বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:০০ পি.এম
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানের মধ্যে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে দুইজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুল হক এবং মোসাদ্দেক হোসেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত. কাজী ওয়াজী উল্ল্যার ছেলে আব্দুল কাদের (৫১) এবং একই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে মো. নুর ইসলাম (২৩)।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষীনারায়ণপুর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের মাধ্যমে জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে তাদের দুজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরো জানান, মাদক নিমূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, তাকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থে দায়িত্ব পালনের আহ্বান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, তিনি একটি বিবৃতিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির জন্য সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেছেন। বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বজনীন ঐক্য ও সর্বজনের আস্থার প্রতীক। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে দলীয় বৃত্তের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়েছেন। ফলে, বঙ্গভবনে গিয়ে তিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন—এটাই প্রত্যাশা। তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সততার ক্ষেত্রে একজন পরীক্ষিত ব্যক্তি। এমন একজন ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া দেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। যে আশাবাদ নিয়ে তিনি বঙ্গভবনে যাচ্ছেন, সেই আশাবাদকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উপজেলা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাটি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দপ্তরপ্রধান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, খাদ্য ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও নিরাপদ খাদ্য অফিসার, কুড়িগ্রাম মো. রাকিবুল হাসান নিশাত।
সভায় নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিতকরণ, খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপদ খাদ্য আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা, ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে সচেতন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; উৎপাদক, ব্যবসায়ী, ভোক্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় ও নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি পদটি হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী পদ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির এই মহান ভূমিকা রয়েছে। দেশের সব আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হলেও, সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা মূলত সীমিত। যদিও তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, তবুও দেশের প্রথম নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রপতির বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সুবিধা বেশ বিস্তৃত।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের নিয়োগ ব্যতীত রাষ্ট্রপতিকে অন্য যেকোনো দায়িত্ব পালনে, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে কাজ করতে হয়।
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধিকার হল আদালত অথবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড মার্জনা, হ্রাস বা মওকুফ করা। সংসদীয় কাঠামোর কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার ক্ষেত্রেও সরকারের সুপারিশের প্রয়োজন হয়ে থাকে। পদমর্যাদার কারণে রাষ্ট্রপতি পূর্ণ সাংবিধানিক দায়মুক্তি পান। রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তার বা সমন জারির বিধান নেই।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নির্ধারণ করা হয় বিশেষ আইনের মাধ্যমে। দ্য প্রেসিডেন্টস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ সংশোধন অ্যাক্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যেটা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। ২০১৬ সালের সংশোধনীতে বেতন বাড়িয়ে এই টাকা নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক ও আবাসিক ঠিকানা হিসেবে ঐতিহাসিক বঙ্গভবন নির্ধারিত রয়েছে। এই বাসভবনের নিরাপত্তা, সাজসজ্জা এবং প্রশাসনিক যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের দায়িত্ব সরকারি কোষাগারের।
যাতায়াত ও সফরের জন্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রীয় খরচে সর্বোচ্চ মানের পরিবহন সুবিধা পেয়ে থাকেন। সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের সময় সরকার নির্ধারিত হারে বিশেষ দৈনিক ভাতা পান। রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা বিনোদনের জন্য পৃথক বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ থাকে, এবং এই বাজেটের ব্যয় হিসাবের ক্ষেত্রে সাধারণ নিরীক্ষা প্রযোজ্য নয়। মেয়াদ শেষে পদ ত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পরেও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা আইন অনুযায়ী পেনশন, বিশেষ নিরাপত্তা এবং আজীবন নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা ভোগ করেন।
সার্বিকভাবে দেশের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা অবস্থান করলেও, সংবিধানের সুরক্ষক এবং রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় রাষ্ট্রপতির পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্ক করেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে তেহরান-সমর্থিত হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবে না। বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
রেভল্যুশনারি গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি দেফা প্রেসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘সৌদি আরব নিশ্চিতভাবেই ইয়েমেন ও আনসারুল্লাহকে(হুথিদের আরেক নাম) নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না। তাদের হামলা থেকেও নিরাপদ থাকতে পারবে না।’
বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে তেহরান জানিয়েছে যে, ‘গত কয়েক দিনে আমরা যেমন দেখেছি, সৌদি আরব যত বেশি হামলা চালাচ্ছে, পাল্টা হামলাও তত বেশি হচ্ছে।’
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলাসমূহের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, গত মাসে ইয়েমেন সেই যুদ্ধে নতুন ফ্রন্ট হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
জুলাইয়ের শুরুতে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার পর, হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের হামলা বাড়াতে এবং লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের চেষ্টা করতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের একটি বিমান ইয়েমেনের রাজধানী সানায় পৌঁছেছিল।
ইয়েমেনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে। সর্বশেষ এই লড়াইয়ের ফলে সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে।
চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের এক মন্ত্রী এএফপিকে জানান, হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদাব প্রণালীর তীরবর্তী এলাকা দখলের পরিকল্পনা করছেন। বাস্তবে এটি কার্যকরী করা সম্ভব হলে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আরও বড় ধরণের হুমকি তৈরি করতে পারবে তারা।
বাব আল-মানদাবের কাছে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর তিনজন হুথি সামরিক সূত্র ও একজন মুখপাত্রও এএফপিকে নিশ্চিত করেন যে, বিদ্রোহীরা তাদের বর্তমানে নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ