আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০৪:৫৬ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং দরিদ্র ও মেধাবী মেয়েদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করতে শিক্ষা সহায়ক উপকরণ ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মধুপুর সদর উপজেলার সিডিপি প্রকল্প কার্যালয়ে এ সহায়তা বিতরণ করা হয়। বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) পরিচালিত সিডিপি প্রকল্পের উদ্যোগে এবং জার্মান দাতা সংস্থা লিচ ব্রুকের অর্থায়নে প্রকল্পের আওতায় গঠিত নারী ও কৃষক অ্যাসোসিয়েশনের দরিদ্র ও মেধাবী মেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ৫৪ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি স্কুলব্যাগ, একটি জ্যামিতি বক্স, পাঁচটি অঙ্কের খাতা, ছয়টি কলম এবং নগদ ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
শিক্ষা সহায়ক উপকরণ ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিডিপি প্রকল্প, বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস)-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মিলন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মহিউদ্দিন আহমাদ, এমএফপির রিজিওনাল ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলাম, মধুপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আঃ হামিদ, বিজিএস মধুপুরের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. ফিরোজ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিজিএসের সহকারী হিসাবরক্ষক শেখর মিত্র বড়ুয়া, পিও (কৃষি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার (ইন্সটিটিউশন বিল্ডিং) মো. সুরুজ মিয়া, এসডব্লিউ মো. নুর আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক দুটি পদে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। এই তথ্য জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের মাধ্যমে। পদ দুটি হলো ‘সিস্টেম ম্যানেজার’ এবং ‘প্রিন্সিপাল অফিসার’। আগ্রহী প্রার্থীরা ২৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
সিস্টেম ম্যানেজার পদে একজন এবং প্রিন্সিপাল অফিসার পদে ৬১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।
কোন পদে কত বেতন—
সিস্টেম ম্যানেজার পদটি তৃতীয় গ্রেডের। এই পদের জন্য বেতন স্কেল ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রিন্সিপাল অফিসার পদটি ষষ্ঠ গ্রেডের। এই পদের বেতন স্কেল ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। উভয় পদের জন্য বেতনের সঙ্গে অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হবে, যদি কেউ চাকরি পান।
সিস্টেম ম্যানেজার পদে আবেদন করার জন্য যোগ্যতা—
প্রার্থীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।
এছাড়া, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট অথবা সিনিয়র রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবে অন্তত চার বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রি বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে অন্তত দুটি প্রকাশনা থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।
প্রিন্সিপাল অফিসার পদে যোগ্যতা—
প্রিন্সিপাল অফিসার পদের জন্য প্রার্থীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি, অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার পদে অন্তত দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। শিক্ষাজীবনে অন্তত একটি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।
বয়সসীমা
২০২৬ সালের ১ জুন তারিখে সিস্টেম ম্যানেজার পদের প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছর হতে হবে। প্রিন্সিপাল অফিসার পদের জন্য বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৩৫ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদন যেভাবে—
আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ২০০ টাকা। ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইটে যেতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীতে গার্মেন্টকর্মী হাসনা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে মো. আলমাস বেপারী নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একইসঙ্গে, তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আলমাস বেপারী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার পূর্ব উজানচর হাজী গফুর মণ্ডলপাড়ার মাহাম বেপারীর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত হাসনা বেগম (৩৬) সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের একটি গার্মেন্টে অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসায় ফিরে না আসায়, পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কর্মস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে কাজ শেষে হাসনা গার্মেন্ট থেকে বের হয়ে যান।
পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার হাবিল মণ্ডলপাড়ায় অনুর বাড়ির দক্ষিণ পাশে কালভার্টসংলগ্ন পাকা সড়কের পূর্ব পাশের ঢালে হাসনা বেগমের মরদেহ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল।
নিহত হাসনা বেগমের ছেলে মো. হাসান আলী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত বুধবার এ রায় দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি) আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গের মতে, চলমান পঞ্চম চক্র শেষ হওয়ার পর পরবর্তী চক্রে সব টেস্ট খেলুড়ে দেশকে এই প্রতিযোগিতার আওতায় আনা হতে পারে।
বর্তমানে ৯টি দল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দলগুলোর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২-তে। টেস্ট খেলুড়ে প্রতিটি দেশের জন্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন গ্রিনবার্গ।
তবে নতুন তিনটি দল—জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের অবকাঠামো ও সামগ্রিক সক্ষমতার দিক থেকে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড এখনও পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তান নিজেদের দেশে টেস্ট আয়োজন করতে সক্ষম হয়নি এবং তাদের ভাড়া করা ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
গ্রিনবার্গ মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেট পরিচালনার ক্রমবর্ধমান ব্যয় অনেক দেশের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ম্যাচ আয়োজনের পাশাপাশি একজন ক্রিকেটারকে টেস্ট খেলার উপযোগী করে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটের কারণে কিছু পূর্ণ সদস্য দেশ হয়ত নিয়মিত টেস্ট খেলতে অক্ষম হতে পারে। বিশেষ করে নিজেদের দেশে টেস্ট সিরিজ আয়োজনের মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে তাদের বিদেশে বেশি ম্যাচ খেলতে হতে পারে।
গ্রিনবার্গের মতে, পারস্পরিকভাবে সিরিজ আয়োজনের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তন করা প্রয়োজন। কারণ এভাবে চলতে থাকলে কিছু দেশের ক্রিকেট বোর্ড আর্থিকভাবে বড় চাপের সম্মুখীন হতে পারে।
নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের জন্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ম্যাচের সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। বর্তমানে দলগুলো সাধারণত প্রতিটি সিরিজে অন্তত দুটি টেস্ট খেলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম তীরের হেব্রনে এক ফিলিস্তিনি যুবককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করার পর বর্বর ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা তার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলেছে। এই নৃশংস ও অবমাননাকর ঘটনার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদসূত্রে জানা যায়, হেব্রনের পূর্বে বেনি নাইম শহরের প্রবেশমুখে মাহমুদ হানি ইদআইস (৪১) নামের ওই ফিলিস্তিনি নাগরিকের গাড়ি লক্ষ্য করে আচমকা গুলি চালায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়, যা স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ‘শিহাব ওয়্যার’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ঘটনার আরও এক চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক দৃশ্য। ফিলিস্তিনি যুবকের মৃত্যুর পর তার লাশটি একটি সামরিক গাড়িতে তোলার সময় দুই ইসরায়েলি সেনা অত্যন্ত পৈশাচিকভাবে লাশের সাথে হেসে সেলফি তোলে। পুরো বিষয়টি ক্যামেরা বন্দি হয়।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যাকারী ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতিনিয়ত এমন সহিংসতা ও লাশ অবমাননার ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ