১০:১২ পি.এম
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ শুরু করে দেশের লিগ্যাল প্রফেশনকে এমন একটি অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম এই গুরুত্বপূর্ণ পেশায় আসতে আগ্রহী হয়। এজন্য আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং বার কাউন্সিলের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনা এলাকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে ঢাকা ব্যাংকের নতুন সাব-ব্রাঞ্চ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেছেন, অন্যান্য পেশাজীবীদের ন্যায় আইনজীবীদেরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এই বছরে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
তিনি আরও জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তা চাকরিতে প্রবেশের পর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, বিচারকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে; কিন্তু আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের কাঠামো সীমিত। সার্টিফিকেট গ্রহণের পর একজন আইনজীবী মূলত সিনিয়রের supervision এ কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞানকে আরও পরিশীলিত করার জন্য একটি কার্যকর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করবে।
ব্যাংকিং খাতের প্রসঙ্গেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঋণের সব شرط পূরণ করার পরও কোনো উদ্যোক্তা যদি সময়মতো ঋণের অর্থ উদ্ধার না করেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ব্যাংক ওই উদ্যোক্তার সম্পত্তি মর্টগেজ হিসেবে ব্যবহার করে, এবং চেকও নেন। এই অবস্থায় অসহায় মানুষ কোথায় যাবে, সেই প্রশ্নের সমাধান খুঁজে বের করা অপরিহার্য।
আইনমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতের নিম্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকি সম্পর্কেও দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা ফাইল ইনিশিয়েট করেন। পরবর্তী সময়ে ঋণ বা অর্থের অনিয়মের ঘটনায় মামলা হলে ওই জুনিয়র কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকার কারণে তাকেই আইনি জটিলতায় পড়ে যেতে হয়। চাকরি রক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালনে থাকা কর্মকর্তাদের এ ধরনের ঝুঁকি থেকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবনা চিন্তা করতে হবে।
বার কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বার কাউন্সিলের আর্থিক কার্যক্রমকে স্বচ্ছতার আওতায় নিয়ে আসতে অভ্যন্তরীণ অডিটের পাশাপাশি বহিরাগত অডিটের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বার কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার বার কাউন্সিলকে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ‘রুলস অব বিজনেস’-এর আওতায় বার কাউন্সিলের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত। দেশের লিগ্যাল প্রফেশনকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর জন্য বার কাউন্সিলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যা কিছু সম্ভব, তা করার জন্য সরকার প্রস্তুত।
তিনি বলেন, বার কাউন্সিলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু বা দুর্নীতির স্থান করে তোলে কিছু করার প্রয়োজন নেই। বরং শিক্ষা, মেধা, প্রজ্ঞা, শ্রম ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে বার কাউন্সিলকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যা আগামী প্রজন্মের আইন পেশায় আসার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান নেতৃত্ব তরুণ, গতিশীল ও দক্ষ। সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে বার কাউন্সিলকে আইন শিক্ষার্থী ও তরুণ আইনজীবীদের জন্য স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল এবং ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকারসহ অন্যান্য অতিথিরা বক্তৃতা করেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন