রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৪ পি.এম
গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কয়েকদিন পর আবারও ফুটপাত দখল হয়ে গেছে। ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের একটি অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে লেগুনা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। সড়কের পাশে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল রাখা হচ্ছে। এছাড়াও ফুটপাতজুড়ে বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার ও দোকানপাট বসেছে। এর ফলে ব্যস্ততম টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কটি যানজটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের পর কয়েক দিন ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত থাকলেও পরে আবার আগের চিত্র ফিরে আসে। বর্তমানে ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে পথচারীদের সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, টঙ্গী স্টেশন রোডের বিভিন্ন অংশে ফুটপাতের ওপর পরিবহন কাউন্টার, ছোট দোকান ও নানা ধরনের অস্থায়ী স্থাপনা রয়েছে। সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে লেগুনা, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। যাত্রী ওঠানামার সময় এসব যানবাহন সড়কের ওপর অবস্থান করায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়। ব্যস্ত সময়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা বলছেন, স্টেশন রোডে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে একের পর এক পরিবহন স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ও স্কুল-কলেজগামী মানুষের দুর্ভোগ বেশি। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহনকেও অনেক সময় ধীরগতিতে চলতে হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা এবং পরিবহন স্ট্যান্ডের নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল রয়েছে। বিএনপি নেতাদের নাম ভাঙিয়ে কিছু ব্যক্তি এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের দাবি, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের দখল ও সড়কের ওপর স্ট্যান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার, দোকানপাট ও স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে এখানে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজি হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। কারা এই অর্থ আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবারও একই জায়গায় দোকান, কাউন্টার ও বিভিন্ন স্ট্যান্ড গড়ে উঠছে। এতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তাদের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হলে শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না, উচ্ছেদের পর সেখানে যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়কের ওপর যত্রতত্র পরিবহন দাঁড় করানো বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে স্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কটি শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অবৈধ স্ট্যান্ড ও ফুটপাত দখলের কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কতটা স্থায়ী হবে, এটাই এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শ্রীবরদি সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা সমমূল্যের ভারতীয় জনসন বেবি সাবান জব্দ করেছে।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) আজ রোববার বেলা ১১ টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকালে ৩৯ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল শ্রীবরদি উপজেলার ডুমুরতলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা তাদের মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা সমমূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জনসন বেবি সাবান পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করা হয়।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ বাসসকে জানান, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের চোরাচালানি মালামাল পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে এ কঠোর নজরদারি ও দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং খাদ্যসংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৭১০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এই সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, "সংঘাত, চরম আবহাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন সংকটে পড়েছে।"
প্যাকেজের ৩৮০ মিলিয়ন ইউরো আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলে অভিবাসন-সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সুরক্ষা, স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়া এবং পুনর্বাসন, পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষ ও তাদের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া, ওই অঞ্চলে সংঘাত, খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও জলবায়ুজনিত সংকট মোকাবিলায় আরও ৯৭ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে। এর একটি অংশ কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও আশপাশের দেশগুলোতে ইবোলা মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে।
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলা মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করেছে এবং আফ্রিকার বৃহৎ হ্রদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ১০ মিলিয়ন ইউরো দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার প্রভাবের সম্মুখীন।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও লেবাননে ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের সহায়তায় ১০৩ মিলিয়ন ইউরো এবং ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা ও জরুরি প্রস্তুতির জন্য ৫২ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে।
একই সময়ে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় কমিশন। এর মধ্যে আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তা, কলম্বিয়ায় টিকা ও জৈব ওষুধ উৎপাদন সম্প্রসারণে ঋণ এবং ইথিওপিয়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ৬০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মানবিক সহায়তা খাতে কমিশনের বরাদ্দ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। নতুন প্যাকেজের মাধ্যমে সংঘাত, দুর্যোগ ও অন্যান্য সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা আরও বিস্তৃত হবে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কালনী নদী, যা ভাটির প্রাণ, জেলেদের জীবিকার জন্য একটি আশীর্বাদ।
বর্ষা মৌসুমে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালনী নদী যেন নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পায়। নদীতে হাওরের পানি এসে ভরে ওঠার সাথে সাথে জেলেদের জন্য শুরু হয় ব্যস্ততম সময়।
জেলেরা দিন-রাত জাল ফেলে রুই, কাতলা, বোয়াল, আইড়, চিতল, পাবদা, শোল, গজার, টেংরা ও বাইমসহ বিভিন্ন জাতের বড় বড় দেশীয় মাছ সংগ্রহ করেন। এসব মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
কালনী নদী কেবল একটি নদী নয়; এটি দিরাইয়ের হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা, ভাটির ঐতিহ্য এবং প্রকৃতির একটি অমূল্য সম্পদ। নদীর নাব্যতা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ দাবি করেছেন, সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মিরপুরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, সেই পরিকল্পনা আসলে কী, তা আজ জনগণ জানতে চায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "ব্যর্থ মন্ত্রীদের নিয়ে দেশ চালানো নাকি চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের জন্য রাষ্ট্রকে উন্মুক্ত করে দেওয়াই সেই পরিকল্পনা।"
তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর বুকেই একের পর এক সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব চলছে। গত রাতে ঢাকার মিরপুরের ইসিবি চত্বর সংলগ্ন নিউ জিনি প্রোপার্টিজ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিওসহ আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে তাণ্ডব ও লুটপাট করা হয়েছে। এর আগের রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-ফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠছে। রাজধানীতে রাতের পর রাত এভাবে স্টুডিও ভাঙা বা হাসপাতালে তাণ্ডব চালানো রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ মন্ত্রীদের পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর মানুষ রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের আশা করেছিল। কিন্তু চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা নতুন রূপে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তিনি অনতিবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ব্যর্থ মন্ত্রীদের অপসারণ, মিরপুরের হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরুর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ