০৪:০৯ পি.এম
শনিবার তাইপের একটি গে বারে পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে রবিবার প্রায় ১০০ জন এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের সদস্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। অভিযানের ফলে বারের গ্রাহকদের আটক করা হয়। তাইওয়ান সাধারণত উদারপন্থী এবং যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে পরিচিত, তাই এ ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে তাইওয়ানে সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়। এটি এশিয়ায় প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। যেখানে সমকামী অধিকার প্রায়শই দমন করা হয়, সেখানে তাইওয়ানকে সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
এই মাসের শেষের দিকে তাইপেইতে বার্ষিক প্রাইড র্যালি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রাইড অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন: মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, জানাল হোয়াইট হাউস
শনিবার দুপুরে তাইপেইয়ের ওয়ানহুয়া এলাকার 'কমান্ডার ডি' নামের গে বারে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ৫১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে বারের মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ওই মালিকের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স।
পুলিশের মুখপাত্র চেন ইউ-চেন রয়টার্সকে জানান, ‘জনসমক্ষে নৈতিকতা ভঙ্গের’ সন্দেহে আদালতের তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি জানান, আটক ৫১ জনের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রকাশ্যে বা সবার প্রবেশের সুযোগ আছে এমন জায়গায় নগ্ন শরীর প্রদর্শন করছিলেন।
রবিবার দুপুরে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনের দিকে যান। সেখানে তারা স্লোগান দেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে 'ওয়েন' নামের একজন রয়টার্সকে বলেন, ‘পুলিশ খুব হিংস্রভাবে বারে অভিযান চালায়। বিষয়টি খুবই ভীতিকর ছিল।’
তাইপেই নগর কর্তৃপক্ষ রয়টার্সকে পুলিশের একটি আলাদা বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই বারে অশালীন কাজ হচ্ছে বলে একটি অভিযোগ পেয়েছিল পুলিশ। তাইপেইয়ের মেয়র চিয়াং ওয়ান-আন বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের নেতা, যিনি আগামী মাসে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি এর আগে তাইপেই প্রাইড অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এবং এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: গ্রিস ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এবার সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করছে
পুলিশ ফাঁড়ির প্রধান সংক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলেন। তিনি নিজের নাম প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি বহুমাত্রিক সমাজের সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করি। আমরা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করব।’ তবে তার কথা শুনে বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে চিৎকার করেন।
কাং ইয়াং নামের এক বিক্ষোভকারী অভিযানের ঘটনায় রাগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রাইড মাস চলাকালীন এই ঘটনায় তিনি বেশি ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘আমি এটি মেনে নিতে পারছি না। এই শহরটি এতদিন নিজেদের সমকামীবান্ধব বলে দাবি করে আসছিল।’
১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তাইওয়ানে সামরিক শাসন জারি ছিল। সে সময় সমকামী সম্পর্ককে সামাজিকভাবে একটি নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবে দেখা হতো।
আরও পড়ুন: জর্ডানের গির্জায় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৭, আহত ১০
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন