নোয়াখালী প্রতিনিধি বার্তা প্রেরক গিয়াস রনি
১১:৩৭ এম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, "বিএনপির বিরুদ্ধে কোন গণহত্যার অভিযোগ নেই। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আছে এবং জামায়াত ইসলামীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আছে। এই দুইটা একই জিনিস, এদের বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে।"
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে চাটখিল উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, "একাত্তরের পরে ২৪-এর যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে এটি ছিল একটা জনমানুষের আন্দোলন। এই কৃতিত্বের দাবিদার আমরা সকলেই। যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘ সতের বছর আন্দোলন, সংগ্রাম লড়াই করেছে। আমাদের নেতা ইলিয়াছ আলী চলে গিয়েছে আজ পর্যন্ত তার কোন হদিস পায়নি। চৌধুরী আলমের মত নেতাকে গুম করে ফেলা হয়েছে।"
"কয়েক হাজারের ওপরে মানুষকে গুম করে ফেলা হয়েছে, হত্যার শিকার হয়েছে। তাদের রক্তের কি কোন মূল্য নেই, তাদের রক্তের কি আমরা কোন শ্রদ্ধা জানাবোনা। আমাদের এত ভাই শহীদ হয়েছে, সতের বছর ধরে আন্দোলন করেছে।"
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, "৫ তারিখের পরে এসে আমরা বলি নাই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান আমাদের একক কৃতিত্ব। এটা আমরা কোন দিন বলি নাই বলবোও না। কোন কিছুর কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য আমরা লড়াই, সংগ্রাম আন্দোলন করি নাই। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি যখন জুলুমের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল তখনই আমরা সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি, আন্দোলন করেছি।"
"মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা হবে। জাতীয় জনজীবনে প্রত্যেকটি কাজে আমরা একাত্তরের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা কাজ করে যাব। একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে, আরেকটি দল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়।"
ইশরাক হোসেন বলেন, "২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও বহু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রাজপথে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করেছে। গুলির মুখে দাঁড়িয়ে তারা আন্দোলন সংগ্রামকে সফল করার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছে এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।"
"আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতৃবৃন্দ একাত্তর সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ করে নাই, তারা ওই পারে ছিল। তারা এটাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে লুটপাট করেছে। এই পার্থক্যটা আমাদের নতুন প্রজম্মকে স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বললে, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে, একাত্তরকে অসম্মান করলে তাদেরকে আমরা কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আমরা চাই দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম লড়াইয়ের পর আর যেন জাতিকে বিভক্ত করা না হয়। বিগত সতের বছর জাতিকে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছিল। এই বিভক্তি দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে সুখী, সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।"
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, চাটখিল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনীষ দাশ এবং চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, সাবেক আহ্বায়ক দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামিম, সদস্য সচিব আহসানুল হক মাসুদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পূর্ব শত্রুতার কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ফলে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে ইউপি সদস্য কফিল মেম্বার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। इसी উত্তেজনার জের ধরে সকাল বেলা উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হন।
আহতদের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা এ বিষয়ে জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এমনটাই জানান ওসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া (৪০) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে। তার কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আজিজুল হক।
এর আগে, বুধবার (৩ জুন) বিকেলে আশুলিয়ার ইউনিক বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া আশুলিয়া থানার মধ্য গাজিরচট এলাকার মৃত মাইজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি একজন কুখ্যাত ও পেশাদার মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে আশুলিয়ার ইউনিক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ১২তলা এলাকায় মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসআই সৈয়দ আজিজুল হকের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করে পালানোর চেষ্টা করার সময় তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে ৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আজিজুল হক আরও জানান, আটক ব্যক্তি একজন কুখ্যাত ও পেশাদার মাদক কারবারি। তিনি আশুলিয়ার ইউনিকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ট্যাবলেটের কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লেবানন ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) জানিয়েছে। যাইহোক, হিজবুল্লাহ এই ঘোষণার বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
বুধবার একটি বিবৃতিতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এ চুক্তি কার্যকর হওয়া সম্পূর্ণভাবে কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলে সমস্ত ধরনের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
গত বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয় এবং এর জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করে, যার পর এই ঘোষণা এসেছে। এই কারণে গত এপ্রিলে প্রাথমিকভাবে সম্মত হওয়া একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি বর্তমানে পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সব देशों পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অবশ্যই দুইটি সার্বভৌম সরকারের মাধ্যমেই নির্ধারিত হতে হবে। লেবাননের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করার জন্য কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির (নন-স্টেট অ্যাক্টর) যেকোনো প্রচেষ্টাকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।’
এই চুক্তিটি লিতানি নদী থেকে সীমান্ত পর্যন্ত, ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দক্ষিণ লেবাননের একটি এলাকা থেকে ‘হিজবুল্লাহর সমস্ত অপারেটিভদের (সদস্যদের) সরিয়ে নেওয়ার’ ওপরও নির্ভরশীল।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, লেবাননে কিছু ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক এলাকা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে। এসব এলাকায় অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না এবং পুরো অঞ্চলের একক ও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর (এলএএফ) হাতে।
গত সোমবার সম্মত হওয়া একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির পর এই ঘোষণা এসেছে। লেবানন জানিয়েছিল, ওই আংশিক চুক্তি অনুযায়ী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা না করার বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতে বোমাবর্ষণ থেকে বিরত থাকবে।
একটি ‘পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে’ আগামী ২২ জুন দুই দেশ আবারও আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। ততক্ষণে হিজবুল্লাহ এই ঘোষণার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার বাউফল উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এদের মধ্যে দুই জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৩ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপাশা গ্রামের মো. খোকন প্যাদা (৩৪), বাউফল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইলিয়াস হোসেন (৩৭) এবং আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মো. জামাল মীর (৪২)। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে মো. খোকন প্যাদাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা এবং মো. ইলিয়াস হোসেনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু। আটককৃত জামাল মীরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পটুয়াখালী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক এস এম শাহিন পারভেজ বলেন, বাউফলে মাদকের বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য সংগ্রহ করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অন্য দুই জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়েছে। তিনি জানান, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ