মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি বালিয়াডাঙ্গী
০৪:২৬ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক উন্নয়ন, চিকিৎসা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, রোগীদের উন্নত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিতকরণ, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মোঃ আব্দুস সালাম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাঃ শাকিলা আক্তার, উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ আসাদুজ্জামান সজিব, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রমজান আলী এবং বালিয়াডাঙ্গী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আমানুল্লাহ।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আবু হায়াত নুরুন্নবী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অ্যাডভোকেট মোঃ জিল্লুর রহমান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বালিয়াডাঙ্গী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. টি. এম. মাহাবুর রহমান, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সদস্য ও বালিয়াডাঙ্গী বণিক সমিতির সভাপতি ডা. তোফায়েল আহমেদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ খুরশিদ আলম, মোঃ মামুন আক্তার সবুর, মোঃ হাসিন মুহিব অয়ন চৌধুরী এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ আব্দুল কাদের।
এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আহ্বায়ক মোঃ সোলায়মান আলী, বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক এস. এম. সরকার, প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আলী, সাংবাদিক মোঃ মাজেদুল ইসলাম হৃদয়সহ
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের জন্য আরও উন্নত, আধুনিক ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় একটি ইটভাটা মালিকের চলন্ত গাড়ির দিকে গুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় কেউ আহত না হলেও পুরো ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করে বিচারক তদন্ত শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর বাজারের চারা বটতলা এলাকায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে।
ব্যবসায়ী এস এম শহীদুল্লাহ চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াহেদীখীল এলাকার এস এম শফির ছেলে। তিনি রাউজানে একাধিক ইটভাটা এবং চট্টগ্রাম নগরীতে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
এ বিষয়ে এস এম শহীদুল্লাহ রনি জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনি চট্টগ্রাম নগরী থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে রাউজানে নিজের বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিলেন। হাটহাজারী উপজেলার ইছাপুর চারাবটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার গাড়ির সামনে ইট নিক্ষেপ করে গতিরোধের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি গাড়ির লাইট বন্ধ করে থামান। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই অস্ত্রধারী তার গাড়ির পেছনের আসন লক্ষ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গুলিগুলো গাড়ির এক পাশ ভেদ করে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘এ সময় আমি চালকের আসনে নিচু হয়ে থাকায় প্রাণে রক্ষা পাই। নিয়মিত চালক থাকলেও সেদিন আমি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলাম। হামলাকারীরা সম্ভবত ধারণা করেছিল আমি পেছনের আসনে বসে আছি। সে কারণেই পেছনের সিট লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়।’
গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। হামলায় গাড়ির কিছু ক্ষতি হলেও ব্যবসায়ী নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ এই বিষয়ে বলেন, এস এম শহীদুল্লাহ নামে একজন ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম নগরী থেকে রাউজানে তার গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে হাটহাজারীর চারাবটতলা এলাকায় দুর্বৃত্তরা প্রথমে তার গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করে গতিরোধের চেষ্টা করে। পরে তার দিকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে কিনা তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। ছবিটি সংগৃহীত।
রূপগঞ্জের গজারিয়াপাড়ার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা রহিমা বেগম। কাপড়ের আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে বলছিলেন, ‘বাবা, আমার বুকডা জুড়াইয়া গেসে।
যে কেউ কিছুই করতে পারত না, হেইডা সাইফুল ইসলাম করছে। হেগরে ধইরা জেল দিয়া আমাগো শান্তি দিছে।’ গজারিয়াপাড়ার সবার মুখে ছিল এমন স্বস্তির কথা।
এক সময় এই জনপদ মাদকের থাবায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। যেখানে সন্ধ্যার পর মানুষ ভয়ে ঘরের বাইরে যেত না। কিন্তু এখন রূপগঞ্জে স্বস্তির সুবাতাস বইছে। আর এই পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। গত দুই মাসে তার অভিযান ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে পুরো উপজেলার চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও সাইফুল ইসলাম এলাকার মাদক কারবারি, ভূমিদস্যু এবং ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। যারা বিগত দীর্ঘ সময়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করে আসছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যে ভেজালকারীদের উদ্দেশে দিয়েছেন কড়া হুঁশিয়ারি।
অপরাধীদের উদ্দেশ্যে ইউএনও সাইফুল ইসলামের হুশিয়ারি ছিল—অপরাধ করে রূপগঞ্জে একমুহূর্তের জন্যও ছাড় পাওয়া যাবে না। তার এই আপসহীন অবস্থানের ফলে স্থানীয় অপরাধ সিন্ডিকেট কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
দুই মাসে ১৪৫ জন মাদক কারবারি ও সেবনকারী সাজা পেয়েছে। উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে ইউএনও সাইফুল ইসলাম সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। গত দুই মাসের ব্যবধানে উপজেলাজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৪৫ জন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুধু আইন প্রয়োগে ক্ষান্ত হননি; মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি মাঠে নেমেছেন। তার এই ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানের কারণে রূপগঞ্জের অলিগলি থেকে মাদকের আস্তানাগুলো একে একে বন্ধ হতে শুরু করেছে।
প্রশাসনের চৌকাঠে মিলছে মানবিকতার ছোঁয়া। অন্ধ জুয়েল মিয়া ও বৃদ্ধা রাহেলা খাতুন বলেন, একজন কঠোর ম্যাজিস্ট্রেটের রূপের বাইরেও ইউএনও সাইফুল ইসলামের অন্য পরিচয় রয়েছে। তিনি এলাকার অসহায় মানুষের পরম বন্ধু। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা হতদরিদ্র, অসুস্থ ও সহায়-সম্বলহীন মানুষ তার দপ্তরে এসে খালি হাতে ফেরেন না।
সরকারি তহবিলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তিনি অসংখ্য অসহায় পরিবারকে আর্থিক অনুদান, চিকিৎসা সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করে চলেছেন। প্রশাসনের শীতল দেওয়াল ভেঙে তিনি সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন এক মানবিক সেবক হিসেবে।
সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দুর্ভেদ্যতা এবং নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কর্মকর্তা। দালালের দৌরাত্ম্যমুক্ত সেবা প্রদান এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রমে আজ মুখরিত রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইউএনও সাইফুল ইসলামের মতো এমন সৎ, কর্মবীর ও সাহসী কর্মকর্তারাই পারেন সমাজ থেকে সব অনিয়ম দূর করে একটি বাসযোগ্য ও সুন্দর জনপদ গড়ে তুলতে। রূপগঞ্জের এই সফল অভিযান এখন পুরো জেলার মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সালথায় মো. আক্কাস মাতুব্বর (৪৮) নামের এক ইউপি সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়ে গেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ইউপি সদস্য আক্কাস দাবি করেছেন যে, গত দেড় বছর আগে জোর করে তাকে দিয়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আক্কাসকে শোকজ করা হয়েছে।
আক্কাস মাতুব্বর সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং তিনি একই ইউনিয়নের গৌড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি টিনের ঘরের খাটের ওপর খালি গায়ে বসে তিনি ইয়াবা সেবন করছেন। ভিডিওতে তার সামনে বসে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির পা দৃশ্যমান। ধারণা করা হচ্ছে, উক্ত ব্যক্তি ভিডিওটি ধারণ করেছেন।
ইউপি সদস্য আক্কাস মাতুব্বর বলেছেন, ‘ভিডিওটি প্রায় দেড় বছর আগের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে পার্শ্ববর্তী জেলার সদর উপজেলা কানাইপুর ইউনিয়নের হুগলাকান্দি এলাকায় তাকে কয়েকজন ব্যক্তি আটকে রেখে হয়রানি করেন। এ সময় তাঁকে জোরপূর্বক ইয়াবা সেবনে বাধ্য করা হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।’ তবে তিনি জানিয়েছেন, কারা তাকে আটকে রেখেছিল, সে বিষয়ে কোনো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নজরে আসার পর ওই ইউপি সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। নতুন হামলা এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার মাঝখানে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, কিন্তু সেগুলি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
লেনদেনের সময় ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৮৬ ডলারে পৌঁছেছে। এতে টানা তিন কার্যদিবসের মূল্যপতনের ধারাও ভাঙার পথে রয়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার খবর প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় তেলের বাজারেও ক্রয়চাপ বেড়ে যায়।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জিএমও’র রেটস স্ট্র্যাটেজিস্ট এডওয়ার্ড অ্যাকটন বলেন, “পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন এবং একের পর এক বিপরীতধর্মী ঘটনার কারণে বাজারে প্রকৃত সংকেত ও গুজব বা সাময়িক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।”
অন্যদিকে, বিওএফএ সিকিউরিটিজের কৌশলবিদরা এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছেন, শুধু তেলের দাম বৃদ্ধি নয়, বরং এর অস্থিরতাও মূল্যস্ফীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তেলের দামের ওঠানামার ফলে অনেক পণ্য ও সেবার মূল্য দ্রুত বেড়ে যায়, কিন্তু তেলের দাম কমলেও সেই পণ্যের দাম অনেক সময় আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। এর ফলে জ্বালানির বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধুমাত্র জ্বালানি বাজারই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার সংক্রান্ত নীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অতএব, বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতি, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং তেল সরবরাহের উপর সম্ভাব্য প্রভাবের দিকে নিবদ্ধ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ