ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বার্সেলোনার সোনালি যুগের সেই গোলরক্ষক, এখন কোথায় তিনি?


বার্সেলোনার সোনালি যুগের সেই গোলরক্ষক, এখন কোথায় তিনি?

বার্সেলোনার সর্বজয়ী গোলরক্ষক ভিক্তর ভালদেস। ছবি: সংগৃহীত

‘আমি যখন অবসর নেব, তখন আমি হারিয়ে যাব। এমন কোথাও চলে যাব, যেখানে কেউ আমাকে খুঁজে পাবে না’—বছর কয়েক আগে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ভিক্তর ভালদেস।

পরে, সত্যিই অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান বার্সেলোনার কিংবদন্তি এই গোলরক্ষক।

আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স

পেপ গার্দিওলার কোচিংয়ের সময়কালকে বার্সেলোনার সোনালি যুগ মনে করা হয়। সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ভালদেস। ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কাতালান ক্লাবটির হয়ে ৫৩৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

জিতেছেন ছয়টি লা লিগা, তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অনেক শিরোপা। স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপও জিতেছেন।

কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষটা ছিল কঠিন। ২০১৪ সালে সেলতা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে গুরুতর চোট পান ভালদেস।

পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ ও মিডলসব্রোর হয়ে খেললেও বার্সেলোনার সময়ের সেই ছন্দ আর ফিরে পাননি। ২০১৭ সালে মিডলসব্রো-এর সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর আর কোনো ক্লাবে যোগ দেননি। এরপর আসে তার সবচেয়ে আলোচিত বিদায়।

আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার মানবাধিকারের লঙ্ঘন: আখতার হোসেন

২০১৫ সালে কলম্বিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল আরসিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভালদেস ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অবসরের পর তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেছিলেন, ‘একদিন তো আলো নিভবেই।

আলো নিভে গেলে আমি সন্তানদের সঙ্গে থাকব। তাদের শেখাব, আলো জ্বলে উঠলে কী হতে পারে। কিন্তু আমি তখন আর সেখানে থাকব না। আশা করি, আলো নিভে গেলে আমাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।’

২০১৮ সালের শুরুতে সেই কথারই যেন বাস্তব রূপ দেন ভালদেস। ‘সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ’ লিখে ইন্সটাগ্রামের সব ছবি মুছে দেন। বন্ধ করে দেন টুইটার (বর্তমানে এক্স) ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টও। কোনো জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় অনুষ্ঠান কিংবা দীর্ঘ বক্তব্য ছিল না।

তবে ভালদেস পুরোপুরি ফুটবল থেকে হারিয়ে যাননি। ২০১৯ সালে বার্সেলোনা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হয়ে ক্লাবে ফিরেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস পরেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত

বার্সেলোনা ছাড়ার পর ভালদেস মোরাতালাজের যুব দল এবং পরে ইউএ হোর্তার দায়িত্ব নেন। ২০২১ সালের শুরুতে ইউএ হোর্তা ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় তাকে কোচিংয়ে দেখা যায়নি।

কিছু সময়ের জন্য কোচিংয়ে ফিরলেও আবার লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন ভিক্তর ভালদেস। ছবি: সংগৃহীত

এরপর হঠাৎ করেই ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আবার ফুটবলে ফেরেন ভালদেস। স্পেনের চতুর্থ স্তরের ক্লাব রিয়াল আভিলা তাকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। কিন্তু দেড় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি রিয়াল আভিলা ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে আবারো উধাও ভালদেস।

ভিক্টর ভালদেস এখন কোথায়? এটাই সবচেয়ে রহস্যময় বিষয়। তিনি কয়েক বছরের জন্য কোথায় হারিয়ে যান, তা কেউ বলতে পারেন না। না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, না সংবাদমাধ্যম—কোথাও তার সন্ধান মেলে না।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধরের অভিযোগ

সাম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোও ভালদেসকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করেছে, যাকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যায় এবং যিনি হঠাৎ ফুটবলে ফিরে আসেন।

ভালদেস কোথায় থাকেন-কী করেন, তা কেউ জানে না। কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিনি হোয়াটসঅ্যাপও মুছে ফেলেছেন।

ভিক্টর ভালদেসের জীবনের গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকই হলো তিনি কখনো আলোচনায় থাকতে চাননি। একসময় তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গোলরক্ষক। বার্সেলোনার গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োলদের সঙ্গে ইতিহাস গড়েছেন।

কিন্তু অবসরের পর ভালদেসের চাওয়া ছিল একেবারেই ভিন্ন। খ্যাতির আলো নয়, চেয়েছিলেন সাধারণ জীবন।

আরও পড়ুন: বিএনপিকে অপরাজনীতির পরিণতি ভোগ করতে হবে: সাদিক কায়েম

সত্যিই, আলো নিভে গেলে কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিনই হয়!

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের অঙ্গীকার

কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত ও গভীর করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও জাপান।

বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ৭ম পররাষ্ট্র দফতর পর্যায়ের পরামর্শ সভায় উভয়পক্ষ এই অঙ্গীকার করে। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাপানের সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোইউকি।

পরামর্শ সভায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত ও গভীর করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো পরিসর নিয়ে ব্যাপক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী আলোচনা হয়।

এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সবুজ জ্বালানি, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এছাড়া জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় এবং জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পারিবারিক বিরোধে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৩ পি.এম


টাঙ্গাইলের মধুপুরে পারিবারিক বিরোধে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার কারণে ভাইয়ের হামলায় অপর ভাই নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মো. আবদুল হালিম ফকির (৬২) এবং এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীটেকি গ্রামে বেশ কিছু দিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত সাড়ে ১০টার সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় আবদুল হালিম ফকির মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনা সম্পর্কে জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরেই এই মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে পুলিশ জানিয়েছে।

খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরও ৫ ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিল ডিএসই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৪ পি.এম


আরও ৫ ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিল ডিএসই

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) চালুর লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি আরও পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিয়েছে।

সার্টিফিকেশন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এম্পেরর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, গ্লোবাল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, মো. ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এসআইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং স্টক অ্যান্ড বন্ড লিমিটেড।

আজ বুধবার ডিএসই’র বোর্ড রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে ফিক্স সার্টিফিকেশন তুলে দেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও মহাব্যবস্থাপক (মার্কেট ডেভেলপমেন্ট) সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের, উপমহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান, জিশান মুহাম্মদ বিন হাসানসহ ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

ডিএসই সূত্র জানাচ্ছে, ২০২০ সাল থেকে এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেস) ভিত্তিক ব্রোকার হাউজ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিএইচওএমএস) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত সময়ের ধারাবাহিকতায় নাসডাক ম্যাচিং ইঞ্জিনে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজের অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে লেনদেন সম্পাদনের জন্য ৯৩টি ব্রোকারেজ হাউজ ডিএসইতে আবেদন করেছে।

আজকের পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দেওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত মোট ৬৬টি ব্রোকারেজ হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন পেয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি ব্রোকারেজ হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজের অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে।

ডিএসই জানাচ্ছে, এপিআইভিত্তিক নিজের ওএমএস চালুর ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর লেনদেন পরিচালনা আরও আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাবে এবং পুঁজিবাজারের ডিজিটাল অবকাঠামো আরো শক্তিশালী হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে হামলা চালাতে গিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে মার্কিন সৈন্যরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৬ পি.এম


ইরানে হামলা চালাতে গিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে মার্কিন সৈন্যরা!

ইরানে দীর্ঘ সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে চরম মানসিক অবসাদে ভেঙে পড়ছেন মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর সামরিক নাবিক ও সৈন্যরা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী অভিযানের কারণে প্রায় ২১০ দিন ধরে টানা সাগরে ভাসতে থাকা এই যুদ্ধজাহাজে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চরম হতাশা ও নিম্ন মনোবলের কারণে বেশ কয়েকজন নাবিক জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। মার্কিন সামরিক বিষয়ক পত্রিকা মিলিটারি টাইমস, দ্য ক্রেডল ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন থেকে রণতরিটির এই নজিরবিহীন দুর্ভোগের কথা জানা গেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সান দিয়েগো থেকে রওয়ানা হওয়া আব্রাহাম লিংকন মে মাসে দেশে ফেরার কথা থাকলেও হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের কারণে মোতায়েনের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়। দেশে ফেরার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় নাবিকদের মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ সময় বন্দরে নোঙর না করায় জাহাজটিতে চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় নাবিকেরা জানান, কখনো কখনো দিনে তাদের কেবল আধা কাপ ভাত ও দুটি টরটিলা খেয়ে থাকতে হচ্ছে। সাবান ও টুথপেস্টের মতো মৌলিক জিনিসপত্রের মজুত শেষ হয়ে গেছে। ওপর দিকে টয়লেটগুলো নষ্ট, গোসলখানায় ছত্রাক জমে আছে এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ লন্ড্রি সেবা বন্ধ থাকায় চারদিকে তৈরি হয়েছে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এমন পরিস্থিতিতে নাবিকদের আত্মহত্যার চেষ্টার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। অ্যানাবেল লোমা নামের এক নারী মিলিটারি টাইমসকে জানান, তার স্বামী এই রণতরি থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে তাকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একইভাবে মারিয়া রদ্রিগেজ নামে অপর এক নারী জানান, তার স্বামী এক সহকর্মীকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া থেকে শেষ মুহূর্তে টেনে তুলে বাঁচিয়েছেন। দ্য ক্রেডল জানিয়েছে, অন্তত ছয়জন নাবিক এভাবে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সান দিয়েগোতে প্রায় ২০০ নাবিকের পরিবার বৈঠক করে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাওয়ের কাছে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত বন্দরে বিশ্রামের সুযোগ না দিলে আরও অনেক নাবিক মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারেন। যদিও এসব অব্যবস্থাপনা নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তারা দাবি করেছে নাবিকদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টকে আব্রাহাম লিংকনের জায়গায় পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%