেলে একটি বাড়ির ছাদে উঠে প্রাণে বেঁচেছি। কীভাবে বেঁচে গেলাম, তা-ই বুঝতে পারছি না।
কল্পনার ছেলে সুগাম মাল্লা জানান, মায়ের হাত ধরে তিনি নিরাপদে যান। বন্যার আগে তিনি তার মোবাইল ফোনটি বোনের কাছে দিয়েছিলেন, যাতে প্রয়োজনে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করা যায়। কিন্তু এখন বোনের ফোন বন্ধ। তার আশঙ্কা, বোন হয়তো বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন।
নেপালের রাসুয়া জেলার স্যাফ্রু বেসি গ্রামের বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ট্রেকিং গাইড সোনাম দর্জিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তাঁর গ্রামে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। তবে এর এক ঘণ্টা আগেই তিনি একটি কাজে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তাঁর বোন দেচেন তামাং, ভগ্নিপতি এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এখনো নিখোঁজ।
গ্রাম ছাড়ার সময় তিনি বন্যার ভয়াবহ শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। আমার বাড়ি ধসে গেছে।
সোনাম দর্জি বন্যাকে ‘হঠাৎ ও ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন। তার মতে, অনেক মানুষ এখন ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। তাদের জরুরি উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়া, খাবার, অস্থায়ী আশ্রয় এবং চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। বোনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা এখনো ছাড়েননি সোনাম। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, তাকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো ১০ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার ঘটনায় তার হৃদয় ভারাক্রান্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত ও গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি এই দুর্যোগকে ‘আকস্মিক’ ও ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন।
বালেন্দ্র শাহ বলেন, উদ্ধার অভিযান শুরু করতে সরকার কোনো ধরনের বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, কাঠমুন্ডু টাইমস, এএফপি ও রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উজানে তুষারধস ও নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে হড়পা বান, নাকি হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যা—এ বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের নিকটবর্তী ভোতে কোশি নদীতে বুধবার সকালে আকস্মিকভাবে প্রবল স্রোতের হড়পা বান নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ফুলে-ফেঁপে উঠে সেতু, সড়ক ও বসতিগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটে। নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪০৩ জন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি পর্যটক বলে জানা যাচ্ছে।
তবে এত বড় বিপর্যয়ের পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্যাটেলাইটের কিছু তথ্য নির্দেশ করছে যে, নেপাল-চীন সীমান্তের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় তুষার ও পাথরের বিশাল ধসের কারণে লহেন্দে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরে জমে থাকা পানির চাপের ফলে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে হঠাৎ নিচের দিকে প্রবল জলস্রোত নেমে আসে। এটি ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি করতে পারে।
তবে আরেকটি আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখছেন যে, কোনো হিমবাহের হ্রদ ভেঙে আকস্মিক পানি নেমে এসেছিল কি না। পরিষ্কার স্যাটেলাইট ছবি এবং একাধিক উৎসের তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বন্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ভূমিকম্প নয়, বরফ-পাথরের ধস?
ঘটনার পরপরই তিব্বত এলাকায় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে পাওয়া তথ্য বলছে, প্রথমে যে কম্পন অনুভূত হয়েছিল, সেটি বড় ধরনের বরফ ও পাথরের ভূমিধসের কারণেও হতে পারে।
কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) রিমোট সেন্সিং ও জিও ইনফরমেশন বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠ জানান, চীন সীমান্তের দিকে প্রাথমিক মূল্যায়নে অস্বাভাবিক কোনো বিষয় ধরা পড়েনি। তাদের ধারণা, নেপালের অংশে একটি পাথুরে বরফধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে লহেন্দে নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে একের পর এক তীব্র বন্যা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মহাতও জানিয়েছেন, একটি তুষারধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ার প্রাথমিক তথ্য তারা পেয়েছেন। আইসিআইএমওডি চীনের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে তাদের সঙ্গে তা শেয়ার করেছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি এখনো প্রাথমিক মূল্যায়ন। আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এই মুহূর্তে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরে বন্যার প্রকৃত কারণ আরও পরিষ্কার হবে।
কীভাবে হড়পা বান হলো
বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ব্যাখ্যা হলো, উঁচু পাহাড় থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল একটি অংশ ধসে লহেন্দে নদীর ওপর পড়ে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পানি জমতে থাকে। পাহাড়ি এলাকায় এমন প্রাকৃতিক বাধা বা অস্থায়ী বাঁধ দীর্ঘ সময় টিকে থাকে না।
একপর্যায়ে জমে থাকা পানির চাপ বেড়ে গেলে সেই বাধা ভেঙে যায়। তখন অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর, বরফ ও পলিমাটি নিচের দিকে ধেয়ে আসে। এই প্রবল স্রোতই ভোতে কোশি নদীতে হড়পা বানের সৃষ্টি করে।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত কায়স্থ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, নেপাল ও চীনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তুষারধসের এই ধারণা করা হচ্ছে। তার মতে, নেপালের দিক থেকে তুষারধস নেমে লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিয়েছিল। পরে জমে থাকা পানি প্রবল স্রোতে বেরিয়ে এসে ভোতে কোশীতে বিপর্যয় ঘটায়।
ভূমিকম্পের তথ্যও মিলেছে
তুষারধসের আশঙ্কার পাশাপাশি ওই এলাকায় ভূমিকম্পের তথ্যও পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর কেন্দ্র ছিল গোসাইকুণ্ড হ্রদ থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।
তবে এই ভূমিকম্পই বন্যার কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ভূমিকম্পের কম্পনের সঙ্গে বরফ-পাথরের বড় ধরনের ধসের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও বিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখছেন।
হিমবাহের হ্রদ ভেঙেছিল কী
বন্যার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হলো হিমবাহের হ্রদ ভেঙে যাওয়া। হিমবাহ গলে পাহাড়ের কোলে বড় হ্রদ তৈরি হলে সেটিকে হিমবাহ হ্রদ বলা হয়। এই ধরনের হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসে। পাহাড়ি নদীতে তখন ভয়াবহ হড়পা বান তৈরি হতে পারে।
এবারের ঘটনাতেও এমন কোনো হিমবাহ হ্রদ ভেঙেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, নেপাল বা তিব্বতের কোথাও কোনো হিমবাহের হ্রদ ভেঙে থাকতে পারে।
তবে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কায়স্থ বলছেন, ওই এলাকায় অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। গত বছরও একই এলাকায় হিমবাহের হ্রদ ভেঙে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৮ জুলাই নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর একটি হিমবাহ হ্রদ ভেঙে আকস্মিক জলস্রোত নেমে এসেছিল বলে তখন নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছিল। সেন্টিনেল স্যাটেলাইটের ছবির বিশ্লেষণেও একই তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।
এবার ভারী বৃষ্টি বড় কারণ নয়
এবারের বন্যাকে শুধু অতিবৃষ্টির ফল হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বন্যার আগে রাসুয়া এলাকায় উল্লেখযোগ্য ভারী বৃষ্টির তথ্য নেই।
অধ্যাপক কায়স্থের মতে, পানি যেভাবে হঠাৎ প্রবল স্রোতে নিচের দিকে নেমে এসেছে, তাতে উজানে কোথাও পানি আটকে যাওয়ার পর একসঙ্গে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনাই বেশি। অর্থাৎ তুষারধস, ভূমিধস কিংবা হিমবাহ হ্রদ ভেঙে যাওয়ার মতো কোনো আকস্মিক ঘটনা এর পেছনে থাকতে পারে।
কেন বারবার এমন বিপর্যয়?
হিমালয় এখন জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হিমবাহ দ্রুত গলছে। এতে নতুন নতুন হিমবাহ হ্রদ তৈরি হচ্ছে এবং পুরোনো হ্রদগুলোর পানির পরিমাণও বাড়ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের বরফ ও মাটির স্থিতিশীলতাও কমে যাচ্ছে।
আইসিআইএমওডির জলবায়ু ও পরিবেশ ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং সতর্ক করেছেন, উজানে এখনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে।
এ কারণে এবারের ঘটনা শুধু একটি আকস্মিক পাহাড়ি বন্যা নয়; এটি হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশেরও একটি সতর্কবার্তা।
২০১৯ সালের একটি গবেষণাতেও বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের হিমবাহগুলো দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। এর ফলে তুষারধস, হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
আসল কারণ জানতে আরও তথ্য দরকার
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য থেকে তুষারধস ও নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার তত্ত্বটি সবচেয়ে জোরালো বলে মনে হচ্ছে। তবে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাতিল করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ভূমিকম্পের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে মেঘ ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্যাটেলাইট ছবিও সব সময় পরিষ্কার পাওয়া যায় না। ফলে উজানে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে বরফ-পাথরের ধস হয়েছে, কোথায় পানি আটকে ছিল কিংবা কোনো হিমবাহ হ্রদ ভেঙেছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই পরিষ্কার- হিমালয়ের মতো উচ্চঝুঁকির এলাকায় বরফ, পাথর, হিমবাহ ও নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্যে সামান্য পরিবর্তনও মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেই ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার যাত্রাবাড়ী মোড়ে এক নারীর স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় সেলিম (২৮) নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ। পরে বমি করিয়ে তার পেট থেকে ছিনতাই করা সোনার কানের দুল উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।
ট্রাফিক যাত্রাবাড়ী জোন সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালনের সময় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা এক নারীর চিৎকার শুনে দেখতে পান, এক ব্যক্তি ছিনতাই করে দৌড়ে পালাচ্ছেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন।
পরে তল্লাশি করে সেলিমের কাছে ছিনতাই হওয়া সোনার কানের দুল পাওয়া যায়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দুলটি গিলে ফেলার কথা জানান। এরপর তাকে বমি করানো হয়। একপর্যায়ে তার পেট থেকে সোনার কানের দুল বের হয়ে আসে।
আটক সেলিম ও ভুক্তভোগী নারীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যাত্রাবাড়ী থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানুষের জীবনে অনেক ধরনের অভ্যাস রয়েছে যা তাদের অজান্তেই ঘটে। এর মধ্যে আঙুল ফোটানো একটি সাধারণ অভ্যাস। যখন কাজের মাঝে একটানা টাইপ করতে করতে ক্লান্তি অনুভব হয়, তখন আঙুল ফোটালে ‘কট’ শব্দ হয়। এতে এক ধরনের অদ্ভুত শান্তি অনুভূত হয়। তবে অনেকেই বলেন, এই অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিত। তাদের মতে, এতে বাতের সমস্যা হতে পারে। আবার কেউ কেউ আঙুল ফোটানোর উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন। তাহলে আঙুল মটকানো আসলে ভালো, না খারাপ? বিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে?
শরীরের অস্থিসন্ধিতে (যেমন হাতের আঙুলের যেখানে চাপ দেওয়া হয়) কিছু খালি স্থান রয়েছে। এই স্থানগুলো তরল অস্থিমজ্জা দ্বারা পূর্ণ থাকে। আগে মনে করা হতো, আঙুল ফোটানোর সময় অস্থির মাঝে ফাঁক সৃষ্টি হয়। এর ফলে বুদ্বুদ তৈরি হয়, যা বেরিয়ে আসার সময় শব্দ সৃষ্টি করে।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’ একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাঝে মাঝে আঙুল ফোটানো বা হালকা শব্দ করা জয়েন্ট বা হাড়ের বড় ক্ষতি করে না। অনেকেই ক্লান্তি দূর করার জন্য বা মানসিক তৃপ্তির জন্য আঙুল মটকান। চিকিৎসকরা বলেন, এটি নিয়মিত না করলে ভয়ের কিছু নেই। আঙুল ফোটানোর সঙ্গে সরাসরি অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্পর্ক নেই। তবে যদি আঙুল ফাটানোর সময় ব্যথা অনুভূত হয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডা. বেরেজিকলিয়ান বলেছেন, আঙুল টানাটানি বা ফোটানোর সঙ্গে শরীরের হাতের ক্ষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তার দাবি, আঙুল ফোটানোর অভ্যাস ব্যাপক। যদি এটি ক্ষতিকর হতো, তাহলে এ বিষয়ে অনেক রিপোর্ট পাওয়া যেত। কিন্তু তা হয়নি। তাই আঙুল ফোটানোর সঙ্গে হাড়ের সমস্যা বা বাতের সম্পর্ক নেই।
ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক আনগার ৬০ বছর ধরে নিজের ওপর একটি পরীক্ষা চালিয়ে আসছেন। তিনি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে বাহাতের আঙুল ফুটিয়েছেন কিন্তু ডান হাত ধরেননি। এত দীর্ঘ পরীক্ষার ফলাফল? দুই হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য তিনি খুঁজে পাননি। এই আবিষ্কারের জন্য ২০০৯ সালে তিনি ‘আইজি নোবেল’ বা ইগনোবেল পুরস্কারও অর্জন করেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, আঙুল মটকানো কি সম্পূর্ণ নিরাপদ? মোটেই তা নয়। বাতের সমস্যা থাকলে অন্য জটিলতা হতে পারে। ক্রমাগত আঙুল মটকালে সাইনোভিয়াল মেমব্রেন ছিঁড়ে যেতে পারে এবং জয়েন্টগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এছাড়া, যারা খুব ঘন ঘন আঙুল মটকান, তাদের আঙুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কবজির হাড়ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ফলে হাতের শক্তি কমে যেতে পারে। তাই আঙুল মটকানোর অভ্যাস পরিবর্তন করাই ভালো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ