শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিনিয়োগ উপদেষ্টাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং পূর্ববর্তী বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধের অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিডিওজে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তালিকায় আমেরিকান ফুটবল তারকা এবং খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটের স্বামী ট্র্যাভিস কেলসি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আদালতের কৌঁসুলি শুনানিতে তার নাম উল্লেখ করেন। তবে কেলসির বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মিসৌরি আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৮ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ জাওহার বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৫ মিলিয়ন ডলারের (সাড়ে তিন কোটি ডলার) বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু তিনি বিনিয়োগ করেছিলেন মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলারের মতো।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জ্যাকারি এম ব্লুস্টোন গত মঙ্গলবার এক আদেশে জাওহারকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ৩১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিচারক এই জালিয়াতিকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, জাওহার বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং ক্ষতিপূরণ না দেওয়াটাই তার দণ্ড বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
যেভাবে প্রতারণার জাল বুনেছিলেন
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ সালে জাওহার ‘সুইফটআর্ক ক্যাপিটাল এলএলসি’ নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে তিনি কিছু শেয়ারবাজারে টাকা বিনিয়োগ করলেও ২০১৫ সাল থেকে গ্রাহকদের প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্থ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানেই—‘ফিলিপ মরিস পাকিস্তান (পিএমপি)’—বিনিয়োগ করতে শুরু করেন।
জাওহার বিনিয়োগের টাকা দিয়ে ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার, বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান, অস্টিন ও নিউইয়র্কে দামি অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ নেওয়া এবং নামীদামি রেস্তোরাঁয় আমোদ-প্রমোদ চালিয়ে যেতেন।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জালিয়াতি
২০২২ সালের জুনে টেক্সাস স্টেট সিকিউরিটিজ বোর্ড জাওহারের সব ধরনের বিনিয়োগ কার্যক্রমের অনুমতি বাতিল করে এবং তাকে সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি এই নিষেধাজ্ঞার কথা গোপন রেখে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ অব্যাহত রাখেন। এমনকি আদেশ জারির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে আরও ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলার হাতিয়ে নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের দুর্গম উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগণের কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণ পরিকল্পনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ তথ্য জানান।
এ সময় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীদ্বয় ভাসমান তরী পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য সেবার কার্যকারিতা ও সেবা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এম এ মুহিত পরিদর্শনকালে বলেন, ‘সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ভাসমান হাসপাতাল বা ‘স্বাস্থ্য তরী’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, এর মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গের অন্তত চার থেকে পাঁচটি জেলার ৩০ থেকে ৪০টি দুর্গম উপজেলায় জটিল কিন্তু সচরাচর দেখা যায় এমন রোগের আধুনিক চিকিৎসা ও সার্জারির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে বেসরকারি উদ্যোগে ক্ষুদ্র পরিসরে ভাসমান হাসপাতালের কিছু ভালো নজির রয়েছে। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নৌ-পরিবহন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সীমিত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার কার্যকর সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সমন্বিত নৌ-ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে তা উপকূলবাসীর জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামে-গঞ্জে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফদের মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারণ অর্থোপেডিক বা হাড়ের সার্জারি এবং চোখের ছানি অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দল গঠন করে এই জাহাজের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে এসব সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ সময় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, ‘বরিশাল, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার দুর্গম চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিকল্প উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ করে যেসব প্রান্তিক মানুষ চিকিৎসার জন্য চাইলেও জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ঢাকায় যেতে পারেন না, তাদের দোরগোড়াতেই সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীসহ বিআইডব্লিউটি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেখ হাসিনার সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ যে ১০১টি চুক্তি করেছে, সেগুলো বর্তমানে পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার, এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই খবর তাদের নজরে এসেছে।
ভারত জানিয়েছে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বুধবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
এক সাংবাদিক এ সময় প্রশ্ন করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বলে যে খবর এসেছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কি ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানিয়েছে?
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি, তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, ভারত তার নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, ‘এসব চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।’
পাকিস্তান ও কুয়েতের সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন সব বিষয় তারা নজরে রাখছে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
এছাড়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমন সব পরিস্থিতির দিকে ভারত নজর রাখছে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।’
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘গঙ্গার পানি বণ্টনসহ দুই দেশের পানি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। পানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডি-এর নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তালাশ বিডির নির্বাহী বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের মাধ্যমে সাংবাদিক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জনদুর্ভোগ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সামাজিক সমস্যা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ স্থানীয় নানা বিষয় নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করবেন।
তালাশ বিডির নির্বাহী বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রতিনিধি হিসেবে মোঃ উজ্জ্বল মিয়া বস্তুনিষ্ঠতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং স্থানীয় জনগণের কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
নিয়োগ পাওয়ার পর সাংবাদিক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “তালাশ বিডির মতো একটি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তার এই নিয়োগে সহকর্মী সাংবাদিক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার পেশাগত সাফল্য কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়নের হানিফ উদ্দিন রানা।
হানিফ উদ্দিন রানা ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৌদাম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাজী হাতেম আলীর বড় ছেলে। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ইউনিয়নের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ২০০৭ সালে পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন উপজেলা কমিটি গঠিত না হওয়ায় তিনি কোনো সাংগঠনিক পদ পাননি। তবে পদ-পদবির বাইরে থেকেও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন হানিফ উদ্দিন রানা।
হানিফ উদ্দিন রানার দাবি, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন মামলা, কারাবরণ ও রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে তিনি ২৭টি মামলার আসামি হয়েছেন, ১৩ বার কারাবরণ করেছেন এবং কয়েক দফা রিমান্ডে ছিলেন।
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালে ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি সাত দিন রিমান্ডে ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে কেরানীগঞ্জ ও নেত্রকোনা কারাগারে বিভিন্ন সময় কারাবন্দি ছিলেন বলেও জানান তিনি।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি পূর্বধলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে পরবর্তীতে সেই পদও হারান বলে জানান তিনি।
দলীয় পদে না থাকলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন হানিফ উদ্দিন রানা। স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকে সামনে রেখে এবার ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, হানিফ উদ্দিন রানা দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন। এ কারণে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের নাগরিকদের সরকারি সেবা পেতে হয়রানির শিকার হতে হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হানিফ উদ্দিন রানা। তার ভাষ্য, ইউনিয়নের সরকারি বাজেট ও বিভিন্ন বরাদ্দ যথাযথভাবে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন তিনি।
হানিফ উদ্দিন রানা বলেন, “মানুষের পাশে থাকার জন্য কোনো পদ-পদবির প্রয়োজন হয় না। দীর্ঘদিন ধরে আমি ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সুযোগ পেলে জনগণের সেবা এবং ইউনিয়নের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব।”
তবে তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও দলীয় পদ হারানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও দলীয় সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার প্রার্থিতা ও স্থানীয় সমর্থনের বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের তফসিল ও দলীয়/স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ