সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৯ পি.এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন যে, রোগ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে রোগ প্রতিরোধই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আগেভাগে সচেতনতা তৈরি করা যায় এবং যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাহলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Stronger Together: একসাথে, আরও শক্তিশালী জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি’।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধের জন্য টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ হওয়ার পর দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা কম।
ফলস্বরূপ, সেখানে জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা বেশি দেখা যায়। এজন্য শহরের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়েও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
এ লক্ষ্যে আগের মতো সারা দেশে কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ ও জনস্বার্থে সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা প্রাণীটি রোগমুক্ত ও নিরাপদ কিনা, সে বিষয়েও সচেতন হচ্ছে। প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি সেমিনার, প্রচার-প্রচারণা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। বক্তব্য দেন পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. আ. মান্নান মিয়া এবং পথ কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ বিস্তার রোধ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মেহেদি হাসান ভূঁইয়া।
মূল প্রবন্ধে দেশে জলাতঙ্কের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রতিরোধ কার্যক্রম, কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
এর আগে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, ভেটেরিনারিয়ান, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হলিউড অভিনেত্রী ডাকোটা জনসন প্রেমের গুঞ্জন ও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন খবরের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যখনই তার সঙ্গে কারো ছবি প্রকাশ্যে আসে কিংবা একসঙ্গে কোথাও দেখা যায়, তখনই প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে, এসব গুঞ্জনের প্রতিটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না।
সম্প্রতি ‘ভোগ’-এর ‘দ্য রান থ্রু’ পডকাস্টে ডাকোটা তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমনকি যদি তিনি নিজের ম্যানেজার বা আইনজীবীর সঙ্গে রাতের খাবারে যান, তাও অনেক সময় ‘রহস্যময় পুরুষের সঙ্গে দেখা গেছে’ ধরনের খবর তৈরি হয়ে যায়।
ডাকোটা জানান, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া প্রতিটি গুঞ্জনকে সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করলে বিষয়টি আরো জটিল হয়ে যায়। তাই তিনি চান মানুষ যা বিশ্বাস করতে চায়, তা-ই বিশ্বাস করুক।
অভিনেত্রীর মতে, ইন্টারনেটে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের খবর ছড়ায়। কিছু খবর সত্য, আবার কিছু মিথ্যা। তিনি প্রতিটি খবর নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য সময় বা আগ্রহ খুঁজে পান না। বরং তিনি নিজের জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিতে চান।
এ সময় ডাকোটা অনলাইনে তার সম্পর্কে গুঞ্জন ছড়ানো ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিজের জীবন নিয়ে ভাবুন।’ তিনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহকে এভাবে এড়িয়ে যেতে চান।
সম্প্রতি ডাকোটা জনসন এবং র্যাপার মেশিন গান কেলি (এমজিকে) নিয়ে নতুন করে প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলির বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর এই আলোচনা শুরু হয়।
এরপর ‘পিপল’-এর এক প্রতিবেদনে এক সূত্রের বরাতে বলা হয়, ডাকোটা ও এমজিকে কয়েক মাস ধরে গোপনে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের পূর্বে পরিচয় ছিল এবং ওই অনুষ্ঠানের সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা আরো বেড়ে যায় বলেও দাবি করা হয়েছে।
ওই সূত্রের আরও দাবি, ডাকোটা ও এমজিকে প্রথমে বন্ধু হিসেবে যোগাযোগ রাখতেন এবং পরে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ বজায় থাকে। সম্প্রতি তারা একসঙ্গে আরো বেশি সময় কাটাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে ডাকোটা জনসন নিজে এমজেকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। বরং তিনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যেকোনো ধরনের গুঞ্জনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার অবস্থানই জানিয়েছেন।
এর আগে ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’খ্যাত এই অভিনেত্রীর সঙ্গে কোল্ডপ্লে তারকা ক্রিস মার্টিনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তাদের সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ডাকোটা তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলতে চান না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে সাসটেইনেবিলিটি বা টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনন্ত আম্বানির বিশাল সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৬৪০ কোটি রুপি মূল্যের সমুদ্রতীরবর্তী ভিলা, হাজার কোটি রুপি মূল্যের ব্যক্তিগত জেট, কোটি কোটি রুপি দামের দুর্লভ ঘড়ি এবং বিলাসবহুল সাঁজোয়া গাড়ি—তার সংগ্রহে রয়েছে চোখধাঁধানো সব সম্পদ। আজকের এই ফিচারে তার বিলাসী সম্পদের তালিকা তুলে ধরা হচ্ছে।
৬৪০ কোটি রুপির পাম জুমেইরাহর ভিলা
২০২২ সালে জন্মদিনের উপহার হিসেবে অনন্ত আম্বানিকে তার বাবা মুকেশ আম্বানি এই বিলাসবহুল বাড়িটি উপহার দেন। দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহতে অবস্থিত এই বাড়িটি একটি ১০ শয়নকক্ষের সমুদ্রতীরবর্তী প্রাসাদ। বাড়িটির সঙ্গে প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ ব্যক্তিগত সৈকত রয়েছে।
ইতালিয়ান মার্বেলের নকশায় সাজানো এই ভিলায় রয়েছে দামী শিল্পকর্মের সংগ্রহ, ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, স্পা এবং নান্দনিকভাবে সাজানো বাগান।
বাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৬৪০ কোটি রুপি বা ৮ কোটি মার্কিন ডলার। দুবাইয়ের অভিজাত এলাকায় অনন্ত ও তার স্ত্রী রাধিকা মার্চেন্ট এমন প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাস করেন, যাদের মধ্যে সাবেক ইংলিশ ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যামের মতো তারকাও রয়েছেন।
১ হাজার কোটি রুপির ব্যক্তিগত জেট
আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য অনন্ত আম্বানি ও তার স্ত্রী রাধিকা বিশেষভাবে সাজানো বোয়িং বিজনেস জেট ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ ব্যবহার করেন।
এই উড়োজাহাজটির মূল দাম প্রায় ১১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৮৯ কোটি রুপি। তবে সুইজারল্যান্ডে তৈরি বিশেষ বিলাসবহুল অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কারণে জেটটির মোট মূল্য ১ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বের অতি ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে এমন বিলাসবহুল ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের নজির রয়েছে, যার মধ্যে ইলন মাস্কও রয়েছেন।
অনন্তের ঘড়ির সংগ্রহে সবচেয়ে নজরকাড়া ঘড়িগুলোর একটি পাটেক ফিলিপ গ্র্যান্ডমাস্টার চাইম ৬৩০০জি-০১০।
ঘড়িটিতে ২০টি জটিল ফাংশন বা কমপ্লিকেশন রয়েছে এবং এটি উলটে ব্যবহার করা যায় এমন বিশেষ কেসে সংরক্ষিত। বিশ্বের সবচেয়ে জটিলভাবে তৈরি বিলাসবহুল ঘড়িগুলোর মধ্যে এটিকে ধরা হয়।
এর আনুমানিক মূল্য ৭৫ কোটি রুপি। ঘড়িটির বিভিন্ন সংস্করণ বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। মার্কিন র্যাপার ও ব্যবসায়ী জে-জেডের মতো তারকার কাছেও পাটেক ফিলিপের দুর্লভ ঘড়ি রয়েছে।
অনন্ত আম্বানির ঘড়ির সংগ্রহে আরেকটি ব্যতিক্রমী নাম রিচার্ড মিল আরএম ৫২-০৪ স্কাল ব্লু স্যাফায়ার।
এই বিশেষ ঘড়িটির বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি ঘড়ি সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত দুর্লভ।
নীল স্যাফায়ার দিয়ে তৈরি কেসের ভেতরে রয়েছে আকর্ষণীয় খুলি বা ‘স্কাল’ নকশা। ঘড়িটির আনুমানিক মূল্য ২২ কোটি রুপি। মার্কিন গায়ক ও র্যাপার পোস্ট ম্যালোনের সংগ্রহেও রিচার্ড মিলের দুর্লভ ঘড়ি রয়েছে।
২০২৬ সালে বাজারে আসা জ্যাকব অ্যান্ড কো. অপেরা ভান্তারা কেমো ঘড়িটির নকশার অনুপ্রেরণা এসেছে অনন্তের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগ ভান্তারা থেকে।
প্রায় ১৩.৭ কোটি রুপি দামের এই ঘড়িতে হাতে আঁকা অনন্ত আম্বানির একটি ক্ষুদ্র মূর্তিও রয়েছে। ঘড়িটি একেবারেই বিশেষভাবে তৈরি—অর্থাৎ এর মাত্র একটি কপি রয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অনন্তের ব্যক্তিগত আগ্রহের একটি বড় ক্ষেত্র হওয়ায় এই ঘড়িটি তার কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে।
জ্যাকব অ্যান্ড কো.-এর ‘অপেরা’ সিরিজের ঘড়ি ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছেও জনপ্রিয়।
অনন্ত আম্বানির গাড়ির সংগ্রহে অন্যতম আকর্ষণ রোলস-রয়েস ফ্যান্টম ৮ সিরিজ ২। বিশেষভাবে তৈরি এই বিলাসবহুল সেডান গাড়িটি আরাম, আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
গাড়িটির দাম প্রায় ১০ কোটি রুপি। বিশ্বজুড়ে তারকা ও রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যেও রোলস-রয়েস ফ্যান্টমের জনপ্রিয়তা রয়েছে। বলিউড তারকা শাহরুখ খানও এই মডেলের গাড়ির মালিকদের একজন।
নিরাপত্তার দিক থেকেও অনন্তের গাড়ির সংগ্রহ বেশ ব্যতিক্রমী। তার মালিকানায় রয়েছে ডার্টজের অত্যন্ত সুরক্ষিত সাঁজোয়া এসইউভি।
গাড়িটি সামরিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে এতে রয়েছে বিলাসবহুল নানা সুবিধা। অনেকটা ‘চাকার ওপর ট্যাংক’-এর মতো দেখতে এই গাড়ির দাম আনুমানিক ১৩ কোটি রুপি বা ১৬ লাখ মার্কিন ডলার।
বিলাসিতা ও নিরাপত্তার এই সমন্বয় বিশ্বের ধনকুবের এবং উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের কাছে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে যাদের চলাচলের সময় বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন, তাদের মধ্যে এ ধরনের গাড়ির চাহিদা রয়েছে।
অনন্ত আম্বানির এসব সম্পদ শুধু দামের দিক থেকেই আলোচিত নয়; অনেকগুলোর নকশা, সীমিত উৎপাদন এবং ব্যক্তিগতভাবে কাস্টমাইজ করা বৈশিষ্ট্যও এগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ বিলাসপণ্যের তালিকায় জায়গা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আউটলুক , ইন্ডিয়া ডটকম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিছিল ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় সোহেলী তামান্না নামের এক ব্যক্তির হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলার আসামি, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন (৫৫) আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. আমিনুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।
এদিন ছানোয়ারকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন, যা শুনানি হয়। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে ভাটারা থানার ১-৮ নম্বর আসামিদের নেতৃত্বে ২০০ থেকে ৩০০ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। সেই সময় গুলিবর্ষণ ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সোহেলী তামান্না বাঁ হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাত পান এবং পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর সোহেলী তামান্না বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার তদন্তকালে তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যে দেখা যায়, ছানোয়ার হোসেন ঘটনার সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী নেতাকর্মীদের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হামলায় সরাসরি সহযোগিতা করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে রবিবার অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এএফপি সূত্রে জানা যায়, হামলার ফলে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। সেখানে একটি শিশু কেন্দ্রে হামলার ফলে তিনজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন ১৬ বছরের কিশোরী রয়েছে। এছাড়া, জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাতের হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাজধানী কিয়েভে ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি এবং ওদেসা অঞ্চলে ব্যাপক হামলায় আরো একজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকোর দেওয়া তথ্যে জানা যায়, রাজধানীতে এক নারী ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আঞ্চলিক প্রশাসন জানায়, হামলায় ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ১২টি আবাসিক ভবন, একটি গুদাম ও একটি উৎপাদন কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ওদেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপার বলেন, হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবনের পাশাপাশি একটি দোকান, হোটেল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও শস্যগুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত সাত দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়া প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ড্রোন, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ওই সময়ে রাশিয়া ২ হাজার ২০০টির বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি আকাশ বোমা এবং বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
জেলেনস্কির দাবি, এসব হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় দুটি কিন্ডারগার্টেন, দুটি স্কুল, আবাসিক ভবনসহ বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়া যদি সত্যিই যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর উদ্যোগ নিতে চাইত, তাহলে সাম্প্রতিক সময়ে ‘শাহেদ’ ড্রোনের ধারাবাহিক হামলা দেখা যেত না।
তবে মস্কো বরাবরই বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কিয়েভভিত্তিক কিয়েভস্টার ও ওমেগা টেলিকমের দুটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করছিল। এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ড্রোনের ছবিও প্রকাশ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শনিবার দেওয়া বক্তব্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, মস্কো সামরিক অভিযান ‘শেষ পর্যন্ত’ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের সীমান্তবর্তী খ্রিপুনি গ্রাম দখলের দাবিও করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে খারকিভ অঞ্চলকে রাশিয়া নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে না। যুদ্ধের সময় অঞ্চলের কিছু এলাকায় রুশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। একই সঙ্গে পূর্ব ইউক্রেনের বাকি এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যও মস্কো প্রকাশ্যে জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ এখনও বড় কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ