ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
বিবিএসের দাবি

মাথাপিছু আয় ছাড়িয়েছে ৩ হাজার মার্কিন ডলার, জিডিপি ৫০০ বিলিয়ন


মাথাপিছু আয় ছাড়িয়েছে ৩ হাজার মার্কিন ডলার, জিডিপি ৫০০ বিলিয়ন

দেশের অর্থনীতির আকার অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ও ৩ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে মাথাপিছু গড় আয় ৩ হাজার ২০ ডলার বা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। এর পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ও জিডিপির প্রাক্কলিত সাময়িক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ফেনী জেনারেল হাসপাতালের সাব-স্টেশন থেকে যন্ত্রাংশ চুরি, বিদ্যুৎ ১৪ ঘণ্টা বন্ধ

বিবিএসের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা। অর্থাৎ দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৬৪ হাজার টাকা।

এদিকে বিনিয়োগ ও সঞ্চয় স্থবিরতার মধ্যে চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়ে আছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৬৫ শতাংশ। খাত ভেদে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেবা খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া শিল্পে ২ দশমিক ৮৬ এবং কৃষিতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমলেও শিল্প খাতে বেড়েছে।

বর্তমানে প্রচলিত বাজারমূল্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ৬ জন আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবির আইইআর সংকট, বাড়ছে সেশনজটের সমস্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


জবির আইইআর সংকট, বাড়ছে সেশনজটের সমস্যা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) বর্তমানে একটি দারুণ সেশনজটের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা করোনা-পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম হলেও, আইইআরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিক্ষকদের অভাবে, পরীক্ষার সূচি প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা এবং ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় হারাচ্ছে। ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর যেখানে আধুনিক শিক্ষার কারিকুলাম এবং নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে, সেখানে জবির এই ইনস্টিটিউটটি যেন অভিভাবকহীন এবং স্থবির একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, ইনস্টিটিউটের সব ব্যাচ বর্তমানে সেশনজটের কবলে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের ২০১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স শেষ করার পর্যায়ে পৌঁছালেও, আইইআরের ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এখনও অনার্স চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার (৪-২) শেষ করতে পারেনি। মিডটার্ম পরীক্ষা শেষ হলেও, চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। তাই সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে না পারার শঙ্কায় আছেন শত শত শিক্ষার্থী। একইভাবে, ২০১৭ ব্যাচের ৩-২ সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষা গত ১ এপ্রিল শেষ হলেও, মে মাস পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ হয়নি। ২০১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী সেমিস্টারের ফলাফলও এখনও প্রকাশ হয়নি। তারা ৩-১ সেমিস্টারের মিডটার্ম শেষ করলেও, সেমিস্টার শেষ করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, ২০১৯ ব্যাচের ২-১ সেমিস্টারের ক্লাস ও মিডটার্ম শেষে এখনও ফাইনাল পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন শিক্ষার্থীরা। সাধারণত একটি সেমিস্টার ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা, কিন্তু আইইআরে চার থেকে পাঁচ মাসের একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করতে আট থেকে নয় মাস লেগে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন যে, বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এখনো পুরো ইনস্টিটিউটে মাত্র পাঁচজন স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ষকাল ধরে শিক্ষক সংকট নিরসনে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের দাবি করা হলেও প্রশাসন থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। हाल ही में নতুন পরিচালক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। একটি সেমিস্টার শেষ হওয়ার পরে প্রায় এক বছরেও ফলাফল প্রকাশ না হওয়া নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি, দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষ হওয়ার আগের দিন প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশের মতো ঘটনাও ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দ্রুত পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও, তাদের চার বছরের কোর্স ছয় বছরেও শেষ না হওয়ার শঙ্কা তাদের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একাডেমিক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট ও ভাইভায় হয়রানির আশঙ্কা নিয়েও অভিযোগ করেছেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যোগ্য খণ্ডকালীন শিক্ষকের মাধ্যমে ক্লাস পরিচালনা, পরীক্ষা শেষের এক মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে সেমিস্টার সম্পন্ন করার দাবি তুলেছেন। সার্বিক অচলাবস্থা ও কাঠামোগত সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে আইইআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানান, ‘আমাদের এখানে শিক্ষক সংকটই প্রধান সমস্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরে যেখানে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষক রয়েছেন, সেখানে আমাদের শিক্ষক মাত্র পাঁচজন। এই অল্পসংখ্যক শিক্ষক নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স মিলিয়ে পাঁচটি ব্যাচের প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি কোর্সের ক্লাস কোনোরকমে পরিচালনা করা হচ্ছে।’ তিনি আরো জানান, ‘ইউজিসি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন জটিলতার কারণে নতুন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হচ্ছে না। সংকট কাটাতে বাইরে থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষক আনার চেষ্টা করা হলেও, দূরত্বের কারণে তারা নিয়মিত ক্লাস নিতে পারেন না। ফলে বর্তমান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষককে চার থেকে পাঁচটি কোর্স পড়াতে হচ্ছে, যা স্বাভাবিক কর্মপরিধির তুলনায় অনেক বেশি। এতে গবেষণা ও মানসম্মত পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি মনে করেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ সম্ভব হলে ইনস্টিটিউটের প্রায় ৯০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘আইইআর-এর শিক্ষক সংকট ও সেশনজট সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইউজিসির সাথে যোগাযোগ করে নতুন শিক্ষকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি। পাশাপাশি খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশেষ একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়েও ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমিয়ে একটি সুন্দর শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাল্লায়, কৃষকদের প্রতিবাদ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাল্লা সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


শাল্লায়, কৃষকদের প্রতিবাদ মিছিল

শাল্লা উপজেলায় কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিয়ে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে শিকার হওয়া কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ এনে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ২ নম্বর হাবিবপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সুব্রত দাসের নেতৃত্বে ক্ষুব্ধ কৃষকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। পথে তাদের মিছিল হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অকৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগের তীর ২ নম্বর হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবলু মেম্বারের দিকে। তারা দাবি করেছেন, তালিকা প্রস্তুতের সময়ে যোগ্য কৃষকদের উপেক্ষা করে নিজের নির্বাচিত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ৪ নম্বর শাল্লা ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল হাই মেম্বারের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবলু মেম্বার জানিয়েছেন, “সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, “যদি কোনো প্রকৃত কৃষকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে কিংবা অযোগ্য কেউ তালিকাভুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এখনও তালিকা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।”

উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করে তালিকা চূড়ান্ত করা এবং সরকারি সহায়তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মস্কোয় রুশ ডেপুটি স্পিকারের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ পি.এম


মস্কোয় রুশ ডেপুটি স্পিকারের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

মস্কোতে রুশ ফেডারেশন কাউন্সিলের (সেনেট) উপ-স্পিকার কনস্তানতিন কোসাচেভের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এক আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (৯ জুন) এবং বৈঠকের শুরুতেই রুশ উপ-স্পিকার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন এবং তার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে উভয় পক্ষ আইনসভা-সংক্রান্ত সহযোগিতা, ডিজিটাল রূপান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংসদীয় কূটনীতি জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ই-পার্লামেন্ট উদ্যোগ, ডিজিটাল আইন প্রণয়ন সেবা এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা প্ল্যাটফর্ম।

দুই পক্ষ রাশিয়ার সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আইন প্রণয়ন গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সম্ভাবনা অনুসন্ধানে সম্মত হন। এ ছাড়া পেশাগত বিনিময় কর্মসূচি, সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রথাগত কূটনীতির পরিপূরক হিসেবে সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্পৃক্ততা এবং বহুপাক্ষিকতাকে আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, নিজ নিজ সংসদে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ (Parliamentary Friendship Group) গঠনের বিষয়টিও আলোচনা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়ান ফেডারেশনে অবস্থান করছেন তার রুশ সমকক্ষের আমন্ত্রণে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থানায় রক্ষা পেলেও ডিসি অফিসে মার খেয়েছেন সেই ‘সমন্বয়ক’ মাহাদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


থানায় রক্ষা পেলেও ডিসি অফিসে মার খেয়েছেন সেই ‘সমন্বয়ক’ মাহাদী

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান ডিসি অফিসের ভেতরের মারধরের ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এবার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটে, এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে প্রকাশ পায়, ডিসি অফিসের ভেতরে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন মাহাদী।

এর আগে বুধবার (১০ জুন) মাহাদী অভিযোগ করে বলেন যে, ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছে। তখন তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। লাইভ চলাকালে দেখা যায়, তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন।

প্রাণ বাঁচাতে, মাহাদী হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে রিকশায় করে ছুটে যান অন্য একজনকে সঙ্গে নিয়ে। লাইভের সমাপ্তিতে তিনি থানার কমপাউন্ডের ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান লাইভে দাবি করেন যে, ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি সদর থানায় আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষের দিকে তিনি জানান, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগে থেকে জানিয়েছিলাম যে, আমার এখানে একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। কিন্তু তাও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে হামলার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।’

মাহাদী হাসানের দাবি, তিনি আগে থেকেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে ছিলেন। পরীক্ষায় উপস্থিত হতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

এ বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। তারপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহাদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে মাহাদী ওসির কক্ষে ঢুকে তার বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন, হবিগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’

বিষয়টি নিয়ে যখন প্রবাহিত সমালোচনা হয়, তখন ৩ জানুয়ারি মাহাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সমর্থকদের বিক্ষোভের কারণে ৪ জানুয়ারি আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দেয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিনে, একদল বিক্ষুব্ধ বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালায় এবং অস্ত্র লুট ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে থানার চত্বরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা জানোয়া চলে, মাহাদী হাসান চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে এই কথা বলেন।

এ ঘটনাটির পাঁচ মাস পরে, নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছে আশ্রয় নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন মাহাদী। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যতদূর খবর পেয়েছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখিনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি।’

ওসি আরো বলেন, ‘সমন্বয়ক মাহাদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তিনি বর্তমানে থানায় অবস্থান করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%