মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩২ এম
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর, আলজেরিয়া প্রথমবারের মতো দেশের সীমানা অতিক্রম করে বিদেশে সৈন্য পাঠানোর একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নাইজারে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং নিজেদের কৌশলগত অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে, আলজেরিয়ার সংসদ এই নতুন সামরিক মোতায়েনের পক্ষে অনুমোদন প্রদান করেছে। তবে, কখন এবং কতজন সৈন্য মোতায়েন করা হবে, সে সম্পর্কে কোনো ঘোষণা করা হয়নি।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) আলজেরিয়ার সংসদের উচ্চকক্ষে এ বিষয়ে একটি জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, ১৭৪ জন সিনেটরের মধ্যে ১৪৮ জন সেনা পাঠানোর পক্ষে ভোট প্রদান করেন। পরবর্তীতে সংসদের নিম্নকক্ষও প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানায়। এর ফলে ২০২০ সালের সাংবিধানিক বিধানের প্রথম প্রয়োগ ঘটেছে, যা বিদেশে সামরিক বাহিনী পাঠানোর অনুমতি দেয়। এর মাধ্যমে আলজেরিয়ার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বিদেশে সৈন্য না পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।
নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আলজেরিয়া সফরের পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। নাইজার আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত করার জন্য আলজেরিয়ার সাহায্য চেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সেনা মোতায়েনের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। নাইজারের মধ্য দিয়ে নাইজেরিয়ার গ্যাস আলজেরিয়ায় নিয়ে আসার জন্য একটি মেগা পাইপলাইন প্রকল্প রয়েছে। এছাড়াও, লিবিয়া সীমান্তের কাছে উত্তর নাইজারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো সুরক্ষার জন্য এই সৈন্যরা নিয়োজিত থাকবে। সম্প্রতি, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি ‘সোনাট্রাক’ নাইজারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের সাথে তেল অনুসন্ধানের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কূপগুলোতে ২৬ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে।
ভোটগ্রহণের পর, আলজেরীয় সিনেটর বেলকাসেম বুলঘিতি সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা নাইজারে যুদ্ধ করতে আমাদের সৈন্যদের পাঠাচ্ছি না, বরং দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো সুরক্ষিত করার একটি মিশনে পাঠাচ্ছি।’ তবে, এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কতজন সৈন্য পাঠানো হবে বা কবে নাগাদ তারা দেশ ছাড়বেন, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, বিগত বছরগুলোতে আলজেরিয়া ও নাইজারের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন ছিল। ২০২৩ সালে নাইজারে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছিল আলজেরিয়া। এরপর ২০২৫ সালে আলজেরীয় সীমান্তে মালির একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল ধরে এবং নাইজার আলজেরিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বরফ গলেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাইজারের সেনাশাসক আবদুরাহমানে চিয়ানি আলজেরিয়া সফর করেন এবং গত আগস্টের শেষের দিকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি আবদেলমাজিদ তেব্বুন নাইজারে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা দমনে যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আজ। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসিকিউশন জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ বেঞ্চের অভাবের কারণে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ১১ আসামির বিরুদ্ধে শুনানি করবে।
বর্তমানে মামলায় চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে) আনোয়ার লতিফ খান।
শেখ হাসিনাসহ পলাতক অপর সাত আসামির মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৪১ বিলিয়ন (তিন হাজার ৬৪১ কোটি ১৮ লাখ) ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন (তিন হাজার ১৬০ কোটি চার লাখ) ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।
৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটটি পাটের গুদাম ও তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন হাজার মণ পাটসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরুল হাসান। তাঁর গুদামে থাকা দেড়শ মণ পাট, ২০০ মণ পেঁয়াজ, ৫০ মণ রসুন ও ৪০ মণ চালসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন তিনি।
গত শনিবার রাত ৮টার দিকে একটি পাটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইমরুল হাসান বলেন, ব্যবসাই আমার আয়ের প্রধান মাধ্যম। আগুনে সব মালামাল পুড়ে গেছে। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ রয়েছে। কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশে পাননি। তবে ফরিদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন ও আশ্বাস দিয়েছেন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইনানীতে চারতলা একটি রিসোর্ট ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও, ভবনটির নিচে ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘরও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কউক জানিয়েছে, ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র ও অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে। তবে মালিকপক্ষের দাবি, তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তাদের স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১০ পর্যটক প্রাণ হারান। আহত হন আরও ছয়জন। এই ঘটনার নয় দিন পর কউক অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে ইনানীতে নৌবাহিনীর জেটির পূর্ব পাশে অবস্থিত ওই রিসোর্ট ভবনের সামনে এক্সক্যাভেটর নিয়ে আসা হয়। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ভিড় করেন। দুপুরের দিকে ভবনের নিচে ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। এরপর চারতলা ভবনটির কাচের গ্লাস ভাঙা হয়। পরে মূল ভবনের পিলারসহ বিভিন্ন অংশ অপসারণের কাজ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের দাবি, ভবনটির নির্মাণকাজের শুরু থেকেই কাঠামোগত ত্রুটি ছিল। দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত পিলার ছিল না। পরে ভবনের ভেতরে পিলার যুক্ত করা হয়। নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ তা মানেনি। এ কারণে আর সময় না দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আবদুল্লাহ জানান, কউকের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক বিষয় তদারকির জন্য তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভবনটির কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়ে আবু আবদুল্লাহ বলেন, ভবনের বিমে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো ভেঙে পড়ছে। প্রশাসনের কাছে নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু ছবিও রয়েছে। সেসব ছবি থেকে নির্মাণকাজের বিভিন্ন অসংগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৯ অক্টোবর কউকের সচিব সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরও মালিকপক্ষ আরও এক দিন সময় চেয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কউকের সচিব সানজিদা বেগম জানান, অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেউ রিসোর্ট বা ভবন নির্মাণ করলে যেকোনো সময় সেই স্থাপনা উচ্ছেদ করা হতে পারে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়ম সম্পর্কে জানানো হয়েছে। ভবন নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র (এলইউসি) নেওয়ার বিধান থাকলেও মালিকপক্ষ তা নেয়নি বলে কউকের দাবি। অনুমোদিত নকশা না থাকা এবং বিএনবিসি অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে।
সানজিদা বেগম বলেন, বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে স্থাপনা অপসারণের কাজ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ বছর কক্সবাজারে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় অভিযানে বিরতি ছিল। তবে বর্তমান অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।
টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবৈধভাবে রিসোর্ট নির্মাণকারীরা যাতে সতর্ক হন এবং আইন মেনে স্থাপনা নির্মাণ করেন, সে জন্যও এ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থাকার বিষয়ে মালিকপক্ষের দাবির প্রসঙ্গে কউকের সচিব বলেন, শুধু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থাকলেই ভবন নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যায় না। এ জন্য ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, অনুমোদিত নকশাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই মালিকপক্ষকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হয়েছে। গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি বলে তাদের পর্যবেক্ষণ। উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেবেন।
উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বে হিলটন রিসোর্টের মালিকপক্ষ। তাদের দাবি, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া চিঠির জবাব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেন ভবনটি অপসারণ করা হচ্ছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. জসিম বলেন, ২০১৫ সাল থেকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিটি চিঠির জবাব তারা দিয়েছেন। সম্প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশেরও জবাব দেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের কাগজপত্র, ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি, পরিকল্পনার অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন নথি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জসিম আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রের জন্যও আবেদন করা হয়েছে। মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত এক দিন সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় দেওয়া হয়নি।
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, মেরিন ড্রাইভে অনেক রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। অবৈধ হোটেল-রিসোর্টগুলোকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে তারাও।
মুকিম খান বলেন, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে আইন মেনে স্থাপনা নির্মাণ নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ৫০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১০০টি ফায়ার লাইসেন্স নিয়েছে। বাকি ৪০০টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ