শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:১৩ এম
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৮ দিনে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) এই পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ২৮ দিনে ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ কোটি ডলার। এ হিসাবে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি মাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১১২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৯৯২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে, সদ্য বিদায় নেওয়া সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে।
আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থবছরের পরের মাস আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জ, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আইন শিক্ষার প্রসার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, দক্ষ, সৎ, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
আজ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে হবিগঞ্জ ল’ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মতিন খানের স্মরণসভা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, আইনজীবীদের ভূমিকা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারী হতে পারি, কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। জনগণ যাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হলো ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতার লোভে নয়, বরং ন্যায়বিচার, জনস্বার্থ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, সাম্য, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, মরহুম অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মতিন খান ছিলেন শিক্ষা বিস্তার ও আইন পেশার উন্নয়নে একজন দূরদর্শী, কর্মনিষ্ঠ ও নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে হবিগঞ্জ অঞ্চলে আইন শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আইন বিষয়ে শিক্ষিত হয়ে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ ও যোগ্য আইনজীবী তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। হবিগঞ্জ ল’ কলেজ ভবিষ্যতেও সৎ, দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্মরণসভায় অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ ল’ কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর উত্তরায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং পেশাগত দক্ষতা ও কর্মদক্ষতায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পেশাগত পারফরম্যান্স ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের সী শেল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি প্যালেসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উদ্যোগে এই কল্যাণ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কল্যাণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. শাহজাহান হোসেন, পিপিএম। সভায় সেপ্টেম্বর মাসের পেশাগত পারফরম্যান্স, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠদের নির্বাচন করে পুরস্কৃত করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, পেশাগত উৎকর্ষ এবং জনসেবায় আন্তরিকতাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) হিসেবে সুজাহ উদ্দিন নির্বাচিত হন। শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন মারুফ রহমান ভূঁইয়া। শ্রেষ্ঠ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নির্বাচিত হন রবিউল ইসলাম এবং শ্রেষ্ঠ কনস্টেবল হিসেবে পুরস্কৃত হন কং-৩৩৫২২ মো. নজরুল ইসলাম।
এছাড়া কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ছয়জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। সংশ্লিষ্ট মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। সভায় জনবান্ধব ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে উত্তরার সাধারণ মানুষের জন্য আরও জনবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তাঁরা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সেবার মান উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কল্যাণ সভায় সড়কে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। ব্যস্ত সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে সদস্যদের সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি অনুসরণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পাশাপাশি কর্মকর্তা ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ধরনের কল্যাণ সভা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়।
সভা শেষে ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহজাহান হোসেন, পিপিএম বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি প্রদান এবং সদস্যদের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উত্তরার সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ফুটবলের গ্রুপ ‘বি’র ম্যাচে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এর বিরুদ্ধে পাত্তাই পেল না ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। ড্যাফোডিল আইইউবির জালে হাফডজন গোল দিয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে।
ম্যাচে ডিআইইউর বিদেশি শিক্ষার্থী ইউনুসা হ্যাটট্রিক করেছেন। এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ টুর্নামেন্টে এটি প্রথম হ্যাটট্রিক হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এবিজি স্পোর্টস সিটির বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের শুরুতে আইইউবির শক্তিশালী রক্ষণের কারণে ডিআইইউর স্ট্রাইকাররা কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ড্যাফোডিলের আক্রমণগুলোতে ইন্ডিপেন্ডেন্টের রক্ষণভাগ এলোমেলো হয়ে যায়।
ম্যাচের ২০ মিনিটে সাদিকের গোলে ডেডলক ভেঙে ড্যাফোডিল লিড নেয়।
এরপর পুরো সময়টাই ছিল ডিআইইউর বিদেশি শিক্ষার্থী ইউনুসার দখলে। এই বিদেশি শিক্ষার্থী একাই আইইউবিকে তছনছ করে দেয়।
ম্যাচের ২৫, ৩৫ এবং ৪৫ মিনিটে তিনি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
এছাড়া ৪৪ ও ৫২ মিনিটে সেলিমের জোড়া গোলে আইইউবির জালে হাফডজন গোল করে ডিআইইউ বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচটি দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টি স্পোর্টস দ্বারা সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
দেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ-২০২৬’ গত ২৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে খাবারের বকেয়া টাকা চাওয়ার কারণে একটি রেস্টুরেন্টে তালা দেওয়ার অভিযোগ জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, টানা তিন দিন রেস্টুরেন্টটি বন্ধ থাকায় ভেতরে থাকা কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেস্টুরেন্টের মালিক শাহাদাত হোসেন। এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) তিনি এই ঘটনার জন্য রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি সাইয়্যেদ জাহেদ ইজ্জুদ্দীন তাহের জাবিরী। তিনি জামায়াতের মনোনীত উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং হায়দারগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদের খতিব।
শাহাদাত হোসেন হায়দারগঞ্জ বাজারের ঘরোয়া ফুড অ্যান্ড কাবাব ঘরের স্বত্বাধিকারী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে জাহেদ ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছেন। একাধিকবার মেহমানদের নিয়ে সেখানে গিয়েছেন। বেশিরভাগ সময় তিনি বাকিতে খাবার খেতেন। এর ফলে প্রায় পাঁচ মাস আগে তার কাছে ২০ হাজার টাকা বকেয়া হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ওই টাকা পরিশোধ করেননি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পাওনা টাকা চাওয়ার কারণে গত ২৭ অক্টোবর ১২-১৩ জনকে সঙ্গে নিয়ে রেস্টুরেন্টে যান জাহেদ। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে রেস্টুরেন্টে তালা দেন, কর্মচারীদের বের করে দেন। ঘটনার কিছু দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।
রেস্টুরেন্টের কর্মচারী মো. রবিন বলেন, ঘটনার দিন সকালে জাহেদ লোকজন নিয়ে এসে রান্নাঘরে তালা দেন। রাতে রেস্টুরেন্টের মূল দরজায় তালা দিয়ে আমাদের বের করে দেওয়া হয়।
রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন জানান, পাওনা ২০ হাজার টাকা চাওয়ার কারণে জাহেদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, "তিন দিন ধরে আমার প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কাঁচামাল পচে যাচ্ছে। উপার্জনও বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।"
অভিযোগ অস্বীকার করে জাহেদ বলেন, "আমি রেস্টুরেন্টে তালা দিইনি। শাহাদাত নিজেই তার রেস্টুরেন্টে তালা দিয়ে এখন মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমার কাছে তিনি কোনো টাকা পাবেন না। বরং আমি তার কাছে টাকা পাব।"
তবে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে জানানো হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি।
হায়দারগঞ্জ বাজার কমিটির সদস্য মো. মিস্টার বলেন, জাহেদ ও শাহাদাতের মধ্যে টাকা লেনদেনের বিষয় রয়েছে বলে শুনেছেন। তিনি বলেন, "এ কারণেই হয়তো দোকানে তালা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই।"
রায়পুর থানার এএসআই নির্মল ত্রিপুরা জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষকে শনিবার (৩১ অক্টোবর) থানায় ডাকা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ