বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৫ পি.এম
কুমিল্লা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভাষা আন্দোলনের অগ্রপথিক ও প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তার অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে কুমিল্লায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে তার নামে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বুক কর্নার’ স্থাপন, জন্মবার্ষিকী পালন, স্মরণিকা প্রকাশ এবং তার ঝাউতলাস্থ বাসভবন সংস্কারের পরিকল্পনা।
এ লক্ষ্যে গঠিত ‘শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ ও পাঠাগার বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর পরিচিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রণয়ন বিষয়ক সভা গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকার দেশপ্রিয় কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।
পরিষদের আহ্বায়ক ড. শাহ মো. সেলিমের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সভার পর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় বক্তারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ভাষা আন্দোলনে অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং তার স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা তার জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে তার অবদান তুলে ধরার জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় আগামী ২ নভেম্বর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ, পুস্তক প্রদর্শনী এবং ভারতে অবস্থানরত তার কন্যা মনীষা দত্তকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও কয়েকটি বিদ্যালয়ের পাঠাগারে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নামে ‘বুক কর্নার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ভাষা আন্দোলনে তার অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে ভূমিকা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সভায় বর্তমানে অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঝাউতলাস্থ বাসভবন সংস্কার ও সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ কামনা করা হয়।
এছাড়া কুমিল্লায় ভাষা শহীদদের স্মরণে ভাষা ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়।
পরিষদের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সভায় কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। স্মৃতি রক্ষা ও স্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মো. মুজাহিদ চৌধুরীকে মনোনীত করা হয়।
অর্থ উপ-কমিটির আহ্বায়ক ড. শাহ মো. সেলিম, জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বশিরুল আনোয়ার, তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির আহ্বায়ক ড. জে.এন. লিলি এবং গঠনতন্ত্র বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক এবিএম আহসানুল কবিরকে করা হয়েছে। এসব উপ-কমিটিতে আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, শেখ আবদুল মান্নান, অধ্যক্ষ তাপস বকসী, মাহবুবুল আলম চপল, অধ্যক্ষ বিধান চন্দ, আতিক সেলিম রুবেল, সুব্রত চৌধুরী তপুসহ নারী নেত্রী অনিমা মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহের হোসেন বাবুল, অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক পলাশ, নারী নেত্রী শাহানা হক, শেখ ফরিদ আহমেদ, অচিন্ত দাস টিটু, অধ্যাপক রাহুল তারুনসহ পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভাটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বশিরুল আনোয়ার।
সভায় জানানো হয়, এসব প্রাথমিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. শাহ মো. সেলিম বলেন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মতো ভাষা আন্দোলনের অগ্রপথিক ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদের স্মৃতি সংরক্ষণ কেবল কুমিল্লার নয়, বরং একটি জাতীয় দায়িত্ব। তার জীবন, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ভাষা আন্দোলনে অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বৃহত্তর কুমিল্লার বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রায় দেড় লাখ পিস ভারতীয় নিষিদ্ধ ‘কোরাজু’ ট্যাবলেটসহ দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একইদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের চাপুর (দেব বাড়ি) এলাকার সুখেন দেবের ছেলে সঞ্জিত দেব (৪৫) এবং নারায়ণ দেবনাথের ছেলে বাবুল দেবনাথ (৪৭)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করে সঞ্জিত দেব ও বাবুল দেবনাথের কাছ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় নিষিদ্ধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওষুধের আনুমানিক মূল্য ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা পাঁচ প্রজন্মের মধ্যে কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর লক্ষ্মী রূপে একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বংশে কন্যাসন্তানের আগমনে পুরো পরিবার আনন্দে ভাসছে। নবজাতককে বরণ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে রাজকীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।এই ঘটনা ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড জেলায় ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমজানাচ্ছে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নবজাতক গার্গী এবং তার মা কল্পনা ঋষিকেশ দহিফালেকে স্বাগত জানাতে পার্লির দহিফালে পরিবার একটি বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। বরণের জন্য ফুল দিয়ে সাজানো হয় একটি রাজকীয় রথ। ঢাক, ঢোল ও করতালের বাজনার তালে তালে পুরো এলাকা ঘুরিয়ে মা ও শিশুকে পরম ভালোবাসায় ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০০ বছর ধরে দহিফালে পরিবারে কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি। কল্পনা দহিফালে এই সৌভাগ্যের অধিকারী হয়েছেন। গার্গীর দাদা লিম্বাজি দহিফালে বলেন, "পরিবারে কন্যাসন্তান আসা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। এত দিন আমাদের ঘরে কোনো কন্যা না থাকার যে আক্ষেপ ও কষ্ট ছিল, আজ তা সম্পূর্ণ পূর্ণ হলো।"অন্যদিকে, শিশুটিকে ‘ঘরের লক্ষ্মী’ আখ্যা দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন গার্গীর দাদি সুরেশা দাহিফালে।নবজাতক গার্গীর বাবা ঋষিকেশ দহিফালে বলেন, "সাধারণত সমাজে কন্যাসন্তানের চেয়ে পুত্রসন্তানের আকুলতা বেশি দেখা যায়। কিন্তু কন্যাসন্তান পাওয়ার আনন্দ ও অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কন্যাসন্তানরা বাবার প্রতি বেশি অনুরক্ত থাকে। আমরা আমাদের মেয়েকে রাজকন্যার মতো ফুলের সুবাসে ও পরম যত্নে বড় করে তুলব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ সৌরভ আহমেদ হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত হিসেবে সৌরভের দুলাভাই রবিউল এবং ভাড়াটে খুনি মো. শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিহতের কঙ্কালের কিছু অংশ ও পরনের জামা উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, সৌরভ (২০) গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। ছেলের সন্ধান না পেয়ে তার মা কাকলী বেগম থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে রবিউল ইসলামকে এবং পরে শাহীনকে রাজৈরের টেকেরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় চার বছর আগে সৌরভের বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তারা মাদারীপুরের রাজৈর থানাধীন টেকেরহাটের তাঁতিকান্দি এলাকায় বসবাস করতেন এবং তাদের একটি দুই বছরের সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে রবিউলের স্ত্রী নুপুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান, যা রবিউলকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। প্রতিশোধ নিতে রবিউল শাহিনের সঙ্গে আলোচনা করে সৌরভকে গাজীপুর থেকে টেকেরহাটে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে সৌরভকে হত্যা ও লাশ গুমের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩ আগস্ট রাত ৯টার পর রবিউল, শাহিন এবং শাহিনের দুই সহযোগী সৌরভকে রাজৈর থানার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দী এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে যায়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মরদেহকে কয়েক টুকরো করে কচুরিপানার নিচে গুম করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আগামী শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে অংশ নিতে হবে। তারা জানান, বাধা আসলেও কর্মসূচি সফল করা হবে। এই লংমার্চের পুরো পথে শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত সরকার ও প্রশাসনকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ভৌগোলিকম্যাপ ও গাইড অন্বেষণ করা
বৃহস্পতিবার বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে সমন্বয় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।বিরোধী জোটটি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করবে।
ইসলামও জীবন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর মোড় ঘিরে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এরপর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। সকাল ৯টা নাগাদ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর দুপুর ১২টা নাগাদ কুমিল্লার নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে খালি জায়গায় সমাবেশ ও খাবার বিরতি হবে। বেলা ৩টা নাগাদ লংমার্চ ফেনীর মহিপালে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সেখান থেকে বিকাল ৫টা নাগাদ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৌঁছে আরেকটি সমাবেশ করবেন তারা। এরপর রাত ৯টা নাগাদ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে রংপুর, সিলেট ও খুলনায় লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে এ জোটের।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি জানান, জনভোগান্তি নিরসন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এই লংমার্চ কর্মসূচি। এতে অংশ নেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, লংমার্চে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি সংকট এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে সেই সংখ্যা কমিয়ে প্রায় এক হাজারে নামানো হয়েছে।
তিনি বলেন, লংমার্চ সফল করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন। পুলিশের পরামর্শ মেনেই কর্মসূচিতে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। তাদের পরামর্শে সড়কে ‘এক লাইনে’ চলবে তাদের গাড়িবহর। সারাদেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন। আমাদের লংমার্চে ভোগান্তি যেন আরও না বাড়ে। যানজটে পড়ে কোনও অ্যাম্বুলেন্স যেন আটকে না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আপনাদের কথা শুনতেই আমরা আসছি। আপনারা রাস্তার কাছে চলে আসবেন। আমরা আলোচনা করব–কীভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। রাস্তার দুপাশে মানুষ সাদরে লংমার্চকারীদের গ্রহণ করবে। লংমার্চের পর আমরা আবার যে মানুষগুলোর কাছে গিয়েছি, তাদের সাথে নিয়ে ঢাকায় সমাবেশ করব। এই সমাবেশ থেকে সরকারের খেয়ালিপনা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে বার্তা দিয়ে আমরা দেশকে নতুন দিকে নিয়ে যাব।
ইতিহাসেরবই ও প্রামাণ্যচিত্র অন্বেষণ করা
তিনি বলেন, সরকারের কেউ কেউ বলেছেন, এই লংমার্চে নাকি এক লাখ লিটার তেল খরচ হবে। না, আমাদের হবে না। কারণ, আমাদের এখানে লাল বাসের বহর থাকবে না, গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে তেলগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো দিলে আমাদের লংমার্চ সুন্দর হবে।
লংমার্চের পুরো পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ক্ষমতাসীনদের কেউ যেন হামলা করে দায় আমাদের ওপর দিতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চে আসতে আগ্রহীদের সরকারি দলের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা হুমকি এবং হয়রানি করছে। তারা নিজেরাও বিগত সরকারের সময়ে জুলুমের শিকার হয়েছেন। একই পথ যেন তারা অবলম্বন না করে। যদি করে, তাহলে হিতে বিপরীত হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমন্বয় সভায় অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ