শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৩ পি.এম
রাজশাহীর পবা উপজেলার বিলধর্মপুর গ্রামের মিঠুর জীবনে মুক্ত বাতাসে ফিরলেও স্বস্তি ছিল না। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা, দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা এবং জীবিকা নির্বাহের কোনো সম্ভাবনা না থাকায় মুক্তির পরও তিনি অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছিলেন। কারাগারের চার দেয়াল পেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখলেও হাতে কাজ করার মতো কোনো পুঁজি ছিল না। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের দেওয়া একটি ভ্যান তাঁর জীবনে নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে মিঠু ও বাগমারা উপজেলার কোন্দা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. ইসরাফিলের হাতে দুটি ভ্যান তুলে দেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। মুক্তি পাওয়া এই দুই ব্যক্তির কর্মসংস্থানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্যান দুটি প্রদান করা হয়।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে কুলসুম সম্পা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী উপস্থিত ছিলেন। মুক্তির পর কর্মসংস্থানের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ভ্যান চেয়ে আবেদন করেছিলেন মিঠু।
ভ্যান পেয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনের এতগুলো বছর কারাগারে কেটে গেছে। মুক্তির পর বাইরে এসে কীভাবে সংসার চালাব, কীভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াব—এ নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। জেলা প্রশাসক স্যার আমার কষ্টের কথা শুনে আমাকে একটি ভ্যান দিয়েছেন। এই ভ্যান আমার কাছে শুধু একটি যানবাহন নয়, এটি নতুন করে বাঁচার অবলম্বন। স্যারের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন পরিবারের কাছ থেকে দূরে ছিলাম। মুক্তির পর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল, কিন্তু হাতে কোনো কাজ ছিল না। এখন ভ্যান চালিয়ে আয় করতে পারব এবং নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারব। জেলা প্রশাসক স্যার যে সহায়তা করেছেন, তা আমার মতো অসহায় মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের নথি অনুযায়ী, মিঠু ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন।
২০০৩ সালের ১১ অক্টোবর থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ জুলাই সাজা শেষে মুক্তি পান তিনি। এরপর জীবিকা নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তায় একটি ভ্যান চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। অন্যদিকে মো. ইসরাফিলও দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর বাবার নাম রহিম উদ্দিন। দীর্ঘ কারাভোগের কারণে তাঁরও পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।
মুক্তির পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকেও একটি ভ্যান দেওয়া হয়েছে। ভ্যান বিতরণের পর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, মুক্তি পাওয়া এই দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কারাগার পরিদর্শনের সময় তাঁদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘তাঁদের দেখেছি, তাঁরা নিতান্তই গরিব। তাঁরা কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কী করবেন, সেটি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে বাকি জীবন সুন্দরভাবে কাটাতে পারবেন। সেই উদ্দেশ্যেই তাঁদের দুটি ভ্যান দেওয়া হয়েছে।’ জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কারাভোগ শেষে তাঁরা যাতে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, ভ্যান দুটির মাধ্যমে মিঠু ও ইসরাফিল নিজেদের জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানে সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের হত্যা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সাথে সম্পর্কিত।
একটি স্বাধীন তদন্তকারী দলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এই সময় মার্কিন বাহিনী চরম ‘বেপরোয়া আচরণ’ ও অবহেলা প্রদর্শন করেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘটে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে ১২০ জন শিশু এবং ২৬ জন নারী শিক্ষককে হত্যা করা হয়। বিদ্যালয়টির পাশে একটি নৌঘাঁটি থাকলেও, সেটি যে স্পষ্টতই শিশুদের স্কুল তা বোঝা যাচ্ছিল। স্কুলের দেয়ালে আঁকা ছবি ও খেলার মাঠও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। হামলার ধরণ ছিল অত্যন্ত নির্মম—প্রথমবার মিসাইল নিচতলায় পড়ার পর আতঙ্কিত শিশুদের নিয়ে শিক্ষকেরা দোতলার প্রার্থনা কক্ষে আশ্রয় নিলে, তখনই দ্বিতীয় মিসাইলটি সেখানে আঘাত হানে।
পেন্টাগন পরে স্বীকার করে যে, পুরনো বা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা এই হামলাটি চালিয়েছিল। একই দিনে একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে মার্কিন মিসাইল হামলায় বেশ কয়েকজন শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারায়।
জাতিসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধি আনা কেলি উল্টো জাতিসংঘকেই সমালোচনা করে বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল বছরের পর বছর ধরে অকার্যকর কিছু কথা ছড়িয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, মূল যুদ্ধাপরাধী হলো ইরান সরকার নিজেই এবং বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য তাদের পারমাণবিক সুবিধা বন্ধ করা জরুরি। অন্যদিকে, ইরান জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে এই ধরনের ‘নির্বিচার’ হামলার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো জেনে-বুঝে স্কুলে হামলা করতে চায়নি, কিন্তু চরম অবহেলা ও আগে থেকে খোঁজখবর না নিয়ে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চোখে একটি বড় অপরাধ। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয়, তাই সরাসরি কোনো শাস্তি তাদের হবে না। কিন্তু আমেরিকান রাজনীতি ও সরকারের ওপর এটি যে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক চাপ তৈরি করবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানাবেন। শি যখন জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করবেন, তখন বিমানবন্দরের রানওয়েতে ট্রাম্পের উপস্থিতি থাকবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা।
স্থানীয় সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে শি জিনপিংয়ের বিমান অ্যান্ড্রুজ ঘাঁটিতে অবতরণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্টের আগমন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পও উপস্থিত থাকবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বিমানঘাঁটিতে গিয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত বিদেশি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট তাদের হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানান।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে বেইজিংয়ে কয়েক মাস আগে তিনি যে অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন, তার পুরোপুরি প্রতিচ্ছবি বলা যাবে না। কারণ গত ১৩ মে ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করলেও শি জিনপিং তাকে বিমানবন্দরের রানওয়েতে স্বাগত জানাতে আসেননি।
শি’র ওয়াশিংটন সফর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তবে ট্রাম্পের সরাসরি উপস্থিতি অ্যান্ড্রুজ ঘাঁটিতে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত প্রটোকলের তুলনায় একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ দেওয়া কখনোই শুভ ফল বয়ে আনবে না। জামায়াতে ইসলামী সহ অন্যান্য বিরোধী দলকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্মূলে বাধা সৃষ্টি করছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার একজন অফিসার-ইন-চার্জের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ এতটাই দুর্বল যে, ডিসেম্বরে নয়, শেখ হাসিনা যদি এর আগেও ফিরে আসেন, তাহলে এই পুলিশ কিছু করতে পারবে না। এর মানে হলো, ১৬ বছরের মধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থার পুরোপুরি অবসান অন্তবর্তীকালীন সরকার করতে পারেনি। এ কারণে বিএনপি সরকারের পক্ষে দেখা যাচ্ছে যে, রাতারাতি ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ হলো জামায়াত।
জামায়াত আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে একটি সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, "আমি বলছি না তারা আওয়ামী লীগের সেই ফ্যাসিবাদকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামছে। বরং আমরা যতটুকু তথ্য পাচ্ছি, জামায়াত যেহেতু রাজনৈতিকভাবে একটি হঠকারী দল হিসেবে পরিচিত, সেই সুযোগ নিতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ।" রাশেদ খান আরও জানান, এই সরকারের বয়স সাত মাস। গত ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, জামায়াত আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করছে। এই অল্প বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি হিসেবে লং মার্চ করা যায় না। জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে, অন্যদিকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান। এই কারণে জনগণের মনে এক ধরনের সন্দেহ রয়েছে। ১৯৯৬ সালে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল ঠিক একইভাবে। এখন তারা বুঝে বা না বুঝে আরেকটি পরিকল্পনার ছক তৈরি করছে কিনা?
এ সময় নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খান বলেন, ১১ দলীয় জোটের এক নেতার নাম মুখে নিতেও লজ্জা লাগে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে করে লং মার্চে অংশ নিচ্ছেন। লং মার্চের সমাবেশে খিলখিল করে হাসছেন এবং উস্কানি দিচ্ছেন। জামায়াতকে তিনি বলেন, "এমন উস্কানি লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ নিয়ে রংপুরে আসবেন, এমন প্রত্যাশা করি না।"
লং মার্চ সম্পর্কে রাশেদ খান মন্তব্য করেন, জামায়াতের ৭টি দাবির জন্য রাস্তাঘাট বন্ধ করে লং মার্চ করার প্রয়োজন নেই। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। পুরো একদিন ঢাকা-চট্টগ্রামের রাস্তা বন্ধ রাখার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রংপুরেও একই অবস্থা হবে। এভাবে রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে জনগণের উপকার করতে চান। হরতাল না দিলেও লং মার্চে রাস্তাঘাট বন্ধ করা সরকারের দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতা করা, জ্বালানির অপচয় করা এবং আওয়ামী লীগকে উস্কে দিয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান, বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিনসহ অন্যান্যরা। এর আগে সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খান। এ সময় তার সঙ্গে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর মেডিকেল কলেজ পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে রাশেদ খান বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ দুই খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। এর প্রভাব সরকারি হাসপাতালগুলোতেও পড়েছে, যেখানে আগের তুলনায় রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় অনেক মানুষের সাধ্যের বাইরে। তাই সরকারি হাসপাতালগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পাবে। পরিদর্শনকালে রাশেদ খান হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করতে সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাত্র ১৫ দিনের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকা আয়ের দাবি; বদলির পর সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) বশিরকে ঘিরে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দায়িত্ব পালনের সময় অনৈতিক সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি সুবিধাভোগী মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের কাছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
জানা গেছে, এসআই বশির গত *২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত* অল্প সময়ের জন্য বিএমপির *আরও-১ (RO-1)* হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের পর তাকে অন্য একটি ভালো কর্মস্থলে বদলি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি পেশাগত দায়িত্ব ও নিয়মকানুনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রাখেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এসআই বশির যে দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু সদস্য দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছিলেন। বশির দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ কমে যায়। এতে সুবিধাভোগী ওই সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর সেই অসন্তোষ থেকেই এসআই বশিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে ওইসব তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল বশিরের দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও সম্মান ক্ষুণ্ন করা।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো, অল্প সময়ের দায়িত্ব পালন করে এসআই বশির বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন। কিন্তু মাত্র প্রায় ১৫ দিনের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে উপার্জনের এমন দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এ ধরনের তথ্যকে সংশ্লিষ্টরা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া বলে দাবি করেছেন।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, এসআই বশির দীর্ঘদিন বরিশালে দায়িত্ব পালন করলেও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অনিয়ম বা অপকর্মের কোনো প্রমাণিত ঘটনা সামনে আসেনি। বরং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চাকরিজীবনে অর্জিত আয় ও সঞ্চয় থেকেই নিজের একটি ছোট জমিতে একতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। তার সম্পদ বা আয়ের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তিনি নিয়ম-শৃঙ্খলা ও পেশাগত দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, কোনো কুচক্রী সদস্যের অনৈতিক সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা দায়িত্ব পালনে কঠোর অবস্থানের কারণে কেউ অসন্তুষ্ট হলে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের কাছেও এমন তথ্য পৌঁছে দেওয়া হলে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
তাদের আরও দাবি, এসআই বশিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তার চাকরিজীবনের সুনাম নষ্ট করার যে চেষ্টা চলছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—কোনো ব্যক্তির দেওয়া অভিযোগ বা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নথি, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও বাস্তব তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য।
এদিকে, এসআই বশিরের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো তদন্ত, মামলা বা সুনির্দিষ্ট নথি থাকলে তা প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় যাচাইহীন অভিযোগের ভিত্তিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে এসআই বশিরের সঙ্গে ‘তালাশ বিডি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ