ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

স্বর্ণে মোড়ানো ১২৬ কক্ষের রাজপ্রাসাদ, প্রবেশমূল্য লাখ ডলার—ট্রাম্পের বিলাসী অন্দরমহল


স্বর্ণে মোড়ানো ১২৬ কক্ষের রাজপ্রাসাদ, প্রবেশমূল্য লাখ ডলার—ট্রাম্পের বিলাসী অন্দরমহল

ফ্লোরিডার অভিজাত অঞ্চলে সমুদ্রের তীরে একটি বিশাল প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে। সোনায় মোড়ানো দেয়াল, শতাব্দীপ্রাচীন টাইলস, নান্দনিক কারুকাজ এবং বিলাসবহুল আয়োজন—সব মিলিয়ে এটি যেন একটি রূপকথার রাজপ্রাসাদ। ধনকুবের ও অভিজাতদের অবকাশযাপনের জন্য পরিচিত এই স্থানটির নাম মার-আ-লাগো। এটি কেবল বিলাসিতার কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘকালীন আবাসস্থলও। প্রাসাদটির চারপাশে রয়েছে শত বছরের ইতিহাস, বিপুল অর্থের লেনদেন এবং এক বিশেষ অভিজাত জীবনযাত্রার গল্প।

রাজকীয় প্রাসাদের পেছনের ইতিহাস

ফ্লোরিডার অন্যতম ধনী এলাকা সমুদ্রসৈকতের পাশে অবস্থিত মার-আ-লাগো। ধনীদের অবকাশযাপনের জন্য পরিচিত এই স্থানটি একসময় বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ধনকুবের মার্জরি মেরিওয়েদার পোস্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল। তিনি খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সি ডব্লিউ পোস্টের প্রতিষ্ঠাতা সি ডব্লিউ পোস্টের কন্যা ছিলেন।

আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, এগিয়ে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সংবাদ সম্মেলন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার বহু আগে এই প্রাসাদের মালিক ছিলেন পোস্ট। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে মার-আ-লাগোকে নিজের সম্পদ ও অর্জনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি প্রাসাদটিকে তার 'সমতার প্রতি অঙ্গীকারের' উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন।

জলাভূমি থেকে বিলাসবহুল প্রাসাদ

১৯২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে মার্জরি মেরিওয়েদার পোস্ট একটি উপযুক্ত বাড়ির সন্ধানে নামেন। মার-আ-লাগো ক্লাবের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, পাম বিচে নিজের জন্য আদর্শ একটি সম্পত্তি খুঁজে পেতে তাকে বেশ কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পাম বিচের সমাজজীবনে তিনি যখন অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠছিলেন, তখনই নতুন একটি বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন। সে সময় এলাকাটির বড় অংশজুড়ে ছিল ঝোপঝাড়, জলাভূমি ও জঙ্গলসদৃশ পরিবেশ। বাড়ি তৈরির উপযোগী জমি খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না।

আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখলেই বেতন, অদ্ভুত চাকরির বিজ্ঞাপনে নেটদুনিয়ায় ঝড়

নিজের রিয়েল এস্টেট এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে পোস্ট নিজেই ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে হেঁটে উপযুক্ত জমির সন্ধান করতেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর যে জায়গাটি তার পছন্দ হয়, সেখানেই গড়ে ওঠে আজকের বিখ্যাত মার-আ-লাগো প্রাসাদ।

স্প্যানিশ ভাষায় 'মার-আ-লাগো' শব্দের অর্থ 'সমুদ্র থেকে হ্রদ'। নামের সঙ্গে মিল রেখেই সমুদ্র ও হ্রদের মাঝামাঝি অবস্থানে তৈরি করা হয় এই ঐতিহাসিক স্থাপনা।

১৯২৭ সালে প্রায় ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে নিজের পছন্দমতো প্রাসাদটি নির্মাণ করেন পোস্ট। সে সময়ের হিসাবে এটি ছিল বিপুল অর্থের বিনিয়োগ। টাইম সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রায় ১৭ একর জমির ওপর নির্মিত প্রাসাদটিতে ছিল ১১৫টি কক্ষ।

ঐতিহাসিক স্থাপনার মর্যাদা

আরও পড়ুন: গাজায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে শত শত তাঁবু প্লাবিত, দুর্ভোগ চরমে

মার-আ-লাগোর গুরুত্ব কেবল এর আকার কিংবা বিলাসিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসেও রয়েছে এর বিশেষ স্থান।

১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাসাদটিকে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরে ১৯৭৩ সালে মার্কিন কংগ্রেস এটিকে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব হিস্টোরিক প্লেসেসে অন্তর্ভুক্ত করে।

একই বছর ৮৬ বছর বয়সে মারা যান মার্জরি মেরিওয়েদার পোস্ট। মৃত্যুর আগে তিনি প্রাসাদটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নামে উইল করে যান। তার ইচ্ছা ছিল, এটি যেন শীতকালীন হোয়াইট হাউস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও বিদেশি অতিথিদের অবকাশযাপনের জায়গা হিসেবেও এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

তবে পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৮০ সালে টাইম সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাসাদটির বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ১০ লাখ ডলার ব্যয় হতে পারে। বিপুল এই খরচের কথা বিবেচনা করে সরকারি কর্মকর্তারা সম্পত্তিটি পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহ হারান।

আরও পড়ুন: ইরানকে সহায়তার অভিযোগে কানাডার ৮ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

সোনায় মোড়ানো অন্দরসজ্জা, চোখধাঁধানো কারুকাজ

মার-আ-লাগোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি এর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা। প্রতিটি কক্ষেই রয়েছে আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের ছাপ।

পাম বিচ পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রাসাদের বসার ঘরে রয়েছে সোনার পাতের কারুকাজ। খাবার ঘরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে হাতে আঁকা ফ্রেস্কো বা দেয়ালচিত্র। আর প্রবেশপথ সাজানো হয়েছে ১৫ শতকের প্রাচীন টাইলস দিয়ে।

ট্রাম্পের বিলাসবহুল ও জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার প্রতি আগ্রহের কথা অনেকেরই জানা। তাই প্রাসাদের এই অন্দরসজ্জা তার রুচির সঙ্গে বেশ মানানসই মনে হতে পারে। তবে মজার বিষয় হলো, এসব নকশা ও সাজসজ্জার অধিকাংশই ট্রাম্পের তৈরি নয়; এগুলো আগের মালিক মার্জরি মেরিওয়েদার পোস্টের সময়েই স্থাপন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের ইরান যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের আহ্বান

১৯৮৫ সালের শেষ দিকে প্রাসাদটি কেনেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সম্পত্তিটি কিনতে তিনি ১ কোটি থেকে দেড় কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় করেছিলেন।

মার-আ-লাগো ক্লাবের ওয়েবসাইটে সম্পত্তিটিকে ফ্লোরিডার সবচেয়ে মূল্যবান জমির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের মালিকানায় আসার পর প্রাসাদটিতে আরও ১১টি কক্ষ যুক্ত করা হয়। ফলে কক্ষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৬-এ।

১২৬ কক্ষের প্রাসাদ থেকে অভিজাত ক্লাব

আরও পড়ুন: বন্ধুর মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত, দিল্লির কারখানায় আত্মহনন ব্যক্তির

এত বিশাল প্রাসাদ ব্যক্তিগত বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করাকে একসময় বেশ বড় দায়িত্ব বলে মনে করেন ট্রাম্প। ক্লাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তার একটি ছবির পাশে স্বাক্ষরসহ একটি বার্তায় বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে তিনি প্রাসাদটিকে ক্লাবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, ১২৬টি কক্ষ নিয়ে বাড়িটি তাঁর কাছে অত্যন্ত বড় মনে হচ্ছিল।

তবে ক্লাব চালু করলেও প্রাসাদের সব অংশ সাধারণ সদস্যদের জন্য ছেড়ে দেননি ট্রাম্প। নিজের ব্যবহারের জন্য কিছু ব্যক্তিগত কক্ষ রেখে দেন। একই সঙ্গে ক্লাবের সদস্যদের জন্য সর্বোচ্চ মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেন।

এভাবেই ব্যক্তিগত প্রাসাদটি ধীরে ধীরে রূপ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভিজাত ক্লাবে।

সবার জন্য উন্মুক্ত, তবে প্রবেশের মূল্য লাখ ডলার!

পাম বিচের সমুদ্রতীরবর্তী একটি সদস্যনির্ভর অভিজাত ক্লাব যে সবার জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য হবে, তা ভাবা কঠিন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ছিল ভিন্ন।

'গুড মর্নিং আমেরিকা' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার-আ-লাগো ক্লাবকে সমতার প্রতি নিজের অবদানের অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তার ভাষায়, ক্লাবটি 'সবার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত'।

তবে বাস্তবতা হলো, সেখানে প্রবেশের জন্য গুনতে হয় বিপুল অর্থ।

ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট বার্ন্ড লেম্বকে এবিসি নিউজকে জানান, সে সময় ক্লাবের সদস্য হতে এক লাখ ডলার ফেরত-অযোগ্য ভর্তি ফি দিতে হতো। এর বাইরে প্রতিবছর সদস্যদের ১৪ হাজার ডলার বার্ষিক চাঁদা দিতে হতো। পাশাপাশি খাবারের জন্য বছরে অতিরিক্ত দুই হাজার ডলার খরচ করাও বাধ্যতামূলক ছিল।

অর্থাৎ শুধু সদস্যপদ ধরে রাখতেই বছরে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতো।

তবে অর্থ থাকলেই যে কেউ সরাসরি সদস্য হতে পারবেন, বিষয়টি এমন নয়। আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রথমে ক্লাবের নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। এরপর আবেদন অনুমোদিত হলে তাতে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয় বলে জানান লেম্বকে।

মাত্র ৫০০ সদস্যের অভিজাত জগৎ

মার-আ-লাগো ক্লাবে ঠিক কতজন সদস্য রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করতে চাননি ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার ব্যাখ্যা, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং পুরোনো সদস্যদের পদত্যাগের কারণে সংখ্যাটি নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে বয়সজনিত সমস্যা কিংবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেকে সদস্যপদ ছেড়ে দেন।

তবে তিনি জানান, ক্লাবটি সর্বোচ্চ ৫০০ সদস্যের সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

ক্লাবের সদস্যদের সামাজিক ও জাতিগত পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে। জবাবে লেম্বকে জানান, সদস্য হওয়ার আবেদনপত্রে কারও জাতিগত কিংবা ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয় না।

সব মিলিয়ে মার-আ-লাগো কেবল একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ নয়। এর প্রতিটি দেয়াল, কক্ষ ও স্থাপত্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস। একসময় যে প্রাসাদ তৈরি হয়েছিল এক ধনকুবের সমাজসেবীর ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে, সময়ের পরিক্রমায় সেটিই হয়ে উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিলাসবহুল জীবন, সামাজিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল

ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ সাহানে এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

মাহফিলের সময় পবিত্র কুরআন খতমের পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করা হয়।

এ সময় মহান আল্লাহর দরবারে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগে ভৈরবে নারীর সংবাদ সম্মেলন, সামাজিক ও পারিবারিক সংকটে তানিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব প্রতিনিধি

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


এআই দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগে ভৈরবে নারীর সংবাদ সম্মেলন, সামাজিক ও পারিবারিক সংকটে তানিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের তানিয়া আক্তার নামে এক নারী। তার অভিযোগ, এসব কনটেন্ট ব্যবহার করে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ভৈরব পৌর শহরের দুর্জয় মোড় সংলগ্ন ভৈরব সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তানিয়া আক্তার জানান, তিনি ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের কাজী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং খলিল মিয়ার মেয়ে। তিনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের জননী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২১ সালে ছেলের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে টাঙ্গাইলের আগবেথর এলাকার আব্দুল রশিদের পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই হাসপাতালে অবস্থানের সুবাদে আব্দুল রশিদের স্ত্রীর সঙ্গে তার পরিচিতি গড়ে ওঠে। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে সৌজন্যমূলক যোগাযোগ ছিল বলে জানান তিনি।
তানিয়ার অভিযোগ, বর্তমানে প্রবাসে অবস্থানরত আব্দুল রশিদের প্ররোচনায় সোহাগ মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তার ও পরিবারের সদস্যদের কিছু ছবি ও ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে এসব ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে তাকে জিম্মি করে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তানিয়ার দাবি, টাকা না দিলে আরও আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তার পারিবারিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে থাকা স্বামী তাকে সংসার ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। এ ছাড়া কিছুদিন আগে বিয়ে হওয়া মেয়েকেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এসব ঘটনায় তিনি বর্তমানে চরম সামাজিক ও পারিবারিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান।
অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনি কিশোরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৪/১১৭(সি) ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তানিয়া আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে তানিয়া আক্তারের ভাগনি আশামনি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%