ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গনমাধমে সংবাদ প্রকাশের পর নির্যাতিত প্রতিবন্ধীর পাসে জেলা প্রশাসন, এখনো শঙ্কায় শহিদুল


গনমাধমে সংবাদ প্রকাশের পর নির্যাতিত প্রতিবন্ধীর পাসে জেলা প্রশাসন, এখনো শঙ্কায় শহিদুল
 
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জমি দখল, মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও নানা নির্যাতনের অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রতিবন্ধী দিনমজুর মো. শহিদুল ইসলাম ও তার পরিবার। 
এ নিয়ে গত ৬ ও ৭ আগস্ট বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে ৯ আগস্ট নির্যাতিত ওই প্রতিবন্ধী শহিদুল ইসলামের বাড়িতে পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল।
 
জানা গেছে, ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সে পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন এবং এক সময় স্বাভাবিকভাবে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দিনপার করতেন প্রতিবন্ধী শহিদুল। এর মাঝেই তার জীবনে নেমে আসলো কালো ছায়া, প্রতিবেশী মোস্তফা হাওলাদার ২০১০ সালে প্রয়াত জামায়াতে ইসলামী নেতা ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন। এরপর ২০১১ সালে তিনি ওই জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করেন। 
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে মোস্তফা হাওলাদার তাদের জমি দখল করেন।
 
তাদের দাবি, ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ৪০ শতাংশ এবং ১৯৩০ সালসহ বিভিন্ন সময়ে তাদের পূর্বপুরুষদের ক্রয় করা জমিসহ মোট ১৬৭ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন তারা। পরবর্তীতে কিছু জমি বিক্রি ও এওজ-বদল করার পর বসতভিটাসহ ১২১ শতাংশ জমি তাদের দখলে ছিল। 
 
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে দুর্বৃত্তদের হামলায় মোস্তফা হাওলাদার নিহত হন। এ ঘটনায় তার ভাই আবদুল মজিদ হাওলাদার বাদী হয়ে জিয়ানগরের ইন্দুরকানী থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় শহিদুল ইসলামের অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছেলে সোলায়মান হাওলাদারকে তিন নম্বর আসামি করা হয়। একই মামলায় তার ভাই আব্দুর রহিম হাওলাদারকেও আসামি করা হয়। 
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর কারাগারে থাকার পর বিভিন্ন হয়রানির কারণে সোলায়মানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ২৮ বছর বয়সী সোলায়মান দিনমজুরি ও ভাড়ায় অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। 
 
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোস্তফা হাওলাদারের মৃত্যুর পর তার ভাই রুস্তুম হাওলাদার ও কুদ্দুস হাওলাদার ওই জমির দখল নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে ভোগদখল করছেন। এ সময় জমির গাছ বিক্রি করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন এবং প্রতি বছর ধানি জমি লিজ দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেন তারা।
এছাড়াও তাদের দাবি, ছেলে দীর্ঘদিন মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকায় শহিদুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরবর্তীতে তিনবার ব্রেইন স্ট্রোক করে তিনি প্রতিবন্ধী হয়ে যান। বর্তমানে অভিযুক্তরা বসতভিটা থেকেও উচ্ছেদের চেষ্টা, মারধর ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। 
 
প্রশাসন জানায়, প্রতিবন্ধী শহিদুলকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তাদের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাইদ এর নির্দেশনায় জিয়ানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো: ওয়ালিউর রহমান রুবেল এর নেতৃত্বে একটি প্রশাসনিক দল গত ৯ আগস্ট সকালে শহিদুলের বাড়ি পরিদর্শনে যান। এবং দুই পক্ষকে ডেকে মিমাংসা করার চেষ্টা করে কুদ্দুস হাওলাদারকে নির্দেশনা দেন শহিদুলের জমি আদালতের রায় হওয়া পর্যন্ত বুঝিয়ে দিতে। 
 
ভুক্তভোগী শহিদুলের ভাগিনা হাফিজুর রহমান নয়ন বলেন, আমার মামাদের জমি প্রতিবেশী ভূমি দস্যু কুদ্দুস, রুস্তম ও তাদের দুই ছেলে দীর্ঘ ১৫ বছর জোরপূর্বক দখলকরে খাচ্ছে। এ নিয়ে সাংবাদিকরা নিউজ করলে এসিল্যান্ড স্যারে পরিদর্শনে আসেন এবং মামলার রায় হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে ওই জমি দখলে নিতে বলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ভূমি কমিশনার স্যারের নির্দেশনা অমান্য করে এখনো ওই জমি গুলো দখল করে রেখেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তরা প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবারের সদস্যদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা এই ভূমি দস্যুদের হাত থেকে বাচতে জেলা প্রশাসক স্যার এর কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করছি। 
 
শহিদুলের স্ত্রী মঞ্জু বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মোরা ঠিক মতো খাইতে পারি না। ঘরে চাউল নাই, বাজার নাই। মোর স্বামী ওদের অত্যাচারে অসুস্থ ওইয়া অচল, হের ঔষধ লাগে প্রত্যেকদিন কিন্তু ঔষধ নাই কিনমু কি দিয়া টাহা নাই। কুদ্দুসরা জমি না দহল হরলে মোগো জমি দিয়া কিছু খরচ চালাইতে পারতাম। কি হরমু এহন, মোগো না খাইয়া মরা লাগবে। 
 
প্রতিবন্ধী শহিদুল কান্নাজড়িত কন্ঠে এবং অস্পষ্ট উচ্চারণে বলেন, আমাগো জমি ম্যালা বছর দহল কইরা রাখছে কুদ্দুসসহ ওর ভাই ও পোলারা। স্যারেরা আইয়া মিমাংসা কোইরা দিয়া গ্যাছে কিন্তু এহনো আমাগো জমি ছারেনাই। মুই ঔষধ কিনমু কি দিয়া, আর খামু কি আর এইভাবে বাচমু ক্যামনে। 
অভিযুক্ত কুদ্দুস হাওলাদার বলেন, এসিল্যান্ড স্যার পরিদর্শনে এসে আমাদের বলেছেন শহিদুলকে চলতে ফেরতে জায়গা দিয়েন। জমি ছেড়ে দিতে বলেনি, আমরা আদালতের রায় পর্যন্ত জমি দখলে রেখে খাবো।  তবে নিজের নামে রেকর্ড না থাকলে জমি দখলে নিয়ে রাখতে পারবেন কিনা এই প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। 
 
জিয়ানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো: ওয়ালিউর রহমান রুবেল বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত হয়ে ডিসি স্যারের নির্দেশে সরেজমিনে তদন্তে যাই এবং দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিরোধপূর্ণ জমির তদন্ত করি। এছাড়া তাদের কাগজপত্র দেখে আমাদের যা মনে হয়েছে, সর্বশেষ যে বিএস রেকর্ড এবং তার পূর্বে যে এসএ রেকর্ড এই দুইটাতেই ওই প্রতিবন্ধী শহিদুল ইসলাম তার ওয়ারিশ যারা আছে তাদের নামে। কিন্তু সিএস রেকর্ড হয়েছে যারা বাদী মোস্তফা হাওলাদার, কুদ্দুস হাওলাদার তাদের নামে তবে তার মায়ের দাদী যেতন বিবি, সে আবার একটি মুক্তিনামা দলিল দিয়েছে যে সিএস রেকর্ড টা ভুলে হয়েছে। 
 
তিনি আরও বলেন, এই জমি নিয়ে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান ১৭৫/২০১১ এ কারণে আমরা যতটুকু বুঝতে পেরেছি যেহেতু ওই দেওয়ানি মামলার এখনো রায় হয়নি সুতারং জমির মালিক কে সেটা এখনো বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে এই টুকু আমরা বলতে পারি যে রিপোর্ট টা যার নামে আছে সেই এই জমি ভোগ করবে, রেকর্ড যেহেতু শহিদুল ইসলামের নামে আছে সেই ভোগ দখলে থাকার কথা। এখন এ অবস্থায় ওখান থেকে তাকে যদি কেউ উচ্ছেদ করতে চায় বা তার জমি যদি কেউ জোরপূর্বক দখলে নিতে চায়, সে ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে তিনি ১৪৫ ধরায় মামলা করতে পারেন। 
তাছাড়া যেহেতু কুদ্দুস হাওলাদার ও তাদের কারো নামে রেকর্ড নেই সেজন্য তাদেরকে ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে এবং রিপোর্ট শহিদুলের নামে আছে সেই এটার ভোগদখলে থাকবে। 
কুদ্দুস হাওলাদারকে বলা হয়েছে, আদালতের রায় যদি আপনার নামে আসে, তখন আপনারা ওই জমিতে যেতে পারবেন। 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ কোথায় কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ এম


আজ কোথায় কী?

দেশে প্রতিদিন নানা কর্মসূচি পালন করে সরকারের বিভিন্ন দফতর, সংস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অনেকগুলো সংগঠন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে কী কী রয়েছে, সেটি দিনের শুরুতেই আপনারা জেনে নিতে পারেন।

সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’ শুরু হবে। এই দৌড়টি বুড়িগঙ্গা মঞ্চে (সোয়ারীঘাট) গিয়ে শেষ হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

সকাল সাড়ে ৯টায় মিরপুর-২ এলাকায় একটি বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচি মিরপুর শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সংস্কৃতি চর্চাকে লালন ও পরিচর্যা করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ এম


অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সংস্কৃতি চর্চাকে লালন ও পরিচর্যা করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সংস্কৃতি চর্চাকে লালন ও পরিচর্যা করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ‘কাওয়ালী সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ ধরনের বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনোদনমূলক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরাট প্রভাব রয়েছে। আবার এটি প্রমাণিত হয় যে, ধর্ম নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখে, কাওয়ালীর মতো সুফি ধারার সংস্কৃতি চর্চা তাদের মানসিকতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।’

উপমহাদেশে ইসলামের মতো শান্তির ধর্ম প্রচারে কাওয়ালী ও সুফি সংস্কৃতি একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে, এই মন্তব্যও করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘সর্বশক্তিমান স্রষ্টা কেবল কঠোর বিচারক নন, তিনি তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন—এই কাওয়ালীর মূল সুরের ভেতরে সেই পরম সত্যই লুকিয়ে থাকে।’

শিল্পকলার এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ শিগগিরই বাউল সংগীত সন্ধ্যারও আয়োজন করতে যাচ্ছে। কাওয়ালী ও বাউল সংগীতের সম্মিলনের মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান নেতৃত্ব আমাদের দেশের আসল জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সংস্কৃতি চর্চাকে লালন ও পরিচর্যা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রেস ক্লাবের সাথে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যতদিন আছি, প্রেস ক্লাবের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে আমরা এক হয়ে কাজ করে যাব।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো. শাহ আলম, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমসহ অনেকে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাঁকা মেসে ডেকে প্রেমিককে হত্যা, মরদেহ ৯ টুকরা করে দুই জেলায় ফেলেন দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১১ এম


ফাঁকা মেসে ডেকে প্রেমিককে হত্যা, মরদেহ ৯ টুকরা করে দুই জেলায় ফেলেন দম্পতি

ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে সুমাইয়া তৃষ্ণার (২৬) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন সাজ্জাদ হোসেন (২৪)। তাদের মধ্যে একাডেমিক ও সামাজিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। ধীরে ধীরে তারা পরস্পরের ছবি আদান-প্রদান শুরু করেন। এক সময় এই সম্পর্ক বিষয়টি তৃষ্ণার স্বামী রোকনুজ্জামান পলাশ (২৬) জানতে পারেন। যা পরিস্থিতিকে অসমাপ্ত ও জটিল করে তুলে। শেষ পর্যন্ত তারা মিলিত হয়ে পরিকল্পনা করেন, স্বামী-স্ত্রী মিলিত হয়ে প্রেমিক সাজ্জাদকে হত্যা করবেন। উপযুক্ত পরিকল্পনার আওতায় রাজধানীর বছিলার একটি ফাঁকা মেসে ডেকে সাজ্জাদকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহকে ৯ টুকরো করে দুই জেলা ফেলে দেওয়ার করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার এক যুবকের হত্যার তদন্তের সময় এসব তথ্য প্রকাশ করে। গত বছরের ৩ এপ্রিল নির্মমভাবে খুন হওয়া যুবকের নাম সাজ্জাদ হোসেন, যিনি মা-বাবার একমাত্র সন্তান হিসেবে পরিচিত। তিনি সাভারের হেমায়েতপুরে মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন। স্থানীয় কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেছিলেন। প্রায় এক বছর আগে রাজধানীর বনানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন এবং সেখানে যাওয়ার জন্য নিয়মিত বাসা থেকে আসা-যাওয়া করতেন। এই সময়েই সুমাইয়া তৃষ্ণার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুমাইয়া মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা এবং ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। তার স্বামী রোকনুজ্জামান পলাশও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বর্ষের ছাত্র ছিলেন। সাজ্জাদকে হত্যা করার জন্য তাকে মেসে ডেকে নিয়ে যায় সুমাইয়া। বর্তমানে দুজনেই কারাগারে বন্দী রয়েছে এবং সাজাদের হত্যার মামলার বিচার চলছে। পিবিআইয়ের আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে সুমাইয়ার সঙ্গে সাজ্জাদের প্রেম ও তার পরবর্তী সময় সুমাইয়া ও তার স্বামীর সাজ্জাদ হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দীন। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগপত্রে ৪০ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৩১ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, সাজ্জাদের সঙ্গে সুমাইয়ার পরিচয় একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়েছিল। হত্যার দুই মাস আগে থেকে তাদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়, যা পরে শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় প্রবাহিত হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর রোকনুজ্জামান এবং সুমাইয়া ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে রোকনুজ্জামানের বাড়ি। জীবননগর সীমান্ত হয়ে তারা ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস আগে থেকে তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ ছবি আদান-প্রদান সংঘটিত হতে থাকে। ২০২৫ সালের ১ মার্চ সুমাইয়া বলেছিল, তার স্বামী রোকনুজ্জামান ব্যক্তিগত ছবি চান। সুমাইয়া ছবি দিতে গিয়ে ‘সুপ্ত’ নামের একটি আইডিতে ছবি পাঠিয়ে দেয়, যা সাজ্জাদের অধিকারী ছিল। এই থেকেই সুমাইয়া এবং সাজ্জাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়, এবং সাজ্জাদ সুমাইয়াকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।

তবে সুমাইয়া ও সাজ্জাদের মধ্যে সম্পর্কটি মাত্র দুই মাসের বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় তারা একাধিকবার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক করে। যেহেতু রোকনুজ্জামান সব জানেন, তাই তাদের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে সত্য লুকাতে সুমাইয়া মিথ্যা বলেন। স্বামীর কথায় রাজি হয়ে হত্যার পরিকল্পনায় অংশ নেন তাঁরা।

পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়ার পরিচয় উচ্চমাধ্যমিকে লেখাপড়ার সময় থেকে। তারা ২০২৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, কিন্তু তাদের বিয়ের কথা দুই পরিবারের কারও কাছেও ছিল না। তারা আলাদাভাবে বসবাস করতেন। সুমাইয়া পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরে এবং রোকনুজ্জামান বছিলার মেসে অবস্থান করতেন।

তদন্তে দেখা গেছে, ঈদের ছুটিতে কেউ মেসে নেই বলে সাজ্জাদকে ফোন করে ডেকে নেয় সুমাইয়া এবং পরিকল্পনা অনুসারে সুমাইয়া সেই মেসের গোসলখানায় লুকিয়ে থাকেন রোকনুজ্জামান। সাজ্জাদ কক্ষে প্রবেশ করলে পেছন থেকে এসে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে রোকনুজ্জামান। বিবেকবর্জিত, অনিবার্য মদনির্ব্বিত পেঁছেজাতির চূড়ান্ত আঘাতের বাসনায় ছুরি দিয়ে সাজ্জাদকে আক্রমণ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় রোকনুজ্জামান সুমাইয়াকে মুখ ঢেকে নগ্ন ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন। সেই কারণেও তাদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল। অন্যদিকে সাজ্জাদের সঙ্গে সুমাইয়ার সম্পর্ক এবং তাদের ব্যক্তিগত ছবি আদান-প্রদানের বিষয়টি জানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

২০২৫ সালের ২ এপ্রিল রাতে রোকনুজ্জামান একজন রিকশাচালককে ৫০০ টাকা দিয়ে মোবাইলের একটি সিম কিনতে বলেন। সেই সিমটি ওই রিকশাচালকের নামে নিবন্ধিত ছিল। এই নম্বর থেকে সাজ্জাদকে ফোন করে পরদিন সকালে যাবার জন্য আহ্বান জানায় সুমাইয়া। সুমাইয়া ওই মেসে থাকতেন, যেখানে সাজ্জাদ পরদিন সকালে গেলে ঘটে পুরো হত্যাকাণ্ড।

আদালতে রোকনুজ্জামান জবানবন্দিতে বলেন, সাজ্জাদের মৃত্যুর পর মেঝেটা রক্তে ভেসে যায়। তারা প্রথমে মরদেহ সরানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তা সম্ভব না হলে মরদেহ টুকরো করার সিদ্ধান্ত নেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, মরদেহের খণ্ডগুলো সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী কেনা হয় যেমন চালের বস্তা, চটের ব্যাগ, বড় কার্টন এবং স্কচটেপ। পরে খণ্ডিত মরদেহ তিনটি কার্টনে ভরা হয় এবং স্কচটেপ দিয়ে সেগুলো ভালোভাবে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি এভাবে করা হয়েছিল যাতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না থাকে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হত্যার পর লাশ গুম করতে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করেন তারা। তিনটি কার্টনে মরদেহের খণ্ডিত অংশ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার দিকে রওনা দেন তারা। সেখানকার রাতে খাওয়া শেষে ফেরার পথে তারা কার্টনগুলো নির্জন স্থানে ফেলে দেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একটি কার্টন মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতুর (উত্তর) থানার মেদিনীমণ্ডল এলাকায় ফেলা হয় এবং অন্য দুটি কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পাওয়ার হাউস থেকে মালঞ্চ হাসপাতাল সড়কের পাশে একটি নিচু জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।

পরদিন, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে পাওয়া একটি কার্টন থেকে কুকুর একটি পোঁটলা টেনে বের করে ছিঁড়ে ফেলে এবং তখন সাজ্জাদের খণ্ডিত মরদেহের অংশ বেরিয়ে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। প্রায় একই সময় মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন এলাকা থেকে অন্য একটি কার্টনও উদ্ধার করা হয়।

মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও হাড়, দাঁত ও নখের নমুনা সংগ্রহ করে এবং পরে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো সাজ্জাদের।

এদিকে সাজ্জাদের নিখোঁজের খবর পেয়ে ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল রাতেই তার বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সাভার মডেল থানায় একটি জিডি করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

সাজ্জাদের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে পিবিআই। মুঠোফোনের কলের তথ্য, অবস্থান এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সম্পূর্ণভাবে ‘ক্লুলেস’ ছিল। শুরুতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইলে কথা বলার সূত্র যাচাই করা হয়। এর মাধ্যমে রিকশাচালককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আশ্বস্ত হন যে, অন্য একজন তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে সিম কিনেছেন। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রোকনুজ্জামানের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সেটির সূত্র ধরে আসামি সুমাইয়াকেও শনাক্ত করা হয়।

নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে সুমাইয়া তার ব্যবহৃত সিম ফেনীতে গ্রামের বাড়িতে রেখে দেন এবং তারপর গাবতলী হয়ে জীবননগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ এবং ওই বাসে সুমাইয়া যাচ্ছিলেন এমন একজন পুলিশ সদস্যও যাত্রী হিসেবে সদস্য ইয়ারের ৮ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে সুমাইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে রোকনুজ্জামানকেও গ্রেফতার করা হয়।

সুমাইয়ার আইনজীবী মোজ্জাম্মেল হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে বিশেষ কিছু বলার নেই। মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচারক কার্যক্রম শুরু হলে বোঝা যাবে। তার দাবি, অভিযোগপত্রের সঙ্গে আসামির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দির অমিল রয়েছে।

ছেলের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, সাজ্জাদ তার একমাত্র সন্তান ছিল। ঘটনার দিন সকালে আটটার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, ছেলে বাসাতে নেই। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটিও বন্ধ পান। পরে বাসার ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পারেন, সকাল পৌনে ছয়টায় সাজ্জাদ বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন।

সারা দিন ছেলের কোনো খবর না পেয়ে সন্ধ্যা সাতটায় থানায় জিডি করেন ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, 'আমার ছেলে খুব ভালো ছিল। ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজকে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ এম


হরমুজকে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, শিগগিরই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে নতুন নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে দেয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করব।’

এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে এবং বলেন, ‘আমরা না চাইলে কোনো জাহাজই সেখান দিয়ে যেতে পারে না।’

তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। বৃহস্পতিবার, দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড মার্কিন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে অভিহিত করে।

পণ্য ও জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ১৬৬ দিনে, ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৭১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এটি প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

এদিকে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। পরে ১৭ জুন দুই দেশ একটি চুক্তিতে সই করে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা শুরু করে। তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা পরবর্তী সময়ে স্থবির হয়ে পড়ে।

আপেক্ষিকভাবে, ৮ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের সামরিক হামলা-পাল্টা হামলা ঘটে। ওয়াশিংটন ইরানের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। জবাবে, তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশের মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%