ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশাল নগরীতে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসছে সাড়ে পাঁচ হাজার মিটার


বরিশাল নগরীতে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসছে সাড়ে পাঁচ হাজার মিটার

বরিশাল নগরীর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সাশ্রয়ী করতে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে নগরীতে নতুন করে সাড়ে পাঁচ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে প্রথম ধাপে এক লাখ গ্রাহকের পোস্টপেইড মিটার পরিবর্তন করে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি ৫০ হাজার গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন করা হবে। নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে পোস্টপেইড মিটারের পরিবর্তে প্রিপেইড মিটার সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা বিদ্যুৎ বিভাগের রয়েছে।

জেলা বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার দেওয়া হচ্ছে। গ্রামাঞ্চল ছাড়া কোনো গ্রাহককে পোস্টপেইড মিটার দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরের গ্রাহকদের পোস্টপেইড মিটার পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার কাজ চলছে। প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে মাঠপর্যায়ে মিটার রিডার ও বিল প্রস্তুতকারীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে কঁচা নদীতে অভিযান, আড়াই হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া, বিল তৈরি ও বিতরণের জন্য বিপুল জনবল ও যাতায়াত ব্যয়ের প্রয়োজন হতো। ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে এখন সেই ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি শতভাগ অগ্রিম রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আর্থিক তারল্য সংকট কমেছে। বকেয়া বিল আদায়ে সরকারের যে বিপুল অর্থ ও আইনি ব্যয় হতো, তা এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এ কারণে সরকার গ্রাহকদের কাছে প্রিপেইড মিটার পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রিপেইড মিটার চালুর অন্যতম বড় সাফল্য হলো সিস্টেম লস বা বিদ্যুৎ চুরি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়া। অবৈধ সংযোগ ও মিটার টেম্পারিংয়ের মতো নন-টেকনিক্যাল ক্ষতি রোধ হওয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুতের সঠিক মূল্য সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে। পাশাপাশি অগ্রিম রিচার্জের অভ্যাস গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করছে, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সহায়ক।

গ্রাহক ভোগান্তি ও অসন্তোষ কমাতে সরকার প্রিপেইড মিটারের মাসিক অতিরিক্ত চার্জ ও ভাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে। এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরো জনবান্ধব করা হয়েছে বলে মনে করছেন গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের মতে, প্রিপেইড মিটারের অন্যতম সুবিধা হলো বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাওয়া যায়। মিটারে থাকা ব্যালান্স দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ফলে মাস শেষে হঠাৎ বড় অঙ্কের বিল আসার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

আরও পড়ুন: কাউখালী সাপ্তাহিক হাটে ফুটপাত ও সড়ক দখলের মহোৎসব: ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

আগের পোস্টপেইড ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ে বিল হাতে পাওয়া, মিটার রিডিং এবং বিলের পরিমাণ নিয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। প্রিপেইড মিটারে সেই আশঙ্কা নেই। বিভিন্ন মাধ্যমে রিচার্জ করার সুযোগ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিল পরিশোধের প্রয়োজন হয় না। এতে সময় ও যাতায়াতের ঝামেলা কমে। এছাড়া ব্যালান্স কমে গেলে গ্রাহক আগে থেকেই তা জানতে পারেন।

ফলে অপ্রয়োজনীয় বাতি, ফ্যান বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, যারা প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন, তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। প্রিপেইড মিটারে যেমন ভৌতিক বিলের সুযোগ নেই, তেমনি বিল বকেয়া রাখারও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে বরিশাল নগরীতে দেড় লাখ পোস্টপেইড মিটার রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন সাড়ে পাঁচ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এক লাখ পোস্টপেইড মিটার প্রিপেইড মিটারে প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি ৫০ হাজার পোস্টপেইড মিটারও প্রিপেইড মিটারে প্রতিস্থাপন করা হবে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপূজাকে সামনে রেখে বরিশালে পূজার সামগ্রীর বাজার জমে উঠেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ বছর পলাতক থেকে ২ বছরের সাজা থেকে বাঁচতে ছিলেন মাসুদ, হয়নি শেষ রক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৭ পি.এম


৪ বছর পলাতক থেকে ২ বছরের সাজা থেকে বাঁচতে ছিলেন মাসুদ, হয়নি শেষ রক্ষা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি মো. মাসুদ ওরফে মাছুমকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি চার বছর ধরে পলাতক ছিলেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) উপজেলার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ তেঁতাভূমি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাছুম দক্ষিণ তেঁতাভূমি গ্রামের মৃত আবদুল বারেক ওরফে বারু মিয়ার ছেলে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাছুমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি সাজা পরোয়ানা ও একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

মাছুমের বিরুদ্ধে একটি মামলায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ব্রাহ্মণপাড়া, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে।

শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সীমান্তবর্তী শশীদল ইউনিয়নের দক্ষিণ তেঁতাভূমি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক মো. সাইফুল আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো ফারুক হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, গভীর সমুদ্রে যাওয়া নিষেধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, গভীর সমুদ্রে যাওয়া নিষেধ

বঙ্গোপসাগরে গঠিত লঘুচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপান্তরিত হয়ে একই স্থানে অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শনিবার সকালে এ বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় শনিবার সকাল ৬টায় লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে। এই কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে

গাজীপুরের টঙ্গীতে অজ্ঞাত গাড়ির আঘাতে বাবা ও তার ছেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে গাজীপুরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—শেরপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কৈবর্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা তপন চন্দ্র দাস (৫০) এবং তার ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০)।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি রেস্তোরাঁসংলগ্ন মহাসড়কে চলার সময় বাবা ও ছেলে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোন্নাফ আহমেদ রাতের বিশেষ ডিউটিতে থাকা অবস্থায় সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাদের দুজনকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ছেলে লিখন চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে, বাবা তপন চন্দ্র দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টায় তপন চন্দ্র দাসও মারা যান। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং লাশ নিজেদের হেফাজতে নেয়।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ফের শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৯ পি.এম


ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ফের শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক হামলা আবার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে— এমন ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে। তবে তারা মনে করছেন, এই ভয়াবহ সংঘাতের সামরিক সমাধান কোনো পক্ষের জন্যই সম্ভব হবে না।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ কার্যকর রাখতে চাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে কোনো পক্ষই স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালায়নি। তবে শিগগিরই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের পররাষ্ট্রনীতি কর্মসূচির পরিচালক সুজান ম্যালোনি মন্তব্য করেন, ‘এখন আমার ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হামলা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।’

মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি হামলার সম্ভাবনার পক্ষে কয়েকটি ইঙ্গিত তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা মোতায়েন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি এবং ইসরাইলি বাহিনীকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা।

ম্যালোনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না।

তার ভাষায়, ‘এখন হামলা চালালে নির্বাচনে তার লাভ হবে বলে মনে হয় না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ দেশটিতে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ম্যালোনি বলেন, ‘মৌলিকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না।’

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অবরোধ কার্যকর রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুলসংখ্যক নৌবাহিনীর জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ ব্যস্ত রাখতে হচ্ছে।

শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান কোনো চুক্তিতে না এলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ‘একটু এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা মার্কিন সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’।

তবে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জেসন ক্যাম্পবেল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু লক্ষণ দেখা গেছে, যা থেকে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এমনও হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে যে ইরান কিংবা ইয়েমেনভিত্তিক তাদের মিত্র হুতিরা নতুন করে হামলা চালাতে পারে।

ক্যাম্পবেল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। এটি সেখানে পৌঁছালে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির নেতৃত্বাধীন আক্রমণকারী বহরের সংখ্যা তিনটিতে উন্নীত হতে পারে। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে আরও একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আগের হামলাগুলোর অনুরূপ কৌশলে শক্তি প্রদর্শন করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তবে নতুন করে হামলা কখন শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে ক্যাম্পবেল বলেন, ‘এখানে সময় নির্ধারণ করা অসম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে শুধু চাপ সৃষ্টি করাই যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এ ধরনের ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ক্যাম্পবেলের মতে, যুদ্ধের আগের পর্যায়ের তুলনায় এখন ট্রাম্পের সামরিক বিকল্প সীমিত হয়ে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্ভাব্য স্থল অভিযান পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ম্যালোনি বলেন, ইরানের অধিকাংশ প্রচলিত সামরিক স্থাপনা আগের হামলাগুলোতেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন সামরিক অভিযান চালানো হলে তা আরও বেশি করে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে— এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দিকে গড়াতে পারে।

তবে তার মতে, এ ধরনের হামলা কিংবা অন্য কোনো সামরিক পদক্ষেপই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না।

ম্যালোনি বলেন, ‘শুরু থেকেই এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা কোনো পক্ষেরই আরও সংঘাত বাড়ানোর মাধ্যমে শেষ করা সম্ভব নয়।’

ক্যাম্পবেলও একই ধরনের মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম ৫০ দিনের মতো আবারও ইরানে হামলা চালালে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর কৌশলগত অবস্থানে কীভাবে পরিবর্তন আসবে, তা আমি দেখতে পাচ্ছি না।’

তিনি আরও বলেন, ইরান ইতোমধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কিংবা বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলেও দেশটির অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে— এমন সম্ভাবনা কম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%