১২:৪৯ পি.এম
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগে করা একটি মামলায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলাটি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত দ্বারা এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, যা দুইদশক পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান গত ৩০ জুন রাশেদ খান মেননকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করার জন্য আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: ডিএনসিসি প্রশাসক: ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি
‘অনিয়ম ও প্রতারণার’ মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলাকালীন রাশেদ খান মেননসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখার প্রয়োজন ছিল, তবে সেটি করা হয়নি। বিজ্ঞাপনে চাহিত এনটিআরসিএ সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
এছাড়া, নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করে দেওয়া হয়েছিল।
সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে, স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিংবডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন, জহিরুল ইসলাম খান, শিক্ষক শ্যামলী হোসেন, মাহমুদা সুলতানা, আয়শা সিদ্দিকা, নাসরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, তুহিন বিশ্বাস, মো. বজলুর রহমান, মো. রাসেল, মো. হারুন-অর-রশিদ খান, মো. মোশারফ হোসেন, উৎপল বিশ্বাস, এ কে এম মাসুদ রানা এবং মো. আরিফুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে: মীর শাহে আলম
২০২৪ সালের ২২ অগাস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেননকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। জুলাই আন্দোলন দমাতে একাধিক হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী একটি মামলার বিচার চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন