ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকারি উদ্যোগে সাত মাসে ২ কোটি শিশুকে টিকা প্রদান: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী


সরকারি উদ্যোগে সাত মাসে ২ কোটি শিশুকে টিকা প্রদান: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই কোটিরও বেশি শিশুর কাছে সফলভাবে টিকা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, সংকট কাটানোর পর।

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের গত সাত মাসের কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই কোটিরও বেশি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইল্যান্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এম এ মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় পূর্ববর্তী ব্যর্থতা ও সংকটের ফলস্বরূপ দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত সাত মাসে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। তাই ইপিআই কার্যক্রমে চিহ্নিত সীমাবদ্ধতা ও সংকটগুলো দ্রুত দূর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে এক সময় অত্যন্ত সমাদৃত ও প্রশংসিত একটি মডেল ছিল। বহু বছর ধরে এ কর্মসূচি আমাদের শিশুদের অকাল মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতার হাত থেকে রক্ষা করেছে এবং দুর্গম প্রান্তিক অঞ্চলেও সেবা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিগত সময়ের অব্যবস্থাপনার কারণে এই সফল কার্যক্রমে মারাত্মক ছন্দপতন ঘটেছিল।'

আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহত ৭০০-এর বেশি সেনার শেষকৃত্য সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহত ৭০০-এর বেশি সেনার শেষকৃত্য সম্পন্ন

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ : ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার লক্ষ্যে একটি বৃহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার ৭০০-এর বেশি নিহত সেনার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর তাঁদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

হো চি মিন সিটির রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁদের শেষ শ্রদ্ধা জানান। কিছু মানুষের হাতে সাদা ফুল ছিল, কেউ প্রার্থনা করছিলেন। পোড়ামাটির কফিন, যা ভিয়েতনামের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল, শোভাযাত্রা করে শহরের উপকণ্ঠে একটি শহীদ সেনা সমাধিক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যায়।

এ খবরটি হো চি মিন সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। সামরিক বাহিনী জানায়, উদ্ধারকৃত ৭৩১ জনের দেহাবশেষ পৃথক ও গণকবর থেকে তোলা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনী কমিউনিস্টদের একটি বিদ্রোহ দমন করার সময় এসব যোদ্ধা নিহত হন। শহরের একটি গাছপালাঘেরা জনসাধারণের পার্ক থেকে তাঁদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

লে নগক মাই উয়েন, যিনি তাঁর দাদির নামে নামকরণ করা পার্কটিতে প্রায়ই যেতেন, সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে, ওই পার্কেই তাঁর দাদির দেহাবশেষ সমাহিত থাকতে পারে। সম্প্রতি পার্কটির একটি স্মৃতিফলকের কাছে ধূপ জ্বালানোর পর ৩৬ বছর বয়সী উয়েন এএফপিকে বলেন, ‘এই পার্কে এলে আমি সব সময় এক ধরণের পবিত্রতা অনুভব করেছি।’

তিনি আরও বলেন, কাজটি ‘অত্যন্ত কঠিন’ হলেও তাঁর দাদির দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে তিনি ‘দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।’ গত মার্চে শুরু হওয়া ৫০০ দিনের জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পার্কটিতে খননকাজ চালানো হয়। যুদ্ধের পর থেকে নিখোঁজ থাকা কয়েক লাখ মানুষের সন্ধানে এটিকে ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

জুলাই মাস থেকে কয়েক শত বিশেষজ্ঞ ও সেনাসদস্য পার্কটিতে মাটির বিভিন্ন স্তর খুঁড়ে দেহাবশেষ উদ্ধারের কাজ করছেন। এ কাজে বুলডোজার, খননযন্ত্র ও পানির পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অনেক সময় কাদামাটির মধ্যে হাত দিয়েই খুঁজতে হচ্ছে তাঁদের।

বুধবারের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান বাজছিল। এ সময় শহরের উপমেয়র নগুয়েন মান কুয়ং বলেন, ‘নিহত সহযোদ্ধাদের সন্ধান অব্যাহত রাখতে কোনো সুযোগ বা পদ্ধতিই আমরা উপেক্ষা করব না।’

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনুসন্ধান-

কুয়ং বলেন, ‘যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে এ পর্যায়ে উদ্ধার করা অধিকাংশ সেনার নাম ও তাঁদের আদি নিবাস এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সরকার একজন নিহত সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে। তিনি হলেন স্কোয়াড লিডার হুয়িন ভ্যান কুয়েন। ১৯৬৮ সালে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই সেনার দেহাবশেষ লে থি রিয়েং পার্ক থেকে উদ্ধার করা হয়।

জুলাই মাসে তার দেহাবশেষের সঙ্গে পাওয়া নাম লেখা একটি কাগজের টুকরো এবং স্বজনদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে প্রায় ১২ লাখ ভিয়েতনামি সেনা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। এ যুদ্ধে প্রথমে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জড়িয়ে পড়ে।

দেশজুড়ে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি—এমন সেনাদের ২ লাখ ৩০ হাজার কবর রয়েছে। এ ছাড়া আরও হাজার হাজার সেনার দেহাবশেষ দুর্গম জঙ্গলে, কৃষিজমির নিচে কিংবা সাবেক যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ৭ হাজার সেনার দেহাবশেষ উদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। উপপ্রধানমন্ত্রী ফাম থি থান ট্রা একে ‘বিশেষ গুরুত্বসম্পন্ন রাজনৈতিক দায়িত্ব, একই সঙ্গে হৃদয়ের গভীর থেকে আসা নির্দেশ’ বলে অভিহিত করেছেন।

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া প্রতিবেশী দেশ লাওস ও কম্বোডিয়াসহ ভিয়েতনামের বিভিন্ন পুরোনো যুদ্ধক্ষেত্রে অনুসন্ধানে দেড় হাজারের বেশি লোক নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের পাশাপাশি আরও হাজার হাজার মানুষ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজে যুক্ত আছেন। নিখোঁজ সেনাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার অশনাক্ত কবর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেহাবশেষের ১৮ হাজার নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং তাঁদের নিকটাত্মীয়দের জিনগত তথ্য নিয়ে একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিচালনা দলের সদস্য কর্নেল ত্রিন তুং লাম বলেন, কাজটি সহজ নয়। তবে তাঁর মতে, এই ‘সবচেয়ে বিশেষ ও মানবিক’ উদ্যোগ নেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই। গত সপ্তাহে হ্যানয়ের ডিএনএ শনাক্তকরণ কেন্দ্রে পরীক্ষাগারের কর্মীদের দেহাবশেষ থেকে আলাদা করা হাড়ের টুকরো সাবধানে কাটতে দেখা যায়। ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য নমুনা সংগ্রহ করছিলেন তাঁরা।

কেন্দ্রটির পরিচালক ত্রান তুং থান এএফপিকে বলেন, মারাত্মকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত দেহাবশেষ পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বে প্রথমবারের মতো একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করেছে। আন্তর্জাতিক কমিশন অন মিসিং পারসনসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পাওয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালানো হয়েছে। এতে ৫৮টি নমুনার মধ্যে ৫৪টি থেকে সফলভাবে জিনগত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে থান সতর্ক করে দেন, প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। আর এ কাজে তাঁদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে।

‘শেষ ভরসা’-

থান বলেন, ‘নিহতদের জীবিত স্বজন ও নিকটাত্মীয়দের বয়স বাড়ছে, তাঁরা মারা যাচ্ছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের একটি উৎস হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে, প্রাকৃতিক পরিবেশে দেহাবশেষের ক্ষয় অব্যাহত রয়েছে।’ এতে ডিএনএ সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

অনেকের কাছে স্বজনদের খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা আজীবনের সাধনায় পরিণত হয়েছে। ৬৮ বছর বয়সী দোয়ান ভ্যান কং ও তার পরিবারের সদস্যরা ১৯৫০ সালে নিহত তাঁর চাচার পরিণতি জানতে বছরের পর বছর বিভিন্ন সমাধিক্ষেত্রে ঘুরেছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মৃত্যুর সময় তাঁর চাচার বয়স ছিল বিশের কোঠায়।

তাদের ধারণা, ফরাসি সেনাদের অতর্কিত হামলার পর তার চাচাকে বাড়ি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে একটি গণকবরে সমাহিত করা হয়েছিল। সেখানে কমিউনিস্ট যোদ্ধাদেরও কবর দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁরা মনে করেন। কং এএফপিকে বলেন, ‘সন্দেহভাজন ওই স্থানগুলো খননের কোনো সুযোগ ছিল না।’

এখন নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে উত্তর খুঁজতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগকেই নিজের ‘শেষ ভরসা’ বলে মনে করছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত বস্তুতে আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত বস্তুতে আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ

হরমুজ প্রণালিতে দুটি পৃথক ঘটনায় অজ্ঞাত বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম ঘটনায়, প্রণালিতে প্রবেশের সময় ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি কনটেইনারবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করে। যদিও এতে জাহাজটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে, জাহাজটি নিরাপদে তার যাত্রা অব্যাহত রাখে।

দ্বিতীয় ঘটনায়, হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার সময় ১৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার আরেকটি কনটেইনারবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে। এই ঘটনায়ও জাহাজটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনো নাবিক আহত হননি এবং জাহাজটি তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

দুটি ঘটনার পেছনে কী ধরনের বস্তু আঘাত হেনেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে দুই রুমমেটের দ্বন্দ্বের জের ধরে এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহাবুর হোসেন জয়কে (২৪) রক্তবমি ও নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ছাত্রাবাসের 'বি' ব্লকের ১০৬ নম্বর কক্ষে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে ছাত্রদল নেতৃত্ব এ ঘটনায় সংগঠনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।
আহত শাহাবুর হোসেন জয় রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. ফজলে রাব্বী ওহী ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত। তাঁরা দুজনই ওই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।
 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জয় অভিযোগ করেন, কক্ষে ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাব্বীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে রাব্বী এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ জানালে রাব্বী তাঁর মাথায় আঘাত করেন এবং দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের শান্ত করেন।
জয়ের দাবি, এই ঘটনার প্রায় ৩৫ মিনিট পর রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের কর্মী প্রীতম সেখানে এসে কোনো কথা না শুনেই তাঁর ওপর চড়াও হন। পরে প্রীতমের সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর ও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।
 
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইয়াজ উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী জানান, মারধরের পর জয় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হোস্টেল সুপারের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২১ নম্বর শয্যায় ভর্তি করা হয়। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে দুই রুমমেটের সামান্য বাকবিতণ্ডা হলেও বহিরাগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কর্মীরা এসে পরিস্থিতি সহিংস করে তোলেন।
 
ঘটনার পর কলেজ প্রশাসনের কাছে মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির শাখা সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, "দুই রুমমেটের বিরোধকে কেন্দ্র করে সাধারণ একজন শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ছাত্রাবাসের সিট বাতিল এবং দায়িত্বে ব্যর্থ হোস্টেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।" বিচার না পেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেন তিনি।
 
বিবাদমান পক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফজলে রাব্বী ওহী বলেন, "আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলব না।"
 
এবিষয়ে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "দুই রুমমেটের নিজস্ব ঝামেলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলের নাম জড়ানো হচ্ছে। একটি পক্ষ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই চক্রান্ত করছে। তবে আমরাও চাই প্রকৃত দোষীদের তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হোক।"
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মো. ইউনুছ আলী জানান, খবর পেয়ে প্রশাসন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যায়। কলেজের সার্বিক নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
মুসলিম ছাত্রাবাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা নাসিরুল আজম বলেন, "দুই সাধারণ শিক্ষার্থীর ঝগড়াকে তৃতীয় পক্ষ এসে ঘোলাটে করেছে। এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেতেমখাঁ বড় মসজিদ থেকে বর্ণালী মোড় পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ পি.এম


হেতেমখাঁ বড় মসজিদ থেকে বর্ণালী মোড় পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন
রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখাঁ বড় মসজিদ থেকে বর্ণালী মোড় পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটি দিয়ে চলাচলে ভোগান্তিতে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে কাজটি শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
 
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সড়কটির কার্পেটিং ও সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় তিনি সড়কের কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি কার্পেটিংয়ের ফিনিশিং যথাযথভাবে সম্পন্ন করা এবং নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
 
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল সড়কটি পরিদর্শন করে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে বন্ধ থাকা উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রশাসক। তাঁর নির্দেশনার পর সড়কটির উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়।
 
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. মাহমুদুর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিনসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
 
সড়কটির কাজ শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। #

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%