শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৯ পি.এম
বান্দরবান, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী জেলা শহরের বালাঘাটায় তাবলিগি মারকাজ মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবারের এই পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় মারকাজ মসজিদ ও তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রী এ সময় বান্দরবানের ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, আগামী ২৯ ও ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বান্দরবান জেলা ইজতেমা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য তিনি ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। ধর্ম, বর্ণ, জাত বা গোত্র নির্বিশেষে এই ভূখণ্ডের প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে নিরলস চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।"
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তাবলিগ জামায়াতের জেলা আমির ওসমান গনি, বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য আবদুল মাবুদ, ইজতেমার জমিদাতা কামাল মেম্বার, জেলা বিএনপি নেতা মুছা সওদাগর, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হাকিম চৌধুরী, মারকাজ মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া রাতের অন্ধকারে পাহাড় ও টিলা কেটে জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হালদা ভ্যালি চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার তথ্য জানতে চাইলে সাংবাদিকের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করেন বাগানটির ব্যবস্থাপক এম এ কাশেম। উপজেলা প্রশাসন জানায়, পাহাড় ও টিলা কাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২ অক্টোবর গভীর রাতে উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের ইদিলপুর এলাকায় চা বাগানের ফ্যাক্টরির পাশে স্ক্যাভেটর দিয়ে টিলা কেটে মাটি সরানোর অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে বাগানের ফ্যাক্টরির পাশে একটি টিলা থেকে স্ক্যাভেটর দিয়ে লাল মাটি কেটে নেওয়া হয়। পরে অভিযোগ রয়েছে যে, বাগান ব্যবস্থাপকের বাংলোর কয়েকশ ফুট পেছনে একটি ফসলি জমি ভরাট করতে ওই মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, টিলা কাটার স্থানটির লাল মাটি ছাই দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, লাল মাটি দিয়ে জমি ভরাটের স্থানটি বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হালদা ভ্যালি চা বাগানের এক বাসিন্দা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি না নিয়েই বাগান কর্তৃপক্ষ এ কাজ করেছে। তিনি বলেন, এর আগেও বাগানের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হালদা ভ্যালি চা বাগানের ব্যবস্থাপক এম এ কাশেম এ প্রতিবেদকের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করেন। তিনি বলেন, "হালদা ভ্যালি চা বাগানের পুরোটাই তো পাহাড়। এছাড়াও সমাজসেবা থেকে আমাদেরকে ছয়টি ঘর করার জন্য বলা হয়েছে। তাই মাটি ভরাট করা হচ্ছে।"
তবে পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, "পাহাড় ও টিলা কাটার ব্যাপারে প্রশাসন জিরো টলারেন্স। বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উল্লেখ্য, এর আগে হালদা ভ্যালি চা বাগানের অভ্যন্তরে পাহাড় কেটে খাল খননের অভিযোগে জরিমানার ঘটনা ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা বিশাল পরিমাণ অর্থের মুখোমুখি হচ্ছেন। শীর্ষ ১৫ জন ধনাঢ্য দাতা মিলে এই নির্বাচনে ১.৫ বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার সমান। ওপেনসিক্রেটস এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ থেকে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
অনুদান প্রদানকারীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন ধনকুবের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তিনি একাই ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি (৩৬৫ মিলিয়ন ডলার) অনুদান দিয়েছেন। মাস্ক মূলত রিপাবলিকান সমর্থক ‘আমেরিকা প্যাক’ ও অন্যান্য সুনির্দিষ্ট তহবিলে এই অর্থ প্রদান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রচারে সীমাহীন অর্থ খরচের সুবিধা চালুর পর থেকে একক দাতা হিসেবে ইলন মাস্ক সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচের নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
মাস্কের পাশাপাশি রিপাবলিকানদের সমর্থনে আরও বেশ কয়েকজন ধনী ব্যক্তি ও অলাভজনক সংস্থা বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছে। যেমন ‘ওয়ান নেশন’ নামের একটি সংস্থা প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে। ব্যবসায়ী দম্পতি এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহলেইন ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী মার্ক আন্দ্রেসেন ও বেনিয়ামিন হোরোউইৎস মিলে ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষেও বড় অঙ্কের আর্থিক সমর্থন এসেছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থক সংস্থা ‘মেজরিটি ফরওয়ার্ড’ ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং প্রবীণ ব্যবসায়ী জর্জ সরোস অন্তত ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থা রিপল ল্যাবস, কয়েনবেস এবং সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গও কোটি কোটি ডলারের তহবিল জোগান দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কিছু ধনকুবেরের এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালার ফলে সাধারণ জনগণের ভোটের চেয়ে বড় অনুদানকারীদের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কিছু পরিচয়হীন অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে গোপনে অর্থ পৌঁছানোর কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র, নির্মাণাধীন ভবন, কারখানা, রেস্তোরাঁ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে আটক হচ্ছেন বিদেশি নাগরিকরা।
গ্রেফতার ও দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন অনেক কর্মী, যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা কাজের অনুমতির শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। যারা পরিবারকে ভরণপোষণ করছেন, ঋণের বোঝা বহন করছেন এবং দেশে স্বজনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, তাদের জীবনে এখন অনিশ্চয়তার ছায়া পড়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজার ১১০টি অভিযানে ৬৫ হাজার ৬৯৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৫৩ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৯৬৬ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫৯৭ জন বিদেশিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
যদিও এই পরিসংখ্যান মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের ব্যাপকতা তুলে ধরছে, তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে কতজন আটক ও প্রত্যাবাসিত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের পরিসংখ্যান থেকে অভিযানের তীব্রতা বোঝা যায়। ১২ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনে ২৫২টি অভিযান পরিচালনা করে ৪ হাজার ৯০৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় ২ হাজার ১৫৬ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫১ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানাচ্ছে, বৈধ ভ্রমণ নথি বা অবস্থানের অনুমতি না থাকা, ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করা এবং অনুমোদিত শর্তের বাইরে কাজ করা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অন্যতম কারণ। সামাজিক ভ্রমণ ভিসায় প্রবেশ করে বৈধ কর্মানুমতি ছাড়া কাজ করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এ কারণে শুধু অবৈধভাবে প্রবেশ করলেই নয়, বৈধভাবে প্রবেশের পর ভিসা বা কর্মানুমতির শর্ত ভঙ্গ করলেও আটক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অভিযানের জালে বাংলাদেশিরাও
মালয়েশিয়ায় পূর্ববর্তী অভিযানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি আটক হয়েছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের লেবুহ পুদু এলাকায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করে ৪৭২ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৬৪ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
এছাড়া ৮ অক্টোবর সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গান ও বান্দার বারু ক্লাং এলাকায় অভিযানে ৩০৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করে ১৭৪ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ছিলেন। ওই অভিযানে ছয়জন স্থানীয় নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।
নিয়োগকর্তাদেরও ছাড় নেই
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বিদেশি কর্মীদের আটক করার পাশাপাশি তাদের নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে। ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে ১ হাজার ৯৬৬ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫০ রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে বিদেশি অভিবাসীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ৭১ লাখ ২৩ হাজার ৪২০ রিঙ্গিত।
এদিকে মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দিতে পরিচালিত ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ১২ হাজার ১৪৬ জন নিবন্ধন করেছেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৪০ রিঙ্গিত।
কিন্তু কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সংখ্যা মানেই সবাই দেশে ফিরে গেছেন, এমন নয়। নিবন্ধন, জরিমানা পরিশোধ এবং প্রকৃত প্রত্যাবাসনের হিসাব আলাদা। তাই কর্মসূচির আওতায় কতজন বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছেন এবং কতজন দেশে ফিরেছেন, তা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অবৈধতার দায় কার?
বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব, দালাল ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়া এবং কর্মানুমতির জটিলতা অনেককে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। কিছু কর্মী মধ্যস্থতাকারীদের আশ্বাসে বিদেশে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ, বেতন কিংবা বৈধ কাগজপত্র পান না। কারও নিয়োগকর্তা কর্মানুমতি নবায়নে গড়িমসি করেন, আবার কেউ কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে ফেরার খরচ জোগাড় করতে না পেরে অনিশ্চিত অবস্থায় থেকে যান।
তবে এসব কারণের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পৃথক যাচাই প্রয়োজন; সব কর্মীর পরিস্থিতি এক নয়।
একইভাবে আটক হওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশিকে একই অর্থে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করাও ঠিক নয়। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হতে পারে, কারও নথিপত্রে ত্রুটি থাকতে পারে, আবার কারও বিরুদ্ধে অনুমতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকতে পারে। অভিযোগের ধরন ও ব্যক্তির নথি যাচাই করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
কর্মী নিয়োগের আগে বৈধ কর্মানুমতি যাচাই, অনুমোদিত শর্ত মেনে কাজ করানো এবং আইনগত দায়িত্ব পালন করা নিয়োগকর্তারও কর্তব্য। অবৈধ নিয়োগে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রতারণাকারী মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন।
বৈধতা যাচাইয়ে অবহেলা নয়
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের নিজেদের পাসপোর্ট, ভিসা ও কর্মানুমতির মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করতে হবে। নিয়োগকর্তা বা মধ্যস্থতাকারীর আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি। কাগজপত্রের সমস্যা দেখা দিলে দালালের কাছে নতুন করে অর্থ না দিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, তাদেরও সব নথির মেয়াদ ও অনুমোদিত কাজের শর্ত পরীক্ষা করতে হবে। আর যারা অনিয়মিত অবস্থায় পড়ে গেছেন, তাদের জন্য প্রযোজ্য প্রত্যাবাসন কর্মসূচির শর্ত, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেউ হয়রানির শিকার হলে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী কমিউনিটি নেতা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সচল থাকে দেশের বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা। অথচ বিদেশে এসে কেউ যদি প্রতারণা, অনিয়মিত নিয়োগ কিংবা কাগজপত্রের জটিলতায় পড়েন, তার দায় শুধু ওই কর্মীর ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার মূল কারণ আড়ালেই থেকে যায়।
এ পরিস্থিতিতে বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধ নিয়োগপত্র, ভিসা ও কর্মানুমতি যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা, প্রতারণাকারী দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংকটে পড়া কর্মীদের জন্য দ্রুত আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়ার আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় প্রতারণার শিকার কর্মী, বৈধ কাগজপত্রধারী শ্রমিক এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় এখন প্রয়োজন শুধু অভিযান নয়, বরং অবৈধতার উৎস বন্ধ করা এবং বৈধ অভিবাসনের পথ আরও নিরাপদ করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলনের ফলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে আগমনকে কেন্দ্র করে বরগুনার বামনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় গাজীরপুল এলাকা থেকে রাফান জোমাদ্দার আকাশ নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বামনা-পাথরঘাটা সড়কের চাড়াখালী এলাকায় বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই ঝটিকা মিছিল বের হয়। মিছিল চলাকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
মিছিলের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ব্যানার নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুর রহমানের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে।
মিছিলের খবর পেয়ে বামনা থানা-পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ধাওয়া করে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাফান জোমাদ্দার আকাশকে আটক করে।
এ বিষয়ে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন খাঁন বলেন, "মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করলে ঝটিকা মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ধাওয়া করে গাজীরপুল এলাকা থেকে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাফান জোমাদ্দার আকাশকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ