ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেরপুরে কালের সাক্ষী মোগল স্থাপত্য ‘ঘাগড়া লস্কর খানবাড়ি মসজিদ’ দ্রুত ভঙ্গুর


শেরপুরে কালের সাক্ষী মোগল স্থাপত্য ‘ঘাগড়া লস্কর খানবাড়ি মসজিদ’ দ্রুত ভঙ্গুর

মোগল আমলের ‘ঘাগড়া লস্কর খান বাড়ি জামে মসজিদ’ কালের সাক্ষী। সচেতন মহলের মতে, জাতীয় জাদুঘর প্রত্নতত্ব বিভাগের পরিচর্য্যার অভাবে এই প্রাচীন মসজিদটি দ্রুত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। মসজিদটি বাইরের দিকে বিশাল মনে হলেও, ভেতরে এর আকার বড় নয়। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের পূর্ব পাশে একটি মাত্র দরজা এবং উত্তর ও দক্ষিণে দুটি জানালা রয়েছে। ইমাম ব্যতীত এখানে ৩০ জন মুসল্লি তিন কাতারে নামাজ আদায় করেন।

বারান্দায় ৫০ জন মুসল্লি নামাজ পড়েন। এর পরিধি দেখে মনে হয়, আড়াই থেকে তিনশ’ বছর পেছনে ফিরে এসেছি। উপস্থিত নামাজে ব্যতীত বোঝা সম্ভব নয়। স্থাপত্যকলার অনুপম নিদর্শন হিসেবে ঐতিহাসিক ‘খানবাড়ি মসজিদটি’ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত। প্রাচীনতম মসজিদের নাম ও কালক্রমে ‘ঘাগড়া লস্কর খানবাড়ি মসজিদ’ নামে পরিচিত। শেরপুর জেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এই মসজিদটি অবস্থিত। গায়ে যে নিদর্শন রয়েছে, তা থেকে অনুমান করা যায়, মোগল সম্রাট আমলে বাঙলার বিদ্রোহের নেতা হিরোঙ্গী খাঁর বিদ্রোহের সময় এটি নির্মিত হয়। দরজায় কষ্টিপাথরে খোদাই করে আরবিতে প্রতিষ্ঠাকাল হিজরি ১২২৮ এবং ইংরেজি ১৮০৮ সাল লেখা রয়েছে।

গঠন পদ্ধতি ও স্থাপত্য কৌশল শিল্পসমৃদ্ধ ও সুদৃশ্য। ভেতরে দু’টি সুদৃঢ় খিলান রয়েছে। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান। ভেতরের আয়তন ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩০ ফুট প্রস্থ। মধ্যস্থলে বড় গম্বুজের চারপাশে ছোট-বড় দশটি মিনার রয়েছে। এর মধ্যে চার কোণায় চারটি মিনার এবং একটি দরজা রয়েছে। ভেতরে মেহরাব এবং দেয়ালে অঙ্কিত কারুকাজের ফুলদানি ও ফুল রয়েছে। ৫৮ শতক জমির ওপর মসজিদের মূল ভবনটি অবস্থিত। বারান্দা ১৭ শতকে নির্মিত হয়েছে। ৪১ শতকে কবরস্থান রয়েছে। ইমাম হাফেজ মোঃ রহুল আমীন জুম্মাসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ান। দুই যুগ আগে ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও সভাপতির মৃত্যুর পর নতুন করে কমিটি গঠন হয়নি।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী বড় কালীবাড়িতে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দুর্গোৎসব উদযাপন

স্থানীয় শতবর্ষী ড়াঃ আব্দুল বারী, আলহাজ সরোয়ার্দী দুদু মন্ডলসহ এলাকাবাসী ও ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর যোদ্ধারা আত্মগোপনে ছিলেন। আজিমোল্লাহ খাঁন নামে যোদ্ধা এখানে বসবাস করেন এবং তিনিই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। পালিয়ে বসবাসের কারণে তাঁর নাম হয় পলায়ন খাঁন। মসজিদের সামনে স্থাপনের তারিখ ১২২৮ হিজরীতে প্রতিষ্ঠিত। পুনঃসংস্কারের সময় নেম প্লেটে আজিমোল্লাহ খাঁনের দুই পুত্র আফজাল খাঁন ও গোলাপ খাঁনের নাম লেখা রয়েছে।

নির্মাণ শৈলী মনোরম এবং এটি প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের অনুপম নিদর্শন। উপরে পূর্ণ ছাদ এক গম্বুজে তৈরী। চার কোণে চারটি গম্বুজসহ মোট ১২টি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলো সুনিপুণভাবে নির্মিত। দেয়ালের গাথুনী ৪ ফুট পাশে, চুন ও সুরকি দিয়ে গাথা। ভেতরে সুন্দর কারুকার্যে নকশা রয়েছে। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ কিছু কাজ করেছে। বাইরের চারপাশে দেয়াল রয়েছে এবং সম্মুখে কিছু জায়গা পাকা করা হয়েছে। মসজিদের ইমাম জানান, স্থান সংকুলান না হওয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইনে মসজিদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদের হেফাজত ও সংরক্ষণে একজন খাদেম সরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তবে বর্তমানে তিনি নেই। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ বহুবার পরিদর্শন করেছে এবং দেখতে বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শনার্থী আসে। এলাকাবাসী একজন সরকারি খাদেম, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং মসজিদটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল আমীন বলেন, প্রাচীনতম মসজিদটির দেখভাল বা সংস্কারের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব জাতীয় জাদুঘর প্রত্নতত্ব বিভাগের। পরিচর্যা ও মেরামতের দায়িত্বও তাদের। শেরপুর বা জামালপুরে তাদের অফিস আছে কিনা খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন। ভঙ্গুর অবস্থা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর তাগিদ দেবেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহী মহানগরীর মাদ্রাসা মাঠের পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর জন্য পুষ্টিবিদদের ৮ পরামর্শ: ক্র্যাশ ডায়েট নয়, মেনে চলুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর জন্য পুষ্টিবিদদের ৮ পরামর্শ: ক্র্যাশ ডায়েট নয়, মেনে চলুন

ঢাকার নগরবাসীদের মধ্যে শহুরে যান্ত্রিকতার কারণে ওজন বৃদ্ধির সমস্যা এখন একটি সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যস্ত রুটিন, ডেস্কে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ফাস্টফুড বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং কাজের অতিরিক্ত চাপ—এসব কারণে শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো এখন শুধুমাত্র সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত হয়ে উঠেছে।

অতিরিক্ত ওজন কেন নীরব ঘাতক

ওজন বৃদ্ধি নিয়ে অনেকেই কেবল বাহ্যিক রূপ বা ফিটনেসের দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করেন, যা সঠিক নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অতিরিক্ত ওজন নীরব ঘাতকের মতো কাজ করে এবং বিভিন্ন জটিল রোগের জন্ম দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

• রক্তে শর্করা ও রক্তচাপের অনিয়ম: যা ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

• হরমোনজনিত জটিলতা: নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) এবং থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

• লিভার ও বিপাকীয় সমস্যা: ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং হজম শক্তির অবনতি ঘটে।

• শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস: জয়েন্টে তীব্র ব্যথা এবং হৃদরোগের আশঙ্কা তৈরি হয়।

রাতারাতি স্লিম হওয়ার শর্টকাট কেন বিপজ্জনক

দ্রুত মেদ ঝরানোর জন্য অনেকে ইন্টারনেটে খোঁজেন—কিভাবে এক সপ্তাহে কয়েক কেজি ঝরানো সম্ভব, কিংবা প্রতিদিন কেজি ধরে মেদ কমানো আদৌ সম্ভব কিনা। কিন্তু রাতারাতি স্লিম হওয়ার এই প্রবণতা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পুষ্টিবিদদের মতে, সপ্তাহে আধা কেজি থেকে এক কেজি ওজন কমানোই নিরাপদ।

প্রত্যেক ব্যক্তির শারীরিক গঠন, হরমোনের মাত্রা, বয়স, জীবনধারা এবং ওষুধের ইতিহাস সম্পূর্ণ আলাদা। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত মূল্যায়ন ছাড়া হঠাৎ করে কোনো কড়া ডায়েট শুরু করলে সাময়িকভাবে ওজন কমলেও তা শরীরের ভেতরে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এর ফলে পুষ্টির ঘাটতি, চুল পড়া, মাসিকের অনিয়ম এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব নারীর PCOS বা থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, ভুল ডায়েট তাদের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নিরাপদে ওজন কমানোর ৮টি কার্যকর কৌশল

• পরিবেশগত ট্রিগার সরান: চোখের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার বা স্ন্যাকস না রেখে সবসময় ফল বা স্বাস্থ্যকর খাবার দৃশ্যমান রাখুন।

• আবেগ থেকে খাওয়া বন্ধ করুন: মন খারাপ, একঘেয়েমি বা মানসিক চাপ দূর করতে খাবারকে সান্ত্বনা বা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করুন।

• ছোট জয়ের সেলিব্রেশন: প্রতি ১ কেজি ওজন কমানো বা ছোট কোনো লক্ষ্য অর্জনে নিজেকে পুরস্কৃত করুন।

• ক্ষমাশীল মনোভাব রাখুন: ডায়েট একদিন একটু এদিক-সেদিক হয়ে গেলে নিজেকে অপরাধী না ভেবে পরের বেলা থেকেই আবার ট্র্যাকে ফিরে আসুন।

• প্রোটিন ও ফাইবারকে অগ্রাধিকার দিন: ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার রাখলে ক্ষুধা বাড়ানোর হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে।

• রঙিন ও প্রাকৃতিক খাবার বেছে নিন: প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ রঙিন শাকসবজি, ফল, বাদাম ও সীডস জাতীয় খাবার রাখুন। বাইরের জাঙ্ক ফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

• খাওয়ার আগে পানি পান: খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

• পর্যাপ্ত ঘুম: দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং ওজন ঝরাতে সাহায্য করে।

প্রযুক্তি আর পুষ্টিবিদের পরামর্শ: সাফল্যের যুগলবন্দি

প্রযুক্তির উন্নতি ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত করেছে। ডিজিটাল ক্যালোরি ট্র্যাকিং অ্যাপের সাহায্যে প্রতিদিনের খাবারের হিসাব রাখা এখন হাতের মুঠোয়, যা নিজের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে দারুণ সাহায্য করে। এর পাশাপাশি পুষ্টিবিদের নিয়মিত পরামর্শ ও উৎসাহ পেলে ডায়েট চার্ট মেনে চলাও অনেক সহজ হয়ে যায়।

ঢাকায় পার্সোনালাইজড ওজন ব্যবস্থাপনা: SPED

এই আধুনিক ভাবনার আলোকেই ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসে যাত্রা শুরু করেছে SPED ওয়েট লস ক্লিনিক। প্রতিষ্ঠানটি বৈজ্ঞানিক ও পার্সোনালাইজড বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপায়ে ওজন ব্যবস্থাপনার সেবা প্রদান করছে। এখানকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—আপনার পছন্দের খাবার বাদ না দিয়েই, ডায়েট চার্টে সেগুলোকে রেখেই ওজন কমানোর সুযোগ রয়েছে। SPED-এর লক্ষ্যমাত্রাগুলো বাস্তবসম্মত ও স্বাস্থ্যকর:

• ২ মাসে ৫ কেজি ওজন কমানো।

• ৪ মাসে ১০ কেজি পর্যন্ত মেদ ঝরানো।

• ৬ মাসে ১৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমিয়ে ফিট থাকা।

অর্থাৎ মাসে গড়ে আড়াই কেজির মতো, যা পুষ্টিবিজ্ঞানের নিরাপদ সীমার মধ্যে পড়ে। পুরো প্রক্রিয়াটি ক্র্যাশ ডায়েট বা ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধনির্ভর নয়, তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও কম। এখানে সার্টিফায়েড ডায়েটিশিয়ানরা প্রতিটি ক্লায়েন্টের শারীরিক গঠন ও স্বাস্থ্যগত ইতিহাস গভীরভাবে মূল্যায়ন করে তবেই পরিকল্পনা সাজান। তাদের কার্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রামে আরও যা থাকছে:

• নিয়মিত ফলো-আপ ও পরামর্শ সেশন।

• সহজ ক্যালোরি ট্র্যাকিং অ্যাপের ব্যবহার।

• হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মোটিভেশনাল সাপোর্ট।

• প্রয়োজন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ সাপ্লিমেন্টের নির্দেশনা।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি ক্লায়েন্টকে সেবা প্রদান করেছে। গুগলে ১০০টির বেশি রিভিউতে ৪.৯ স্টার রেটিং এবং ফেসবুকে এক লাখের বেশি ফলোয়ার তাদের প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন।

পাঠকের সাধারণ জিজ্ঞাসা

সপ্তাহে কতটুকু ওজন কমানো নিরাপদ?

সাধারণভাবে সপ্তাহে আধা কেজি থেকে এক কেজি ওজন কমানোকে নিরাপদ ধরা হয়। এর চেয়ে দ্রুত কমালে পেশিক্ষয়, পুষ্টির ঘাটতি এবং ডায়েট ছাড়ার পর ওজন আবার ফিরে আসার ঝুঁকি বাড়ে।

পছন্দের খাবার রেখেও কি ওজন কমানো যায়?

হ্যাঁ। খাবারের পরিমাণ ও ক্যালোরির হিসাব ঠিক রেখে পুষ্টিবিদ পছন্দের খাবারকেও ডায়েট চার্টে রাখতে পারেন। এতে ডায়েট দীর্ঘদিন মেনে চলা সহজ হয়।

PCOS বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে কী করবেন?

হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে নিজে নিজে ডায়েট না করে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা নেওয়াই নিরাপদ।

শেষ কথা

আপনার ওজন আপনার হাতে। তবে কখনই নিজে নিজে কড়া ডায়েট শুরু করবেন না, যার সাইড ইফেক্ট হতে পারে ভয়ংকর। তাই আপনার ওজন কমানোর জার্নিতে অবশ্যই একজন নিউট্রিশনিস্টের শরণাপন্ন হবেন।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক পুষ্টি পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন SPED-এ।

লেখক: নিউট্রিশনিস্ট আয়শা সিদ্দিকা, নাহিদা আহমেদ ও তসিবা বিনতে রহমান তোড়া

কনসালটেন্ট, SPED

Website: https://sped.center/

মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, দক্ষ কর্মী পাঠানো সম্ভব না হলে দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্খিত সুফল অর্জন করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, "আমরা বিদেশে কোয়ালিটি সম্পন্ন দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চাই।"

মন্ত্রী আরও জানান, বিদেশ থেকে আসা চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "ইনশাআল্লাহ আমরা দক্ষ শ্রমিক তৈরী করব।" ওইসব দেশের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক পাঠানোর বিষয়েও তিনি জোর দেন।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রামের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রমমন্ত্রী দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি বলেন, "শ্রমিক দুর্ঘটনা ঘটলে একজন বিচারপতি, একজন আইনজীবী, জেলা প্রশাসনের এবং পুলিশের প্রতিনিধি নিয়ে একটা টিম করে দেয়া হবে।" এই টিম দুর্ঘটনার স্থলে গিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।

তিনি দুর্ঘটনারোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, "এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের সচেতনতার বিকল্প নেই।" প্রয়োজনে শ্রমিকদের জন্য মাসখানেক ধরে সচেতনতা প্রোগ্রাম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, "কোন শ্রমিক দুর্ঘটনা হলে তাদের কিছু টাকা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন মালিকরা।" তিনি জানান, শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বক্তব্য এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, "এ সমস্যাগুলো একদিনের নয়, দীর্ঘ সময়ের পুঞ্জিভুত সমস্যা।" চট্টগ্রামে শ্রমিক-মালিকের সমস্যাগুলো সমাধানে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির কথা জানান।

অনেকগুলো কারখানা বন্ধ হয়ে আছে, সেগুলো চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যারা দেশ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছে, তাদের কিছু কলকারখানা বন্ধ রয়েছে।"

তিনি বলেন, "এখন ব্যাংকের টাকার জন্য বিভিন্ন মিল কারখানা লে অফ করছে।" শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, "আইনের মাধ্যমে বন্ধ কারখানাগুলোকে সচল করার চেষ্টা করছি।" তিনি উল্লেখ করেন, "আপনি চাইলেই একটি প্রাইভেট প্রোপার্টির উপর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।"

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, সাঈদ আল নোমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান জানালেন প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান জানালেন প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত এবং ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে এ আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, বৃহৎ শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে তিনি শ্রমজীবী মানুষ, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক এবং উৎপাদন ও সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানান। প্রেসিডেন্ট জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশনের (এনপিও) উদ্যোগে দেশব্যাপী দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, পণ্যের মান বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় ও অপচয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প ও সেবা খাতকে আরও দক্ষ, উদ্ভাবনী এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। এ বছরের জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’ সময়োপযোগী এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার, শিল্পোদ্যোক্তা, শ্রমিক, গবেষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন দেশের শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, পরামর্শ এবং কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

আধুনিক প্রযুক্তি, টেকসই উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ অধিক উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং টেকসই শিল্প অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মওলানা আবদুর রহীমের ৩৯তম ওফাত বার্ষিকী পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


মওলানা আবদুর রহীমের ৩৯তম ওফাত বার্ষিকী পালিত

মওলানা মরহুম আবদুর রহীম (রহ.) এর ৩৯তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ঢাকা মহানগরী শাখার উদ্যোগে কুরআনখানি সেমিনার ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগরী আমির মাওলানা মোরশেদ খান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আমীর ড. মাওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী। প্রবন্ধ পাঠের দায়িত্ব পালন করেন নায়েবে আমীর ড. মওলানা একেএম মাহবুবুর রহমান।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রিন্সিপাল শওকত হোসেন, রহমতে আলম মহিলা কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ মুজিরউদ্দিন, প্রিন্সিপাল এস এম আব্দুল হামিদ, কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক ওলামা সংস্থা আল ইত্তেহাদের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আহমদ শাওকী আফিফি, আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. ইসমাঈল হোসেন, মানবাধিকার কর্মী মির্জা আজম।

বক্তাগণ মাওলানা মরহুম মুহাম্মদ আব্দুর রহিমের বর্ণাঢ্য জীবনের উপর আলোকপাত করতে গিয়ে ইসলামিক জ্ঞান গবেষণা, ইসলামী আন্দোলনের গতিধারা নির্ণয় ও ইসলামী বিপ্লব ও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার লালিত স্বপ্নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বক্তাগণ উল্লেখ করেন যে, বাংলা সাহিত্যে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা, জীবন দর্শন ও ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে সমৃদ্ধ লেখনীর মাধ্যমে তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তিনি ছিলেন আপসহীন, তবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন মহলের সাথে জোটবদ্ধ হওয়া থেকে কখনো পিছপা হননি। অভিজ্ঞতা প্রমাণ করছে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আপোষহীনতার পথই একমাত্র সঠিক পথ। অনুষ্ঠানের শেষভাগে সংগঠনের মরহুম সেক্রেটারি জেনারেল ডক্টর এনামুল হক আজাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%