১০:৩৯ এম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের কনডেনসেটবাহী পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত দুই দিনে ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল চুরি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধ সংযোগ স্থাপন করে। পরে চুরি করা তেল মাটির নিচে তৈরি গোপন ট্যাংকে মজুদ করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মাধবপুর থানায় সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।
পুলিশ ও জিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ নভেম্বর রাত ১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উত্তর নোয়াপাড়া এলাকার রতনপুর ডাক্তার বাড়ির কাছে কনডেনসেট চুরির ঘটনা শনাক্ত করেন জিটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় পাইপলাইনের কাছে পাঁচ থেকে ছয়জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তারা দেখতে পান। নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে গেলে চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে অনুসন্ধানে পাইপলাইন ছিদ্র করে হোসপাইপের মাধ্যমে কনডেনসেট বের করার বিষয়টি ধরা পড়ে।
জিটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মীদের সুপারভাইজার দুলাল মিয়া জানান, ঘটনার সময় সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেন।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
খবর পেয়ে মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামসু উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় কনডেনসেট চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ছয় ইঞ্চি ব্যাসের একটি ক্ল্যাম্প, এক ইঞ্চি জিআই পাইপ, দুটি বলভালভসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। এছাড়া সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনের বাড়ির পুকুর ও আশপাশ থেকে তেল মজুদের কাজে ব্যবহৃত দুটি বড় পানির ট্যাংক উদ্ধার করা হয়। তার বাড়িতে মাটির নিচে কনডেনসেট সংরক্ষণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি দুটি গোপন গর্ত বা ট্যাংকের সন্ধানও পাওয়া যায়।
জিটিসিএলের আশুগঞ্জ অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে তাদের অভিযোগ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জিটিসিএলের উপব্যবস্থাপক মো. জায়েদ হোসেন জানান, গত দুই দিনে পাইপলাইন থেকে ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া কনডেনসেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯২০ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম হাসান বলেন, পাইপলাইনে ছিদ্র করে বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে সুকৌশলে কনডেনসেট বের করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হতো। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। জিটিসিএল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এসআই সামসু উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত জব্দ করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন