০২:০৫ এম
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার, যা দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে। এই প্যাকেজের সুবিধা প্রকৃত উদ্যোক্তাদের দ্রুত পৌঁছানোর জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ প্রদান করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় সিলেটের স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের আঞ্চলিক প্রধান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ, নারী উদ্যোক্তা এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গভর্নর এই অর্থায়ন প্যাকেজের মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
গভর্নর মোস্তাকুর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমানে ব্যাংক ঋণের ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সাধারণ সুদের হার ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এই চাপ থেকে উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে এবং থমকে যাওয়া শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে ৪ থেকে ৮ শতাংশের মতো বিশেষ কম সুদে এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ সরবরাহ করা হবে।
তিনি জানান, এই বৃহৎ প্যাকেজের ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৪১ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে প্রদান করা হচ্ছে।
গভর্নর সিলেট অঞ্চলের বন্ধ থাকা উৎপাদনমুখী শিল্প ও সেবা খাতকে পুনরায় সচল করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এই প্যাকেজের সবচেয়ে বড় অংশ, ২০ হাজার কোটি টাকা বন্ধ শিল্প পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। এছাড়া কৃষি ও পল্লী অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তরুণদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে গভর্নর জানান, বেকার যুবসমাজকে দেশের মূল অর্থনৈতিক ধারায় যুক্ত করতে চলতি নভেম্বর মাস থেকেই ‘উদ্যোগ’ নামের একটি প্রকল্প শুরু হচ্ছে। এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে পাঁচ হাজার তরুণকে বাছাই করে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংক বা আমলাতান্ত্রিক কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার বিষয়ে গভর্নর জানান, ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষকরা এখন প্রথাগত জমির পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহার করে সহজেই ঋণ সুবিধা পাবেন।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেটের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমদের সভাপতিত্বে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং রেগুলেশন পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক সালাউদ্দিন তাপাদার। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক নওশাদ মোস্তাফা ও আব্দুস সালাম মাহমুদসহ আরও অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন