বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:০৫ পি.এম
নেত্রকোনার মদনে আলোচিত মাদ্রাসার ১২ বছরের শিশুশিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার চার মাস পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোনা আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিটটি দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আক্তারুজ্জামান।
এদিন বিকেলে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন করীম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ ওরফে সাগর কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয় ১২ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থী। ধর্ষণের শিকার হয়ে সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে ওই নবজাতকের জৈবিক বাবা অভিযুক্ত আমানউল্লাহ। আজ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এতে চারজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও এজাহারে জানা গেছে, উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নিজ মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন আমানউল্লাহ। যে কারণে শিশুটি কাউকে কিছু না না বললেও একপর্যায়ে শিশুর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। পরে শিশুর মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ রেখে বাবার বাড়ি মদনে ছুটে আসেন। গত ১৮ এপ্রিল মেয়েকে স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৩ এপ্রিল আমানউল্লাহ ও তার ভাই মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দয়েরের পর গত ৬ মে র্যাব-১৪ অভিযুক্ত আমানউল্লাহকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেফতার করে মদন থানায় হস্তান্তর করে। তিন দিনের রিমান্ডে পুলিশের হাতে আসা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ মে আদালতের নির্দেশে সিআইডির মাধ্যমে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ওই অন্তঃসত্ত্বা শিশুর নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তে তাকে সিলেটের একটি সেফহোমে রাখা হয়।
এদিকে, ২ জুলাই ধর্ষণের শিকার শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। এরপর ২৮ জুলাই জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় নবজাতকের সঙ্গে আমানউল্লাহর ডিএনএ ৯৯.৯৯৯ শতাংশ হুবহু মিলে যায়। আজ এ মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পরিষদ সচিবের বিরুদ্ধে। এলকাবাসী মনে করছেন, এই ঘটনায় পরিষদ প্রশাসনের যোগসাজশ থাকতে পারে। চলতি বছরে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় খানা প্রতি ট্যাক্স আদায়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের মধ্যে। এই ঘটনার ফলে ওই পরিষদের সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে, পরিষদ প্রশাসক ও সচিবের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে দায়সাড়া জবাব। স্থানীয়রা বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. নাহিদুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর থেকেই ওই ইউনিয়নে ছোট-বড় অনিয়মের ঘটনা ঘটতে শুরু করে। সর্বশেষ চলতি বছরের ইউপি ট্যাক্সের টাকা উত্তোলনের জন্য ৩য় একটি পক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই পক্ষটি নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে খানা প্রতি ট্যাক্সের টাকা আদায় করার দায়িত্ব নেয়। ইউপি প্রশাসক সচিবকে ট্যাক্সের টাকার হিসাব বুঝে নেয়ার দায়িত্ব দেয়। কিন্তু মাঠ থেকে কালেকশন এবং জমা রিসিভের মধ্যে রয়ে যায় শুভংকরের ফাকি।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ এবং ইউপি সদস্যদের মতে, ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ড থেকে ৯ লক্ষ টাকার উর্ধ্বে টাকা আদায় হয়েছে। অথচ ইউনিয়ন পরিষদ ফান্ডে জমা হয়েছে মাত্র সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা। আদায়কৃত বাকি টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব মিলছে না কারো কাছে। প্রশাসক বলছেন সচিব জানে, অপরদিকে সচিবের উত্তর তিনি রিসিভ দেখে টাকা জমা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ওই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এবং গ্রাম পুলিশদের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরো জানান, ৯ টি ওয়ার্ড থেকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার উর্ধ্বে ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায় হয়েছে। তার মধ্যে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের একাউন্টে টাকা জমা হয়েছে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বাকি টাকাগুলো কোথায় গেছে এ প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে না কেহ।
স্থানীয় কয়েকজন গ্রাম পুলিশ বলেন, ট্যাক্সের টাকা দিয়ে তাদের বেতন দেয়া হয়। তবে উত্তোলনকৃত টাকা কেন কম জমা হয়েছে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।
এবিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. হাসনাত টিটু জানান, তিনি রিসিভে যে টাকা পেয়েছেন তাই জমা করেছেন। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না। তবে, রিসিভ জমা এবং ওই ৩য় পক্ষ থেকে টাকা বুঝে নেয়ার সময় ইউপি সদস্য কিংবা গ্রাম পুলিশদের জানানো হয়নি কেনো, এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে, এবিষয়ে প্রশাসক অবগত আছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মো. নাহিদুল ইসলাম জানায়, এ বিষয়ে সচিব বলতে পারবেন। তবে ৩য় পক্ষ সচিবকে যে হিসাব দিয়েছে সেটার পরিমাণ হয়তো সাড়ে পাঁচ লাখের মতো। প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় হয়েছে সেটা ৩য় পক্ষ ও গ্রামপুলিশ বলতে পারবে। তাছাড়া আমরা ৩য় পক্ষ যাদেরকে ট্যাক্স সংগ্রহের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেছি, তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। আবারো তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইবো। বিধি বহির্ভূত কিছু হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বাকি টাকাগুলো কোথায় গিয়েছে সেটা জানতে হবে। এ অভিযোগের ব্যাপারে তিনি ওই পরিষদে গিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখবেন বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে বার্সেলোনা।কাতালান ক্লাবটি জানিয়েছে, তারা আর্জেন্টিনার ফুটবলারকে স্থানান্তরের বিষয়টি বিন্দুমাত্র বিবেচনা করছে না।
২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা যখন জানিয়েছিলেন, স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা আলভারেজকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী, ঠিক তার পরের দিনই অ্যাটলেটিকোর পক্ষ থেকে এই বিবৃতিটি এল।
২০২২ বিশ্বকাপ জয়ে আর্জেন্টিনাকে সহায়তা করা আলভারেজ বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর অ্যাটলেটিকো সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েছেন। রবিবার ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে ওয়ার্ম-আপের সময় এবং মাঠে নামার পর তাকে দর্শকদের দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে।
আলভারেজ জানিয়েছিলেন, নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে তিনি মাদ্রিদের ক্লাবটির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট) বিবৃতিতে অ্যাটলেটিকোর পরিচালনা পর্ষদ বলেছে, পেশাদার, নৈতিক ও সম্মানজনক উপায়ে পরিচালিত হলে সাধারণ দলবদল বা ট্রান্সফার মার্কেটের আলোচনার জন্য অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ সর্বদা উন্মুক্ত। ক্লাব এর আগে যে অবস্থান জানিয়েছিল, আমরা তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। সেই অবস্থান অনুযায়ী, এফসি বার্সেলোনা এই শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বার্সেলোনায় আলভারেজের স্থানান্তরের বিষয়টি বিন্দুমাত্র বিবেচনা করা হচ্ছে না।
বুধবারই অ্যাটলেটিকো জানিয়েছিল, বার্সেলোনার কাছে আলভারেজকে বিক্রি করার সম্ভাবনা শূন্য শতাংশ। তারা আরও বলেছিল, এই বিষয়টি অর্থের নয়, বরং মর্যাদার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তারা ঝাড়ুমিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন।
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সদ্যঘোষিত সাত সদস্যের আংশিক কমিটিতে রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বর থেকে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঝাড়ুমিছিল শুরু করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৭
পরে দুপুরে মির্জাগঞ্জ প্রেস ক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্যে সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান সুজন হাওলাদার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বাবুল মুন্সি, শাহীন ফরাজীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের অনুমোদিত সাত সদস্যের আংশিক কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
তাদের দাবি, ব্যক্তিস্বার্থ ও অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে অরাজনৈতিক ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গাজী রাশেদ শামসকে উপজেলা যুবদলের সভাপতি করা হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। এছাড়া, ইঞ্জিনিয়ার মহসীন হাদীকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তিনি চাকরিজীবী এবং আগে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তারা। তার পদ পাওয়ার পেছনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
তারা আরো অভিযোগ করেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মইনুল ইসলাম শাহীনকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। তাদের দাবি, জ্যেষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের রাজপথের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র একজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় সাংগঠনিক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া, ইব্রাহিম হোসেন জুয়েল মৃধাকে দপ্তর সম্পাদক করার বিষয়েও আপত্তি জানান বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ২১৮টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েল মৃধার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা চলমান রয়েছে। এমন একজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজপথের পরীক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের কথা বলেছেন। কিন্তু মির্জাগঞ্জে তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
তারা অবিলম্বে কমিটি বাতিল করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে তারা আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের বাগবিতণ্ডা ও চরম হট্টগোলের মুখে চলতি সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, একে অপরকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়া ভালো লক্ষণ নয় এবং আইন-নীতি না মানলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া শোরগোলের পর এসব কথা বলেন স্পিকার। বিকেল তিনটায় তার সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
অধিবেশন চলাকালে কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মন্তব্য করেন, স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো, বুঝতে পারিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কিসের বাকস্বাধীনতা। এর পর সংসদে হট্টগোল তুঙ্গে উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি তোলে বিরোধী দল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্পিকার বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল রাখার তাগিদ দেন। নিজের দীর্ঘ ৪০ বছরের সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং জনগণের এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর রাখতে হলে রুলস অব প্রসিডিউর কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
সংসদ সদস্যদের সংসদীয় রুলস অব প্রসিডিউর পড়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার আরও বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন তখন সবাইকে বসে শুনতে হয়। এই আইন-নীতি যদি না মানেন, ভঙ্গ করেন তাহলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি আদর্শ সংসদীয় পরিবেশ উপহার দেওয়ার জন্য তিনি সর্বদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ