মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৬ পি.এম
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চায়, যা চীনের সুদৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে সম্ভব।
আজ তিনি চীনের হাইনান প্রদেশের বোআও ল্যেছেং আন্তর্জাতিক মেডিকেল ট্যুরিজম পাইলট জোনে হাইনান প্রদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই তথ্য তুলে ধরেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাইনান প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির কমিটির সম্পাদক ফেং ফেই এবং ভাইস গভর্নর শিয়ে জিং।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০টি বড় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে। এই হাসপাতালগুলোর প্রতিষ্ঠায় চীনের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, চিকিৎসক বিনিময় ও প্রশিক্ষণ, উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ প্রতিরোধ এবং ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিনে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া স্তন ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ এবং হাম, ডেঙ্গু ও থ্যালাসেমিয়ার মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জগুলোও বৈঠকে উঠে আসে।
মন্ত্রী চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাইনানভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে গ্লাভস, মাস্ক ও ব্লাড ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদনের জন্য কারখানা স্থাপন করতে পারে। এতে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
হাইনানের কর্মকর্তারা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সফর, চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। উভয় পক্ষ স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ফাতিমা-তুজ-জোহরা ঠাকুর, চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মো. জিয়াউর রহমান এবং মালিশা গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মারুফ মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাঁচ বছর ধরে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সামিয়া আফরিন, যিনি একসময় জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। চার মাস আগে তার শরীরে আবারও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত হয়।
এবার সামিয়ার শরীরে ওভারিয়ান ক্যান্সার ধরা পড়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছে তাকে। চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়ে ছিলেন, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার চুল পড়ে যেতে পারে। তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে সামিয়া কিছুদিন আগে নিজেই চুল ছোট করে নিয়েছিলেন।
সম্প্রতি, তিনি পুরোপুরি মাথা ন্যাড়া করে নিজের নতুন লুকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। ছবির সঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসী একটি বার্তা লিখেছেন, যেখানে কঠিন সময়কে গ্রহণ করার মানসিক শক্তির কথা উঠে এসেছে।
সামিয়া তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘কখনো ভাবিনি, জীবনে আবার এমন একটা সময় আসবে—যখন আমার মাথাটা আবার পুরোপুরি বল্ড (টাক) হয়ে যাবে! ছোটবেলায় হয়তো এমন হয়েছিল, তখন সেটা নিয়ে ভাবারও বয়স ছিল না। কিন্তু বড় হয়ে, কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া এমনভাবে চুল হারানোর অভিজ্ঞতা হয়তো খুব কম মানুষেরই আসে।’
জীবনের কিছু পরিবর্তন যে ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসেও মেনে নিতে হয়, সেটি তিনি তুলে ধরেছেন। তার মতে, সব পরিবর্তন সহজ হয় না। তবে কঠিন বাস্তবতাকেও নিজের করে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে এক ধরনের শক্তি।
সামিয়ার উপলব্ধি হলো, চুল থাকুক কিংবা না থাকুক, সৌন্দর্য শুধু আয়নায় দেখা যায় না। বরং নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে পারাটাই আসল সৌন্দর্য। তার নতুন এই রূপও তাই কেবল একটি পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবনের কঠিন সময়, সাহস, গ্রহণযোগ্যতা ও নিজের প্রতি ভালোবাসার গল্প।
তিনি আরো লিখেছেন, ‘কিছু পরিবর্তন আমাদের জন্য সহজ নয়, কিন্তু আলিঙ্গন করতে হবে। আর আমি সেটাই করেছি—আলিঙ্গন করছি, গ্রহণ করছি এবং আমি আমার এই ভার্সনের মালিক। কারণ চুল থাকুক বা না থাকুক, সৌন্দর্য শুধু আয়নায় দেখা যায় না। আসল সৌন্দর্য হলো নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে পারা। এই লুক-টাও তাই আমার জীবনের একটা গল্প। একটি কঠিন গল্প, কিন্তু একই সঙ্গে সাহস, গ্রহণযোগ্যতা আর নিজের প্রতি ভালোবাসার গল্প।’
সবশেষে, সামিয়া তার নতুন লুক নিয়ে লিখেছেন, ‘এই আমি বাল্ড (টাক), এবং নিজের এই রূপ নিয়ে কোনো সংকোচ নেই। আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের প্রতিটি রূপের জন্য। ইনশাআল্লাহ, এটাও একদিন কেটে যাবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেটে সফরের জন্য প্রথমবারের মতো আসেন। স্থানীয় স্বাদের খাবারে প্রেসিডেন্টকে আপ্যায়ন করা হয় দুপুরের খাবারে। খাবারের তালিকায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকরা দিয়ে খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া আরও ছিল মাছ, মাংস, সবজি ও ভর্তার ছয়টি রুচিকর পদ।
সিলেট সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্টের জন্য এই খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। সাত পদের তালিকায় সাতকরা দিয়ে খাসির মাংসের পাশাপাশি পাবদা মাছের তরকারি, কাতলা মাছের তরকারি, চিংড়ি ছাড়া লাউয়ের তরকারি, মুরগির তরকারি, আলু ভর্তা ও টাকি মাছের ভর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার রেজা ই রাব্বি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিলেটি খাবারের বিশেষত্ব হলো সাতকরা দিয়ে মাংস। সাতকরা এবং খাসির মাংসের মিশ্রণে রান্না করা এই পদটি প্রেসিডেন্টের দুপুরের খাবারের তালিকায় ছিল।
প্রেসিডেন্ট সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।
এরপর প্রেসিডেন্ট হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি যান হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে। দুই মাজার জিয়ারত শেষে তিনি সার্কিট হাউসে ফিরে দুপুরের খাবার খান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিগার সুলতানা জ্যোতি টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) জাপানে এশিয়ান গেমসের শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) এক চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। বর্তমানে জাপানে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে অবস্থান করছেন অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার, যেখানে ১৭ সেপ্টেম্বর চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমস অভিযান শুরু করবে।
জানা গেছে, অধিনায়ক পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে জ্যোতি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছেন। ২০২২ সালে জ্যোতি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এই ফরম্যাটে দেশের সর্বাধিক ম্যাচ খেলা অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন।
জ্যোতি তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, নেতৃত্বের অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, বিশেষ করে ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ে আরও বেশি মনোযোগী হতে চান। যদিও তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নেতৃত্ব ছাড়ছেন, বাংলাদেশ নারী ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা উসমান ফয়েজী মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টায় তিনি চট্টগ্রামের নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক ও মেখল মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পেটের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন।
মাওলানা উসমান ফয়েজীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মাওলানা এখলাস ফয়েজী।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে মেখল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ভক্ত-অনুরাগী ও আলেম সমাজের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে মাওলানা উসমান ফয়েজীর নামাজে জানাজা ও দাফনের সময়সূচির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, মাওলানা উসমান ফয়েজী দেশের প্রখ্যাত সুপরিচিত আলেম পরিবারের সদস্য এবং মুফতি আজম আল্লামা ফয়জুল্লাহ (রহ.)-এর ছোট নাতি।
তিনি মেখল মাদরাসার সাবেক মুহতামিম আল্লামা নোমান ফয়েজী (রহ.)-এর ছোট ভাই। মাওলানা নোমান ফয়েজীর মৃত্যুর পর এক জরুরি শুরা বৈঠকে মাওলানা উসমান ফয়েজীকে প্রতিষ্ঠানটির নতুন মুহতামিম হিসেবে মনোনীত করা হয়।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখলে অবস্থিত জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা দীর্ঘকাল ধরে ইসলামি শিক্ষা ও দ্বীনি দাওয়াতের প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ