ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহত ৭০০-এর বেশি সেনার শেষকৃত্য সম্পন্ন


ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহত ৭০০-এর বেশি সেনার শেষকৃত্য সম্পন্ন

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ : ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার লক্ষ্যে একটি বৃহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার ৭০০-এর বেশি নিহত সেনার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর তাঁদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

হো চি মিন সিটির রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁদের শেষ শ্রদ্ধা জানান। কিছু মানুষের হাতে সাদা ফুল ছিল, কেউ প্রার্থনা করছিলেন। পোড়ামাটির কফিন, যা ভিয়েতনামের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল, শোভাযাত্রা করে শহরের উপকণ্ঠে একটি শহীদ সেনা সমাধিক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যায়।

এ খবরটি হো চি মিন সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। সামরিক বাহিনী জানায়, উদ্ধারকৃত ৭৩১ জনের দেহাবশেষ পৃথক ও গণকবর থেকে তোলা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনী কমিউনিস্টদের একটি বিদ্রোহ দমন করার সময় এসব যোদ্ধা নিহত হন। শহরের একটি গাছপালাঘেরা জনসাধারণের পার্ক থেকে তাঁদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

লে নগক মাই উয়েন, যিনি তাঁর দাদির নামে নামকরণ করা পার্কটিতে প্রায়ই যেতেন, সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে, ওই পার্কেই তাঁর দাদির দেহাবশেষ সমাহিত থাকতে পারে। সম্প্রতি পার্কটির একটি স্মৃতিফলকের কাছে ধূপ জ্বালানোর পর ৩৬ বছর বয়সী উয়েন এএফপিকে বলেন, ‘এই পার্কে এলে আমি সব সময় এক ধরণের পবিত্রতা অনুভব করেছি।’

তিনি আরও বলেন, কাজটি ‘অত্যন্ত কঠিন’ হলেও তাঁর দাদির দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে তিনি ‘দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।’ গত মার্চে শুরু হওয়া ৫০০ দিনের জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পার্কটিতে খননকাজ চালানো হয়। যুদ্ধের পর থেকে নিখোঁজ থাকা কয়েক লাখ মানুষের সন্ধানে এটিকে ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

জুলাই মাস থেকে কয়েক শত বিশেষজ্ঞ ও সেনাসদস্য পার্কটিতে মাটির বিভিন্ন স্তর খুঁড়ে দেহাবশেষ উদ্ধারের কাজ করছেন। এ কাজে বুলডোজার, খননযন্ত্র ও পানির পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অনেক সময় কাদামাটির মধ্যে হাত দিয়েই খুঁজতে হচ্ছে তাঁদের।

বুধবারের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান বাজছিল। এ সময় শহরের উপমেয়র নগুয়েন মান কুয়ং বলেন, ‘নিহত সহযোদ্ধাদের সন্ধান অব্যাহত রাখতে কোনো সুযোগ বা পদ্ধতিই আমরা উপেক্ষা করব না।’

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনুসন্ধান-

কুয়ং বলেন, ‘যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে এ পর্যায়ে উদ্ধার করা অধিকাংশ সেনার নাম ও তাঁদের আদি নিবাস এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সরকার একজন নিহত সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে। তিনি হলেন স্কোয়াড লিডার হুয়িন ভ্যান কুয়েন। ১৯৬৮ সালে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই সেনার দেহাবশেষ লে থি রিয়েং পার্ক থেকে উদ্ধার করা হয়।

জুলাই মাসে তার দেহাবশেষের সঙ্গে পাওয়া নাম লেখা একটি কাগজের টুকরো এবং স্বজনদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে প্রায় ১২ লাখ ভিয়েতনামি সেনা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। এ যুদ্ধে প্রথমে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জড়িয়ে পড়ে।

দেশজুড়ে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি—এমন সেনাদের ২ লাখ ৩০ হাজার কবর রয়েছে। এ ছাড়া আরও হাজার হাজার সেনার দেহাবশেষ দুর্গম জঙ্গলে, কৃষিজমির নিচে কিংবা সাবেক যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ৭ হাজার সেনার দেহাবশেষ উদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। উপপ্রধানমন্ত্রী ফাম থি থান ট্রা একে ‘বিশেষ গুরুত্বসম্পন্ন রাজনৈতিক দায়িত্ব, একই সঙ্গে হৃদয়ের গভীর থেকে আসা নির্দেশ’ বলে অভিহিত করেছেন।

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া প্রতিবেশী দেশ লাওস ও কম্বোডিয়াসহ ভিয়েতনামের বিভিন্ন পুরোনো যুদ্ধক্ষেত্রে অনুসন্ধানে দেড় হাজারের বেশি লোক নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের পাশাপাশি আরও হাজার হাজার মানুষ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজে যুক্ত আছেন। নিখোঁজ সেনাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার অশনাক্ত কবর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেহাবশেষের ১৮ হাজার নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং তাঁদের নিকটাত্মীয়দের জিনগত তথ্য নিয়ে একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিচালনা দলের সদস্য কর্নেল ত্রিন তুং লাম বলেন, কাজটি সহজ নয়। তবে তাঁর মতে, এই ‘সবচেয়ে বিশেষ ও মানবিক’ উদ্যোগ নেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই। গত সপ্তাহে হ্যানয়ের ডিএনএ শনাক্তকরণ কেন্দ্রে পরীক্ষাগারের কর্মীদের দেহাবশেষ থেকে আলাদা করা হাড়ের টুকরো সাবধানে কাটতে দেখা যায়। ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য নমুনা সংগ্রহ করছিলেন তাঁরা।

কেন্দ্রটির পরিচালক ত্রান তুং থান এএফপিকে বলেন, মারাত্মকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত দেহাবশেষ পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বে প্রথমবারের মতো একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করেছে। আন্তর্জাতিক কমিশন অন মিসিং পারসনসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পাওয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালানো হয়েছে। এতে ৫৮টি নমুনার মধ্যে ৫৪টি থেকে সফলভাবে জিনগত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে থান সতর্ক করে দেন, প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। আর এ কাজে তাঁদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হলুদ বিন্দু দেখে খননে ২ কোটি টাকার স্বর্ণের খণ্ড উদ্ধার

‘শেষ ভরসা’-

থান বলেন, ‘নিহতদের জীবিত স্বজন ও নিকটাত্মীয়দের বয়স বাড়ছে, তাঁরা মারা যাচ্ছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের একটি উৎস হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে, প্রাকৃতিক পরিবেশে দেহাবশেষের ক্ষয় অব্যাহত রয়েছে।’ এতে ডিএনএ সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

অনেকের কাছে স্বজনদের খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা আজীবনের সাধনায় পরিণত হয়েছে। ৬৮ বছর বয়সী দোয়ান ভ্যান কং ও তার পরিবারের সদস্যরা ১৯৫০ সালে নিহত তাঁর চাচার পরিণতি জানতে বছরের পর বছর বিভিন্ন সমাধিক্ষেত্রে ঘুরেছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মৃত্যুর সময় তাঁর চাচার বয়স ছিল বিশের কোঠায়।

তাদের ধারণা, ফরাসি সেনাদের অতর্কিত হামলার পর তার চাচাকে বাড়ি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে একটি গণকবরে সমাহিত করা হয়েছিল। সেখানে কমিউনিস্ট যোদ্ধাদেরও কবর দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁরা মনে করেন। কং এএফপিকে বলেন, ‘সন্দেহভাজন ওই স্থানগুলো খননের কোনো সুযোগ ছিল না।’

আরও পড়ুন: ফ্লাভিও বলসোনারোর পাসপোর্ট বাতিল

এখন নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে উত্তর খুঁজতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগকেই নিজের ‘শেষ ভরসা’ বলে মনে করছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত বস্তুতে আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত বস্তুতে আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ

হরমুজ প্রণালিতে দুটি পৃথক ঘটনায় অজ্ঞাত বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম ঘটনায়, প্রণালিতে প্রবেশের সময় ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি কনটেইনারবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করে। যদিও এতে জাহাজটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে, জাহাজটি নিরাপদে তার যাত্রা অব্যাহত রাখে।

দ্বিতীয় ঘটনায়, হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার সময় ১৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার আরেকটি কনটেইনারবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে। এই ঘটনায়ও জাহাজটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনো নাবিক আহত হননি এবং জাহাজটি তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

দুটি ঘটনার পেছনে কী ধরনের বস্তু আঘাত হেনেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে দুই রুমমেটের দ্বন্দ্বের জের ধরে এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহাবুর হোসেন জয়কে (২৪) রক্তবমি ও নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ছাত্রাবাসের 'বি' ব্লকের ১০৬ নম্বর কক্ষে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে ছাত্রদল নেতৃত্ব এ ঘটনায় সংগঠনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।
আহত শাহাবুর হোসেন জয় রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. ফজলে রাব্বী ওহী ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত। তাঁরা দুজনই ওই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।
 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জয় অভিযোগ করেন, কক্ষে ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাব্বীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে রাব্বী এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ জানালে রাব্বী তাঁর মাথায় আঘাত করেন এবং দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের শান্ত করেন।
জয়ের দাবি, এই ঘটনার প্রায় ৩৫ মিনিট পর রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের কর্মী প্রীতম সেখানে এসে কোনো কথা না শুনেই তাঁর ওপর চড়াও হন। পরে প্রীতমের সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর ও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।
 
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইয়াজ উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী জানান, মারধরের পর জয় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হোস্টেল সুপারের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২১ নম্বর শয্যায় ভর্তি করা হয়। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে দুই রুমমেটের সামান্য বাকবিতণ্ডা হলেও বহিরাগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কর্মীরা এসে পরিস্থিতি সহিংস করে তোলেন।
 
ঘটনার পর কলেজ প্রশাসনের কাছে মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির শাখা সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, "দুই রুমমেটের বিরোধকে কেন্দ্র করে সাধারণ একজন শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ছাত্রাবাসের সিট বাতিল এবং দায়িত্বে ব্যর্থ হোস্টেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।" বিচার না পেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেন তিনি।
 
বিবাদমান পক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফজলে রাব্বী ওহী বলেন, "আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলব না।"
 
এবিষয়ে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "দুই রুমমেটের নিজস্ব ঝামেলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলের নাম জড়ানো হচ্ছে। একটি পক্ষ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই চক্রান্ত করছে। তবে আমরাও চাই প্রকৃত দোষীদের তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হোক।"
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মো. ইউনুছ আলী জানান, খবর পেয়ে প্রশাসন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যায়। কলেজের সার্বিক নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
মুসলিম ছাত্রাবাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা নাসিরুল আজম বলেন, "দুই সাধারণ শিক্ষার্থীর ঝগড়াকে তৃতীয় পক্ষ এসে ঘোলাটে করেছে। এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেতেমখাঁ বড় মসজিদ থেকে বর্ণালী মোড় পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ পি.এম


হেতেমখাঁ বড় মসজিদ থেকে বর্ণালী মোড় পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন
রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখাঁ বড় মসজিদ থেকে বর্ণালী মোড় পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটি দিয়ে চলাচলে ভোগান্তিতে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে কাজটি শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
 
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সড়কটির কার্পেটিং ও সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় তিনি সড়কের কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি কার্পেটিংয়ের ফিনিশিং যথাযথভাবে সম্পন্ন করা এবং নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
 
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল সড়কটি পরিদর্শন করে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে বন্ধ থাকা উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রশাসক। তাঁর নির্দেশনার পর সড়কটির উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়।
 
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. মাহমুদুর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিনসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
 
সড়কটির কাজ শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। #

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলাভিত্তিক অভিবাসন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করছে আইওএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


জেলাভিত্তিক অভিবাসন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করছে আইওএম

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সরকারের অভিবাসন সেবা জোরদার করার জন্য এবং অভিবাসী ও প্রত্যাবর্তনকারীদের সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নয়টি জেলায় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা প্রদান করছে। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন সম্পর্কিত তথ্য, সরকারি সেবা, সুরক্ষা এবং দেশে ফেরার পর পুনঃএকত্রীকরণ সহায়তা আরো সহজলভ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) মাদারীপুরে প্রথম কৌশলগত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, পটুয়াখালী, খুলনা, রংপুর ও জামালপুরে একই ধরনের কর্মশালা আয়োজন করা হবে।

আইওএম জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘প্রত্যাশা ২ : অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও টেকসই পুনঃএকত্রীকরণের উন্নয়নে সেবা প্রদান ব্যবস্থা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো, সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নবিষয়ক পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোসহ জাতীয় পর্যায়ের অভিবাসন-সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলোকে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রমে রূপ দেওয়া।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালাহউদ্দিন। এতে জেলা পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীসহ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া অভিবাসন সেবাদানকারী সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় জেলার অভিবাসন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, সেবার ঘাটতি এবং সেবা পেতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি জেলাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, সময়সীমা ও সমন্বয়ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুগ্ম সচিব সালাহউদ্দিন বলেন, "অভিবাসনের সুফল সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে হলে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য মানুষকে প্রস্তুত করা, পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশে ফেরার পর পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "জেলা-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা জাতীয় অভিবাসন অগ্রাধিকারের সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার সংযোগ ঘটাবে এবং সারা দেশে আরো সমন্বিত ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।"

জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার জানান, "জেলা পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি, যাতে অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। এই উদ্যোগ স্থানীয় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করার পাশাপাশি অভিবাসন সেবাকে আরো সহজলভ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়তা করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%