০৩:০৭ পি.এম
সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরে বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে।
দিনাজপুরের সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার বাহাদুর বাজারসহ জেলা উপজেলার ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গত এক সপ্তাহ ধরেই দিনাজপুরসহ আশেপাশের জেলায় টানা বৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে বাজারে আমদানি কমে গেছে। এটার কারণে মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, সুইহারী বাজার, রামনগর বাজার, উপশহর বাজার, পুলহাট বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
জানা গেছে, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হলেও দেশে মরিচ এসে পৌঁছাবে আগামী শনিবার।
এখন বলা হচ্ছে যে, আমদানি হলেও তা দিনাজপুরে মরিচের দামকে প্রভাবিত করছে না। কারণ, আমদানি হওয়া কাঁচা মরিচ অনেকাংশেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে চলে যায়। কাঁচামরিচের আমদানি চাহিদার তুলনায় কম হওয়ার এবং বৃষ্টির কারণে দেশের উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, নিত্য প্রয়োজনীয় মশলা ও সবজি জাতীয় পণ্যের দামেরও বৃদ্ধি ঘটছে। পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, শসা ১০০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা কেজিতে।
বাহাদুর বাজারে বাজার করতে আসা আতাউর রহমান বলেছেন, ‘সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি। আগে এক পোয়া নিলেও আজকে ২৫ টাকা দিয়ে নিলাম ১০০ গ্রাম।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
এভাবে দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের চলা কঠিন হয়ে যাবে।’
এছাড়াও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, বিরল, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বাজারগুলোতেও একই খবর পাওয়া গেছে।
বিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী কুদ্দুস আলী জানিয়েছেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে না। এ কারণে বাইরে থেকে বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে।’
বাহাদুর বাজারের সহরাফ আলী নামে একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, ‘আমদানি কম হওয়ায় দাম বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনছি তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। শুনেছি হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। তবে সেই এলসির মরিচ শনিবারের আগে স্থলবন্দরে এসে পৌঁছাবে না।’
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিরাহাট গ্রামের কৃষক জনাব আলী বলেছেন, ‘বৃষ্টির এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে মরিচ গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। গাছ মরে যাচ্ছে। ফলে মরিচের উৎপাদন কম হচ্ছে। ১০ কাঠা জমিতে মরিচ লাগিয়েছিলাম। ১৫ দিন পর মাত্র ২০ কেজি মরিচ তুলতে পেরেছি। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল ইসলাম জানিয়েছেন, ৫০ শতক জমিতে এবার মরিচ আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। মরিচের গাছ বৃষ্টির কারণে মরে যাচ্ছে। আজ ১ হাজার গাছ থেকে মরিচ তুলেছি মাত্র ৪৪ কেজি। পাইকারি ২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। মরিচের গাছ নষ্ট হওয়ার কারণে ফলন কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আনিছুজ্জামান বলেছেন, ‘এ বছর দিনাজপুরে খরিব-১ মৌসুমে মরিচ আবাদ হয়েছে ৬৬৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৩২ টন। যা এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়াও খরিব-২ মৌসুমের মরিচ চাষ শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে জেলায় ১০৩ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হবে।’
দিনাজপুর কৃষি বিপণন সিনিয়র কর্মকর্তা রবিউল হাসান জানিয়েছেন, ‘লাগাতার বৃষ্টির কারণে মরিচ চাষিদের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার ফলে ফলন কম হচ্ছে। ফলে মরিচের দাম দিন দিন বাড়ছে।’
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন