শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫০ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব এবং রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মন্তব্য করেছেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জনতার যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সেই জোয়ার থামানোর ক্ষমতা কারও নেই। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, ‘শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় পরিচয়ধারীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এর আগে এমন নিয়োগের উদ্দেশ্য কী—তা সহজেই বোঝা যায়।’
তিনি অভিযোগ করেন, সামনের নির্বাচনের জন্য দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার নতুন পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশে আর আওয়ামী লীগের আমলের মতো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
রাতের ভোট এবং একতরফা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মতো একতরফা নির্বাচন, রাতের ভোট কিংবা ভোটকেন্দ্র দখলের রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচন দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে নির্বাচনের কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে আখতার হোসেন বলেন, এই কর্মসূচিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা আর থামানো যাবে না। ‘ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জনতার যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, সেই জোয়ার থামানোর ক্ষমতা কারও নেই।’
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়ে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নদীর জলকে কেটে কেটে একত্রে ছুটে চলছে দৌড়ের নাও। নৌকার দুই পাশে মাঝিদের সারি রয়েছে।
গায়েনের গানের তালে তালে তাদের শক্ত হাতে বৈঠা চলছে একসঙ্গে। প্রতিযোগিতার উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে বৈঠার গতি বৃদ্ধি পায়। মাঝিরা কোরাস গাইতে থাকে, এবং মিলিত ধ্বনি ওঠে ‘হেইও, হেইও’। নদীর দুই পাড় মুখর হয়ে ওঠে।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদী এবং এর দুই পাড়ে বসে এমন উৎসবের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচের এই প্রতিযোগিতা শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শুরু হয়। এতে অংশগ্রহণ করে ১০টি নৌকা।
নৌকাবাইচ দেখার জন্য সকাল থেকেই সুরমা নদীর দুই পাড়ে হাজারো মানুষের ভিড় জমে।
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত এই আয়োজনে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।
স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় শত বছরের পুরনো। এক সময় নিকলীতে প্রতিবছর ভাদ্র মাসের প্রথম দিন নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। তবে কালের বিবর্তনে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।
সূত্র জানায়, নিকলীতে ৯ বছর আগে শেষবার নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর ইটনায় প্রায় ৫০ বছর আগে নৌকাবাইচ হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই এবার ইটনায় এই আয়োজন করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের উৎসাহে ধনপুর ইউনিয়নবাসী এই আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ছিল সোনার হরিণ, দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল রূপার ময়ূর এবং তৃতীয় পুরস্কার এলইডি টিভি। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী নৌকার মালিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উম্মে কুলসুম রেখা। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, "নৌকাবাইচ ভাটিবাংলার উৎসব। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনে যুক্ত করাও এর লক্ষ্য।"
আয়োজক কমিটির সদস্য এবং ধনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ভজন কান্তি দাস বলেন, "সকাল থেকেই মানুষ নৌকা নিয়ে সুরমা নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন। দুপুরে লোকসমাগম লাখ ছাড়িয়ে যায়। পুরো আয়োজন পরিণত হয় বড় উৎসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, "স্বৈরাচারের সময়ে যারা গুপ্তবেশে লুকিয়ে ছিল, এখন তারা কি অরাজকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে?"। তিনি বলেছেন, "স্বৈরাচারের সময় একটি রাজনৈতিক দল গুপ্তবেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। পরবর্তীতে তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে বিষয়টি স্বীকার করেছে।" বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে স্বৈরাচারী শক্তি আবারও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। "করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" স্লোগানে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
অরাজকতা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা
তারেক রহমান বলেন, "আমরা খেয়াল করছি, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিভ্রান্তির মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।"
তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের ধারা সমুন্নত রাখবে এবং গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা সর্বোচ্চভাবে অনুসরণ করবে। তবে কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, দেশের আইনে অরাজকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তা বলা আছে।
"সরকার হিসেবে এবং শুধু সরকার হিসেবে নয়, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—প্রত্যেকের প্রত্যেকের সীমার মধ্যে থাকা দরকার," বলেন তিনি।
গুপ্তদের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, "যারা গুপ্ত তারা যদি সেই স্বৈরাচারকেই আবার সামনে নিয়ে আসার কাজ করে, তাহলে জনগণের সামনে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে।" কয়েকদিন আগে গুপ্তদের একজন নেতা বলেছেন, "তাদের এতে আপত্তি নেই।" তাহলে দেখা যাচ্ছে, একজন আরেকজনকে বিভিন্নভাবে গুপ্ত রাখার চেষ্টা করছে।
জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে। কে কাকে গুপ্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।"
তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের "গুপ্ত বাহিনী" একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। ১৯৭১, ১৯৮৬, ১৯৯৬ সাল, গত এক যুগ এবং বর্তমান সময়েও তারা বিভিন্নভাবে একে অন্যকে আড়াল করে চলেছে। তাদের এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
জ্বালানি সংকটে মানুষের কাছে ক্ষমা
দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জ্বালানির কারণে দেশের মানুষ কষ্টে আছে—এটি সরকার অস্বীকার করছে না।" এ জন্য দল ও সরকারের পক্ষ থেকে তিনি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।
তিনি বলেন, "দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব বাংলাদেশি দেখেছেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশ কীভাবে পরিচালিত হয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কীভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, দেশকে কীভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে আমদানিনির্ভর করে দেওয়া হয়েছে—মানুষ তার সবই পর্যবেক্ষণ করেছে।"
"সেজন্যই বিগত নির্বাচনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে," বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, "স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপি তার নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের নিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে কাজ করেছে। এবারও একই প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে জনগণ বিএনপির ওপর দায়িত্ব দিয়েছে।"
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বহু সমস্যা পেয়েছি
সরকার গঠনের পর একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, "সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হয়েছে।" শুধু ভঙ্গুর অর্থনীতি নয়, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বহুবিধ সমস্যা তারা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন।
তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জ্বালানি সংকট। বহু মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে আছেন। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে এ সমস্যা সমাধানে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।"
কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ভবিষ্যতে বিশ্বে আবারও বিভিন্ন ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তখন যেন বাংলাদেশের মানুষ জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সেভাবেই বিএনপি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে।"
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে থাকা সাধারণ মানুষ এবং শিল্পকারখানার মালিকদের কাছেও দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার
তারেক রহমান বলেন, "বিএনপি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দেশকে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে।" গণতন্ত্রের জন্য দলের শত-হাজারো নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তিনি বলেন, "বিএনপি একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এমন একটি গণতন্ত্র চায়, যেখানে রাজনৈতিক দলের মানুষ কিংবা সাধারণ নিরপেক্ষ মানুষ—প্রত্যেকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন। কাউকে বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।"
তবে তিনি বলেন, "স্বৈরাচারী সরকার কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা—যে সমস্যাই হোক, সরকার সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। সরকার কখনো বলেনি যে দেশে কোনো সমস্যা নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে এবং সরকার সেগুলো সমাধানে কাজ করছে।"
রাজনৈতিকখবর আপডেট
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, "ছয় মাস আগে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে বিএনপি জনগণের সামনে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।"
নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সম্মানজনক ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জনগণকে জানানো হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া এসব প্রতিশ্রুতির প্রতিটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
জনগণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি নীতি
তারেক রহমান বলেন, "বিধ্বস্ত অর্থনীতির মধ্যে একটি যুদ্ধ সামাল দিয়ে সরকার দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে জনগণের ওপর যাতে যতটা সম্ভব কম চাপ পড়ে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।"
মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সরকার দীর্ঘদিন পর্যন্ত জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়ে কিছুটা দাম বাড়ানো হয়েছে।"
সাম্প্রতিক বাজেটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, "সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়নি। বরং এসব পণ্যের মধ্যে বেশ কিছু পণ্যের ওপর কর আরও কমানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা।"
বিএনপিই সুনির্দিষ্ট ম্যানিফেস্টো দিয়েছে
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, "নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক ম্যানিফেস্টো উপস্থাপন করেছে।" অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সেভাবে ম্যানিফেস্টো উপস্থাপন করেনি। তারা নানা ধরনের "গায়েবি" প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।
তার ভাষ্য, "বিএনপিই জনগণের সামনে কংক্রিট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। দেশের প্রতিটি সংকটকালীন অবস্থায় বিএনপি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করেছে। এর সুফল শেষ পর্যন্ত জনগণই ভোগ করেছে।"
২৫ কোটি গাছ লাগানোর আহ্বান
বিএনপির নেতাকর্মীদের দেশ গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, "আগামী পাঁচ বছরে পরিবেশ রক্ষায় সরকার ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করতে চায়।"
তিনি বলেন, "বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী যদি প্রত্যেকে প্রতিবছর পাঁচটি করে গাছের চারা রোপণ করেন, তাহলে শহীদ জিয়াউর রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, খালেদা জিয়ার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের সহযোগিতা করা সম্ভব হবে।"
পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন
শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সরকার সেই কর্মসূচি আবার চালু করেছে।" আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কর্মসূচিতে গর্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর মাধ্যমে নিজেদের দলের একজন সত্যিকারের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান
বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, "ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতী দল, আইনজীবী দল, মৎস্যজীবী দলসহ বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে।" দেশের গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও পৌরসভায় দলের কমিটিও রয়েছে।
এসব সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেখানে ময়লা-আবর্জনা রয়েছে, সেখানে জনগণকে উৎসাহিত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দলকে বিব্রত করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, "কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে দলকে বিব্রত করতে না পারে।"
তিনি বলেন, "দলের নাম ব্যবহার করে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটিকে দলের নেতাকর্মীদের প্রতিজ্ঞা হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।"
স্বৈরাচারের সময়ে বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বিশ্বের বহু দেশের জনসংখ্যাই ৫০ লাখের কম। দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর মধ্যে কেউ হয়তো কোথাও এমন কিছু করে থাকতে পারেন, যা দল ও দেশকে বিব্রত করেছে।"
তিনি বলেন, "সবাইকে এমপি বা মন্ত্রী করা সম্ভব নয়। অধিকাংশ দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী দীর্ঘ সময় কর্মী হিসেবেই থাকেন। তবে যারা সত্যিকার অর্থে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নেতা এবং খালেদা জিয়াকে ‘মা’ হিসেবে মানেন, তাদের দেশ ও দল গঠনের কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে।"
শহীদ ও আহত নেতাকর্মীদের স্মরণ
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, "খালেদা জিয়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন।" দলের প্রতিষ্ঠা থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সময়ে যারা আহত ও শহীদ হয়েছেন, তাদেরও স্মরণ করেন তিনি।
শহীদ নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহত ও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শেষে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ্য করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, তা স্বৈরাচারী আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা হোক, সবগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।’
আজ (শনিবার) বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে বিকেল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই সভার সূচনা হয়।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনার জন্য। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলা আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।’
দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রিক এফ-৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত প্রদর্শনী চলাকালে
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের নিকটবর্তী তানাগ্রা বিমানবন্দরে বিমান প্রদর্শনীর সময় একটি এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। শনিবারের এই ঘটনার পর ওই বিমানের দুই পাইলটের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
গ্রিক বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা
-কে জানান, যুদ্ধবিমানটি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দর্শকদের কাছ থেকে কয়েক শ মিটার দূরে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে। ঘটনাস্থলে দুটি হেলিকপ্টার আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে।
বিমানবাহিনীর ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
দর্শকদের মধ্যে কেউ আহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ