ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুঁজিবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ১২২ বিনিয়োগকারী পেলেন ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা


পুঁজিবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ১২২ বিনিয়োগকারী পেলেন ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী এবং ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন ফান্ডের (আইপিএফ) আওতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) এর ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাইকৃত প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার বিএসইসি চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায়, আজ কার্যক্রমের প্রথম দিনে ১২২ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে মোট ৩ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ চেক বিতরণ কার্যক্রম চলেছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত একই সময়সূচিতে চেক বিতরণ অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের চেক সংগ্রহের তারিখ ও সময় এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ৭টি সেনাবাহিনী ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন

দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য অর্থ ফেরতের জন্য অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের যাচাইকৃত দাবির বিপরীতে পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, প্রাপ্য অর্থ ফেরত এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশাসকের অজ্ঞাতে বিটোপিয়া গ্রুপের সংবাদ সম্মেলন, বেসিসের সহায়ক কমিটি স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


প্রশাসকের অজ্ঞাতে বিটোপিয়া গ্রুপের সংবাদ সম্মেলন, বেসিসের সহায়ক কমিটি স্থগিত

প্রশাসককে অবহিত না করে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের দুই দিন পর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সহায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে ২২ সেপ্টেম্বরের স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত সহায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের সই করা চিঠিটি বেসিসের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে সহায়ক কমিটির পক্ষ থেকে বিটোপিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্য ব্যবহার, অর্ডার ও রিভিউ ব্যবস্থাপনা এবং কর্মী ও ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়।

তবে বেসিসের প্রশাসক খদিজা নাজনিন সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পূর্বে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন। এ কারণে কমিটির সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের এখতিয়ার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বেসিসের প্রশাসক খদিজা নাজনিন জানিয়েছেন, তিনি সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে অবগত ছিলেন না এবং সাংবাদিকের কাছ থেকেই এ বিষয়ে জানতে পেরেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি সহায়ক কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন, তবে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে সহায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. জুয়েল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রশাসক বিষয়টি জানেন এবং সবকিছু সম্পর্কে অবগত। শনিবার হওয়ায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং কমিটির সদস্যরা তার পক্ষেই কথা বলছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা দেয়। ২৬ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সহায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ফেরদৌস আলমের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাক্যবিনিময় ঘটে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নে আপত্তি জানিয়ে ফেরদৌস আলম তাকে সাংবাদিকতা শেখার পর প্রশ্ন করতে বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিষয়টি নিয়ে আবার কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে ওই সাংবাদিক অভিযোগ করেন, বেসিস কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ফেরদৌস আলম তার চলার পথে বাধা দেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন।

বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তার জবাব

২৬ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে বিটোপিয়া গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্য ব্যবহার, অর্ডার ও রিভিউ ব্যবস্থাপনা এবং কর্মী ও ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মার্কেটপ্লেসের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগও করা হয়।

তবে বিটোপিয়া গ্রুপ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, সংবাদ সম্মেলনের পেছনে একটি পূর্ববর্তী ঘটনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সাংবাদিক পরিচয়ে দুই ব্যক্তি বিটোপিয়া গ্রুপের কার্যালয়ে এসে ‘টাইমস পিআর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন। বিটোপিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই দুই ব্যক্তির একজন নিজেকে দৈনিক কালবেলার এবং অন্যজন প্রথম আলোর সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। তিন মাসের জন্য পিআর কার্যক্রম পরিচালনার বিনিময়ে তাদের পক্ষ থেকে ৬০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিটোপিয়া জানায়, এত বড় অঙ্কের অর্থে পিআরের কাজ করাতে তারা আগ্রহী নয় বলে জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।

বিটোপিয়ার আরো অভিযোগ, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় বেসিসের সহায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্যকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এসব প্রসঙ্গে বিটোপিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে বিটোপিয়া কার্যালয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং পিআর প্রস্তাবের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার পর নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

মনির হোসেন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটা যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক। আমরা সব তথ্য-প্রমাণ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন বা অভিযোগ তোলা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসিয়ান কাপ: ফিলিপাইন-পাকিস্তান ২-২ ড্র, পয়েন্ট ভাগাভাগি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


আসিয়ান কাপ: ফিলিপাইন-পাকিস্তান ২-২ ড্র, পয়েন্ট ভাগাভাগি

ফিফা আসিয়ান কাপের ম্যাচে ফিলিপিন্সের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করেছে পাকিস্তান। ইন্দোনেশিয়ার বান্দুংয়ের সি জালাক হারুপাত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই খেলায়, প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তান ফুটবল দল ফিরে আসে।

প্রথমার্ধে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে ফিলিপিন্স। খেলার ২৪তম মিনিটে সান্দ্রো রেয়েসের অসাধারণ গোলে তারা লিড নেয়। এর ঠিক ৮ মিনিট পর, ৩২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ফিলিপিন্সের বিয়র্ন ক্রিস্টেনসেন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফিলিপিন্স।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ায়। তারা আক্রমণের ধার বাড়ায়। এর ফলস্বরূপ, ৪৭তম মিনিটে মুহাম্মদ আলী আকবর খানের দুর্দান্ত গোলে পাকিস্তান ব্যবধান কমায়। এই গোলের পর ফিলিপিন্সের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ডরা।

ধারাবাহিক আক্রমণের ফলস্বরূপ, ম্যাচের ৬২তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি আসে। এবার জালের ঠিকানা খুঁজে পান পাকিস্তানের ডিফেন্ডার আব্দুল শাহজাদ।

ম্যাচের বাকি সময়ে উভয় দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ২-২ গোলের ব্যবধানে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০০ বছর পর টেনেসিতে কার্যকর হতে যাচ্ছে নারীর মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ পি.এম


২০০ বছর পর টেনেসিতে কার্যকর হতে যাচ্ছে নারীর মৃত্যুদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ক্রিস্টা পাইকের বিরুদ্ধে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার এই শাস্তি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একাধিক আদালত ইতোমধ্যে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নারী অধিকারকর্মী এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন তার জীবন রক্ষার দাবি তুলেছে। তারা টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করার আবেদন করেছেন। তাদের যুক্তি, অপরাধ সংঘটনের সময় পাইকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।

এছাড়া, শৈশব ও কৈশোরে তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এসব বিষয় তার শাস্তি নির্ধারণের সময় বিবেচনা করা উচিত বলে তারা মনে করেন। তবে সোমবার গভর্নর বিল লি পাইকের আইনজীবীদের করা ২২৬ পৃষ্ঠার ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর শেষ আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে, ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে এটি হবে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।

গভর্নর বিল লি ক্রিস্টা পাইকের ক্ষমার আবেদন নাকচ করে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে লি বলেন, “ক্রিস্টা গেইল পাইকের ক্ষমার আবেদনটি ভালোভাবে বিবেচনা করেছি এবং মামলাটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছি। এরপর আমি টেনেসি রাজ্যের দেওয়া দণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই।”

১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে পাইক তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ এবং আরেক কিশোরী শ্যাডোলা পিটারসন মিলে কলিন স্লেমারকে নক্সভিলের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে স্লেমারকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। তিন কিশোর-কিশোরী নক্সভিল জব কর্পসের মাধ্যমে একে অপরের পরিচিত ছিলেন।

প্রসিকিউটরদের দাবি, পাইক মনে করতেন স্লেমার তার প্রেমিকের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। হত্যার সময় তিনজনের মধ্যে শুধু পাইকের বিরুদ্ধেই মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হয়। শিপের বয়স তখন ১৭ বছর হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি প্যারোলের জন্য যোগ্য। অন্যদিকে, শ্যাডোলা পিটারসন পাইক ও শিপের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। পরে তাকে প্রবেশনের সুযোগ দেওয়া হয়।

ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তিনি আধুনিক যুগে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম ব্যক্তি হবেন। এ ছাড়া ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালুর পর পাইক হবেন দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১৯তম নারী।

পাইকের আইনি লড়াই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে টেনেসি সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে করা একটি আলাদা আপিল এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাইকের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো জবাব দেননি।

এদিকে, নিহত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজের সঙ্গেও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রত্যক্ষ করতে তিনি ও তার স্বামী ফ্লোরিডা থেকে টেনেসি যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

নক্সভিলের এনবিসি ১০ নিউজকে মার্টিনেজ তার প্রয়াত মেয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, “সে আর আমার সঙ্গে নেই। প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টা, প্রতি মিনিটে আমি তাকে হারানোর কষ্ট অনুভব করি।” তিনি টিভি চ্যানেলটিকে বলেন, পাইকের উদ্দেশে তার কিছু বলার নেই।

পাইকের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে তার আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, শৈশব থেকেই তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার ছিলেন এবং গুরুতর মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। তার আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ছোটবেলা থেকেই যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হন। পরে পাইকের বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) শনাক্ত হয়।

আইনজীবীদের দাবি, ১৯৯৬ সালের বিচারের সাজা নির্ধারণের পর্যায়ে জুরির সামনে পাইকের অতীতের এসব তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে ওই অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স মাত্র ১৮ বছর ছিল—এ বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

পাইকের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেন, শৈশবজুড়ে যেসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তার যত্ন ও কার্যকর হস্তক্ষেপ পাওয়ার কথা ছিল, তারা তাকে ব্যর্থ করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী সেই তরুণী এখন আর আগের অবস্থায় নেই। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী পাইক নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত, নিজের মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং কারাগারে থাকা অন্য নারীদের সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

আইনজীবীরা আরো দাবি করেছেন, পাইকের মা গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মদ পান করতেন। তাদের মতে, এর কারণে পাইকের মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। পরে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ধরা পড়ে।

আইনজীবীদের যুক্তি, শৈশবের নির্যাতন ও মানসিক সমস্যার কারণে ১৯৯৫ সালের ১২ জানুয়ারি টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ক্যাম্পাসের একটি স্টিম প্ল্যান্টের পেছনে স্লেমারের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পাইক নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

আদালতের নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, স্লেমারকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাকে মারধর, নির্যাতন এবং ছুরি দিয়ে বারবার আঘাত করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, পাইক পরে স্লেমারের মাথায় আঘাত করা, গলা কেটে দেওয়া এবং স্মারক হিসেবে তার মাথার খুলির একটি অংশ নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

পরে পাইকের প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ আদালতে সাক্ষ্য দেন, তিনি স্লেমারের বুকে একটি পেন্টাগ্রাম এঁকে দিয়েছিলেন। বিচারে রাষ্ট্রপক্ষ হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ও অত্যন্ত নিষ্ঠুর ছিল বলে যুক্তি দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ দুটি বিষয় প্রমাণ করতে সক্ষম হয়।

প্রথমত, পাইক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গোপন করার চেষ্টায় অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, হত্যার সময় স্লেমারের ওপর প্রয়োজনের চেয়েও বেশি নির্যাতন ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করে জুরি পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত প্রায় ৩০ বছর ধরে পাইকের আইনজীবীরা বলে আসছেন, তার প্রথম দিকের আইনজীবীরা মামলায় তার দীর্ঘদিনের নির্যাতনের বিষয়টি ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি। তাদের মতে, শৈশব ও কৈশোরে বারবার নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার কর্মকাণ্ড ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল।

যৌন নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকজন আইনজীবীও পাইকের পক্ষে আদালতে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। কর্নেল স্কুল অব ল-এর মাধ্যমে টেনেসি ও মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এসব বক্তব্যে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় পাইক তার অতীতের ধর্ষণের ঘটনা আবারও মানসিকভাবে অনুভব করতে পারেন।

আইনজীবীরা লিখেছেন, “তিনি সম্ভবত মনে করবেন, তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হচ্ছে।” জর্জিয়া কোয়ালিশন এগেইনস্ট ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের উদ্যোগে ১০০টির বেশি সংগঠন ও বিশেষজ্ঞ গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের মৃত্যুদণ্ড বদলে প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন করেছেন।

তাদের চিঠিতে বলা হয়, পাইকের অপরাধের গুরুত্ব তারা অস্বীকার করছেন না। তবে শৈশবে তার ওপর হওয়া যৌন নির্যাতন তার আচরণ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে। ক্ষমার আবেদনে আরো বলা হয়েছে, টেনেসিতে আধুনিক সময়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২০০ জনের বেশি মানুষের মধ্যে মাত্র আটজন অপরাধের সময় ১৮ বছর বয়সী ছিলেন। ওই সাতজনই পুরুষ এবং পরে তাদের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হয়েছে।

ক্ষমার আবেদনে বলা হয়েছে, টেনেসিতে কিশোর অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় না। কারণ, কৈশোরে মানুষের মস্তিষ্ক ও আচরণ পুরোপুরি বিকশিত হয় না। এই বিকাশ সাধারণত ২০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে। আবেদনের সঙ্গে প্রায় ১০০ পৃষ্ঠার চিঠিও জমা দেওয়া হয়েছে। এসব চিঠি লিখেছেন পাইকের মা, সহবন্দি, কারাগারের ধর্মযাজক, পারিবারিক বন্ধু, সাবেক সহকর্মী এবং তার সঙ্গে কাজ করা চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীরা।

চলতি বছরের শুরুতে টেনেসি সুপ্রিম কোর্ট পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে কিছু প্রশ্ন খতিয়ে দেখতে একজন বিশেষ মাস্টার নিয়োগ করে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তিনি অস্বাভাবিক বা বেআইনি যন্ত্রণার শিকার হবেন কি না, সেটিও বিবেচনা করতে বলা হয়।

এ ছাড়া যৌন নির্যাতনের অতীত ও পিটিএসডি থাকার কারণে মৃত্যুদণ্ডের দুই সপ্তাহ আগে তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে স্থানান্তর করলে তা অতিরিক্ত মানসিক কষ্ট তৈরি করবে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়। ওই কারাগারে তাকে পুরুষ কারাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হতো।

আগস্টে তিন দিনের শুনানিতে পাইকের আইনজীবীরা টেনেসির প্রাণঘাতী ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তারা মে মাসে সাজাপ্রাপ্ত খুনি টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

আইনজীবীরা বলেন, পাইকের রক্তের একটি রোগ রয়েছে এবং তার ছোট শিরার কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার সময় জটিলতা, তীব্র ব্যথা ও রক্তপাতের ঝুঁকি বেশি। তাই তারা ইনজেকশনের বদলে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন করেন। তবে সিনিয়র বিচারক ডব্লিউ. মার্ক ওয়ার্ড রাজ্যের পক্ষে রায় দেন।

তিনি বলেন, টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি পাইকের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করবে না। ফলে নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খোলা থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিইআরসি জ্বালানি খাতের সব কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পুনরায় নিরীক্ষা করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ পি.এম


বিইআরসি জ্বালানি খাতের সব কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পুনরায় নিরীক্ষা করবে

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সকল বিতরণ ও সরবরাহকারী কোম্পানির গত তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পুনরায় পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে দ্রুত একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিরীক্ষার মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, আয়-ব্যয় এবং বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের আর্থিক যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিইআরসি কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) সদস্যদের জন্য আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিইআরসি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (পেট্রোলিয়াম) ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব.) ও সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজসহ সংগঠনের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জালাল আহমেদ জানান, কমিশনের অনুরোধে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানি গত তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি সিএ ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে কমিশনের একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে। আমাদের নিজেদের সক্ষমতা এই মুহূর্তে নেই। তাই একটি সিএ ফার্ম নিয়োগ করে কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনগুলো পুনরায় পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করা হবে।”

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিইআরসি আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী কমিশনের পূর্বানুমোদন নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এখনো সব প্রকল্পে এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে জানান বিইআরসির চেয়ারম্যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

জালাল আহমেদ বলেন, “এনার্জি সেক্টরের যেকোনো প্রকল্প অনুমোদনের দায়িত্ব বিইআরসির। সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিইআরসির এই অনুমোদনও প্রয়োজন। কারণ একটি প্রকল্পের বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত ট্যারিফের সঙ্গে যুক্ত হবে।”

সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই বিনিয়োগের ব্যয় শেষ পর্যন্ত ট্যারিফের সঙ্গে যুক্ত হবে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিনিয়োগের আর্থিক সক্ষমতা, বিনিয়োগ থেকে অর্থ ফেরত আসার প্রক্রিয়া এবং পে-ব্যাক পিরিয়ড যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, কোনো প্রকল্পের ব্যয় ট্যারিফে যুক্ত করার সময় কমিশন প্রশ্ন তুলতে পারে—ওই বিনিয়োগ সম্পর্কে তারা আগে অবগত ছিল কি না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তি ও প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিইআরসির অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন।

দেশে এলপিজি সংকট এবং আসন্ন শীত মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এলপিজির সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সামনে শীত মৌসুমে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

জালাল আহমেদ বলেন, “এ পরিস্থিতিতে দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তরল জ্বালানি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, গত বছরের নভেম্বর থেকে এলপিজি নিয়ে সংকট শুরু হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর আবারও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

গ্যাসের মিটারযুক্ত ও মিটারবিহীন গ্রাহকদের ব্যবহারের পার্থক্য নিরূপণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে গবেষণা পরিচালনার কথাও জানান বিইআরসির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে মিটারযুক্ত ও মিটারবিহীন গ্রাহকেরা কী পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%