১০:১০ পি.এম
তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ শুরু করার উদ্যোগকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে মূল্যায়ন করছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
আজ শনিবার আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, তেহরান উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পাঠানো চিঠিটি পর্যালোচনা করেছে। তিনি বলেন, “সংলাপ ও বৃহত্তর পরিসরে পারস্পরিক বোঝাপড়ার দরজা খোলার জন্য মার্কিন পক্ষের এই প্রচেষ্টা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই চিঠি পাঠানোর উদ্দেশ্য যদি বিভেদ ও মতবিরোধ উসকে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা হবে যুক্তরাষ্ট্রের আগের ভুলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া আরও একটা ভুল।”
আরও পড়ুন: হতাশা আর ক্ষোভ থেকে যেভাবে বদলে গেল ইসরায়েলের রাজনীতির সমীকরণ
মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালাতে কাতারে ইরানি প্রতিনিধিদল গঠন করা হয়েছে। আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল কাতারে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, তার একজন সহকারী বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন এবং সেখানে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সাক্ষাৎকারে আরাঘচি আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। আলোচনার দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে তেহরান প্রস্তাগগুলো পর্যালোচনা করছে। আরাঘচির ভাষায়, “পারমাণবিক ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারীরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করছি।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপাতত কোনো সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন আরাঘচি। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে তিনি নিছক জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “এ বিষয়ে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা নিছক সংবাদমাধ্যমের জল্পনা।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রয়োজন আমরা দেখছি না। আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং মধ্যস্থতাকারীরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
আরও পড়ুন: আলোচনা উদ্যোগকে স্বাগত, তবে যুদ্ধের আশঙ্কা অস্বীকার করছে না আরাগচি : ইরান
ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খুঁজছে। সেই লক্ষ্যে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। চিঠিতে দুই দেশের মতপার্থক্য কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভ্যান্স সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান রেজাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আলোচনার প্রস্তাবের পাশাপাশি নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক অভিযান’ চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশকে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে বলেছে ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন: মিশিগানের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র হতে চলেছেন মুহিত মাহমুদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন