মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৪ পি.এম
সিডনি বার্নিস সুইনি, একজন বিখ্যাত আমেরিকান অভিনেত্রী ও প্রযোজক, বর্তমানে হলিউডের অন্যতম সফল এবং আলোচিত তারকা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি, খেলাধুলাভিত্তিক বেটিং ও ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম নোভিগের প্রচারে নগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে। বিজ্ঞাপনটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর কিছু দর্শক অভিযোগ করেছেন যে, এতে নারীদেহকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নতুন এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিডনি সুইনি সমালোচনার সরাসরি জবাব না দিয়ে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কিছু রহস্যময় ছবি পোস্ট করেছেন। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিতে অভিনেত্রীকে নগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। শরীরের বিভিন্ন অংশ ঢাকতে ব্যবহৃত হয়েছে বাস্কেটবল, রাগবি বল ও স্পোর্টস জার্সি। বিজ্ঞাপনটির ধারণা ছিল— খেলাধুলার নানা উপকরণকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করে নজর কাড়া। তবে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর অনেক দর্শক প্রশ্ন তুলেছেন— এতে আসলে কী প্রচার করা হচ্ছে? নোভিগ একটি স্পোর্টস প্রেডিকশন মার্কেট ও ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে খেলাধুলার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন। সিডনি সুইনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অংশীদারত্বের পাশাপাশি এর ইকুইটি পার্টনারও হয়েছেন।
অলিম্পিক ক্রীড়াবিদরাও এই বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, বিজ্ঞাপন প্রচারে নারীর শরীরকে যৌন আবেদন তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা নারী খেলাধুলাকে যৌনতার দৃষ্টিতে দেখার প্রবণতাকে আরও উসকে দিয়েছে। অস্ট্রেলীয় সাঁতারু অবসরপ্রাপ্ত অ্যারিয়ার্ন টিটমাস সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চারবারের অলিম্পিক সোনাজয়ী এই সাঁতারু লিখেছেন— বিজ্ঞাপনটি দেখে তিনি কতটা ক্ষুব্ধ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
এমন বিজ্ঞাপন প্রচার প্রতিটি নারী ক্রীড়াবিদের প্রতি অপমানের শামিল। যেসব নারী বছরের পর বছর নিজেদের দক্ষতা শাণিত করেছেন, তাদের পাশাপাশি খেলাধুলাকে ভালোবাসেন এমন প্রতিটি নারীর প্রতিও এটি অসম্মান বলে জানিয়েছেন টিটমাস। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, খেলাধুলা যেখানে দলগত কাজ, বন্ধুত্ব, নিষ্ঠা, উৎকর্ষ ও ঐক্যের প্রতীক, সেখানে নারীর শরীরকে পণ্য বানিয়ে অর্থ উপার্জনের প্রবণতা এখনো কেন টিকে আছে।
এ বিজ্ঞাপনটির বিরুদ্ধে আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়াটার পোলোতে অলিম্পিক রৌপ্যজয়ী টিলি কার্নসও। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন— ‘সিডনি সুইনির নতুন স্পোর্টস বিজ্ঞাপনটি আমি একেবারেই ঘৃণা করি।’
বিজ্ঞাপনটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার আগেই নোভিগের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিডনি সুইনি নিজের অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল— একটি মজার ধারণাকে সামনে আনা এবং খেলাধুলাকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে রাখা।
অভিনেত্রী বলেন, ‘ক্যাম্পেইনটি ছিল একটি মজার ধারণাকে গ্রহণ করার বিষয়ে। প্রচারের পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয়েছিল, যাতে নানা কোলাহলের মধ্যেও খেলাধুলার বিষয়টি আলাদা করে নজরে আসে।’ অন্যদিকে, নোভিগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাকব ফোর্টিনস্কিও সিডনি সুইনির সঙ্গে অংশীদারত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। এফওএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অভিনেত্রী নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে মানুষের নানা অনুমান ও ভবিষ্যদ্বাণীতে অস্বস্তি বোধ করতেন। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে কাজ করার সুযোগই নোভিগের সঙ্গে অংশীদারত্বে তাকে আকৃষ্ট করেছিল।
কমপ্লেক্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিডনি সুইনি বলেন, এ বিজ্ঞাপনের সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় তিনি শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন। প্রকল্পটির একেবারে গোড়া থেকেই তিনি এর সঙ্গে ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা লেনদেন এবং বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।
ফেসবুক লাইভে আসিফ মাহমুদ অভিযোগের তদন্ত নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ক্ষোভ মেটানোর উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে। তার মতে, তদন্তে শেষ পর্যন্ত তিনি নিরপরাধ প্রমাণিত হলেও, ততদিনে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়ে যাবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজ থেকে হয়তো কিছুদিন পর অথবা কয়েক বছর পর দুদকের এই অনুসন্ধানে শেষ পর্যন্ত আমাকে নিরপরাধও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু যখন আমাকে নিরপরাধ পাওয়া যাবে, তখন পর্যন্ত যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যাবে। মানে পাবলিক পারসেপশন—পলিটিক্স তো আসলে পারসেপশনের ওপর চলে। এই পারসেপশনে ক্ষতি করার মধ্য দিয়ে আমার পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার বলেন, এবং আমাকে ধরা মানে তো শুধু আমাকে ধরে না, আমাকে আমার বিরুদ্ধে এই ন্যারেটিভ করা তো অনেকেই উল্লাস নিয়ে করে যে—দেখো, গণঅভ্যুত্থানটা আসলে ঠিক হয় নাই। গণঅভ্যুত্থানের নেতারা দেখো এরকম।’
সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এই অভিযোগের রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘আমি এমন কিছু করি নাই যেটা আমার গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, আমার বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট, সেটাকে ব্রেক করে, সেটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু ওই প্রমাণিত হইতে হইতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। ততদিনে হয়তো এই ন্যারেটিভ দিয়ে আমি সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করতে যাচ্ছি, সেখানে আমাকে জনগণের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করা হবে, আমাকে হারিয়ে দেওয়া হবে।’
আসিফ মাহমুদ রাজনৈতিকভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা জানান। তিনি বলেন, ‘হয়তো এই ন্যারেটিভ দিয়ে আমাকে রাজনৈতিকভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করা হবে। এই ন্যারেটিভ দিয়ে তো সবকিছু হয়।’
দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি যারা পরিচিত আছে—সরকারের আশেপাশে এবং যারা হয়তো খোঁজখবর রাখেন বিভিন্ন কার্যক্রমের। এবং কথা বলে যেটা আমি বুঝতে পেরেছি, এই বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে ক্ষোভ মেটানোর জন্যই আমার বিরুদ্ধে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন খুবই উচ্চপর্যায়ের নেতা, তারা বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে সরকার থাকা অবস্থায় আমার বিভিন্ন কার্যক্রমে তারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই এই পুরো প্রক্রিয়া চলমান আছে। আসলে এটার এই প্রক্রিয়ায় কোনো কিছু প্রমাণ করার কোনো ইনটেনশন আছে বলে আমার প্রাইমারিলি মনে হয়নি।’
আসিফ মাহমুদ অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, এসব অভিযোগকে প্রমাণ করার চেয়ে সংবাদ কনটেন্ট হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা বেশি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটাকে একটা নিউজ কনটেন্ট হিসেবে মোর কনজিউম করানোর একটা চেষ্টা বা একটা প্রচেষ্টা আমরা শুরু থেকে দেখে আসছি।’
বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এখানে যেই কথা বলা আছে যে, চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা—এক টাকা যদি দেশের বাইরে কোথাও পাওয়া যায়, আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাইরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণা দেশের বাইরে সে কিনেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে, কেউ যদি আমাকে বলে যে তুমি দশ বছর জেল খাটবা না দেশের বাইরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা, আমি তখন দশ বছর জেল খাটাটাকে আমি চুজ করব। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটাই স্ট্রং।’
আসিফ মাহমুদ অভিযোগে তার দুই ভগ্নিপতি ও এক ভাগ্নে জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার আসলে ভায়রাভাই দুজন নাই, আমার বড় বোনই শুধুমাত্র বিবাহিত, একজন ভায়রাভাই আছেন। এবং আমার যেই ভাগ্নে আছে, আমার ভাগ্নের বয়স হচ্ছে আড়াই থেকে তিন বছর বয়স। তো একটা আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের বাচ্চা, যে মাত্র হাঁটা শিখেছে—আপনারা তাকে পর্যন্ত এটার মধ্যে মানে টেনে আনলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের বাচ্চাকে আপনারা এলিগেশন দিচ্ছেন মানি লন্ডারিংয়ের! মানে এটা খুবই দুঃখজনক।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজকে আমরা খুব দুঃখজনকভাবে দেখতেছি, এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে যেই সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসলো, তারা এই গণঅভ্যুত্থান যাদের বিরুদ্ধে হয়েছে, তাদের ন্যারেটিভে আমাদেরকে দমন-পীড়নের পথ তারা বেছে নিয়েছে।’
তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা দুইটা পক্ষ দেখেই একটু বিচারটা করবেন। জাস্ট এইরকম ক্লিকবেইট শিরোনাম দেখেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবেন না। আমাদেরকে আমাদের কথাটা বলার সুযোগ করে দেবেন।’
সরকার ও গণমাধ্যমের বক্তব্য যাচাই করে দেখার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সরকার এবং যারা, যাদের হাতে ক্ষমতা—তাদেরকে কখনো আনকোশ্চেন্ডভাবে বিলিভ করার আসলে সুযোগ নাই। এবং দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিক্যালি না দেখে এখন আর উপায় নাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ায় সংসদ নির্বাচন এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের জনগণের মতামত জানার জন্য রুশ সরকার এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। নির্বাচনটি ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর এটি দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালে পুতিনের পুনর্নির্বাচনের পর এটি রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ জাতীয় নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে।
যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে রাশিয়ার জনগণ বর্তমানে ক্লান্ত। ইউক্রেনের পাল্টা হামলাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে অনেকের আশঙ্কা, নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন সৈন্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের কিছু অঞ্চলে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং দেশটির অনেক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সময়ে, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
রাশিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমালোচনা নিষিদ্ধ হওয়ায় নির্বাচনে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। ফলে, পুতিনের দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ আবারও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক এএফপিকে জানিয়েছেন, যদিও এই নির্বাচন ‘একটি প্রহসন’, ক্রেমলিনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য রুশ সরকার ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করবে। নির্বাচনের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত থাকলেও এর গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন নির্বাসনে থাকা রুশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নিকোলাই পেত্রভ।
নিকোলাই পেত্রোভ এএফপিকে বলেছেন, "সোভিয়েত আমলের মতো এই নির্বাচনেও রাশিয়ার নাগরিকদের সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও আনুগত্য দেখানোর কথা।"
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নিকোলাই পেত্রোভ আরও বলেন, ২৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, দেশের সাধারণ মানুষ এখনো তাকে সমর্থন করেন এবং তার ওপর আস্থা রাখেন, এমন বার্তা অভিজাতদের কাছে পৌঁছায়। রাশিয়ার সংসদের মোট ৪৫০টি আসনের অর্ধেক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। বাকি অর্ধেক আসনে সরাসরি প্রার্থীদের ভোট দেওয়া হবে।
জাতীয় নির্বাচনে শুধুমাত্র পুতিনপন্থী এবং যুদ্ধ সমর্থনকারী দলগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড রাশিয়া, কমিউনিস্ট পার্টি, এ জাস্ট রাশিয়া, এলডিপিআর এবং নিউ পিপল। রাশিয়ায় সক্রিয় একমাত্র যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকোকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
মস্কোর ১৮ বছর বয়সী ইয়েভদোকিয়া এএফপিকে জানিয়েছেন, "নির্বাচনে আসলে কোনো বিকল্প নেই।" তিনি পূর্বে ইয়াবলোকোকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় এখন তিনি নিউ পিপলকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সরকার দেশে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে, যা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আর দেখা যায়নি।
পুতিনের প্রধান বিরোধীদের অনেকেই বর্তমানে কারাগারে, নির্বাসনে অথবা মারা গেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অ্যালেক্সেই নাভালনি, যিনি ২০২৪ সালে রাশিয়ার একটি কারাগারে মারা যান। পুতিনের শাসনামলে রাশিয়ার সংসদের ক্ষমতা অনেক কমে গেলেও অতীতে সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের উত্তেজনা দেখা গেছে। ২০১১ সালের সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে পুতিনের ক্রেমলিনে ফিরে আসার ঘোষণার পর রাশিয়ায় বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর সেটিই ছিল দেশটির অন্যতম বড় বিক্ষোভ। তবে এ বছর মস্কোতে নির্বাচনের প্রচারণা তেমন দেখা যাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কিছু পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যেখানে লেখা রয়েছে, ‘আপনার কণ্ঠই রাশিয়ার শক্তি।’
শুধু পুতিনপন্থী দলগুলোর অংশগ্রহণ
এই নির্বাচন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার জনগণের মনোভাব বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। এই যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে এবং যুদ্ধের প্রভাব রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়েছে, এমনকি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা মানুষের জীবনেও।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। মস্কো এসব হামলাকে রাশিয়ার হামলার জবাব হিসেবে বিবেচনা করছে। এসব হামলার ফলে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে, বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে এবং বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে, নির্বাচনের পর রাশিয়া নতুন করে সেনা নিয়োগের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া প্রায় ৩ লাখ রিজার্ভ সেনাকে যুদ্ধে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এই কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিজেই জানাতে হয়েছে যে, নির্বাচনের পর নতুন করে সেনা সমাবেশের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ক্রেমলিনের সমালোচক, ইউক্রেন এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ অভিযোগ করেছে, রাশিয়ার এমন পরিকল্পনা থাকতে পারে।
রাশিয়ার নিষিদ্ধ কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের রুশ বিশেষজ্ঞ তাতিয়ানা স্তানোভায়া মনে করেন, নতুন করে সেনা তলবের সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, "রাশিয়ার মানুষকে এ নিয়ে চিন্তা না করতে বোঝানোর জন্য তারা এত চেষ্টা করেছে। তাই এমন কিছু ঘটলে আমি খুবই অবাক হব।"
তার মতে, নির্বাচনে সহজ জয়ের মাধ্যমে পুতিন নিজের বৈধতার স্বীকৃতি দেখাতে চাইবেন। একই সঙ্গে তিনি এই ফলাফলকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন হিসেবেও তুলে ধরতে পারেন।
সংহতির ভয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব বিনোদন দুনিয়ার ঝলমলে আলোকচ্ছটার পেছনের গল্পটি যদি কারো নকশায় আঁকা হয়ে থাকে, তবে তিনি বব ম্যাকি। শের, টিনা টার্নার, ডলি পার্টন এবং এলটন জনের মতো কালজয়ী তারকাদের রূপালী পর্দা ও মঞ্চের জাদুকরী উপস্থিতি ফুটিয়ে তুলতে তিনি ছিলেন অগ্রগামী। ফ্যাশন জগতে ‘সুলতান অব সিকুইনস’ নামে পরিচিত এই আমেরিকান কস্টিউম ডিজাইনার ৮৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
১৯৩৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্কে জন্মগ্রহণকারী এই পথপ্রদর্শকের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ফরাসি-আমেরিকান পোশাকশিল্পী জঁ লুইয়ের স্কেচ আর্টিস্ট হিসেবে। ১৯৬২ সালে জন এফ কেনেডিকে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গাওয়ার রাতে মেরিলিন মনরো যে আইকনিক পোশাকটি পরেছিলেন, তার স্কেচও তিনি তৈরি করেছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৯টি এমি, একটি টনি অ্যাওয়ার্ড এবং তিনটি অস্কার মনোনয়ন অর্জন করেন।
পপতারকা শের-এর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রভাবশালী রূপকার হিসেবে ম্যাকি পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালের অস্কারে শের-এর পরা ঐতিহাসিক ‘মোহক’ শিরোভূষণ ও সাহসী পোশাকটির ডিজাইনার তিনিই। মার্কিন টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো পোশাকের মাধ্যমে তারকার নাভি প্রদর্শনের মতো সাহসী পদক্ষেপের পেছনে তার নকশার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নবীন প্রজন্মের সঙ্গেও তিনি ছিলেন সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ২০২৪ সালের গ্র্যামিতে মাইলি সাইরাসের বিজয়ী মুহূর্তের পোশাক কিংবা সম্প্রতি সাবরিনা কার্পেন্টারের রেড কার্পেট লুক—সবকিছুতেই তার ছোঁয়া ছিল।
জীবনের শেষ দিনগুলো পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে এই শিল্পী একবার বলেছিলেন, কাজ থেকেই কখনো অবসর নিতে চান না তিনি। ৮৭ বছরের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ জীবন শেষে তার প্রয়াণে ফ্যাশন দুনিয়ায় একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে, তবে তার তৈরি চোখধাঁধানো সৃষ্টিগুলো তারকাদের রূপালী ছন্দে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের পাশে সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় থাকবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁরা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।’
পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
এ ছাড়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদ সেনাসদস্যদের স্থায়ী ঠিকানায় তাঁদের পরিবারের জন্য একটি করে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁদের স্ত্রীদের চাকরির ব্যবস্থা এবং সন্তানদের জন্য মাসিক ভাতা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে দুই সেনাসদস্য শহীদ হন। শহীদদের মধ্যে সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক এবং সৈনিক (গানার) মো. তাসনিম রিফায়াত অন্তর্ভুক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে আবু বকর সিদ্দিকের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জুতি, শিশু কন্যা ফাতেমা সিদ্দিকা, বাবা আব্দুল ওহাব ও মা পারভীন আক্তার।
মো. তাসনিম রিফায়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী মোসা. ফাহমিদা আফরিন, শিশু কন্যা রাফসা তাসনিম ইফরা এবং বাবা মো. আসাদুল হক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ