০৪:৫৫ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন জাতীয় সংসদের সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা। সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করেছেন যে, সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
শনিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা (এমপি) এসব কথা বলেছেন। আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
প্রস্তাব উত্থাপন করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদের পর সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি জানিয়েছেন, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
তিনি আরও বলেছেন, চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে এবং চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চীনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলে বা দেশে ফিরলে রাস্তাঘাট বন্ধ করে বিশাল সংবর্ধনার আয়োজন করা হতো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে এই প্রথা বন্ধ করে দিয়ে রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
প্রস্তাব সমর্থন করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘বিরাট সাংস্কৃতিক পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সফরের অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, জ্বালানি ও বিনিয়োগের বড় স্বার্থ রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীনের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তা কীভাবে কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
তিনি যোগ করেন, পারস্পরিক সম্মান, সমস্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বকীয়তার ওপর ভিত্তি করেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী সেই ধারা অব্যাহত রেখে আগামীর বাংলাদেশের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করেছেন।
ট্রেজারি বেঞ্চ ও বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্য শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে স্পিকারের বক্তব্যকে স্বাগত জানান।
স্পিকার আরও বলেছেন, এই সফরের ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা আরও সংহত হবে। এটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, অতীতের অনেক সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণ না করলেও, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই সাফল্যে দেশবাসী অত্যন্ত আশান্বিত।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন