০৭:৩০ পি.এম
যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজের উপজেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে পুলিশ নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদে থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করে আসছিলেন।
বিস্তারিত দিকে নজর দিলে, প্রবীণ এই সাংবাদিকের গ্রেফতারের ঘটনায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগের কারণে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
এ উপলক্ষে, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শার্শা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বেনাপোল বন্দর প্রেসক্লাব, শার্শা প্রেসক্লাব, প্রেসক্লাব বেনাপোল, সীমান্ত প্রেসক্লাব ও উপজেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য, একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেফতার করা কেবল একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়; বরং এটি স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সত্য প্রকাশের অধিকারের ওপর একটি গুরুতর আঘাত।
এ ধরনের পদক্ষেপ সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে গিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আসাদুজ্জামান আসাদ এর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম জানান, 'আসাদুজ্জামান আসাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। সম্প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে নানা কর্মকাণ্ড ও নাশকতামূলক কাজের অভিযোগ ওঠায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।'
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে, হাজতে থাকা সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ ওসির এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, 'আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলাম। তবে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল আমি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেছি।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরের পর বর্তমানে আমি বাড়িতেই থাকতাম এবং সম্পূর্ণই সাংবাদিকতায় যুক্ত আছি। আমি কোনো প্রকার দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।
গত রাতের ঘটনাটির সময় পুলিশ মামলার কথা বলে আমাকে ধরে নিয়ে আসে।'
সাংবাদিক আসাদ আরও বলেন, 'আমি বর্তমানে রাজনীতি করি না জানালেও তারা শোনেনি।'
এছাড়া, এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, বিভিন্ন ধরনের অপরাধী ও মামলার আসামীরা এলাকায় সক্রিয় থাকলেও পুলিশ তাদের আটক করছে না, এর প্রেক্ষিতে অনেক নিরাপরাধ মানুষ পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: মাগুরায় বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় সাবেক ওসি ও এসআইকে কারাগারে পাঠাল আদালত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন