ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইসলামবিদ্বেষের রাজনীতিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আল-সাইয়েদ


ইসলামবিদ্বেষের রাজনীতিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আল-সাইয়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন আবদুল রহমান মোহাম্মদ আল-সাইয়েদ। দেশটির মুসলিম আমেরিকানরা তার এই জয়কে শুধুমাত্র নির্বাচনি সাফল্য হিসেবে দেখছেন না।

তাদের দৃষ্টিতে, এটি মুসলিমবিদ্বেষ ও ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের প্রতিবাদ। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়া মুসলিম জনগণের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

মিশিগানের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন আল-সাইয়েদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার সম্ভাবনাকে তিনি প্রচারণার প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেননি। বরং তিনি নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নীতির ওপর জোর দিয়েছেন। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মুসলিম পরিচয়ের কারণে তাকে এবং অন্য মুসলিম আমেরিকানদের যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তার জবাব দিতে পেরে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা গণহত্যার রায় ১৯ নভেম্বর, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা বাংলাদেশের

বুধবার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘মানুষ কীভাবে প্রার্থনা করে, সেই কারণে তাদের শয়তান হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পুরো মিশিগান এর জবাব দিয়েছে। মানুষ এসব চায় না। তারা এসব নিয়ে ক্লান্ত।’

বিজয়ী ভাষণেও তিনি নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। বলেন, ‘আমার নাম আবদুল রহমান মোহাম্মদ আল-সাইয়েদ।’ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটিতে মুসলিমবিদ্বেষ ও সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার ২৫ বছর পরও মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মুসলিম আমেরিকানরা এ ধরনের মনোভাবের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এক বছর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির জয়ের পর মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের প্রবণতা বেড়েছিল। পরে আল-সাইয়েদ নির্বাচনি লড়াইয়ে নামলে তাকে ঘিরে আক্রমণ আরো তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি ‘সন্ত্রাসীদের পক্ষে’ রয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের দলের অসংখ্য কংগ্রেস সদস্য ‘শরিয়ামুক্ত আমেরিকা ককাস’ গঠন করেন। তারা ইসলামের ধর্মীয় বিধান শরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন।

তবে বুধবার ভোরে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে আল-সাইয়েদের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মুসলিম আমেরিকানদের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিজয়ের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) জাতীয় নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, আল-সাইয়েদের জয় আমেরিকান মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মোড়। একই সঙ্গে এটি ঘৃণার রাজনীতির বড় পরাজয়।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে ‘বাঁচানোর চেষ্টা’ করে ব্যর্থ হয়ে লাশ টুকরো করেন নরেশ

তিনি বলেন, ‘মুসলিমবিদ্বেষী উগ্রপন্থি, ইসরাইলপন্থি লবি গোষ্ঠী, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও ড. আল-সাইয়েদকে মুসলিম আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছেন। এসব অভিযোগের কোনোটিই সত্য ছিল না। আর কোনো প্রচারণাই কাজে আসেনি। নির্বাচনে মুসলিমবিদ্বেষের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রচারণা ব্যর্থ হয়েছে।’

ডিয়ারবর্নে ‘সুন্দর এক আমেরিকান গল্প’

মিশিগানের ডেট্রয়েটের কাছের শহর ডিয়ারবর্নে আল-সাইয়েদের জয়ের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরটিতে বিপুলসংখ্যক আরব বংশোদ্ভূত আমেরিকান বসবাস করেন। শহরটির মেয়র আবদুল্লাহ হামুদ বলেন, নির্বাচনে ভোট দিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। আল-সাইয়েদের বিজয়কে ‘সুন্দর এক আমেরিকান গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। হামুদ বলেন, ‘আমাদের অন্যতম মেধাবী ও যোগ্য একজন মানুষ গতকালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া মিশিগানের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। তিনি যে দিকেই ফিরে প্রার্থনা করুন না কেন, মানুষ তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পাঠাচ্ছেন।’

এক দশকের বেশি সময় ধরে আল-সাইয়েদকে চেনেন হামুদ। তার মতে, আল-সাইয়েদের জয় অনেক আরব আমেরিকানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষ তাকে শুধু জাতিগত পরিচয়ের কারণে ভোট দেননি। বরং তার নির্বাচনি কর্মসূচি ও নীতিই ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। এ প্রসঙ্গে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডিয়ারবর্নের বাসিন্দাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করেন হামুদ। ইহুদি পরিচয়ের স্যান্ডার্স ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

আরও পড়ুন: গৃহবন্দির শর্ত পূরণে জরিমানা পরিশোধ করলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

হামুদ বলেন, আল-সাইয়েদের মধ্যে ডিয়ারবর্নের মানুষ নিজেদের প্রতিনিধিত্ব দেখতে পেয়েছেন। তার ভাষায়, ‘তার জাতিগত পরিচয় বা ধর্মের বাইরেও অনেক কিছু ছিল। মূল বিষয় ছিল তার নীতি এবং এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তরিকভাবে একটি জোট গড়ে তোলা।’

ডিয়ারবর্নে আল-সাইয়েদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন ২৬ বছর বয়সি জয়নাব জাদাল্লাহ। তিনি জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণার সময় অধিকাংশ মানুষ তাকে বলতেন, তারা আগেই আল-সাইয়েদকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপর তাকে পানি বা খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতেন। জাদাল্লাহর মতে, তৃণমূল পর্যায়ে আল-সাইয়েদের ধারাবাহিক প্রচারণা এবং মিসরীয় বংশোদ্ভূত পরিচয় নিয়ে তার গর্ব ভোটারদের কাছে তাকে পরিচিত করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ‘তিনি সব সময় নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করেছেন। নিজের পরিচয় কিংবা নাম বলতে কখনো দ্বিধা করেননি।’ আল-সাইয়েদের সঙ্গে কোনো আত্মীয়তা নেই ইয়াসমিন আল-সাইয়েদের। তিনি নিউইয়র্ক থেকে নিজের দুই মেয়েকে নিয়ে ডেট্রয়েটে নির্বাচনি ফলাফল দেখার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বিজয়ী ভাষণ শোনার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

ইয়াসমিন বলেন, ‘১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরের সময়ে বড় হয়েছি। নিজে মুসলিম ও আরব হওয়ায় কখনো কল্পনাও করিনি, এমন একটি দিন দেখতে পাব।’

আরও পড়ুন: কিউবায় সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ ও দুই মানবাধিকারকর্মী মুক্তি পেলেন

প্রতিনিধিত্বের রাজনীতিতে নতুন বার্তা

আল-সাইয়েদ তার জয়কে শুধু মুসলিমদের বিজয় হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, যারা নিজেদের সরকারে প্রতিনিধিত্বশীল মনে করেন না কিংবা কোনো না কোনো কারণে নিজেদের এই দেশের অংশ নন বলে শুনেছেন, এই জয় তাদের সবার। তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের সরকারের মধ্যে নিজেদের প্রতিফলন দেখতে পান না, কিংবা কোনো কারণে তাদের বলা হয়েছে যে তারা এখানে অন্তর্ভুক্ত নন—এ জয় তাদের সবার। বিষয়টি শুধু কে কীভাবে প্রার্থনা করেন, তা নিয়ে নয়। বরং কে কাকে ভালোবাসেন, নিজের পরিচয় কীভাবে প্রকাশ করেন, গায়ের রং কেমন কিংবা কোথায় বড় হয়েছেন—সবকিছুর সঙ্গেই এটি সম্পর্কিত।’

নিজের নির্বাচনি লড়াইয়ের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার জন্য নির্বাচন করিনি। আমি নির্বাচন করেছি মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পরবর্তী সিনেটর হওয়ার জন্য, যিনি ঘটনাচক্রে একজন মুসলিম।’ তবে গণতন্ত্রে মানুষের পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা সব সময় চলতে থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আল-সাইয়েদ আরো বলেন, ‘মিশিগান প্রমাণ করেছে, আমরা কতটা বড় ও বৈচিত্র্যময়। তারা এমন একটি বিদ্বেষপূর্ণ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ প্রচারণা প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলার বদলে শুধু আমার নাম ও চেহারাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।’ যাদের বলা হয়েছে, আমেরিকায় তাদের জায়গা নেই, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা আসলেই আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট বড়।’

আরও পড়ুন: ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

মুসলিম আমেরিকানদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এমগেজ অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গুলাও আল-সাইয়েদের জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, গত এক বছর ধরে নির্বাচনি কৌশল হিসেবে অত্যন্ত ইসলামবিদ্বেষী ও ঘৃণ্য বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। গুলা বলেন, ‘আমি এটিকে শুধু মুসলিমদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তভাবে ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো হিসেবে দেখিনি। আমি দেখেছি, আমেরিকানরা বলছেন, নির্বাচনি ইস্যু হিসেবে ঘৃণাকে ব্যবহার করা যাবে না। আমরা ঘৃণা মেনে নেব না।’

শরিয়াবিরোধী প্রচারণার জবাব

যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াবিরোধী প্রচারণা নতুন নয়। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। আল-সাইয়েদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্ক আবারও সামনে আসে। টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মুসলিম আমেরিকান নাগরিক অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদেরা এ প্রচারণার জবাব দিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ইসলামের শরিয়াভিত্তিক ধর্মীয় অনুশীলনকে ইতিবাচক দিকনির্দেশনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তাদের মতে, অন্যান্য ধর্মের বিধিবিধানের মতো শরিয়াতেও নৈতিক ও ধর্মীয় নির্দেশনা রয়েছে। এর সঙ্গে খ্রিষ্টধর্মের টেন কমান্ডমেন্টস এবং তাওরাত থেকে উদ্ভূত ইহুদি ধর্মীয় আইনের বিভিন্ন বিষয়ের মিল রয়েছে। রিপাবলিকান সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, শরিয়া একটি জবরদস্তিমূলক বিধান, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার জন্য হুমকি। মুসলিম অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদেরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে জর্জিয়া সিনেটে রুওয়া রোমানের ইতিহাস

মোহাম্মদ গুলা বলেন, টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন শরিয়াবিরোধী প্রচারণার অন্যতম নেতা ছিলেন। মঙ্গলবারের নির্বাচনে অ্যাবট পুনর্নির্বাচিত হওয়ার প্রচেষ্টায় হেরে গেছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন প্যাক্সটন।

এদিকে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ল-এর অধ্যাপক আসমা উদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজনীতিক মুসলিমদের সাধারণ ধর্মীয় চর্চাকেও রাজনৈতিক বিপদের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরছেন। এর মধ্যে রয়েছে নামাজ পড়া, পোশাক নির্বাচন, পারিবারিক বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া এবং মসজিদে যাতায়াতের মতো বিষয়।

আল-সাইয়েদের জয়কে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেন তিনি। কারণ, এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশেও আল-সাইয়েদ জয়ী হয়েছেন, যেখানে প্রকাশ্যে মুসলিম পরিচয় তুলে ধরা এখনো রাজনৈতিক অসুবিধার কারণ হতে পারে। আসমা উদ্দিন বলেন, ‘এই জয় আমাদের আশাবাদী হওয়ার বাস্তব কারণ দিচ্ছে। এটি দেখাচ্ছে, মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণ চালিয়ে যারা রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশা করেন, তাদের ধারণামতো এসব আক্রমণ সব সময় ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে না।’

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান পৌঁছেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনটি বিশেষায়িত লরি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এবারের ইউরেনিয়াম পরিবহনে প্রচলিত পথের পরিবর্তে বিকল্প সড়কপথ ব্যবহার করা হয়েছে। ঢাকা থেকে লরিগুলো ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুরে পৌঁছায়।

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় পুরো পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা হয়েছে। এর আগে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তিনটি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি হিসেবে একটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছিল। সব মিলিয়ে রূপপুরে পাঁচটি চালানের জ্বালানি পৌঁছেছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য সাতটি চালানে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি চালানে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সম্পন্ন হলে এ ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক মাসে পানিশূন্য সুনামগঞ্জের হাওর, কৃষকেরা বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


এক মাসে পানিশূন্য সুনামগঞ্জের হাওর, কৃষকেরা বিপাকে

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল এক মাস আগেই পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বোরো ধানের বীজতলা শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, ফলে কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ছায়ার হাওর, দেখার হাওর, শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া ও গুরমার হাওরসহ অধিকাংশ হাওরের বীজতলা এখন খাঁ খাঁ করছে। যে মাঠে এই সময়ে চারা গজানোর কথা, সেখানে এখন গবাদিপশু চরছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষ পর্যন্ত হাওরে পানি থাকে এবং বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি নভেম্বরের শেষে শুরু হয়। কিন্তু এবারে অক্টোবরের শেষেই হাওর থেকে পানি নেমে গেছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে মাটি দ্রুত শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। এর ফলে সেচ খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কৃষকেরা জানান, শুকনো জমি নরম করতে মেশিনে পানি সেচ দিতে প্রতি কেয়ারে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে।

শাল্লার কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, "বীজতলা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মেশিনে পানি দিয়ে জমি নরম রাখার চেষ্টা করছি, এতে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ফেটে যাওয়া বীজতলার চারা দুর্বল হবে, কীটপতঙ্গের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের ফলন কম হবে। ফলে সামগ্রিক ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "ধান উৎপাদন কম হলেও যদি ধানের ন্যায্যমূল্য বাড়ানো হয়, তবেই কেবল এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব। নতুবা কৃষি কাজ ছেড়ে ঢাকা গিয়ে রিকশা চালাতে হবে।"

একই উপজেলার আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, "বড় কৃষকেরা এখন মাঝারি হয়ে যাচ্ছেন, মাঝারি কৃষকেরা ছোট হচ্ছেন, আর ছোট কৃষকেরা পরিণত হচ্ছেন দিনমজুরে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন কৃষি পেশাটাই হারিয়ে যাবে। কৃষিকে বাঁচাতে হলে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।"

পাকনার হাওরের কৃষক সিরাজুল হক ওলী বলেন, "সময়মতো পানি পাচ্ছি না, আবার ধানের ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছি না। আগে কার্তিক মাসেও বৃষ্টি হতো, আর এখন কাটফাটা রোদ।" তিনি দাবি করেন যে, কৃষি বিভাগের উচিত হাওরে সময়মতো পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং বীজতলার জন্য ডিপ টিউবওয়েল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানান, কৃষকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে এবার খরা ও অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, "বীজতলায় ঠিকমতো পানি না পেলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। এ জন্য যেসব এলাকায় পানির উৎস রয়েছে, সেখান থেকে পানি এনে বীজতলা প্রস্তুত করতে হবে।" কৃষকেরা ডিপ টিউবওয়েলের দাবি জানালেও হুট করে তা বসানো সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি বৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া উপায় নেই। আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ এবং ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা: ট্রাম্পের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা: ট্রাম্পের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি প্রজ্ঞাপনে সই করে ওভাল অফিস, সংলগ্ন ক্যাবিনেট রুম ও আউটার ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

তিনি বৃহস্পতিবার নিজের ডেস্কে বসে লাল ‘ভেটো’ লেখা ক্যাপ মাথায় দিয়ে এ প্রজ্ঞাপনে সই করেন। ট্রাম্প এ সময় উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ এসব স্থাপনা ভেঙে ফেলতে বা বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে ঐতিহাসিক গুরুত্ব, স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রেসিডেন্সির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় এসব স্থাপনা সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। জাতীয় উদ্যান পরিষদের মাধ্যমে স্মৃতিস্তম্ভটি পরিচালনার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

তবে এই ঘোষণার ফলে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টদের ওভাল অফিসের সাজসজ্জা বা আসবাবপত্র পরিবর্তনের ক্ষমতা খর্ব হবে না। নতুন প্রেসিডেন্ট চাইলে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ ঘোষণাও পরিবর্তন বা বাতিল করার অধিকার রাখেন।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার ও নির্মাণকাজ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নতুন বলরুম নির্মাণ, ইস্ট উইং ভেঙে ফেলা এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রির কাছে ২৫০ ফুট উঁচু বিজয়স্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা।

এসব প্রকল্পের ব্যয় ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী আইনপ্রণেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনা বিদ্যমান।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, রাতের তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, রাতের তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে, অন্যদিকে দেশের অন্যান্য স্থানে তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। একই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

গতকাল দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চট্টগ্রামে ৩৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল, আর আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। আজ ভোর ৬ টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৮ শতাংশ।

ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত ৫টা ১৬ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ৮ মিনিটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%