মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৬ এম
বর্তমান আধুনিক যুগে রাজনীতি আর কেবল পলিসি, ইশতেহার বা বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভিজ্যুয়াল পপ কালার, ট্রেন্ড এবং ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের ঘিরে একটি নতুন ট্রেন্ড বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যাকে সংবাদমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নাম দিয়েছেন ‘থার্স্ট ট্র্যাপ এরা’ (Thirst Trap Era)।
এই ট্রেন্ডের কেন্দ্রে রয়েছেন মিশিগানের সেনেট পদপ্রার্থী ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আব্দুল্লাহ আল সাঈদ (Abdul El-Sayed)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে চলা আলোচনা এবং এসংক্রান্ত ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্ট মার্কিন রাজনীতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনীতিতে ‘থার্স্ট ট্র্যাপ’ ও আব্দুল্লাহ আল সাঈদ আমেরিকান সংবাদ মাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর একটি প্রতিবেদনের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডেমোক্রেটিক পার্টি তাদের তরুণ ও গতিশীল ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভোটারদের আকর্ষণ করতে একধরনের ‘সেক্স অ্যাপিল’ বা আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন ও স্টাইলকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে।
এই তালিকায় জর্জিয়ার সেনেটর জন ওসফ (যাকে ইন্টারনেট ভক্তরা ভালোবেসে “সেনেটর মাই বয়” ডাকেন), নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি এবং মিশিগানের সেনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ সামনের সারিতে রয়েছেন।
বিশেষ করে, আব্দুল্লাহ আল সাঈদ তার ফিটনেস, শারীরিক গঠন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ফিটিং টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লুকে উপস্থিত হয়ে তরুণ প্রজন্মের নজর কেড়েছেন। ইন্টারনেট ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন পেজে (যেমন— thee culturebeat) তাকে নিয়ে তৈরি বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ ও ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তার শারীরিক গঠন এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ কে?
শুধুমাত্র লুক বা বাহ্যিক আকর্ষণ নয়, আব্দুল্লাহ আল সাঈদর রয়েছে শক্তিশালী শিক্ষাগত ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড। তিনি একাধারে একজন চিকিৎসক, রোডস স্কলার (Rhodes Scholar) এবং ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। তার চটজলদি ও সরাসরি কথা বলার ভঙ্গি সাধারণ রাজনীতিকদের গতানুগতিক ছক থেকে আলাদা। রাজনীতিতে তার এই বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আকর্ষণীয় শারীরিক উপস্থিতির মিশ্রণ তাকে সাধারণ ভোটারদের কাছে আলাদা করে তুলেছে।
সমালোচক ও মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া
রাজনীতিতে এই ধরনের ইমেজ বিল্ডিং বা ‘থার্স্ট ট্র্যাপ’ কৌশল নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে। ডেমোক্রেটিক সমর্থক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একাংশের মতে, তরুণ ভোটারদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার জন্য এটি একটি আধুনিক ও কার্যকর উপায়। এর মাধ্যমে রাজনীতি কম নিস্তেজ মনে হয় এবং প্রার্থীরা তরুণদের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেন।
অন্যদিকে, সমালোচক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, সিরিয়াস রাজনৈতিক ইস্যু বা নীতিগত আলোচনার চেয়ে শারীরিক আকর্ষণ বা পপ-কালচারকে সামনে নিয়ে আসা রাজনীতিকে গুরুত্বহীন করে তোলে।
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ এবং অন্যান্য ডেমোক্রেটিক নেতাদের কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আলোচনা প্রমাণ করে যে একবিংশ শতাব্দীর রাজনীতিতে কেবল পলিসি নয়, ডিজিটাল ইমেজ এবং ব্যক্তিত্বও একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথাগত রাজনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে ভোটারদের মন জয় করার এই নতুন কৌশল মার্কিন রাজনীতিতে আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের একটি হোটেলে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটির বোরা সার্ভিস এলাকার বিলাস ইন হোটেলে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হোটেলের মালিক ও লিজগ্রহীতার মধ্যে বিরোধের কারণে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে পুলিশ জানায়, লিজগ্রহীতা হামলাটি চালিয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহন্ত পিটিআইকে বলেন, ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন এবং বাকি একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের লিজ চুক্তি নিয়ে সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, নিহত সবাই হোটেল মালিকের পরিচিত। লিজগ্রহীতা নিজেই গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তদন্ত চলছে। হামলার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের মৃত্যু ঘটেছে।
হামলার পর ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে শাকিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় হেলমেট পরা মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি। এ সময় তারা দুই রাউন্ড গুলিও ছোড়ে।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শাকিলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাকে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ ঘটনায় হামলার পাঁচ দিন পর, ১৯ অক্টোবর, শাকিলের বাবা রবিউল করিম গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, মামলার আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানান তিনি।
শাকিলের মৃত্যুর খবরে তার পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় মক্কা জোটে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এর সাফল্য বা ব্যর্থতার উপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ফ্রন্টিয়ার কোরের সাবেক কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক খান।
সোমবার আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা জোটের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকটি কেবল কূটনৈতিক আলোচনা নয়। বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি অংশ।
তারিক খান আরও বলেন, মক্কা জোট শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রূপ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, এই ধরনের কাঠামোয় ইরানের অন্তর্ভুক্তি এর সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় ওই কাঠামোয় ইসরাইলের অবস্থান কী হবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলো ইসরাইলের নীতিগুলো কতটা মেনে নিতে প্রস্তুত, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তারিক খানের ভাষায়, ‘প্রশ্নটি এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং যুদ্ধের আগে যে আঞ্চলিক ব্যবস্থা ছিল, তার পরিবর্তে কেমন নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের মোংলায় চোরাই মালামালসহ স্থানীয় জনতার হাতে আটক দুই যুবককে আদালত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে। সোমবার সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের একজনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অপরজনের জন্য ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে উভয়কে আরো এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার গভীর রাতে মোংলা পৌরসভার রিজেকশন গলি থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা চোরাই মালামালসহ ওই দুই যুবককে আটক করেন। খবর পেয়ে মোংলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আজ সোমবার তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত দণ্ডাদেশ প্রদান করে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. শাকিল হাওলাদার (২২), পিতা মো. শামীম হাওলাদার এবং মো. আবুল হোসেন (২৩), পিতা মো. আমজাদ হোসেন রয়েছেন।
আটক দুই যুবকের কাছ থেকে একটি গ্রেডিং মেশিন, একটি সেলাই রেঞ্চ, একটি মাঙ্কি রেঞ্চ, পাঁচটি এল-রেঞ্চ এবং ৪৮ ইঞ্চি লম্বা একটি ওয়েল্ডিং ক্যাবল জব্দ করা হয়েছে।
মাদক ও চুরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম মন্তব্য করেন, মোংলা ও রামপাল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, চোর ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। তিনি বলেন, "অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।" মাদক ব্যবসা, চুরি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, চোরাই মালামালসহ আটক আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের কঠোর অবস্থান ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মোংলায় চুরি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ