০৭:৩০ পি.এম
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গঠনমূলক এবং শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেবল দুই দেশের উন্নতির জন্য নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পিবিআই তদন্ত
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে আপনাদের এই সফর আমাদের দুই দেশের এবং দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং স্থায়ী অংশীদারিত্বকে প্রতিফলিত করে। বিএনপি সরকার একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যেখানে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্ক বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’
চলতি বছরের ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি সফরের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, ওই সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফরের সুফল আগামী দিনে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
‘এক চীন নীতি’র প্রতি বিএনপির দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, বিশ্বে একটাই চীন এবং তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ–এই নীতিতে বাংলাদেশ অবিচল রয়েছে।
বাংলাদেশে উৎপাদন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানির ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্ভাব্য বিনিয়োগের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ উদ্যোগকে স্বাগত জানান, যা দেশে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন: বিএনপি ২৬ ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী খুঁজছে, সময় ১৫ দিন
একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের প্রসারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান রিজভী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন