বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১২ পি.এম
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘিরে ‘নাশকতার’ গোপন তথ্য রয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।ব্রিফিংয়ের সময় মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যখনই প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, অথবা রায় অপেক্ষমাণ আছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এখানে সাব্যোটাজ (নাশকতা) করবার জন্য একটা প্রক্রিয়া থাকতে পারে বলে আমাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের সিকিউরিটি বৃদ্ধি করার জন্য আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যারা কাজ করেন তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’এর আগে গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন একটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে এদিন হাতকড়া, ভেস্ট এবং হেলমেট পরিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। সাক্ষ্যগ্রহণের পর জিয়াউল আহসান এ নিয়ে কিছু বলতে চান।ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিলে তিনি জানান, সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা পান। তিনি উল্লেখ করেন, ইদানীং কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনার সময় তাকে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে ভেস্ট পরানো হচ্ছে। তিনি এই বিষয় থেকে অব্যাহতি চান।ট্রাইব্যুনাল তখন প্রসিকিউশনের মতামত জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মনে হয় নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে এভাবে আনা হচ্ছে।’এ সময় ট্রাইব্যুনাল জিয়াউলকে বলেন, প্রসিকিউশন বলছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার স্বার্থেই এ ব্যবস্থা। জবাবে জিয়াউল বলেন, প্রিজনভ্যান থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানার দূরত্ব মাত্র পাঁচ গজ। এ ছাড়া গাড়ি থেকে নামানোর সময় ২০ জন পুলিশ সদস্য থাকেন।এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, পাঁচ গজ নয়, এক গজ থেকেও কেউ চাইলে স্নাইপারে টার্গেট করতে পারেন। জিয়াউল জবাব দেন, ‘এখানে টার্গেট নেওয়ার কোনো দিক নেই। ট্রাইব্যুনালে অনেক বেশি নিরাপত্তা। চাইলেই কেউ টার্গেট করতে পারবে না। অতএব আমি এ থেকে অব্যাহতি চাই।’
সহকর্মীর গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত পরে হাতকড়া ও ভেস্ট থেকে অব্যাহতির জন্য জিয়াউল আহসানকে একটি আবেদন করার পরামর্শ দেন ট্রাইব্যুনালের এক বিচারক। পরে জিয়াউল আহসানের বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার শিগগিরই আবেদন করা হবে বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একদল চোর নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে জাদুঘরের সুরক্ষিত কাচ ভেঙে মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে কোটি কোটি টাকার সোনার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন চুরি করে পালিয়ে গেছে। তবে তাড়াহুড়ায় চকচকে সোনার লোভে তারা একটি অত্যন্ত মূল্যবান জিনিস ফেলে রেখে গেছে, যা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরো সংগ্রহের মধ্যে সবচেয়ে দামি। সেটি হলো মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পড়া এক খণ্ড উল্কাপিণ্ড দিয়ে তৈরি একটি প্রাচীন ব্রেসলেট।
স্পেনের ভিয়েনা মিউজিয়ামে চাঞ্চল্যকর ও রহস্যময় এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাগৈতিহাসিক সংগ্রহ এবং ৩ হাজার বছরের পুরোনো ‘ট্রেজার অব ভিয়েনা’-র একটি বড় অংশ চুরি করে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রোঞ্জ যুগের অমূল্য সোনার বাটি, বোতল ও ব্রেসলেট, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
চুরির পরিকল্পনাটি ছিল অত্যন্ত পেশাদার। ভোরের দিকে কাছের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে ‘ফলস অ্যালার্ম’ বাজিয়ে পুলিশের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানো হয়। এই সুযোগে মুখোশধারী চোরেরা মিউজিয়ামের পাশের জানালা ও আর্মার্ড শোকেস ভেঙে প্রায় ৬০টি সোনার নিদর্শন লুট করে। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মিউজিয়ামের অ্যালার্ম বাজলেও, মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে তারা কাজ গুছিয়ে চম্পট দেয়।
ভিয়েনার মেয়র ফুলজেন্সিও সেরদান এই ঘটনায় চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি।"
অন্যদিকে, গবেষক ইগনাসিও মন্টেরো জানান, চোরেরা কেবল আর্থিক মূল্যের লোভেই এই কাজ করেছে। তাই সোনাগুলো গলিয়ে ধ্বংস করে ফেলার তীব্র শঙ্কা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "এগুলো চিরতরে হারিয়ে গেলে ভবিষ্যতের গবেষণার পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েল আবারও ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি প্রদান করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, যদি ইরান ইসরায়েলে আক্রমণ করে, তাহলে তাঁর দেশ ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানবে।
বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে যদি কোনো ধরনের উসকানি বা হামলা হয়, তাহলে ইসরায়েলের ওপর থাকা সমস্ত কৌশলগত বিধিনিষেধ উঠে যাবে।
এক বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইসরায়েলে আক্রমণ চালানো হলে আমরা ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে সব এনার্জি ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানব। এর মাধ্যমে ইরানকে সম্পূর্ণ অন্ধকার এবং মধ্যযুগীয় প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানো হবে।’
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার চলমান নতুন সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত থেকে আপাতত নিজেদের কিছুটা দূরে রেখেছিল তেল আবিব। ইসরায়েলের নতুন এই বক্তব্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে অপহরণ ও চাঁদাবাজির একটি মামলায়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. জাহিদ হোসাইনের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ফেনীর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক এসএম আতিক উল্লাহ জানান, অভিযুক্ত জামশেদুর রহমান ফটিকের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। তিনি ওই মামলার একমাত্র আসামি। জামিনের জন্য আদালতে হাজির হয়ে তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, ফটিকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১১টি মামলা চলমান রয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাজী জামশেদুর রহমান ফটিককে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৬০ লাখ আফগান শরণার্থী তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাদের নিজ দেশে ফিরে গেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর তাদের এক্সে প্রকাশিত পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দশকে অভিবাসনের এই উল্টোমুখী পরিবর্তন একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বিপুল সংখ্যক মানুষের ফিরে আসা বর্তমান ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। তারা জোর দিয়ে বলেছে, প্রত্যাবর্তন যেখানেই ঘটুক না কেন, তা অবশ্যই স্বেচ্ছায়, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশ ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, খাদ্য বহির্ভূত ত্রাণ সহায়তা প্রদান এবং পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে ৭০ হাজারেরও বেশি জমির প্লট বরাদ্দ করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তবে, রেকর্ড সংখ্যক চাহিদার তুলনায় এই সহায়তা যথেষ্ট নয়। অনেক প্রত্যাবর্তনকারী কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং প্রতিদিনের অর্থনৈতিক কষ্টের কথা জানিয়েছেন। তারা সমাজে পুনরায় খাপ খাইয়ে নেওয়া সহজ করার জন্য এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আরও ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত জুন মাসে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদ ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করার পর থেকে ২৪ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইরান থেকে প্রায় ২১ লাখ আফগান দেশে ফিরেছেন। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন এবং পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে লাখ লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিল।
জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানে এখনও নিবন্ধিত বা নথিবদ্ধ ৭ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি আফগান শরণার্থী বসবাস করছেন। অন্যদিকে, সেখানে অনিবন্ধিত বা অবৈধ শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ