ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাবিতে র‍্যাগিং ও অপরাধে ৯৯ শিক্ষার্থীর শাস্তি, ১৮ জনের ছাত্রত্ব স্থগিত


রাবিতে র‍্যাগিং ও অপরাধে ৯৯ শিক্ষার্থীর শাস্তি, ১৮ জনের ছাত্রত্ব স্থগিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‍্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হামলা এবং সিল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ১৮ জন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক শিক্ষাবর্ষের (দুই সেমিস্টার) জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে এবং ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সিন্ডিকেট সদস্যের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন, সিল জালিয়াতির অভিযোগে তিনজন এবং জুনিয়রের ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগে একজনসহ মোট ১৮ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরোলেও পাবিপ্রবিতে নেই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন

এছাড়া, এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ জনসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় আরও ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে র‍্যাগিংয়ে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬-এ উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শাস্তিপ্রাপ্ত ৯৯ শিক্ষার্থী ১০টি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন: ক্যানসার, দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড: চার মাসে মাভাবিপ্রবিতে ৫ সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীকে হারালো

এর মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগের ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সাতজন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের চারজন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের চারজন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের চারজন, অর্থনীতি বিভাগের দুজন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের একজন রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী র‍্যাগিং, বিভাগে মারামারি এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি সিন্ডিকেটের সদস্য না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ বহাল থাকলে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় কেউ কঠোর শাস্তি, কেউ সতর্কতামূলক শাস্তি এবং কারও হলের আবাসিকতা স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে চিঠি দিয়ে তাদের বিষয়ে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

প্রক্টর আরও বলেন, “শাস্তির উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করা নয়, বরং ভুল থেকে তাদের ফিরিয়ে এনে ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর করার সুযোগ দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত রাখতে চায়।”

আরও পড়ুন: শিক্ষাক্রমে নতুন ৪ বই যুক্ত, বদলাবে শিখনপদ্ধতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় শত শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংসহ বিভিন্ন অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শাস্তির মধ্যে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল ও কঠোর সতর্কতাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা থাকবে—র‍্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করবে না বর্তমান প্রশাসন।”

এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিভাগের অভিযোগ উপকমিটিতে তদন্তাধীন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় সেসব বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আরও পড়ুন: জবি ছাত্রদলের দাবি, সমাবর্তন ফি শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই সুপারপাওয়ার হওয়ার দৌড়: আলুর রাজধানী থেকে চীনের ‘ডিজিটাল সাম্রাজ্য’ তৈরি হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০২ পি.এম


এআই সুপারপাওয়ার হওয়ার দৌড়: আলুর রাজধানী থেকে চীনের ‘ডিজিটাল সাম্রাজ্য’ তৈরি হচ্ছে

চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার উলাঙ্কাব অঞ্চলটি পূর্বে দেশের "আলুর রাজধানী" হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে বিস্তৃত আলু ক্ষেতের পাশেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে বিশালাকার রেক্ট্যাঙ্গুলার ভবনগুলো, যা চীনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিশ্বে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।

উলাঙ্কাবের বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে কর্মচাঞ্চল্যের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। শত শত নির্মাণ শ্রমিক ভারী যন্ত্রপাতি বহন করছেন, আর আকাশে উড়ছে বিশাল সব ক্রেন। কাজের গতি দেখে এক প্রকৌশলী হাসতে হাসতে মন্তব্য করেন, "এটাই চীনের গতি (China Speed)। আমরা তো অবকাঠামো তৈরির পাগল!" চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৯৯ শতাংশ শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে এআই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার যে বিশাল পরিকল্পনা করেছে, এই ডেটা সেন্টারগুলো তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাত ও প্রযুক্তির লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে উলাঙ্কাব, নিংশিয়া, গ্যানসু এবং গুইঝৌ-এর মতো অপেক্ষাকৃত শীতল ও কম জনবহুল অঞ্চলগুলোতে হুয়াওয়ে, বাইটড্যান্স এবং ডিপসিকের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য শত শত ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। এই অবকাঠামোগত বিপ্লব ঘটছে ঠিক তখন, যখন ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এআই নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা নিয়ে বৈঠকে বসছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, চীন যেভাবে এআই ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে, তা তাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের এই আশঙ্কাকে "স্নায়ুযুদ্ধের পুরোনো মানসিকতা" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বেইজিং এখন শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে দৌড়াচ্ছে না, বরং একটি ভিন্ন মডেল দাঁড় করাচ্ছে—ওপেন-সোর্স এআই, যা কম খরচে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে মার্কিন চিপ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন দ্রুত উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে সক্ষম হচ্ছে।

মেধার প্রত্যাবর্তন ও সবুজ শক্তির ব্যবহারও এই প্রক্রিয়ার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অনেক তরুণ চীনা গবেষক ও প্রকৌশলী আমেরিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আসছেন। ইয়েল ও কেমব্রিজে পড়াশোনা করা চীনা গবেষক জ্যাক ঝাং বলেন, "বিদেশে কাজের সম্পদ বা সরকারের সরাসরি সহায়তা পাওয়া কঠিন। চীনে সেই সুযোগ অনেক বেশি।" চীন প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ সায়েন্স ও টেকনোলজি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ।

এছাড়া এসব ডেটা সেন্টারের বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বাতাস ও সৌরশক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এখনও অনেক জায়গায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা রয়েছে এবং পানির সংকট নিয়ে কিছু পরিবেশগত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রযুক্তির এই জোয়ারে যেমন স্বপ্ন আছে, তেমনি রয়েছে একশ্রেণীর মানুষের সংশয়। ডেটা সেন্টারের জন্য অনেককে বসতভিটা ছাড়তে হলেও স্থানীয়রা সরাসরি কোনো সুবিধা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেকের।

আলু ক্ষেতে কর্মরত ঝাং নামের এক প্রবীণ কৃষক গর্ব করে বলেন, "চীন এখন বিশ্বের শীর্ষে। আমার সন্তানরা এখানে কাজ পেয়েছে।" কিন্তু ভেড়া চড়াতে যাওয়া অন্য এক বয়স্ক কৃষক ক্ষোভের সাথে বলেন, "বিগ ডেটা বা এআই—এসব সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসে না। আমার ভাঙা ফোনে ইন্টারনেটের দাম দেওয়া ছাড়া কোনো পরিবর্তন আসেনি।"

সব মিলিয়ে, চীনের অর্থনীতি বর্তমানে কিছুটা ধীরগতির হলেও এবং সাধারণ জনগণের এক অংশের মাঝে হতাশা থাকলেও, শি জিনপিংয়ের বিশ্বজয়ের এই প্রযুক্তি-সংগ্রাম দমানো কঠিন। উলাঙ্কাবের এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোই বলে দিচ্ছে—ভবিষ্যতের এআই দুনিয়ায় চীন তার আধিপত্য ধরে রাখতে পুরোপুরি প্রস্তুত। সূত্র: বিবিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাসিটেট টো আমদানিতে অনিয়ম, ১৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৫ পি.এম


অ্যাসিটেট টো আমদানিতে অনিয়ম, ১৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো অবৈধভাবে আমদানি করে বিক্রি বা হস্তান্তরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সম্ভাবনা উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)।

সিআইসির ঝুঁকিভিত্তিক যাচাই ও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের একটি চালানের খালাস স্থগিত করে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ওই চালানের অ্যাসিটেট টো যদি স্থানীয়ভাবে সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহার করা হতো, তাহলে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

আজ এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিগারেটের ফিল্টার তৈরিতে ব্যবহৃত সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো সম্পূর্ণরূপে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল। সম্প্রতি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মাধ্যমে এ পণ্যের আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রকৃত ব্যবহার, আমদানির পরবর্তী সরবরাহ এবং ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে সিআইসি।

তথ্য বিশ্লেষণে ইউনিক ট্রেডার্স (বিআইএন: ০০৭৫২২৮০১-০২০২) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাসিটেট টো আমদানির বিষয়টি সিআইসির নজরে আসে। প্রতিষ্ঠানটির আমদানিকৃত পণ্য কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিভাগে তথ্য চাওয়া হয়।

ভ্যাট বিভাগ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত ঠিকানায় কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না এবং নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দাখিল করছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে অস্তিত্বহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সিআইসির যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২০৪৭১০, তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৬-এর মাধ্যমে দুই কনটেইনারে মোট ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো আমদানি করেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকার তথ্য পাওয়ার পর সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে চালানটির খালাস স্থগিত করা হয়। পরে চালানটিতে আমদানি পর্যায়ের ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়।

সিআইসি জানায়, আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব ছাড়াও এ পণ্যের স্থানীয় ব্যবহারের সঙ্গে আরও বড় অঙ্কের রাজস্ব সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

সিগারেট উৎপাদনকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মূসক-৪.৩-এ উল্লেখিত উপকরণ-উৎপাদ সহগ বিশ্লেষণ করে সিআইসি দেখতে পায়, প্রতি এক কেজি অ্যাসিটেট টো থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৭ শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। সে হিসাবে ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো দিয়ে প্রায় ৪৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেট হিসেবে এ পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার প্যাকেট সিগারেট উৎপাদন করা যেত।

মাঝারি শ্রেণির সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ৯২ টাকা এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে মূসক ও সম্পূরক শুল্কসহ প্রযোজ্য রাজস্বের হার প্রায় ৮২ শতাংশ বিবেচনায় নিলে এসব সিগারেটের সঙ্গে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া, উচ্চ শ্রেণির সিগারেটের ক্ষেত্রে একই হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য রাজস্ব সংশ্লিষ্টতার পরিমাণ প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সিআইসির তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিক ট্রেডার্স আলোচ্য চালানসহ মোট ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৭ কেজি অ্যাসিটেট টো আমদানি করেছে।

এনবিআর জানায়, অ্যাসিটেট টো আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের নিবন্ধিত ঠিকানায় বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম না থাকার তথ্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিভাগ থেকে পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইসির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান নামমাত্র নিবন্ধন নিয়ে উচ্চ রাজস্ব সংশ্লিষ্ট অ্যাসিটেট টো আমদানি করে পরবর্তীতে তা অবৈধভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর করে থাকতে পারে।

বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত অ্যাসিটেট টোর প্রকৃত ব্যবহারকারী, সরবরাহের গন্তব্য, বিক্রয়, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।

এনবিআর সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটগুলোকে অ্যাসিটেট টোর সরবরাহ চেইন যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

সিআইসির এ উদ্যোগের ফলে একটি চালান থেকে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রায় ৩২৪ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোর সীমান্তে ৩ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৬ পি.এম


যশোর সীমান্তে ৩ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

যশোর সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৫টি শাড়ি, থ্রি-পিস, কম্বল, ফুচকা, জিরা, কিসমিস, চকলেট ও কসমেটিকসসহ প্রায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৩০০ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক করেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) অধীনে বেনাপোল আইসিপির টহলদল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য আটক করে।

বিজিবি জানায়, অভিযানের সময় ৩৫টি শাড়ি, দুটি থ্রি-পিস, দুটি কম্বল, ৯ প্যাকেট ফুচকা, ৫০০ গ্রাম জিরা, ১ দশমিক ৫ কেজি কিসমিস, ২৪০টি চকলেট ও ৭০টি কসমেটিকস সামগ্রী আটক করা হয়েছে। আটককৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৮১ হাজার ৩০০ টাকা।

যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি জানান, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্যসহ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে যুবলীগ ও আ.লীগের তিন নেতা আটক, আদালতে সোপর্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


যশোরে যুবলীগ ও আ.লীগের তিন নেতা আটক, আদালতে সোপর্দ

যশোরে পৃথক অভিযানে পুলিশ যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে আটক করেছে। মঙ্গলবার রাত এবং বুধবার দুপুরে জেলার বিভিন্ন স্থানে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করার পর বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন যশোর সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান, শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার আশিকুজ্জামান এবং চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের গরীবপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ বিশ্বাস (৬০)।

কোতোয়ালি থানার এসআই জিএম ইমরান হোসাইন রাজু জানিয়েছেন, শহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে যুবলীগের বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় শহরের কাঠালতলা এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শহিদুজ্জামান বালিয়া-ভেকুটিয়া গ্রামের মৃত শাহাদত হোসেনের ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে আগে আরও চারটি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে, কোতোয়ালি থানার এসআই রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ষষ্ঠীতলা এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে আশিকুজ্জামান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বুধবার দুপুরে চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের গরীবপুর এলাকা থেকে আব্দুস সামাদ বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ। তিনি গরীবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হালিম বিশ্বাসের ছেলে এবং সিংহঝুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

পুলিশ জানায়, আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দায়ের করা ওই মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর বিভিন্ন ধারায় তাকে আসামি করা হয়েছে। আটকের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%