০৪:১৭ পি.এম
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের সড়াবাড়িয়া আড়তে প্রতিদিন শিমের বেচাকেনা জমে উঠছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে আড়তে শিম কেনাবেচায় কৃষক ও আড়তদাররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত শিম নিয়ে আসেন এ আড়তে।
আড়তদারদের মাধ্যমে এসব শিম বস্তাবন্দী করে প্রতিদিন ট্রাকযোগে পাঠানো হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে আড়তদাররা লাভের মুখ দেখছেন না। অন্যদিকে, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় কৃষকরাও লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।
সড়াবাড়িয়া আড়তের আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিমের কেনাবেচা চলে। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা তাঁদের জমি থেকে সংগ্রহ করা শিম নিয়ে আসেন এ আড়তে। পরে দরদাম করে কৃষকদের কাছ থেকে শিম কিনে বস্তাবন্দী করা হয়। প্রতিদিন এক ট্রাক শিম ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
এক আড়তদার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে শিমের ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি শিম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত করে ঢাকার বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
প্রতি কেজি শিম ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করেও খরচ বাদে কোনো লাভ থাকছে না। এসব শিম ঢাকার যাত্রাবাড়ী, চৌরাস্তা ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়।
অন্যদিকে, উৎপাদিত শিমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরাও। তাঁদের অভিযোগ, সারসহ কৃষি উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় শিম উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। অথচ বাজারে সেই অনুপাতে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মোতামাইন্না বলেন, উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। শিম উৎপাদনকারী কৃষকেরা মাজপাড়া, চাঁদভা ও পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট থেকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার কিনতে পারছেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী
ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরাসরি বাজার তদারকির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছেন।
স্থানীয় কৃষক ও আড়তদারদের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁদের লোকসানের চাপ কমবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন